শিরোনাম :
ফাস্ট ফুডের মোহে স্বাস্থ্যহানি: শিশুদের ভবিষ্যৎ রক্ষায় এখনই চাই রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ রাতে মাকে ফোনে জানায় বাসায় ফিরছি, কিন্তু আর ফেরা হলো না তাহসিফের তুরাগ নদে উদ্ধার তাহসিফের মরদেহ, ময়নাতদন্তের পর বিস্তারিত জানা যাবে: স্বরাষ্ট মন্ত্রী ছয় বছরের শিশুকে হত্যার অভিযোগ, বাবা কুপিয়ে জখম পাকিস্তান থেকে আমদানি করা ১৫০ টন তামাক জব্দ বাবা ডাব খাচ্ছিলেন তিনজন এসে লাথি মেরে বুকে অস্ত্র ঠেকিয়ে গুলি করেন সচিবালয় স্থানান্তরের প্রতিবাদে শেকৃবির শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ ইসরায়েলে কেউই পায়নি ৬১ আসন, ঝুলে গেল ক্ষমতার সমীকরণ মিরপুর টেস্টে ৯৯-তে থেমে সেঞ্চুরির অপেক্ষায় সাদমান দেশে ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ৯ ও হামে ৭ শিশুর মৃত্যু

আইসিইউ নয়, টিকাতেই হাম ঠেকানো সম্ভব: প্রতিমন্ত্রী

দেশজুড়ে হামের প্রকোপ ঠেকাতে আইসিইউ বা ভেন্টিলেটর নয়, বরং সময়মতো কার্যকর টিকাদানকেই একমাত্র সমাধান হিসেবে চিহ্নিত করেছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। বুধবার সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে আয়োজিত ‘হামের বিস্তার ও জিনগত নজরদারি’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। হাসপাতালটির রোগতত্ত্ব ও গবেষণা বিভাগ এবং আইসিডিডিআর,বি-এর যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠানে গবেষণা ফলাফল তুলে ধরা হয়।

আন্তর্জাতিক জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ প্রতিমন্ত্রী মুহিত বলেন, ২০২৪ সালের টিকাদান কর্মসূচিতে সময়োচিত উদ্যোগের ঘাটতি ও নীতিগত শৈথিল্যের কারণে যে রোগ প্রতিরোধ সক্ষমতার ফাঁক তৈরি হয়েছিল, তারই পরিণতি আজকের এই সংক্রমণ পরিস্থিতি। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, টিকাদানের গতি দ্বিগুণ করা হলেও প্রাদুর্ভাব পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসতে আরও দুই থেকে তিন মাস সময় লাগবে, তবে ততদিন সর্বোচ্চ চিকিৎসা ও মাঠপর্যায়ের নজরদারি অব্যাহত থাকবে।

শিশু স্বাস্থ্যসেবা বিকেন্দ্রীকরণের অংশ হিসেবে আগামী অক্টোবরের মধ্যেই দেশের পাঁচটি বিভাগীয় ও জেলা শহরে নবনির্মিত পূর্ণাঙ্গ শিশু হাসপাতাল চালু হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। প্রতিটি ৫০ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১৫০ শয্যায় উন্নীত করা হচ্ছে, যেখানে পেডিয়াট্রিকস, মেডিসিন, সার্জারি ও গাইনিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। জনবল সংকট মেটাতে দ্রুত এক লাখ স্বাস্থ্য মাঠকর্মী, পাঁচ হাজার চিকিৎসক এবং প্রয়োজনীয় নার্স ও মেডিকেল টেকনোলজিস্ট নিয়োগের প্রক্রিয়াও এগিয়ে চলছে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, বারডেম বা হলি ফ্যামিলির মতো স্বায়ত্তশাসিত অথচ সরকার-সমর্থিত ব্যবস্থাপনা মডেল স্বাস্থ্য খাতে কার্যকর হতে পারে, আর ঢাকার বাইরে বিশেষায়িত সেবার অভাবেই রোগীদের রাজধানীমুখী হতে হচ্ছে—এই কাঠামোগত দুর্বলতা দূর করতে বিভাগীয় শহরগুলোতেও একই মানের সেবা গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ শিশু হাসপাতালের অধ্যাপক ডা. মির্জা মো. জিয়াউল ইসলাম ও আইসিডিডিআর,বি-র প্রধান বিজ্ঞানী ড. মুস্তাফিজুর রহমান। গবেষণায় উঠে এসেছে, ২০২৬ সালের এই সংক্রমণের মূল কারণ ভাইরাসের নতুন কোনো রূপ নয়, বরং প্রচলিত তীব্র সংক্রামক ‘বি৩’ ধরনের বিস্তার এবং টিকা ও মাতৃদুগ্ধের অ্যান্টিবডির ঘাটতি—বিশেষত ৬ থেকে ৯ মাস বয়সী অপুষ্ট শিশুরাই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগস

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

জনপ্রিয় সংবাদ

ফাস্ট ফুডের মোহে স্বাস্থ্যহানি: শিশুদের ভবিষ্যৎ রক্ষায় এখনই চাই রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

দেশে ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ৯ ও হামে ৭ শিশুর মৃত্যু

২৮ অক্টোবর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

আইসিইউ নয়, টিকাতেই হাম ঠেকানো সম্ভব: প্রতিমন্ত্রী

আপডেট সময় ০৫:২৬:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬

দেশজুড়ে হামের প্রকোপ ঠেকাতে আইসিইউ বা ভেন্টিলেটর নয়, বরং সময়মতো কার্যকর টিকাদানকেই একমাত্র সমাধান হিসেবে চিহ্নিত করেছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। বুধবার সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে আয়োজিত ‘হামের বিস্তার ও জিনগত নজরদারি’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। হাসপাতালটির রোগতত্ত্ব ও গবেষণা বিভাগ এবং আইসিডিডিআর,বি-এর যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠানে গবেষণা ফলাফল তুলে ধরা হয়।

আন্তর্জাতিক জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ প্রতিমন্ত্রী মুহিত বলেন, ২০২৪ সালের টিকাদান কর্মসূচিতে সময়োচিত উদ্যোগের ঘাটতি ও নীতিগত শৈথিল্যের কারণে যে রোগ প্রতিরোধ সক্ষমতার ফাঁক তৈরি হয়েছিল, তারই পরিণতি আজকের এই সংক্রমণ পরিস্থিতি। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, টিকাদানের গতি দ্বিগুণ করা হলেও প্রাদুর্ভাব পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসতে আরও দুই থেকে তিন মাস সময় লাগবে, তবে ততদিন সর্বোচ্চ চিকিৎসা ও মাঠপর্যায়ের নজরদারি অব্যাহত থাকবে।

শিশু স্বাস্থ্যসেবা বিকেন্দ্রীকরণের অংশ হিসেবে আগামী অক্টোবরের মধ্যেই দেশের পাঁচটি বিভাগীয় ও জেলা শহরে নবনির্মিত পূর্ণাঙ্গ শিশু হাসপাতাল চালু হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। প্রতিটি ৫০ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১৫০ শয্যায় উন্নীত করা হচ্ছে, যেখানে পেডিয়াট্রিকস, মেডিসিন, সার্জারি ও গাইনিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। জনবল সংকট মেটাতে দ্রুত এক লাখ স্বাস্থ্য মাঠকর্মী, পাঁচ হাজার চিকিৎসক এবং প্রয়োজনীয় নার্স ও মেডিকেল টেকনোলজিস্ট নিয়োগের প্রক্রিয়াও এগিয়ে চলছে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, বারডেম বা হলি ফ্যামিলির মতো স্বায়ত্তশাসিত অথচ সরকার-সমর্থিত ব্যবস্থাপনা মডেল স্বাস্থ্য খাতে কার্যকর হতে পারে, আর ঢাকার বাইরে বিশেষায়িত সেবার অভাবেই রোগীদের রাজধানীমুখী হতে হচ্ছে—এই কাঠামোগত দুর্বলতা দূর করতে বিভাগীয় শহরগুলোতেও একই মানের সেবা গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ শিশু হাসপাতালের অধ্যাপক ডা. মির্জা মো. জিয়াউল ইসলাম ও আইসিডিডিআর,বি-র প্রধান বিজ্ঞানী ড. মুস্তাফিজুর রহমান। গবেষণায় উঠে এসেছে, ২০২৬ সালের এই সংক্রমণের মূল কারণ ভাইরাসের নতুন কোনো রূপ নয়, বরং প্রচলিত তীব্র সংক্রামক ‘বি৩’ ধরনের বিস্তার এবং টিকা ও মাতৃদুগ্ধের অ্যান্টিবডির ঘাটতি—বিশেষত ৬ থেকে ৯ মাস বয়সী অপুষ্ট শিশুরাই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে।

Share this news as a Photo Card