গ্রেফতার হতে যাচ্ছেন শীর্ষ ককরোচ নেতারা?

ভারতের তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা ককরোচ জনতা পার্টির শীর্ষ নেতাদের গ্রেফতারের পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। দলটির মুখপাত্র সৌরভ দাস এ অভিযোগ তুলেছেন। আগামী ১০ অক্টোবর দিল্লির যন্তর মন্তরে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বড় প্রতিবাদ কর্মসূচি আছে। তার আগেই তিনি এই আশঙ্কার কথা জানালেন।

সৌরভ দাসের দাবি, দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে, আশুতোষ রাঙ্কা ও রত্না সিংয়ের পাশাপাশি তাকেও গ্রেফতার করা হতে পারে। রোববার (৪ অক্টোবর) গভীর রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ কথা বলেন।

পোস্টে সৌরভ লেখেন, গ্রেফতার করে প্রতিবাদ দমন করা যাবে বলে সরকার মনে করলে তারা ভুল করছে। তার ভাষায়, তরুণ প্রজন্ম জেগে উঠেছে। নেতারা গ্রেফতার হলেও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সৌরভের বক্তব্য, দলের নেতারা জেল বা আরও কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে প্রস্তুত। কিন্তু নেতৃত্বকে গ্রেফতার করে আন্দোলন থামানো যাবে না। ১০ অক্টোবর থেকে দেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীকে প্রতিবাদে শামিল হওয়ার ডাক দিয়েছেন তিনি।

প্রতিষ্ঠাতার প্রশ্ন

দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকেও একই প্রসঙ্গে কথা বলেছেন। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে উদ্দেশ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, কতজনকে গ্রেফতার করা হবে? তার দাবি, ১০ অক্টোবর দেশের নানা প্রান্ত থেকে মানুষ দিল্লিতে আসবেন।

যাচাইয়ের অপেক্ষা

তবে সরকার সত্যিই দলটির নেতাদের গ্রেফতারের পরিকল্পনা করেছে কি না, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়ার মতো কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে আপাতত বিষয়টি ককরোচ জনতা পার্টির নেতাদের অভিযোগ হিসেবেই সামনে এসেছে।

ভোটার তালিকা ঘিরে ক্ষোভ

ভারতে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্ক চলছে। এর মধ্যেই ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলন নতুন মাত্রা পেয়েছে।

দলটির অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে বহু যোগ্য ভোটারের অধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তাই তারা তিনটি দাবি তুলেছে: মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ, তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা এবং নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা।

মুম্বাই থেকে দিল্লি

গত ২ অক্টোবর মুম্বাইয়ের শিবাজি পার্কে দলটির প্রতিবাদ কর্মসূচিতে বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন। পুলিশ অনুমতি না দিলেও সেখানে জমায়েত হয়। অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহ, শাবানা আজমি এবং সংগীতশিল্পী বিশাল দাদলানির মতো পরিচিত মুখের উপস্থিতি আন্দোলনের দিকে বাড়তি দৃষ্টি টেনেছে। শিক্ষার্থী সংগঠনের কর্মীরাও কর্মসূচিতে যোগ দেন।

এরপর দিল্লির যন্তর মন্তরে ১০ অক্টোবর বড় জমায়েতের ডাক দিয়েছে দলটি। তাদের লক্ষ্য, ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে ক্ষোভকে দেশব্যাপী প্রতিবাদে রূপ দেওয়া।

বিজেপি কি চাপে?

ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলন বিজেপির নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারের জন্য রাজনৈতিক চাপ তৈরি করতে পারে কি না, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে বিজেপি তরুণদের এই আন্দোলনকে ভয় পাচ্ছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো প্রমাণ এখনো নেই।

গ্রেফতারের অভিযোগ সত্য হলে তা আন্দোলনকে আরও জোরালো করতে পারে। অন্যদিকে অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ না মিললে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা থাকবে।

দলটির সাম্প্রতিক কর্মসূচি থেকে বোঝা যাচ্ছে, তারা শুধু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার চালিয়ে থামতে চায় না। মুম্বাইয়ের পর দিল্লিতে বড় জমায়েতের পরিকল্পনা সেই কৌশলেরই অংশ। ১০ অক্টোবরের কর্মসূচিতে কত মানুষ যোগ দেন এবং প্রশাসন কী ভূমিকা নেয়, তার ওপর আন্দোলনের পরবর্তী গতিপথ অনেকটাই নির্ভর করবে।

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

জনপ্রিয় সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

দশ বছরের পথচলার ইতি টানছেন প্রীতম হাসান ও শেহতাজ মনিরা

০৪ অক্টোবর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

গ্রেফতার হতে যাচ্ছেন শীর্ষ ককরোচ নেতারা?

আপডেট সময় ১২:৪৯:৪৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬

ভারতের তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা ককরোচ জনতা পার্টির শীর্ষ নেতাদের গ্রেফতারের পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। দলটির মুখপাত্র সৌরভ দাস এ অভিযোগ তুলেছেন। আগামী ১০ অক্টোবর দিল্লির যন্তর মন্তরে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বড় প্রতিবাদ কর্মসূচি আছে। তার আগেই তিনি এই আশঙ্কার কথা জানালেন।

সৌরভ দাসের দাবি, দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে, আশুতোষ রাঙ্কা ও রত্না সিংয়ের পাশাপাশি তাকেও গ্রেফতার করা হতে পারে। রোববার (৪ অক্টোবর) গভীর রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ কথা বলেন।

পোস্টে সৌরভ লেখেন, গ্রেফতার করে প্রতিবাদ দমন করা যাবে বলে সরকার মনে করলে তারা ভুল করছে। তার ভাষায়, তরুণ প্রজন্ম জেগে উঠেছে। নেতারা গ্রেফতার হলেও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সৌরভের বক্তব্য, দলের নেতারা জেল বা আরও কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে প্রস্তুত। কিন্তু নেতৃত্বকে গ্রেফতার করে আন্দোলন থামানো যাবে না। ১০ অক্টোবর থেকে দেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীকে প্রতিবাদে শামিল হওয়ার ডাক দিয়েছেন তিনি।

প্রতিষ্ঠাতার প্রশ্ন

দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকেও একই প্রসঙ্গে কথা বলেছেন। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে উদ্দেশ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, কতজনকে গ্রেফতার করা হবে? তার দাবি, ১০ অক্টোবর দেশের নানা প্রান্ত থেকে মানুষ দিল্লিতে আসবেন।

যাচাইয়ের অপেক্ষা

তবে সরকার সত্যিই দলটির নেতাদের গ্রেফতারের পরিকল্পনা করেছে কি না, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়ার মতো কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে আপাতত বিষয়টি ককরোচ জনতা পার্টির নেতাদের অভিযোগ হিসেবেই সামনে এসেছে।

ভোটার তালিকা ঘিরে ক্ষোভ

ভারতে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্ক চলছে। এর মধ্যেই ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলন নতুন মাত্রা পেয়েছে।

দলটির অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে বহু যোগ্য ভোটারের অধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তাই তারা তিনটি দাবি তুলেছে: মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ, তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা এবং নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা।

মুম্বাই থেকে দিল্লি

গত ২ অক্টোবর মুম্বাইয়ের শিবাজি পার্কে দলটির প্রতিবাদ কর্মসূচিতে বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন। পুলিশ অনুমতি না দিলেও সেখানে জমায়েত হয়। অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহ, শাবানা আজমি এবং সংগীতশিল্পী বিশাল দাদলানির মতো পরিচিত মুখের উপস্থিতি আন্দোলনের দিকে বাড়তি দৃষ্টি টেনেছে। শিক্ষার্থী সংগঠনের কর্মীরাও কর্মসূচিতে যোগ দেন।

এরপর দিল্লির যন্তর মন্তরে ১০ অক্টোবর বড় জমায়েতের ডাক দিয়েছে দলটি। তাদের লক্ষ্য, ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে ক্ষোভকে দেশব্যাপী প্রতিবাদে রূপ দেওয়া।

বিজেপি কি চাপে?

ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলন বিজেপির নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারের জন্য রাজনৈতিক চাপ তৈরি করতে পারে কি না, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে বিজেপি তরুণদের এই আন্দোলনকে ভয় পাচ্ছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো প্রমাণ এখনো নেই।

গ্রেফতারের অভিযোগ সত্য হলে তা আন্দোলনকে আরও জোরালো করতে পারে। অন্যদিকে অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ না মিললে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা থাকবে।

দলটির সাম্প্রতিক কর্মসূচি থেকে বোঝা যাচ্ছে, তারা শুধু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার চালিয়ে থামতে চায় না। মুম্বাইয়ের পর দিল্লিতে বড় জমায়েতের পরিকল্পনা সেই কৌশলেরই অংশ। ১০ অক্টোবরের কর্মসূচিতে কত মানুষ যোগ দেন এবং প্রশাসন কী ভূমিকা নেয়, তার ওপর আন্দোলনের পরবর্তী গতিপথ অনেকটাই নির্ভর করবে।

Share this news as a Photo Card