খাওয়ার পরপরই হঠাৎ ঘাম দিচ্ছে, বুক ধড়ফড় করছে, পেট মোচড় দিয়ে ব্যথা শুরু হচ্ছে—এমন অভিজ্ঞতা যদি প্রায়ই হয়, তাহলে বিষয়টিকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। চিকিৎসকদের মতে, এটি হতে পারে “ডাম্পিং সিনড্রোম” নামের একটি হজম-সংক্রান্ত সমস্যার লক্ষণ, যা বাংলাদেশেও ক্রমশ পরিচিত হয়ে উঠছে বিশেষত যাঁরা পেটের অস্ত্রোপচারের মধ্য দিয়ে গেছেন তাঁদের মধ্যে।
ডাম্পিং সিনড্রোম আসলে কী
সহজ ভাষায় বললে, পাকস্থলীতে থাকা খাবার স্বাভাবিক গতির চেয়ে অনেক দ্রুত ক্ষুদ্রান্ত্রে চলে যাওয়াকেই বলা হয় ডাম্পিং সিনড্রোম। চিকিৎসাশাস্ত্রের পরিভাষায় একে বলা হয় “র্যাপিড গ্যাস্ট্রিক এম্পটিং”। ঢাকার গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজিস্টরা প্রায়ই বলেন, এই সমস্যার কিছু উপসর্গ ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম বা আইবিএস-এর মতো হওয়ায় রোগীরা প্রায়ই বিভ্রান্ত হন এবং সঠিক চিকিৎসা নিতে দেরি করে ফেলেন।
দুই ধরনের লক্ষণ
খাওয়ার কতক্ষণ পর উপসর্গ দেখা দিচ্ছে, তার ভিত্তিতে এটিকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়।
প্রথমত, আর্লি ডাম্পিং সিনড্রোম—যা খাবার খাওয়ার মাত্র ১০ থেকে ৩০ মিনিটের মধ্যেই শুরু হয়ে যায়। এ সময় পেটে তীব্র মোচড় ও ব্যথা, বমি বমি ভাব বা বমি, হঠাৎ ডায়ারিয়া, বুক ধড়ফড়ানি ও হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া, অতিরিক্ত ঘাম এবং মাথা ঘোরার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে।
দ্বিতীয়ত, লেট ডাম্পিং সিনড্রোম—এটি দেখা দেয় খাওয়ার ১ থেকে ৩ ঘণ্টা পর। মূলত অতিরিক্ত মিষ্টি বা শর্করাজাতীয় খাবার খেলে রক্তে হঠাৎ ইনসুলিন নিঃসরণ বেড়ে যায়, ফলে সুগারের মাত্রা দ্রুত কমে যায়—চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় যাকে বলে হাইপোগ্লাইসেমিয়া। এ সময় শরীরে অসম্ভব দুর্বলতা ও ক্লান্তি, শরীর কাঁপুনি বা মাথা ঝিমঝিম করা এবং মনোযোগ কমে যাওয়া বা বিভ্রান্তির মতো সমস্যা তৈরি হতে পারে।
কেন হয় এই সমস্যা
মূলত পাকস্থলীর অস্ত্রোপচার—যেমন গ্যাস্ট্রেক্টমি, গ্যাস্ট্রিক বাইপাস সার্জারি বা খাদ্যনালির অপারেশনের কারণে পাকস্থলীর স্বাভাবিক হজম প্রক্রিয়া ব্যাহত হলে এই সমস্যা দেখা দিতে পারে। বাংলাদেশে ওজন কমানোর অস্ত্রোপচার বা বেরিয়াট্রিক সার্জারি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই ধরনের রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে বলে মনে করছেন চিকিৎসকরা। এ ছাড়া অতিরিক্ত মিষ্টি, চর্বিযুক্ত বা রিফাইনড শর্করাজাতীয় খাবার নিয়মিত খাওয়ার অভ্যাসও এই সমস্যাকে ত্বরান্বিত করতে পারে।
নিয়ন্ত্রণে যা করণীয়
চিকিৎসকদের পরামর্শ, খাদ্যাভ্যাসে কিছু পরিবর্তন আনলে এই সমস্যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। একসঙ্গে বেশি না খেয়ে দিনে পাঁচ থেকে ছয়বার অল্প অল্প করে খাওয়া উচিত। খাবার খাওয়ার অন্তত ৩০ মিনিট আগে বা পরে পানি পান করা ভালো, খাওয়ার সময় পানি না খাওয়াই শ্রেয়। খাবারে মাছ, মাংস বা ডিমের মতো আমিষ এবং আঁশযুক্ত খাবারের পরিমাণ বাড়ানো দরকার। পাশাপাশি অতিরিক্ত মিষ্টি, কোমল পানীয় ও প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। উপসর্গ দীর্ঘদিন থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ পথ।
শিরোনাম :
খাবার খেলেই টয়লেটে ছুটতে হয়? ডাম্পিং সিনড্রোমের লক্ষণ চিনুন
-
চলমান বার্তা ডেস্ক : - আপডেট সময় ০৪:৫৭:২৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- 5
ট্যাগস
জনপ্রিয় সংবাদ
























