শিরোনাম :
মহাসংকটে দেশীয় চলচ্চিত্র, উত্তরণের পথ খুঁজলেন নির্মাতারা ‘ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে যাব’, তারেক রহমানকে নিয়ে এক্স পোস্টে তাকাইচি মেট্রোরেল লাইন-১ প্রকল্পের সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকার কাজ পেল ভারতের এলঅ্যান্ডটি দেশে স্মার্টফোন উৎপাদনের উদ্যোগ সরকারের, মিলবে পাঁচ হাজার টাকায় ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ মৃত্যু, হামে ঝরল ৭ শিশুর প্রাণ দুই দিন পিছিয়ে শনিবার প্রকাশ হচ্ছে এইচএসসি ও সমমানের ফল হাসিনা ফিরতে চাইলে বাধা নেই : তথ্য উপদেষ্টা ইসরায়েলে নির্বাচন: হাড়তে পারেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ব্যালন ডি’অর জিতলেন হ্যারি কেইন, পাঁচে থেকেও রেকর্ড মেসির অন্ধকারে সচিবালয়, ঢাকার পূর্বাঞ্চল ও চট্টগ্রামে হঠাৎ বিদ্যুৎ বিপর্যয়

ইরান শঙ্কায় ফোন-কম্পিউটারে ট্র্যাকার বন্ধ মার্কিন সেনাদের

ইরানের হামলার লক্ষ্যবস্তু হওয়ার আশঙ্কায় নিজেদের মুঠোফোন ও কম্পিউটারে থাকা ‘অ্যাড ট্র্যাকার’ বা মোবাইল অ্যাডভার্টাইজিং আইডি নিষ্ক্রিয় করে রেখেছেন মার্কিন সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তারা। মার্কিন সিনেটর রন ওয়াইডেনের লেখা একটি চিঠিতে বিষয়টি উঠে এসেছে, যা গত শুক্রবার প্রকাশ করা হয়। একাধিক মার্কিন সেনা কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে একই কথা জানিয়েছেন।

বাণিজ্যিকভাবে পাওয়া লোকেশন ডেটা ব্যবহার করে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের হামলার লক্ষ্যবস্তু করছে—এমন আলোচনার মধ্যেই এ পদক্ষেপের খবর সামনে এল। অ্যাড ট্র্যাকার এমন এক প্রযুক্তি, যা ব্যবহারকারীর অবস্থান, ব্রাউজিং তথ্য ও অ্যাপ ব্যবহারের ধরন অনুসরণ করে, সাধারণত যা লক্ষ্যভিত্তিক বিজ্ঞাপন দেখাতে কাজে লাগে।

মার্কিন বিমানবাহিনী ওয়াইডেনকে জানিয়েছে, দুই মাস আগে তারা নিজেদের কম্পিউটার ও মুঠোফোনের অ্যাড ট্র্যাকার নিষ্ক্রিয় করেছে। স্পেশাল অপারেশনস কমান্ড জানিয়েছে, তারা সম্প্রতি উইন্ডোজচালিত ডিভাইসগুলোয় এসব শনাক্তকারী ব্যবস্থা বন্ধ করেছে। সেনাবাহিনী রয়টার্সকে জানিয়েছে, চলতি বছরের শুরু থেকেই তাদের মুঠোফোনে অ্যাড ট্র্যাকার বন্ধ রয়েছে। এক বিবৃতিতে সেনাবাহিনী আরও বলেছে, উইন্ডোজ কম্পিউটারে বিজ্ঞাপন আইডি ২০২১ সালের আগে থেকেই বন্ধ, আর অ্যান্ড্রয়েড-অ্যাপল ফোনে অন্তত ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিষ্ক্রিয় হয়ে আসছে। নৌবাহিনীর কাছে পাঠানো প্রশ্নের কোনো জবাব মেলেনি।

ওরেগনের ডেমোক্র্যাট সিনেটর ওয়াইডেন কয়েক মাস ধরে এ বিষয়ে পেন্টাগনের জবাবদিহি চেয়ে আসছেন। তিনি বলেন, সামরিক বাহিনীর নেওয়া পদক্ষেপগুলো যে এই হুমকি মোকাবিলায় কার্যকর হয়নি, তা এখন স্পষ্ট। তাঁর সঙ্গে নর্থ ক্যারোলাইনার রিপাবলিকান প্রতিনিধি প্যাট হ্যারিগানও গত শুক্রবার পেন্টাগনের কাছে চিঠি পাঠিয়ে তদন্তের দাবি জানান। হ্যারিগানের ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিপক্ষরা যেন ক্রেডিট কার্ড দিয়ে এমন তথ্য কিনতে না পারে, যা মার্কিন সেনাদের গতিবিধি অনুসরণে সহায়তা করে। পেন্টাগন জানিয়েছে, আইনপ্রণেতাদের চিঠির জবাব সরাসরি তাঁদেরই দেওয়া হবে।

ডেটা ব্রোকার—অর্থাৎ যেসব প্রতিষ্ঠান ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করে অন্যদের কাছে বিক্রি করে—তাদের মাধ্যমে অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য হাতবদল হওয়া ক্রমবর্ধমান জাতীয় নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। ডিভাইস-নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ডিক্রিপ্টঅ্যাডসের সহপ্রতিষ্ঠাতা জ্যাক এডওয়ার্ডস বলেন, বিজ্ঞাপন শনাক্তকারী বন্ধ করা নিঃসন্দেহে ইতিবাচক পদক্ষেপ, তবে নেটওয়ার্ক ও কারিগরি তথ্য মিলিয়ে সেনাদের অবস্থান শনাক্তের আরও জটিল উপায় থেকে যায়।

গত জুলাইয়ে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন কিছু মার্কিন সেনাকে ফোন জমা দিতে বলা হতে পারে, কারণ তাঁদের পোস্ট করা ভিডিও ব্যবহার করে ইরান মার্কিন ঘাঁটি শনাক্ত করতে পারছে বলে উদ্বেগ আছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের আকস্মিক হামলার মধ্য দিয়ে ইরান যুদ্ধ শুরু হয়। যুদ্ধের শুরুতে প্রত্যাশা ছিল, ক্রমবর্ধমান চাপ তেহরানের নেতৃত্বকাঠামোয় পরিবর্তন আনবে। কিন্তু ছয় মাস পর তা স্পষ্ট নয়; বরং দীর্ঘমেয়াদি এক লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিতে হচ্ছে অনেককে।

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

জনপ্রিয় সংবাদ

মহাসংকটে দেশীয় চলচ্চিত্র, উত্তরণের পথ খুঁজলেন নির্মাতারা

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

অন্ধকারে সচিবালয়, ঢাকার পূর্বাঞ্চল ও চট্টগ্রামে হঠাৎ বিদ্যুৎ বিপর্যয়

২৭ অক্টোবর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

ইরান শঙ্কায় ফোন-কম্পিউটারে ট্র্যাকার বন্ধ মার্কিন সেনাদের

আপডেট সময় ১১:৪৮:৫৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইরানের হামলার লক্ষ্যবস্তু হওয়ার আশঙ্কায় নিজেদের মুঠোফোন ও কম্পিউটারে থাকা ‘অ্যাড ট্র্যাকার’ বা মোবাইল অ্যাডভার্টাইজিং আইডি নিষ্ক্রিয় করে রেখেছেন মার্কিন সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তারা। মার্কিন সিনেটর রন ওয়াইডেনের লেখা একটি চিঠিতে বিষয়টি উঠে এসেছে, যা গত শুক্রবার প্রকাশ করা হয়। একাধিক মার্কিন সেনা কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে একই কথা জানিয়েছেন।

বাণিজ্যিকভাবে পাওয়া লোকেশন ডেটা ব্যবহার করে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের হামলার লক্ষ্যবস্তু করছে—এমন আলোচনার মধ্যেই এ পদক্ষেপের খবর সামনে এল। অ্যাড ট্র্যাকার এমন এক প্রযুক্তি, যা ব্যবহারকারীর অবস্থান, ব্রাউজিং তথ্য ও অ্যাপ ব্যবহারের ধরন অনুসরণ করে, সাধারণত যা লক্ষ্যভিত্তিক বিজ্ঞাপন দেখাতে কাজে লাগে।

মার্কিন বিমানবাহিনী ওয়াইডেনকে জানিয়েছে, দুই মাস আগে তারা নিজেদের কম্পিউটার ও মুঠোফোনের অ্যাড ট্র্যাকার নিষ্ক্রিয় করেছে। স্পেশাল অপারেশনস কমান্ড জানিয়েছে, তারা সম্প্রতি উইন্ডোজচালিত ডিভাইসগুলোয় এসব শনাক্তকারী ব্যবস্থা বন্ধ করেছে। সেনাবাহিনী রয়টার্সকে জানিয়েছে, চলতি বছরের শুরু থেকেই তাদের মুঠোফোনে অ্যাড ট্র্যাকার বন্ধ রয়েছে। এক বিবৃতিতে সেনাবাহিনী আরও বলেছে, উইন্ডোজ কম্পিউটারে বিজ্ঞাপন আইডি ২০২১ সালের আগে থেকেই বন্ধ, আর অ্যান্ড্রয়েড-অ্যাপল ফোনে অন্তত ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিষ্ক্রিয় হয়ে আসছে। নৌবাহিনীর কাছে পাঠানো প্রশ্নের কোনো জবাব মেলেনি।

ওরেগনের ডেমোক্র্যাট সিনেটর ওয়াইডেন কয়েক মাস ধরে এ বিষয়ে পেন্টাগনের জবাবদিহি চেয়ে আসছেন। তিনি বলেন, সামরিক বাহিনীর নেওয়া পদক্ষেপগুলো যে এই হুমকি মোকাবিলায় কার্যকর হয়নি, তা এখন স্পষ্ট। তাঁর সঙ্গে নর্থ ক্যারোলাইনার রিপাবলিকান প্রতিনিধি প্যাট হ্যারিগানও গত শুক্রবার পেন্টাগনের কাছে চিঠি পাঠিয়ে তদন্তের দাবি জানান। হ্যারিগানের ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিপক্ষরা যেন ক্রেডিট কার্ড দিয়ে এমন তথ্য কিনতে না পারে, যা মার্কিন সেনাদের গতিবিধি অনুসরণে সহায়তা করে। পেন্টাগন জানিয়েছে, আইনপ্রণেতাদের চিঠির জবাব সরাসরি তাঁদেরই দেওয়া হবে।

ডেটা ব্রোকার—অর্থাৎ যেসব প্রতিষ্ঠান ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করে অন্যদের কাছে বিক্রি করে—তাদের মাধ্যমে অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য হাতবদল হওয়া ক্রমবর্ধমান জাতীয় নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। ডিভাইস-নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ডিক্রিপ্টঅ্যাডসের সহপ্রতিষ্ঠাতা জ্যাক এডওয়ার্ডস বলেন, বিজ্ঞাপন শনাক্তকারী বন্ধ করা নিঃসন্দেহে ইতিবাচক পদক্ষেপ, তবে নেটওয়ার্ক ও কারিগরি তথ্য মিলিয়ে সেনাদের অবস্থান শনাক্তের আরও জটিল উপায় থেকে যায়।

গত জুলাইয়ে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন কিছু মার্কিন সেনাকে ফোন জমা দিতে বলা হতে পারে, কারণ তাঁদের পোস্ট করা ভিডিও ব্যবহার করে ইরান মার্কিন ঘাঁটি শনাক্ত করতে পারছে বলে উদ্বেগ আছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের আকস্মিক হামলার মধ্য দিয়ে ইরান যুদ্ধ শুরু হয়। যুদ্ধের শুরুতে প্রত্যাশা ছিল, ক্রমবর্ধমান চাপ তেহরানের নেতৃত্বকাঠামোয় পরিবর্তন আনবে। কিন্তু ছয় মাস পর তা স্পষ্ট নয়; বরং দীর্ঘমেয়াদি এক লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিতে হচ্ছে অনেককে।

Share this news as a Photo Card