রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানার দুই মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৬৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেছেন পুলিশ। সম্প্রতি ঢাকার সিএমএম আদালতে যাত্রাবাড়ি থানার পৃথক দুই তদন্ত কর্মকর্তা এই অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
আদালতসূত্রে জানা গেছে, প্রথম মামলা হলো নাদিম হত্যাচেষ্টা মামলা। এই মামলায় শেখ হাসিনাসহ ৩০ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) ইব্রাহিম খলিল। এ মামলায় ৬৬ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে। গত ২৭ জুলাই ঢাকার সিএমএম আদালতে এ অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর মামলা শুনানির জন্য রয়েছে।
অভিযোগপত্রের অন্য আসামিরা হলেন, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন, সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, ঢাকার সাবেক ডিবিপ্রধান হারুন অর রশীদ, ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার।
নথি থেকে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই যাত্রাবাড়ী থানার রায়েরবাগ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে চলাকালে একটি গুলি নাদিমের বাম হাঁটুতে লাগে। এ ঘটনায় যাত্রাবাড়ী থানায় একটি হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করা হয়।
আরেক মামলা
বাবুল মৃধা হত্যা মামলায় শেখ হাসিনাসহ ৩৩ জনের বিরুদ্ধে ঢাকার সিএমএম আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন যাত্রাবাড়ী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাহমুদুল হাসান ইরফান। গত ১৩ আগস্ট তিনি ঢাকার সিএমএম আদালতে এ অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এ মামলায় ৩৯ জনকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
এ মামলায় অন্য আসামিরা হলেন, সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস, যাত্রাবাড়ী-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য কাজী মনিরুল ইসলাম মনু, পটুয়াখালী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এস এম শাহজাদা।
অব্যাহতি সুপারিশপ্রাপ্ত উল্লেখযোগ্য আসামিরা হলেন, ৭০ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আতিকুর রহমান, ৬৩ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের সদস্য হাবিবুর রহমান, যাত্রাবাড়ী থানা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অর্থ দাস, রবিন খান ওরফে মেকআপ রবিন, মনির আহমেদ ও লুৎফুর রহমান।
নথি থেকে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় যাত্রাবাড়ীর দনিয়া ও লাকি কমিউনিটি সেন্টার এলাকায় গুলিবিদ্ধ হন বাবুল মৃধা। গুলিবিদ্ধ হওয়ার ৫২ দিন পর ২০২৪ সালের ৯ সেপ্টেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় সিএমএইচে মারা যান বাবুল মৃধা। এ ঘটনায় তার স্ত্রী সীমা বেগম ২০২৪ সালের ১৯ নভেম্বর যাত্রাবাড়ী থানায় হত্যা মামলা করেন।
চলমান বার্তা ডেস্ক : 



















