শিরোনাম :
অনুতাপ না থাকলে আওয়ামী লীগের সঙ্গে মীমাংসা কঠিন: তথ্য উপদেষ্টা রোহিঙ্গা সংকট এখন শুধু মানবিক নয়, নিরাপত্তা উদ্বেগও: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ৯০ হাজার ছাড়াল, মৃত্যু বেড়ে ২৮১ জনে নোবেল পুরস্কারের সূচনা ও প্রথম বিজয়ীদের গল্প শুদ্ধ জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন নিশ্চিতের স্বীকৃতিস্বরূপ পুরস্কার পেল রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন সাংবাদিকদের ওপর হামলা; রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের হল প্রাধ্যক্ষকে অব্যাহতি শিশুরা প্রতিভা বিকাশের সুযোগ পেলে দেশের ভিত্তি মজবুত হবে: প্রধানমন্ত্রী আর্জেন্টিনার জার্সিতে মেসির বিদায়ী ম্যাচ মঙ্গলবার রাতে, ২১ বছরের অধ্যায়ের ইতি সালমান শাহ হত্যা মামলায় খলনায়ক ডনের জামিন আবেদন ফের নামঞ্জুর রক্তের সম্পর্ক নেই, তবু ৭৪ শিশুর ‘মা’ বিলকিছ বানু

অনুতাপ না থাকলে আওয়ামী লীগের সঙ্গে মীমাংসা কঠিন: তথ্য উপদেষ্টা

আওয়ামী লীগের সঙ্গে রাজনৈতিক মীমাংসা বা ‘রেকনসিলিয়েশনের’ প্রস্তাবে সাড়া দেওয়া বিএনপি সরকারের পক্ষে এখন ‘কঠিন’ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তাঁর মতে, এ ধরনের উদ্যোগের জন্য যে অনুতাপ ও সদিচ্ছা দরকার, দলটির শীর্ষ নেতৃত্বের, বিশেষ করে শেখ হাসিনার বক্তব্যে তার প্রতিফলন নেই।

মঙ্গলবার তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলন হয়। সেখানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। এক সাংবাদিক জানতে চেয়েছিলেন, আওয়ামী লীগের সঙ্গে রেকনসিলিয়েশনের বিষয়ে সরকারের ভাবনা কী।

প্রেক্ষাপট হিসেবে উল্লেখ্য, চব্বিশের অভ্যুত্থান ঠেকাতে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। আওয়ামী লীগের কার্যক্রমের ওপর বিগত অন্তর্বর্তী সরকার যে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল, বর্তমান বিএনপি সরকারও তা বহাল রেখেছে।

মীমাংসা দরকার ছিল, তবে…

জবাবে জাহেদ উর রহমান বলেন, রেকনসিলিয়েশনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে তাঁর দ্বিমত নেই। ৫ অগাস্টের পর এ নিয়ে নানা আলোচনাও হয়েছে। তিনি বলেন, ‘দুর্ভাগ্যজনকভাবে এই দেশের একটা সংখ্যার মানুষ, আমি আওয়ামী লীগের নেতা কর্মী যারা পালিয়ে গেছে, আমি তাদের কথা বলছি না, যারা এই দেশে আছেন, এদের মধ্যেও একটা পার্সেন্টেজের মানুষ এখনো আওয়ামী লীগ সমর্থন করে। সুতরাং এই মানুষগুলোকে বা যারা আওয়ামী লীগ অ্যাক্টিভলি করেছেন তাদের সঙ্গে একটা রেকনসিলিয়েশন খারাপ আইডিয়া না, ভালো আইডিয়া।’

তবে এখানে মূল প্রশ্ন, মীমাংসার ভিত্তি কী। উপদেষ্টার ভাষ্য, ‘এটা হলে ভালো হতো। কিন্তু প্রশ্নটা আমরা সবসময় যেটা করেছি, রেকনসিলিয়েশনের আদি শর্তটা কী? কোন ভিত্তির উপরে দাঁড়িয়ে রেকনসিলিয়েশন হয়? ফান্ডামেন্টালটা কী?’

দক্ষিণ আফ্রিকার উদাহরণ

এ প্রসঙ্গে দক্ষিণ আফ্রিকার ট্রুথ অ্যান্ড রেকনসিলিয়েশন কমিশনের কথা তোলেন তিনি। তাঁর ব্যাখ্যায়, কোনো গোষ্ঠী বা রাজনৈতিক দল, যেই হোক, যে অপরাধ করেছে তার স্বীকৃতি এবং সেজন্য অনুতাপ থাকাই এ প্রক্রিয়ার গোড়ার কথা।

জাহেদ উর রহমান আরও বলেন, অপরাধ স্বীকার ও অনুতাপের পরও প্রশ্ন থেকে যায়। কারণ অপরাধের স্বীকৃতি দিলেই ফৌজদারি অপরাধ তামাদি হয়ে যায় না, এর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিতে হয়। তাঁর কথায়, ওই পরিস্থিতি তৈরি হলে মীমাংসার আলোচনা হতে পারত। কারা করবেন, কীভাবে করবেন, সে বিষয়েও কথা চলতে পারত।

‘আমাদের হুমকি দিচ্ছেন’

কিন্তু সেই বাস্তবতা তিনি দেখছেন না বলে জানান উপদেষ্টা। তাঁর ভাষ্য, ৫ অগাস্টের পর থেকে এখন পর্যন্ত তাঁরা অবাক হয়ে দেখছেন, দলটির প্রধান নেত্রী এখনো সরকারকে দোষারোপ করছেন এবং হুমকি দিচ্ছেন।

শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘তিনি (শেখ হাসিনা) সমানে হুমকি দিচ্ছেন সবাইকে দেখে নেবেন, পাল্টা এই করে ফেলো ওই করে ফেলো। নানান রকম হুমকি ক্রমাগত দিয়ে গেছেন। যদি তাই হয়ে থাকে, আসলে এই প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে রেকনসিলিয়েশনের আলাপটা আমাদের দিক থেকে অন্তত এন্টারটেইন করা কঠিন।’

আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্বের মনোভাব এমনই থাকলে বিএনপি সরকারের পক্ষে মীমাংসার আলোচনায় সাড়া দেওয়া ‘কঠিন’ বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা।

যাঁরা মীমাংসা চান, তাঁদের প্রতি

উপদেষ্টা বলেন, ‘তারা চাইছেন না, রেকনসিলিয়েশন তো তাদের চাইতে হবে।’ তাঁর কথায়, মাঝখান থেকে কেউ যদি মীমাংসা চান এবং তাঁদের মনে হয় এটি ভালো, তিনি নিজেও ভালো মনে করেন, তবে তাঁদের উচিত আওয়ামী লীগের সঙ্গে যোগাযোগ করা। দলটির ‘টপের’ সঙ্গে কথা বলে মীমাংসা শুরুর মতো মৌলিক জায়গাটি যেন তাঁরা নিশ্চিত করেন। ‘সেটুকু হলে সেই আলাপ তো হতেই পারে’, বলেন তিনি।

উপদেষ্টার বক্তব্যে মূলত তিনটি বিষয় উঠে এসেছে। প্রথমত, রেকনসিলিয়েশনের প্রয়োজনীয়তা তিনি অস্বীকার করেননি। দেশে এখনো একটি অংশের মানুষ আওয়ামী লীগকে সমর্থন করেন বলে তিনি মনে করেন। দ্বিতীয়ত, তাঁর মতে এ প্রক্রিয়ার ভিত্তি অপরাধের স্বীকৃতি ও অনুতাপ, আর তার পরও আইনি প্রক্রিয়ার প্রশ্ন থেকে যায়। তৃতীয়ত, বর্তমান পরিস্থিতিতে দলটির নেতৃত্বের কাছ থেকে তিনি সেই মনোভাব দেখছেন না।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া এই প্রতিবেদনের তথ্যসূত্রে পাওয়া যায়নি।

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

জনপ্রিয় সংবাদ

অনুতাপ না থাকলে আওয়ামী লীগের সঙ্গে মীমাংসা কঠিন: তথ্য উপদেষ্টা

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

রক্তের সম্পর্ক নেই, তবু ৭৪ শিশুর ‘মা’ বিলকিছ বানু

০৬ অক্টোবর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

অনুতাপ না থাকলে আওয়ামী লীগের সঙ্গে মীমাংসা কঠিন: তথ্য উপদেষ্টা

আপডেট সময় ০৮:৩৭:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬

আওয়ামী লীগের সঙ্গে রাজনৈতিক মীমাংসা বা ‘রেকনসিলিয়েশনের’ প্রস্তাবে সাড়া দেওয়া বিএনপি সরকারের পক্ষে এখন ‘কঠিন’ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তাঁর মতে, এ ধরনের উদ্যোগের জন্য যে অনুতাপ ও সদিচ্ছা দরকার, দলটির শীর্ষ নেতৃত্বের, বিশেষ করে শেখ হাসিনার বক্তব্যে তার প্রতিফলন নেই।

মঙ্গলবার তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলন হয়। সেখানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। এক সাংবাদিক জানতে চেয়েছিলেন, আওয়ামী লীগের সঙ্গে রেকনসিলিয়েশনের বিষয়ে সরকারের ভাবনা কী।

প্রেক্ষাপট হিসেবে উল্লেখ্য, চব্বিশের অভ্যুত্থান ঠেকাতে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। আওয়ামী লীগের কার্যক্রমের ওপর বিগত অন্তর্বর্তী সরকার যে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল, বর্তমান বিএনপি সরকারও তা বহাল রেখেছে।

মীমাংসা দরকার ছিল, তবে…

জবাবে জাহেদ উর রহমান বলেন, রেকনসিলিয়েশনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে তাঁর দ্বিমত নেই। ৫ অগাস্টের পর এ নিয়ে নানা আলোচনাও হয়েছে। তিনি বলেন, ‘দুর্ভাগ্যজনকভাবে এই দেশের একটা সংখ্যার মানুষ, আমি আওয়ামী লীগের নেতা কর্মী যারা পালিয়ে গেছে, আমি তাদের কথা বলছি না, যারা এই দেশে আছেন, এদের মধ্যেও একটা পার্সেন্টেজের মানুষ এখনো আওয়ামী লীগ সমর্থন করে। সুতরাং এই মানুষগুলোকে বা যারা আওয়ামী লীগ অ্যাক্টিভলি করেছেন তাদের সঙ্গে একটা রেকনসিলিয়েশন খারাপ আইডিয়া না, ভালো আইডিয়া।’

তবে এখানে মূল প্রশ্ন, মীমাংসার ভিত্তি কী। উপদেষ্টার ভাষ্য, ‘এটা হলে ভালো হতো। কিন্তু প্রশ্নটা আমরা সবসময় যেটা করেছি, রেকনসিলিয়েশনের আদি শর্তটা কী? কোন ভিত্তির উপরে দাঁড়িয়ে রেকনসিলিয়েশন হয়? ফান্ডামেন্টালটা কী?’

দক্ষিণ আফ্রিকার উদাহরণ

এ প্রসঙ্গে দক্ষিণ আফ্রিকার ট্রুথ অ্যান্ড রেকনসিলিয়েশন কমিশনের কথা তোলেন তিনি। তাঁর ব্যাখ্যায়, কোনো গোষ্ঠী বা রাজনৈতিক দল, যেই হোক, যে অপরাধ করেছে তার স্বীকৃতি এবং সেজন্য অনুতাপ থাকাই এ প্রক্রিয়ার গোড়ার কথা।

জাহেদ উর রহমান আরও বলেন, অপরাধ স্বীকার ও অনুতাপের পরও প্রশ্ন থেকে যায়। কারণ অপরাধের স্বীকৃতি দিলেই ফৌজদারি অপরাধ তামাদি হয়ে যায় না, এর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিতে হয়। তাঁর কথায়, ওই পরিস্থিতি তৈরি হলে মীমাংসার আলোচনা হতে পারত। কারা করবেন, কীভাবে করবেন, সে বিষয়েও কথা চলতে পারত।

‘আমাদের হুমকি দিচ্ছেন’

কিন্তু সেই বাস্তবতা তিনি দেখছেন না বলে জানান উপদেষ্টা। তাঁর ভাষ্য, ৫ অগাস্টের পর থেকে এখন পর্যন্ত তাঁরা অবাক হয়ে দেখছেন, দলটির প্রধান নেত্রী এখনো সরকারকে দোষারোপ করছেন এবং হুমকি দিচ্ছেন।

শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘তিনি (শেখ হাসিনা) সমানে হুমকি দিচ্ছেন সবাইকে দেখে নেবেন, পাল্টা এই করে ফেলো ওই করে ফেলো। নানান রকম হুমকি ক্রমাগত দিয়ে গেছেন। যদি তাই হয়ে থাকে, আসলে এই প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে রেকনসিলিয়েশনের আলাপটা আমাদের দিক থেকে অন্তত এন্টারটেইন করা কঠিন।’

আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্বের মনোভাব এমনই থাকলে বিএনপি সরকারের পক্ষে মীমাংসার আলোচনায় সাড়া দেওয়া ‘কঠিন’ বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা।

যাঁরা মীমাংসা চান, তাঁদের প্রতি

উপদেষ্টা বলেন, ‘তারা চাইছেন না, রেকনসিলিয়েশন তো তাদের চাইতে হবে।’ তাঁর কথায়, মাঝখান থেকে কেউ যদি মীমাংসা চান এবং তাঁদের মনে হয় এটি ভালো, তিনি নিজেও ভালো মনে করেন, তবে তাঁদের উচিত আওয়ামী লীগের সঙ্গে যোগাযোগ করা। দলটির ‘টপের’ সঙ্গে কথা বলে মীমাংসা শুরুর মতো মৌলিক জায়গাটি যেন তাঁরা নিশ্চিত করেন। ‘সেটুকু হলে সেই আলাপ তো হতেই পারে’, বলেন তিনি।

উপদেষ্টার বক্তব্যে মূলত তিনটি বিষয় উঠে এসেছে। প্রথমত, রেকনসিলিয়েশনের প্রয়োজনীয়তা তিনি অস্বীকার করেননি। দেশে এখনো একটি অংশের মানুষ আওয়ামী লীগকে সমর্থন করেন বলে তিনি মনে করেন। দ্বিতীয়ত, তাঁর মতে এ প্রক্রিয়ার ভিত্তি অপরাধের স্বীকৃতি ও অনুতাপ, আর তার পরও আইনি প্রক্রিয়ার প্রশ্ন থেকে যায়। তৃতীয়ত, বর্তমান পরিস্থিতিতে দলটির নেতৃত্বের কাছ থেকে তিনি সেই মনোভাব দেখছেন না।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া এই প্রতিবেদনের তথ্যসূত্রে পাওয়া যায়নি।

Share this news as a Photo Card