বিদেশে উচ্চশিক্ষা নিতে যা জানা জরুরী

উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে যাওয়া বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রতি বছরই বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, জার্মানি ও জাপানসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে পড়তে যাচ্ছেন হাজার হাজার শিক্ষার্থী, ফলে বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও ক্রমশ বাড়ছে বাংলাদেশিদের উপস্থিতি।

ইউনেস্কোর ২০২৪ সালের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৫২ হাজার ৭৯৯ জন শিক্ষার্থী বিদেশে পড়াশোনার জন্য পাড়ি জমিয়েছেন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গুরুত্ব, পড়ার বিষয় এবং বৃত্তি পাওয়ার সম্ভাবনা- এই তিনটি বিবেচনা থেকেই মূলত শিক্ষার্থীরা ঠিক করেন কোন দেশের কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হবেন এবং সে অনুযায়ী প্রস্তুতি নেন।

তবে বিদেশে পড়তে যাওয়ার আগে শুধু ভালো একাডেমিক ফলাফলই যথেষ্ট নয়, পাশাপাশি নির্দিষ্ট ভাষাগত দক্ষতার পরীক্ষায়ও উত্তীর্ণ হতে হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশি গবেষক ড. নাদিম মাহমুদ বলেন, এসব সহায়ক পরীক্ষায় ভালো স্কোর থাকলে কাঙ্ক্ষিত বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি কিংবা বৃত্তি পাওয়ার সম্ভাবনা অনেকখানি বেড়ে যায়।

ইংরেজি দক্ষতার দুই প্রধান পরীক্ষা: আইইএলটিএস ও টোয়েফল

বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে ইচ্ছুক বেশিরভাগ শিক্ষার্থীকেই প্রথমে ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা প্রমাণ করতে হয়। ড. মাহমুদের ভাষ্যে, এক্ষেত্রে আইইএলটিএস ও টোয়েফল সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়, যদিও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভিন্ন ভিন্ন ধরনের ভাষাগত পরীক্ষারও প্রয়োজন হতে পারে।

উন্নত বিশ্বের বেশিরভাগ বিশ্ববিদ্যালয় ইংরেজি দক্ষতার প্রমাণ হিসেবে একাডেমিক আইইএলটিএস (ইন্টারন্যাশনাল ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজ টেস্টিং সিস্টেম) কিংবা টোয়েফল (টেস্ট অব ইংলিশ অ্যাজ এ ফরেন ল্যাঙ্গুয়েজ) গ্রহণ করে। আইইএলটিএস আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত এবং বাংলাদেশে ব্রিটিশ কাউন্সিলের মাধ্যমে এই পরীক্ষা দেওয়া যায়। ড. মাহমুদের ভাষায়, “যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডাসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আইইএলটিএস স্কোরকে ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা যাচাইয়ের একটি নির্ভরযোগ্য মাপকাঠি হিসেবে বিবেচনা করে।”

অন্যদিকে উত্তর আমেরিকার বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অনেক ক্ষেত্রে টোয়েফল স্কোরকেই বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকে। তার ভাষ্যে, “মাস্টার্স ও পিএইচডি শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অনেক সময় টোয়েফল স্কোর চায়।” আবার যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের কিছু বিশ্ববিদ্যালয় দুটি স্কোরই গ্রহণ করে থাকে।

দুই পরীক্ষাতেই শিক্ষার্থীকে রিডিং, রাইটিং, লিসেনিং ও স্পিকিং- এই চার দক্ষতায় যাচাই করা হয়, এবং একই দিনে সব অংশের পরীক্ষা নেওয়া হয়। আইইএলটিএস দুই ধরনের হয়- একাডেমিক ও জেনারেল ট্রেনিং; স্নাতক, স্নাতকোত্তর বা পিএইচডি পড়তে একাডেমিক মডিউলে বসতে হয়। এক থেকে নয়ের স্কেলে চারটি অংশের গড় করে চূড়ান্ত স্কোর নির্ধারিত হয়। টোয়েফলের পূর্ণমান ১২০, আর এর তত্ত্বাবধায়ক সংস্থা এডুকেশন টেস্টিং সার্ভিস বা ইটিএস।

জিআরই ও জিম্যাট: স্নাতকোত্তরের পথে

বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত বিষয়ের স্নাতকোত্তর প্রোগ্রামে অনেক সময় জিআরই স্কোর প্রয়োজন হয়, আবার বিজনেস স্কুলের এমবিএ বা ব্যবস্থাপনা-সংশ্লিষ্ট কোর্সে চাওয়া হয় জিম্যাট স্কোর।

জিম্যাট বা গ্র্যাজুয়েট ম্যানেজমেন্ট অ্যাডমিশন টেস্ট ৮০০ নম্বরের একটি কম্পিউটারভিত্তিক অনলাইন পরীক্ষা, যা মূলত যুক্তরাষ্ট্রে বিজনেস ও কমার্স বিষয়ে মাস্টার্সে ভর্তির জন্য আবশ্যক। এছাড়া যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়াসহ আরও অনেক দেশে এমবিএ পড়তেও এই স্কোরের প্রয়োজন পড়ে। পরীক্ষায় বিশ্লেষণ ও গাণিতিক দক্ষতার পাশাপাশি দ্রুত ও যৌক্তিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা যাচাই করা হয়। এর জন্য জিম্যাটের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে নিবন্ধন করে নির্ধারিত দিনে অনুমোদিত কেন্দ্রে পরীক্ষা দিতে হয়। একবার অর্জিত স্কোর দিয়ে পরবর্তী পাঁচ বছর যেকোনো জায়গায় আবেদন করা যায়।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তর বা পিএইচডি পর্যায়ে পড়তে ইচ্ছুকদের জন্য জিআরই খুবই গুরুত্বপূর্ণ, আর এই স্কোরেরও মেয়াদ পাঁচ বছর। ইটিএস-ই এই পরীক্ষার তত্ত্বাবধান করে। এর তিনটি প্রধান অংশ- অ্যানালিটিকাল রাইটিং, ভারবাল রিজনিং ও কোয়ান্টিটেটিভ রিজনিং। এর মধ্যে ভারবাল রিজনিংয়ে ইংরেজি ভাষাগত দক্ষতা, কোয়ান্টিটেটিভ রিজনিংয়ে গাণিতিক দক্ষতা এবং অ্যানালিটিকাল রাইটিংয়ে বিশ্লেষণী সক্ষমতা যাচাই করা হয়।

স্যাট কখন লাগে

যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক পর্যায়ে ভর্তির জন্য স্কলাস্টিক অ্যাসেসমেন্ট টেস্ট বা স্যাট স্কোর চাওয়া হয়, যা বাংলাদেশে স্যাট নামেই পরিচিত। যুক্তরাষ্ট্রের বেশির ভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আবেদনের সঙ্গে এই স্কোর জমা দিতে হয়। ড. মাহমুদ বলেন, এসএসসি ও এইচএসসি পাসের পর একজন শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের পড়াশোনার জন্য কতটা প্রস্তুত, তা যাচাই করা হয় এই পরীক্ষার মাধ্যমেই। বাংলাদেশে ঢাকা ও চট্টগ্রামে স্যাট পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে, এর জন্য নিবন্ধন করতে হয় স্যাটের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে। ১৬০০ নম্বরের এই পরীক্ষার তিনটি অংশ- ম্যাথমেটিকস, ক্রিটিক্যাল রিডিং ও রাইটিং।

জার্মানির জন্য টেস্টড্যাফ বা ডিএসএইচ

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উচ্চশিক্ষার জন্য জার্মানিমুখী বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে। দেশটিতে ইংরেজি মাধ্যমে পরিচালিত কোর্সে ভর্তির জন্য আইইএলটিএস বা টোয়েফল স্কোরই যথেষ্ট। তবে জার্মান ভাষায় পরিচালিত কোর্সে ভর্তি হতে হলে টেস্টড্যাফ বা ডিএসএইচ পরীক্ষার মাধ্যমে ভাষাগত দক্ষতা প্রমাণ করতে হয়। বাংলাদেশ থেকে অনুমোদিত কেন্দ্রে টেস্টড্যাফ দেওয়া গেলেও ডিএসএইচ দেওয়া যায় কেবল জার্মানিতে পৌঁছানোর পর, সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয়ের তত্ত্বাবধানে। জার্মানির বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অবশ্য ভর্তির ক্ষেত্রে নিজস্ব নীতিমালা অনুসরণ করে- বিজ্ঞান বা গণিত বিষয়ের জন্য অনেক বিশ্ববিদ্যালয় জিআরই স্কোর চায়, আবার ব্যবসা-ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত কোর্সের জন্য চাওয়া হয় জিম্যাট স্কোর।

জাপানে ভর্তির শর্ত

জাপানের অনেক বিশ্ববিদ্যালয় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আইইএলটিএস বা টোয়েফল স্কোর চেয়ে থাকে। তবে স্নাতক পর্যায়ে ভর্তির জন্য কিছু বিশ্ববিদ্যালয় জাপানি ভাষায় দক্ষতার প্রমাণ চায়, যার জন্য বিদেশি শিক্ষার্থীদের জাপান ল্যাঙ্গুয়েজ প্রফিশিয়েন্সি টেস্ট বা জেএলপিটি দিতে হয়। জাপানে ভর্তি হতে ইচ্ছুক বিদেশি শিক্ষার্থীদের জাপানি ভাষার দক্ষতা যাচাইয়ের প্রধান পরীক্ষা এটিই। বছরে দু’বার অনুষ্ঠিত এই পরীক্ষায় অনলাইনে নিবন্ধন করে বাংলাদেশ থেকেও অংশ নেওয়া যায়।

সব মিলিয়ে দেখা যাচ্ছে, বিদেশে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন পূরণে গন্তব্য দেশ ও পড়ার বিষয়ের ওপর নির্ভর করে ভিন্ন ভিন্ন পরীক্ষায় বসতে হয় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের। তাই আগেভাগে সঠিক তথ্য জেনে প্রস্তুতি নেওয়াই ভর্তি ও বৃত্তি প্রাপ্তির সম্ভাবনা বাড়ানোর প্রধান উপায়।

উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে যাওয়া বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রতি বছরই বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, জার্মানি ও জাপানসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে পড়তে যাচ্ছেন হাজার হাজার শিক্ষার্থী, ফলে বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও ক্রমশ বাড়ছে বাংলাদেশিদের উপস্থিতি।

ইউনেস্কোর ২০২৪ সালের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৫২ হাজার ৭৯৯ জন শিক্ষার্থী বিদেশে পড়াশোনার জন্য পাড়ি জমিয়েছেন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গুরুত্ব, পড়ার বিষয় এবং বৃত্তি পাওয়ার সম্ভাবনা- এই তিনটি বিবেচনা থেকেই মূলত শিক্ষার্থীরা ঠিক করেন কোন দেশের কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হবেন এবং সে অনুযায়ী প্রস্তুতি নেন।

তবে বিদেশে পড়তে যাওয়ার আগে শুধু ভালো একাডেমিক ফলাফলই যথেষ্ট নয়, পাশাপাশি নির্দিষ্ট ভাষাগত দক্ষতার পরীক্ষায়ও উত্তীর্ণ হতে হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশি গবেষক ড. নাদিম মাহমুদ বলেন, এসব সহায়ক পরীক্ষায় ভালো স্কোর থাকলে কাঙ্ক্ষিত বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি কিংবা বৃত্তি পাওয়ার সম্ভাবনা অনেকখানি বেড়ে যায়।

ইংরেজি দক্ষতার দুই প্রধান পরীক্ষা: আইইএলটিএস ও টোয়েফল

বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে ইচ্ছুক বেশিরভাগ শিক্ষার্থীকেই প্রথমে ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা প্রমাণ করতে হয়। ড. মাহমুদের ভাষ্যে, এক্ষেত্রে আইইএলটিএস ও টোয়েফল সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়, যদিও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভিন্ন ভিন্ন ধরনের ভাষাগত পরীক্ষারও প্রয়োজন হতে পারে।

উন্নত বিশ্বের বেশিরভাগ বিশ্ববিদ্যালয় ইংরেজি দক্ষতার প্রমাণ হিসেবে একাডেমিক আইইএলটিএস (ইন্টারন্যাশনাল ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজ টেস্টিং সিস্টেম) কিংবা টোয়েফল (টেস্ট অব ইংলিশ অ্যাজ এ ফরেন ল্যাঙ্গুয়েজ) গ্রহণ করে। আইইএলটিএস আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত এবং বাংলাদেশে ব্রিটিশ কাউন্সিলের মাধ্যমে এই পরীক্ষা দেওয়া যায়। ড. মাহমুদের ভাষায়, “যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডাসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আইইএলটিএস স্কোরকে ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা যাচাইয়ের একটি নির্ভরযোগ্য মাপকাঠি হিসেবে বিবেচনা করে।”

অন্যদিকে উত্তর আমেরিকার বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অনেক ক্ষেত্রে টোয়েফল স্কোরকেই বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকে। তার ভাষ্যে, “মাস্টার্স ও পিএইচডি শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অনেক সময় টোয়েফল স্কোর চায়।” আবার যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের কিছু বিশ্ববিদ্যালয় দুটি স্কোরই গ্রহণ করে থাকে।

দুই পরীক্ষাতেই শিক্ষার্থীকে রিডিং, রাইটিং, লিসেনিং ও স্পিকিং- এই চার দক্ষতায় যাচাই করা হয়, এবং একই দিনে সব অংশের পরীক্ষা নেওয়া হয়। আইইএলটিএস দুই ধরনের হয়- একাডেমিক ও জেনারেল ট্রেনিং; স্নাতক, স্নাতকোত্তর বা পিএইচডি পড়তে একাডেমিক মডিউলে বসতে হয়। এক থেকে নয়ের স্কেলে চারটি অংশের গড় করে চূড়ান্ত স্কোর নির্ধারিত হয়। টোয়েফলের পূর্ণমান ১২০, আর এর তত্ত্বাবধায়ক সংস্থা এডুকেশন টেস্টিং সার্ভিস বা ইটিএস।

জিআরই ও জিম্যাট: স্নাতকোত্তরের পথে

বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত বিষয়ের স্নাতকোত্তর প্রোগ্রামে অনেক সময় জিআরই স্কোর প্রয়োজন হয়, আবার বিজনেস স্কুলের এমবিএ বা ব্যবস্থাপনা-সংশ্লিষ্ট কোর্সে চাওয়া হয় জিম্যাট স্কোর।

জিম্যাট বা গ্র্যাজুয়েট ম্যানেজমেন্ট অ্যাডমিশন টেস্ট ৮০০ নম্বরের একটি কম্পিউটারভিত্তিক অনলাইন পরীক্ষা, যা মূলত যুক্তরাষ্ট্রে বিজনেস ও কমার্স বিষয়ে মাস্টার্সে ভর্তির জন্য আবশ্যক। এছাড়া যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়াসহ আরও অনেক দেশে এমবিএ পড়তেও এই স্কোরের প্রয়োজন পড়ে। পরীক্ষায় বিশ্লেষণ ও গাণিতিক দক্ষতার পাশাপাশি দ্রুত ও যৌক্তিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা যাচাই করা হয়। এর জন্য জিম্যাটের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে নিবন্ধন করে নির্ধারিত দিনে অনুমোদিত কেন্দ্রে পরীক্ষা দিতে হয়। একবার অর্জিত স্কোর দিয়ে পরবর্তী পাঁচ বছর যেকোনো জায়গায় আবেদন করা যায়।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তর বা পিএইচডি পর্যায়ে পড়তে ইচ্ছুকদের জন্য জিআরই খুবই গুরুত্বপূর্ণ, আর এই স্কোরেরও মেয়াদ পাঁচ বছর। ইটিএস-ই এই পরীক্ষার তত্ত্বাবধান করে। এর তিনটি প্রধান অংশ- অ্যানালিটিকাল রাইটিং, ভারবাল রিজনিং ও কোয়ান্টিটেটিভ রিজনিং। এর মধ্যে ভারবাল রিজনিংয়ে ইংরেজি ভাষাগত দক্ষতা, কোয়ান্টিটেটিভ রিজনিংয়ে গাণিতিক দক্ষতা এবং অ্যানালিটিকাল রাইটিংয়ে বিশ্লেষণী সক্ষমতা যাচাই করা হয়।

স্যাট কখন লাগে

যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক পর্যায়ে ভর্তির জন্য স্কলাস্টিক অ্যাসেসমেন্ট টেস্ট বা স্যাট স্কোর চাওয়া হয়, যা বাংলাদেশে স্যাট নামেই পরিচিত। যুক্তরাষ্ট্রের বেশির ভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আবেদনের সঙ্গে এই স্কোর জমা দিতে হয়। ড. মাহমুদ বলেন, এসএসসি ও এইচএসসি পাসের পর একজন শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের পড়াশোনার জন্য কতটা প্রস্তুত, তা যাচাই করা হয় এই পরীক্ষার মাধ্যমেই। বাংলাদেশে ঢাকা ও চট্টগ্রামে স্যাট পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে, এর জন্য নিবন্ধন করতে হয় স্যাটের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে। ১৬০০ নম্বরের এই পরীক্ষার তিনটি অংশ- ম্যাথমেটিকস, ক্রিটিক্যাল রিডিং ও রাইটিং।

জার্মানির জন্য টেস্টড্যাফ বা ডিএসএইচ

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উচ্চশিক্ষার জন্য জার্মানিমুখী বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে। দেশটিতে ইংরেজি মাধ্যমে পরিচালিত কোর্সে ভর্তির জন্য আইইএলটিএস বা টোয়েফল স্কোরই যথেষ্ট। তবে জার্মান ভাষায় পরিচালিত কোর্সে ভর্তি হতে হলে টেস্টড্যাফ বা ডিএসএইচ পরীক্ষার মাধ্যমে ভাষাগত দক্ষতা প্রমাণ করতে হয়। বাংলাদেশ থেকে অনুমোদিত কেন্দ্রে টেস্টড্যাফ দেওয়া গেলেও ডিএসএইচ দেওয়া যায় কেবল জার্মানিতে পৌঁছানোর পর, সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয়ের তত্ত্বাবধানে। জার্মানির বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অবশ্য ভর্তির ক্ষেত্রে নিজস্ব নীতিমালা অনুসরণ করে- বিজ্ঞান বা গণিত বিষয়ের জন্য অনেক বিশ্ববিদ্যালয় জিআরই স্কোর চায়, আবার ব্যবসা-ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত কোর্সের জন্য চাওয়া হয় জিম্যাট স্কোর।

জাপানে ভর্তির শর্ত

জাপানের অনেক বিশ্ববিদ্যালয় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আইইএলটিএস বা টোয়েফল স্কোর চেয়ে থাকে। তবে স্নাতক পর্যায়ে ভর্তির জন্য কিছু বিশ্ববিদ্যালয় জাপানি ভাষায় দক্ষতার প্রমাণ চায়, যার জন্য বিদেশি শিক্ষার্থীদের জাপান ল্যাঙ্গুয়েজ প্রফিশিয়েন্সি টেস্ট বা জেএলপিটি দিতে হয়। জাপানে ভর্তি হতে ইচ্ছুক বিদেশি শিক্ষার্থীদের জাপানি ভাষার দক্ষতা যাচাইয়ের প্রধান পরীক্ষা এটিই। বছরে দু’বার অনুষ্ঠিত এই পরীক্ষায় অনলাইনে নিবন্ধন করে বাংলাদেশ থেকেও অংশ নেওয়া যায়।

সব মিলিয়ে দেখা যাচ্ছে, বিদেশে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন পূরণে গন্তব্য দেশ ও পড়ার বিষয়ের ওপর নির্ভর করে ভিন্ন ভিন্ন পরীক্ষায় বসতে হয় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের। তাই আগেভাগে সঠিক তথ্য জেনে প্রস্তুতি নেওয়াই ভর্তি ও বৃত্তি প্রাপ্তির সম্ভাবনা বাড়ানোর প্রধান উপায়।

সুত্র: বিবিসি বাংলা

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

জনপ্রিয় সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

সেপ্টেম্বরের শেষ ও অক্টোবরের শুরুতে ডেঙ্গুর পিক সময় : স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

বিদেশে উচ্চশিক্ষা নিতে যা জানা জরুরী

আপডেট সময় ০৭:৪০:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে যাওয়া বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রতি বছরই বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, জার্মানি ও জাপানসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে পড়তে যাচ্ছেন হাজার হাজার শিক্ষার্থী, ফলে বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও ক্রমশ বাড়ছে বাংলাদেশিদের উপস্থিতি।

ইউনেস্কোর ২০২৪ সালের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৫২ হাজার ৭৯৯ জন শিক্ষার্থী বিদেশে পড়াশোনার জন্য পাড়ি জমিয়েছেন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গুরুত্ব, পড়ার বিষয় এবং বৃত্তি পাওয়ার সম্ভাবনা- এই তিনটি বিবেচনা থেকেই মূলত শিক্ষার্থীরা ঠিক করেন কোন দেশের কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হবেন এবং সে অনুযায়ী প্রস্তুতি নেন।

তবে বিদেশে পড়তে যাওয়ার আগে শুধু ভালো একাডেমিক ফলাফলই যথেষ্ট নয়, পাশাপাশি নির্দিষ্ট ভাষাগত দক্ষতার পরীক্ষায়ও উত্তীর্ণ হতে হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশি গবেষক ড. নাদিম মাহমুদ বলেন, এসব সহায়ক পরীক্ষায় ভালো স্কোর থাকলে কাঙ্ক্ষিত বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি কিংবা বৃত্তি পাওয়ার সম্ভাবনা অনেকখানি বেড়ে যায়।

ইংরেজি দক্ষতার দুই প্রধান পরীক্ষা: আইইএলটিএস ও টোয়েফল

বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে ইচ্ছুক বেশিরভাগ শিক্ষার্থীকেই প্রথমে ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা প্রমাণ করতে হয়। ড. মাহমুদের ভাষ্যে, এক্ষেত্রে আইইএলটিএস ও টোয়েফল সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়, যদিও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভিন্ন ভিন্ন ধরনের ভাষাগত পরীক্ষারও প্রয়োজন হতে পারে।

উন্নত বিশ্বের বেশিরভাগ বিশ্ববিদ্যালয় ইংরেজি দক্ষতার প্রমাণ হিসেবে একাডেমিক আইইএলটিএস (ইন্টারন্যাশনাল ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজ টেস্টিং সিস্টেম) কিংবা টোয়েফল (টেস্ট অব ইংলিশ অ্যাজ এ ফরেন ল্যাঙ্গুয়েজ) গ্রহণ করে। আইইএলটিএস আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত এবং বাংলাদেশে ব্রিটিশ কাউন্সিলের মাধ্যমে এই পরীক্ষা দেওয়া যায়। ড. মাহমুদের ভাষায়, “যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডাসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আইইএলটিএস স্কোরকে ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা যাচাইয়ের একটি নির্ভরযোগ্য মাপকাঠি হিসেবে বিবেচনা করে।”

অন্যদিকে উত্তর আমেরিকার বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অনেক ক্ষেত্রে টোয়েফল স্কোরকেই বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকে। তার ভাষ্যে, “মাস্টার্স ও পিএইচডি শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অনেক সময় টোয়েফল স্কোর চায়।” আবার যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের কিছু বিশ্ববিদ্যালয় দুটি স্কোরই গ্রহণ করে থাকে।

দুই পরীক্ষাতেই শিক্ষার্থীকে রিডিং, রাইটিং, লিসেনিং ও স্পিকিং- এই চার দক্ষতায় যাচাই করা হয়, এবং একই দিনে সব অংশের পরীক্ষা নেওয়া হয়। আইইএলটিএস দুই ধরনের হয়- একাডেমিক ও জেনারেল ট্রেনিং; স্নাতক, স্নাতকোত্তর বা পিএইচডি পড়তে একাডেমিক মডিউলে বসতে হয়। এক থেকে নয়ের স্কেলে চারটি অংশের গড় করে চূড়ান্ত স্কোর নির্ধারিত হয়। টোয়েফলের পূর্ণমান ১২০, আর এর তত্ত্বাবধায়ক সংস্থা এডুকেশন টেস্টিং সার্ভিস বা ইটিএস।

জিআরই ও জিম্যাট: স্নাতকোত্তরের পথে

বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত বিষয়ের স্নাতকোত্তর প্রোগ্রামে অনেক সময় জিআরই স্কোর প্রয়োজন হয়, আবার বিজনেস স্কুলের এমবিএ বা ব্যবস্থাপনা-সংশ্লিষ্ট কোর্সে চাওয়া হয় জিম্যাট স্কোর।

জিম্যাট বা গ্র্যাজুয়েট ম্যানেজমেন্ট অ্যাডমিশন টেস্ট ৮০০ নম্বরের একটি কম্পিউটারভিত্তিক অনলাইন পরীক্ষা, যা মূলত যুক্তরাষ্ট্রে বিজনেস ও কমার্স বিষয়ে মাস্টার্সে ভর্তির জন্য আবশ্যক। এছাড়া যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়াসহ আরও অনেক দেশে এমবিএ পড়তেও এই স্কোরের প্রয়োজন পড়ে। পরীক্ষায় বিশ্লেষণ ও গাণিতিক দক্ষতার পাশাপাশি দ্রুত ও যৌক্তিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা যাচাই করা হয়। এর জন্য জিম্যাটের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে নিবন্ধন করে নির্ধারিত দিনে অনুমোদিত কেন্দ্রে পরীক্ষা দিতে হয়। একবার অর্জিত স্কোর দিয়ে পরবর্তী পাঁচ বছর যেকোনো জায়গায় আবেদন করা যায়।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তর বা পিএইচডি পর্যায়ে পড়তে ইচ্ছুকদের জন্য জিআরই খুবই গুরুত্বপূর্ণ, আর এই স্কোরেরও মেয়াদ পাঁচ বছর। ইটিএস-ই এই পরীক্ষার তত্ত্বাবধান করে। এর তিনটি প্রধান অংশ- অ্যানালিটিকাল রাইটিং, ভারবাল রিজনিং ও কোয়ান্টিটেটিভ রিজনিং। এর মধ্যে ভারবাল রিজনিংয়ে ইংরেজি ভাষাগত দক্ষতা, কোয়ান্টিটেটিভ রিজনিংয়ে গাণিতিক দক্ষতা এবং অ্যানালিটিকাল রাইটিংয়ে বিশ্লেষণী সক্ষমতা যাচাই করা হয়।

স্যাট কখন লাগে

যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক পর্যায়ে ভর্তির জন্য স্কলাস্টিক অ্যাসেসমেন্ট টেস্ট বা স্যাট স্কোর চাওয়া হয়, যা বাংলাদেশে স্যাট নামেই পরিচিত। যুক্তরাষ্ট্রের বেশির ভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আবেদনের সঙ্গে এই স্কোর জমা দিতে হয়। ড. মাহমুদ বলেন, এসএসসি ও এইচএসসি পাসের পর একজন শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের পড়াশোনার জন্য কতটা প্রস্তুত, তা যাচাই করা হয় এই পরীক্ষার মাধ্যমেই। বাংলাদেশে ঢাকা ও চট্টগ্রামে স্যাট পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে, এর জন্য নিবন্ধন করতে হয় স্যাটের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে। ১৬০০ নম্বরের এই পরীক্ষার তিনটি অংশ- ম্যাথমেটিকস, ক্রিটিক্যাল রিডিং ও রাইটিং।

জার্মানির জন্য টেস্টড্যাফ বা ডিএসএইচ

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উচ্চশিক্ষার জন্য জার্মানিমুখী বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে। দেশটিতে ইংরেজি মাধ্যমে পরিচালিত কোর্সে ভর্তির জন্য আইইএলটিএস বা টোয়েফল স্কোরই যথেষ্ট। তবে জার্মান ভাষায় পরিচালিত কোর্সে ভর্তি হতে হলে টেস্টড্যাফ বা ডিএসএইচ পরীক্ষার মাধ্যমে ভাষাগত দক্ষতা প্রমাণ করতে হয়। বাংলাদেশ থেকে অনুমোদিত কেন্দ্রে টেস্টড্যাফ দেওয়া গেলেও ডিএসএইচ দেওয়া যায় কেবল জার্মানিতে পৌঁছানোর পর, সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয়ের তত্ত্বাবধানে। জার্মানির বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অবশ্য ভর্তির ক্ষেত্রে নিজস্ব নীতিমালা অনুসরণ করে- বিজ্ঞান বা গণিত বিষয়ের জন্য অনেক বিশ্ববিদ্যালয় জিআরই স্কোর চায়, আবার ব্যবসা-ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত কোর্সের জন্য চাওয়া হয় জিম্যাট স্কোর।

জাপানে ভর্তির শর্ত

জাপানের অনেক বিশ্ববিদ্যালয় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আইইএলটিএস বা টোয়েফল স্কোর চেয়ে থাকে। তবে স্নাতক পর্যায়ে ভর্তির জন্য কিছু বিশ্ববিদ্যালয় জাপানি ভাষায় দক্ষতার প্রমাণ চায়, যার জন্য বিদেশি শিক্ষার্থীদের জাপান ল্যাঙ্গুয়েজ প্রফিশিয়েন্সি টেস্ট বা জেএলপিটি দিতে হয়। জাপানে ভর্তি হতে ইচ্ছুক বিদেশি শিক্ষার্থীদের জাপানি ভাষার দক্ষতা যাচাইয়ের প্রধান পরীক্ষা এটিই। বছরে দু’বার অনুষ্ঠিত এই পরীক্ষায় অনলাইনে নিবন্ধন করে বাংলাদেশ থেকেও অংশ নেওয়া যায়।

সব মিলিয়ে দেখা যাচ্ছে, বিদেশে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন পূরণে গন্তব্য দেশ ও পড়ার বিষয়ের ওপর নির্ভর করে ভিন্ন ভিন্ন পরীক্ষায় বসতে হয় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের। তাই আগেভাগে সঠিক তথ্য জেনে প্রস্তুতি নেওয়াই ভর্তি ও বৃত্তি প্রাপ্তির সম্ভাবনা বাড়ানোর প্রধান উপায়।

উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে যাওয়া বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রতি বছরই বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, জার্মানি ও জাপানসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে পড়তে যাচ্ছেন হাজার হাজার শিক্ষার্থী, ফলে বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও ক্রমশ বাড়ছে বাংলাদেশিদের উপস্থিতি।

ইউনেস্কোর ২০২৪ সালের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৫২ হাজার ৭৯৯ জন শিক্ষার্থী বিদেশে পড়াশোনার জন্য পাড়ি জমিয়েছেন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গুরুত্ব, পড়ার বিষয় এবং বৃত্তি পাওয়ার সম্ভাবনা- এই তিনটি বিবেচনা থেকেই মূলত শিক্ষার্থীরা ঠিক করেন কোন দেশের কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হবেন এবং সে অনুযায়ী প্রস্তুতি নেন।

তবে বিদেশে পড়তে যাওয়ার আগে শুধু ভালো একাডেমিক ফলাফলই যথেষ্ট নয়, পাশাপাশি নির্দিষ্ট ভাষাগত দক্ষতার পরীক্ষায়ও উত্তীর্ণ হতে হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশি গবেষক ড. নাদিম মাহমুদ বলেন, এসব সহায়ক পরীক্ষায় ভালো স্কোর থাকলে কাঙ্ক্ষিত বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি কিংবা বৃত্তি পাওয়ার সম্ভাবনা অনেকখানি বেড়ে যায়।

ইংরেজি দক্ষতার দুই প্রধান পরীক্ষা: আইইএলটিএস ও টোয়েফল

বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে ইচ্ছুক বেশিরভাগ শিক্ষার্থীকেই প্রথমে ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা প্রমাণ করতে হয়। ড. মাহমুদের ভাষ্যে, এক্ষেত্রে আইইএলটিএস ও টোয়েফল সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়, যদিও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভিন্ন ভিন্ন ধরনের ভাষাগত পরীক্ষারও প্রয়োজন হতে পারে।

উন্নত বিশ্বের বেশিরভাগ বিশ্ববিদ্যালয় ইংরেজি দক্ষতার প্রমাণ হিসেবে একাডেমিক আইইএলটিএস (ইন্টারন্যাশনাল ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজ টেস্টিং সিস্টেম) কিংবা টোয়েফল (টেস্ট অব ইংলিশ অ্যাজ এ ফরেন ল্যাঙ্গুয়েজ) গ্রহণ করে। আইইএলটিএস আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত এবং বাংলাদেশে ব্রিটিশ কাউন্সিলের মাধ্যমে এই পরীক্ষা দেওয়া যায়। ড. মাহমুদের ভাষায়, “যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডাসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আইইএলটিএস স্কোরকে ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা যাচাইয়ের একটি নির্ভরযোগ্য মাপকাঠি হিসেবে বিবেচনা করে।”

অন্যদিকে উত্তর আমেরিকার বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অনেক ক্ষেত্রে টোয়েফল স্কোরকেই বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকে। তার ভাষ্যে, “মাস্টার্স ও পিএইচডি শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অনেক সময় টোয়েফল স্কোর চায়।” আবার যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের কিছু বিশ্ববিদ্যালয় দুটি স্কোরই গ্রহণ করে থাকে।

দুই পরীক্ষাতেই শিক্ষার্থীকে রিডিং, রাইটিং, লিসেনিং ও স্পিকিং- এই চার দক্ষতায় যাচাই করা হয়, এবং একই দিনে সব অংশের পরীক্ষা নেওয়া হয়। আইইএলটিএস দুই ধরনের হয়- একাডেমিক ও জেনারেল ট্রেনিং; স্নাতক, স্নাতকোত্তর বা পিএইচডি পড়তে একাডেমিক মডিউলে বসতে হয়। এক থেকে নয়ের স্কেলে চারটি অংশের গড় করে চূড়ান্ত স্কোর নির্ধারিত হয়। টোয়েফলের পূর্ণমান ১২০, আর এর তত্ত্বাবধায়ক সংস্থা এডুকেশন টেস্টিং সার্ভিস বা ইটিএস।

জিআরই ও জিম্যাট: স্নাতকোত্তরের পথে

বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত বিষয়ের স্নাতকোত্তর প্রোগ্রামে অনেক সময় জিআরই স্কোর প্রয়োজন হয়, আবার বিজনেস স্কুলের এমবিএ বা ব্যবস্থাপনা-সংশ্লিষ্ট কোর্সে চাওয়া হয় জিম্যাট স্কোর।

জিম্যাট বা গ্র্যাজুয়েট ম্যানেজমেন্ট অ্যাডমিশন টেস্ট ৮০০ নম্বরের একটি কম্পিউটারভিত্তিক অনলাইন পরীক্ষা, যা মূলত যুক্তরাষ্ট্রে বিজনেস ও কমার্স বিষয়ে মাস্টার্সে ভর্তির জন্য আবশ্যক। এছাড়া যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়াসহ আরও অনেক দেশে এমবিএ পড়তেও এই স্কোরের প্রয়োজন পড়ে। পরীক্ষায় বিশ্লেষণ ও গাণিতিক দক্ষতার পাশাপাশি দ্রুত ও যৌক্তিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা যাচাই করা হয়। এর জন্য জিম্যাটের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে নিবন্ধন করে নির্ধারিত দিনে অনুমোদিত কেন্দ্রে পরীক্ষা দিতে হয়। একবার অর্জিত স্কোর দিয়ে পরবর্তী পাঁচ বছর যেকোনো জায়গায় আবেদন করা যায়।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তর বা পিএইচডি পর্যায়ে পড়তে ইচ্ছুকদের জন্য জিআরই খুবই গুরুত্বপূর্ণ, আর এই স্কোরেরও মেয়াদ পাঁচ বছর। ইটিএস-ই এই পরীক্ষার তত্ত্বাবধান করে। এর তিনটি প্রধান অংশ- অ্যানালিটিকাল রাইটিং, ভারবাল রিজনিং ও কোয়ান্টিটেটিভ রিজনিং। এর মধ্যে ভারবাল রিজনিংয়ে ইংরেজি ভাষাগত দক্ষতা, কোয়ান্টিটেটিভ রিজনিংয়ে গাণিতিক দক্ষতা এবং অ্যানালিটিকাল রাইটিংয়ে বিশ্লেষণী সক্ষমতা যাচাই করা হয়।

স্যাট কখন লাগে

যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক পর্যায়ে ভর্তির জন্য স্কলাস্টিক অ্যাসেসমেন্ট টেস্ট বা স্যাট স্কোর চাওয়া হয়, যা বাংলাদেশে স্যাট নামেই পরিচিত। যুক্তরাষ্ট্রের বেশির ভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আবেদনের সঙ্গে এই স্কোর জমা দিতে হয়। ড. মাহমুদ বলেন, এসএসসি ও এইচএসসি পাসের পর একজন শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের পড়াশোনার জন্য কতটা প্রস্তুত, তা যাচাই করা হয় এই পরীক্ষার মাধ্যমেই। বাংলাদেশে ঢাকা ও চট্টগ্রামে স্যাট পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে, এর জন্য নিবন্ধন করতে হয় স্যাটের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে। ১৬০০ নম্বরের এই পরীক্ষার তিনটি অংশ- ম্যাথমেটিকস, ক্রিটিক্যাল রিডিং ও রাইটিং।

জার্মানির জন্য টেস্টড্যাফ বা ডিএসএইচ

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উচ্চশিক্ষার জন্য জার্মানিমুখী বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে। দেশটিতে ইংরেজি মাধ্যমে পরিচালিত কোর্সে ভর্তির জন্য আইইএলটিএস বা টোয়েফল স্কোরই যথেষ্ট। তবে জার্মান ভাষায় পরিচালিত কোর্সে ভর্তি হতে হলে টেস্টড্যাফ বা ডিএসএইচ পরীক্ষার মাধ্যমে ভাষাগত দক্ষতা প্রমাণ করতে হয়। বাংলাদেশ থেকে অনুমোদিত কেন্দ্রে টেস্টড্যাফ দেওয়া গেলেও ডিএসএইচ দেওয়া যায় কেবল জার্মানিতে পৌঁছানোর পর, সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয়ের তত্ত্বাবধানে। জার্মানির বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অবশ্য ভর্তির ক্ষেত্রে নিজস্ব নীতিমালা অনুসরণ করে- বিজ্ঞান বা গণিত বিষয়ের জন্য অনেক বিশ্ববিদ্যালয় জিআরই স্কোর চায়, আবার ব্যবসা-ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত কোর্সের জন্য চাওয়া হয় জিম্যাট স্কোর।

জাপানে ভর্তির শর্ত

জাপানের অনেক বিশ্ববিদ্যালয় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আইইএলটিএস বা টোয়েফল স্কোর চেয়ে থাকে। তবে স্নাতক পর্যায়ে ভর্তির জন্য কিছু বিশ্ববিদ্যালয় জাপানি ভাষায় দক্ষতার প্রমাণ চায়, যার জন্য বিদেশি শিক্ষার্থীদের জাপান ল্যাঙ্গুয়েজ প্রফিশিয়েন্সি টেস্ট বা জেএলপিটি দিতে হয়। জাপানে ভর্তি হতে ইচ্ছুক বিদেশি শিক্ষার্থীদের জাপানি ভাষার দক্ষতা যাচাইয়ের প্রধান পরীক্ষা এটিই। বছরে দু’বার অনুষ্ঠিত এই পরীক্ষায় অনলাইনে নিবন্ধন করে বাংলাদেশ থেকেও অংশ নেওয়া যায়।

সব মিলিয়ে দেখা যাচ্ছে, বিদেশে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন পূরণে গন্তব্য দেশ ও পড়ার বিষয়ের ওপর নির্ভর করে ভিন্ন ভিন্ন পরীক্ষায় বসতে হয় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের। তাই আগেভাগে সঠিক তথ্য জেনে প্রস্তুতি নেওয়াই ভর্তি ও বৃত্তি প্রাপ্তির সম্ভাবনা বাড়ানোর প্রধান উপায়।

সুত্র: বিবিসি বাংলা

Share this news as a Photo Card