শিরোনাম :
শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজের শিরোপা পাকিস্তানের সোমবার থেকে নিবন্ধন ছাড়া সড়কে নামতে পারবে না ই-রিকশা পোশাকশ্রমিকদের মজুরি নির্ধারণে ছয় সদস্যের বোর্ড ঘোষণা ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হয়েছে : এএফইডি হ্যাকিংয়ে বাইন্যান্সের ৬৩০ কোটি ডলার চুরি, ৯০ শতাংশই উদ্ধার ৩০ হাজার টাকার দাবিতে কর্মবিরতি, উত্তপ্ত গাজীপুর ও মিরপুর, আশুলিয়া ভৌগোলিক সীমা ছাড়াই তাৎক্ষণিক পদক্ষেপের নির্দেশ দিলেন মোজতবা খামেনি আশুলিয়ায় মজুরির দাবিতে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ লংমার্চ নয়, সংবিধান সংস্কারে আলোচনার টেবিলে বসার আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ইইউ-আমেরিকার বাজার ধরে রাখতে ট্রেসেবিলিটির ৬৬ ঘাটতি

সান্তাহার-নওগাঁ সড়কের মরণফাঁদ বটতলি’র কালভার্ট

বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহার পৌরসভা এলাকায় অবস্থিত বটতলির মোড়ের শত বছরের পুরাতন কালভার্ট ব্রীজটি মরণ ফাঁদে পরিনত হয়েছে । সান্তাহার-নওগাঁ সড়কে অবস্থিত মেয়াদ উত্তীর্ন কালভার্ট দিয়ে দিনে রাতে সহস্রাধিক যানবাবহন চলাচল করে । সান্তাহার জংশন শহর থেকে নওগাঁগামী সকল প্রকার যানবাহনের চলাচল এই কালভাটের ওপর দিয়ে । কালভাটের অবস্থা এতই নাজুক যে কোন সময় এটি ভেঙে পড়ে ঘটতে পারে ভয়াবহ দূর্ঘটনা সাথে সাথে ঘটতে পারে প্রাণহানীর মত ঘটনা । এলাকাবাসি দ্রুত কালভাটটি ভেঙে নতুন করে কালভাট নির্মাণের দাবি জানিয়েছে ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিগত পূর্ব পাকিস্থান সরকারের সময় সান্তাহার জংশন শহর থেকে নওগাঁ জেলা শহরের সাথে যোগাযোগের জন্য প্রায় তিন কিলেমিটার রাস্তা নির্মাণ করা হয় । শহরের পানি নিস্ক্শনের জন্য এই রাস্তার সান্তাহার অংশে বটতলি মোড়ে ও পশ্চিম ঢাকা রোড এলাকায় দুটি কালভাট নির্মাণ করা হয় । এ দুটি কালভার্টের মধ্যে গত ২০২৩ সালে পশ্চিম ঢাকা রোডে অবস্থিত কালভাটটি ভেঙে পড়ে ।পরে সড়ক ও জনপথ বিভাগ সাময়িক ভাবে যোগাযোগ চালু রাখতে ভেঙে যাওয়া কালভাটের জায়গায় এক বেইলীব্রীজ নির্মাণ করে দেন ।এ সময় সান্তাহার শহরের নাগরিক কমিটির পক্ষ থেকে দূর্ঘটনা এড়াতে সড়ক ও জনপথ বিভাগের নিকট বটতলির মোড়ের কালভাটটি ভেঙে নতুন কালভাট নির্মানের দাবি জানান । কিন্তু উক্ত বিভাগ থেকে কালভার্ট নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেয়া হলেও এখন পর্যন্ত কালভার্টটি নতুন করে নির্মাণ করা হয়নি । পুরোনো নথি এবং স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে,বৃটিশ আমলে প্রথম সান্তাহার জংশন শহর থেকে নওগাঁ জেলার মহাদেবপুর উপজেলা পর্যন্ত পাকা রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছিল । ১৯৬৭-১৯৬৮ সালে রাস্তাটি আধুনিকায়ন করা হয় । একই সময় এই রাস্তার একাধিক অংশে পানি নিস্কাশনের জন্য কালভার্ট নির্মাণ করা হয় । বেশিরভাগ কালভার্ট ভেঙে প্রশস্থ ও নতুন করে নির্মাণ করা হলেও সান্তাহার শহরের বটতলির মোড়ের কালভার্টটি রয়ে গেছে পূর্বের অবস্থায়। সড়ক ও জনপথ বিভাগের একটি সূত্রে জানা গেছে,অনেক আগেই বটতলির মোড়ের কালভার্টটির মেয়াদকাল উত্তীর্ণ হয়ে গেছে । সান্তাহার পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান গোলাম মোরশেদ খান বলেন,আমি চেয়ারম্যান থাকাকালীন সময়ে কালভার্টটি নতুন করে তৈরী করার উদ্যেগ নিয়েছিলাম কিন্তু রাস্তাটি সড়ক জনপথ বিভাগের হওয়ায় পৌরসভা সেটি নির্মাণ করতে পারে নি । এ বিষয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগে অনেকবার যোগাযোগ করেও কোন প্রতিকার পায়নি । সান্তাহার শহরের অটোরিক্সা শ্রমিক সমিতির সভাপতি আব্দুল মান্নান বলেন,প্রতিদিন এই ভাঙা-চূড়া কালভার্ট দিয়ে অসংখ্য যানবাহন নওগাঁ শহর অভিমুখে চলাচল করে । এই কালভার্টের ওপর দিয়ে ভাড়ি যানবাহন ও চলাচল করে থাকে । অতি পুরাতন এবং ঝুকিঁপূর্ন হওয়ায় যে কোন সময় এটি ভেঙে পড়ে প্রাণহানী ঘটতে পারে । তিনি দ্রুত কালভাটটি ভেঙে নতুন কালভাট নির্মাণের দাবি জানান । এ বিষয়ে তিনি এলাকার সংসদ সদস্য আব্দুল মহিত তালুকদারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন ।সান্তাহার নাগরিক কমিটির সভাপতি চিকিৎসত হামিদুর রহমান বলেন,কালভার্টটি নিয়ে এর আগে সান্তাহার নাগরিক কমিটিরি পক্ষ থেকে সড়ক ও জনপথ বিভাগকে অবহিত করা হয়েছিল কিন্তু কোন পদক্ষেপ তাঁরা নেননি । তিনি বলেন,এটি মেয়াদ উত্তীর্ণ। কালভার্টটি যেকোন সময় এটি ভেঙ্গে পড়ে দূর্ঘটনা ঘটতে পারে । একই সময়ে তৈরী হওয়া পশ্চিম ঢাকা রোডের কালভাটটিও ভেঙ্গে পড়েছিলো। তিনি দ্রুত কালভাটটি ভেঙে নতুন করে নির্মাণ করার দাবি জানান । শনিবার দুপুরে মুঠোফোনে বগুড়া সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী রাসেদুল হকের সাথে কথা হলে তিনি বলেন,কালভার্টটি পরিদর্শনে আমাদের দপ্তর থেকে দ্রুত লোক পাঠানো হবে এবং এই সমস্যার খুব দ্রুত সমাধান করা হবে । এ বিষয়ে বগুড়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল মহিত তালুকদার বলেন,কালভার্টের বিষয়টি জানার পর আমি দ্রুত এটি নির্মাণের জন্য সংস্লিষ্ট দপ্তরের যোগোযোগ করেছি,আশা করছি অল্প সময়ের মধ্যে এটির সমাধান হয়ে যাবে ।

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

জনপ্রিয় সংবাদ

শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজের শিরোপা পাকিস্তানের

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

ইইউ-আমেরিকার বাজার ধরে রাখতে ট্রেসেবিলিটির ৬৬ ঘাটতি

৩১ অক্টোবর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

সান্তাহার-নওগাঁ সড়কের মরণফাঁদ বটতলি’র কালভার্ট

আপডেট সময় ১২:০৯:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬

বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহার পৌরসভা এলাকায় অবস্থিত বটতলির মোড়ের শত বছরের পুরাতন কালভার্ট ব্রীজটি মরণ ফাঁদে পরিনত হয়েছে । সান্তাহার-নওগাঁ সড়কে অবস্থিত মেয়াদ উত্তীর্ন কালভার্ট দিয়ে দিনে রাতে সহস্রাধিক যানবাবহন চলাচল করে । সান্তাহার জংশন শহর থেকে নওগাঁগামী সকল প্রকার যানবাহনের চলাচল এই কালভাটের ওপর দিয়ে । কালভাটের অবস্থা এতই নাজুক যে কোন সময় এটি ভেঙে পড়ে ঘটতে পারে ভয়াবহ দূর্ঘটনা সাথে সাথে ঘটতে পারে প্রাণহানীর মত ঘটনা । এলাকাবাসি দ্রুত কালভাটটি ভেঙে নতুন করে কালভাট নির্মাণের দাবি জানিয়েছে ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিগত পূর্ব পাকিস্থান সরকারের সময় সান্তাহার জংশন শহর থেকে নওগাঁ জেলা শহরের সাথে যোগাযোগের জন্য প্রায় তিন কিলেমিটার রাস্তা নির্মাণ করা হয় । শহরের পানি নিস্ক্শনের জন্য এই রাস্তার সান্তাহার অংশে বটতলি মোড়ে ও পশ্চিম ঢাকা রোড এলাকায় দুটি কালভাট নির্মাণ করা হয় । এ দুটি কালভার্টের মধ্যে গত ২০২৩ সালে পশ্চিম ঢাকা রোডে অবস্থিত কালভাটটি ভেঙে পড়ে ।পরে সড়ক ও জনপথ বিভাগ সাময়িক ভাবে যোগাযোগ চালু রাখতে ভেঙে যাওয়া কালভাটের জায়গায় এক বেইলীব্রীজ নির্মাণ করে দেন ।এ সময় সান্তাহার শহরের নাগরিক কমিটির পক্ষ থেকে দূর্ঘটনা এড়াতে সড়ক ও জনপথ বিভাগের নিকট বটতলির মোড়ের কালভাটটি ভেঙে নতুন কালভাট নির্মানের দাবি জানান । কিন্তু উক্ত বিভাগ থেকে কালভার্ট নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেয়া হলেও এখন পর্যন্ত কালভার্টটি নতুন করে নির্মাণ করা হয়নি । পুরোনো নথি এবং স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে,বৃটিশ আমলে প্রথম সান্তাহার জংশন শহর থেকে নওগাঁ জেলার মহাদেবপুর উপজেলা পর্যন্ত পাকা রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছিল । ১৯৬৭-১৯৬৮ সালে রাস্তাটি আধুনিকায়ন করা হয় । একই সময় এই রাস্তার একাধিক অংশে পানি নিস্কাশনের জন্য কালভার্ট নির্মাণ করা হয় । বেশিরভাগ কালভার্ট ভেঙে প্রশস্থ ও নতুন করে নির্মাণ করা হলেও সান্তাহার শহরের বটতলির মোড়ের কালভার্টটি রয়ে গেছে পূর্বের অবস্থায়। সড়ক ও জনপথ বিভাগের একটি সূত্রে জানা গেছে,অনেক আগেই বটতলির মোড়ের কালভার্টটির মেয়াদকাল উত্তীর্ণ হয়ে গেছে । সান্তাহার পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান গোলাম মোরশেদ খান বলেন,আমি চেয়ারম্যান থাকাকালীন সময়ে কালভার্টটি নতুন করে তৈরী করার উদ্যেগ নিয়েছিলাম কিন্তু রাস্তাটি সড়ক জনপথ বিভাগের হওয়ায় পৌরসভা সেটি নির্মাণ করতে পারে নি । এ বিষয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগে অনেকবার যোগাযোগ করেও কোন প্রতিকার পায়নি । সান্তাহার শহরের অটোরিক্সা শ্রমিক সমিতির সভাপতি আব্দুল মান্নান বলেন,প্রতিদিন এই ভাঙা-চূড়া কালভার্ট দিয়ে অসংখ্য যানবাহন নওগাঁ শহর অভিমুখে চলাচল করে । এই কালভার্টের ওপর দিয়ে ভাড়ি যানবাহন ও চলাচল করে থাকে । অতি পুরাতন এবং ঝুকিঁপূর্ন হওয়ায় যে কোন সময় এটি ভেঙে পড়ে প্রাণহানী ঘটতে পারে । তিনি দ্রুত কালভাটটি ভেঙে নতুন কালভাট নির্মাণের দাবি জানান । এ বিষয়ে তিনি এলাকার সংসদ সদস্য আব্দুল মহিত তালুকদারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন ।সান্তাহার নাগরিক কমিটির সভাপতি চিকিৎসত হামিদুর রহমান বলেন,কালভার্টটি নিয়ে এর আগে সান্তাহার নাগরিক কমিটিরি পক্ষ থেকে সড়ক ও জনপথ বিভাগকে অবহিত করা হয়েছিল কিন্তু কোন পদক্ষেপ তাঁরা নেননি । তিনি বলেন,এটি মেয়াদ উত্তীর্ণ। কালভার্টটি যেকোন সময় এটি ভেঙ্গে পড়ে দূর্ঘটনা ঘটতে পারে । একই সময়ে তৈরী হওয়া পশ্চিম ঢাকা রোডের কালভাটটিও ভেঙ্গে পড়েছিলো। তিনি দ্রুত কালভাটটি ভেঙে নতুন করে নির্মাণ করার দাবি জানান । শনিবার দুপুরে মুঠোফোনে বগুড়া সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী রাসেদুল হকের সাথে কথা হলে তিনি বলেন,কালভার্টটি পরিদর্শনে আমাদের দপ্তর থেকে দ্রুত লোক পাঠানো হবে এবং এই সমস্যার খুব দ্রুত সমাধান করা হবে । এ বিষয়ে বগুড়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল মহিত তালুকদার বলেন,কালভার্টের বিষয়টি জানার পর আমি দ্রুত এটি নির্মাণের জন্য সংস্লিষ্ট দপ্তরের যোগোযোগ করেছি,আশা করছি অল্প সময়ের মধ্যে এটির সমাধান হয়ে যাবে ।

Share this news as a Photo Card