জুনিয়র হকি এশিয়া কাপের মঞ্চে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়েছে দেশের নারী হকি দল। আগের দিন ছেলেদের দল হতাশাজনক ফল করলেও তার ঠিক উল্টো চিত্র দেখা গেছে মেয়েদের ম্যাচে। প্রতিপক্ষ চাইনিজ তাইপেকে রীতিমতো নাস্তানাবুদ করে ছেড়েছেন লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। পুরো ম্যাচজুড়ে প্রতিপক্ষকে দাঁড়াতেই দেননি খেলোয়াড়রা, শেষ পর্যন্ত স্কোরলাইন গিয়ে দাঁড়ায় ৭-০ গোলে।
তবে ম্যাচের শুরুটা এমন একচেটিয়া ছিল না। প্রথম কোয়ার্টার নিষ্ফলাই কাটে দুই দলের জন্য, গোলের দেখা মেলেনি কোনো পক্ষেই। কিন্তু দ্বিতীয় কোয়ার্টার থেকে খেলার চেহারা বদলে যায় সম্পূর্ণভাবে। এরপর তিনটি কোয়ার্টারে টানা আক্রমণে প্রতিপক্ষের রক্ষণকে একরকম ভেঙেই ফেলে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় কোয়ার্টার শুরু হতে না হতেই মেলে প্রথম গোলের দেখা। ম্যাচের বিশতম মিনিটে পেনাল্টি কর্নার থেকে দলকে এগিয়ে নেন সারিকা রিমন। যদিও এই কোয়ার্টারে এরপর আর কোনো গোল আসেনি, তবু এগিয়ে থেকে বিরতিতে যাওয়ার স্বস্তি নিয়ে মাঠ ছাড়ে দল।
বিরতির পর তৃতীয় কোয়ার্টারে মাঠে ফিরেই যেন পুরোপুরি অন্য এক দল হয়ে ওঠেন খেলোয়াড়রা। একের পর এক আক্রমণে দিশেহারা হয়ে পড়ে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ। এই একটি কোয়ার্টারেই আসে চারটি গোল। জোড়া গোল করেন আইরিন আক্তার ও নাদিরা এমা, দুজনের গোলই ছিল সরাসরি ফিল্ড গোল থেকে। মাঠে তাদের দাপট এতটাই স্পষ্ট ছিল যে প্রতিপক্ষ রক্ষণ ভেঙে পড়া ছাড়া আর কোনো উপায় খুঁজে পায়নি।
চতুর্থ ও শেষ কোয়ার্টারেও দাপট অব্যাহত থাকে। ম্যাচের একান্ন মিনিটের মাথায় আরেকটি পেনাল্টি কর্নার থেকে দলের হয়ে ষষ্ঠ গোলটি করেন সারিকা রিমন। এর মাত্র ছয় মিনিট পরই নিজের দ্বিতীয় ও দলের সপ্তম গোলটি করে প্রতিপক্ষের জন্য ম্যাচের ফলাফল সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিত করে দেন তিনি। এই গোলের মধ্য দিয়েই বড় ব্যবধানে জয় নিশ্চিত হয় দলের। ম্যাচ শেষে দেখা যায়, সারিকা রিমন, আইরিন আক্তার ও নাদিরা এমা প্রত্যেকেই জোড়া গোল করেছেন, আর একটি গোল এসেছে কনা আক্তারের পা থেকে।
দশ দলের এই টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণকারী দলগুলোকে ভাগ করা হয়েছে দুটি পুলে। চ্যালেঞ্জার পুলে বাংলাদেশের সঙ্গে রয়েছে পাকিস্তান, কাজাখস্তান, চাইনিজ তাইপে এবং হংকং। অন্যদিকে এলিট পুলে জায়গা পেয়েছে স্বাগতিক চীনের পাশাপাশি জাপান, ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া ও মালয়েশিয়া।
টুর্নামেন্টের নিয়ম অনুযায়ী, চ্যালেঞ্জার পুল থেকে শীর্ষ তিনটি দল সরাসরি কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেবে। সেখানে আগে থেকেই তাদের জন্য অপেক্ষা করবে এলিট পুলের পাঁচটি দল। অন্যদিকে চ্যালেঞ্জার পুলে চতুর্থ ও পঞ্চম স্থান পাওয়া দল দুটিকে খেলতে হবে নবম-দশম স্থান নির্ধারণী লড়াইয়ে। ফলে টুর্নামেন্টে টিকে থাকতে হলে প্রতিটি ম্যাচেই সেরাটা দেওয়ার বিকল্প নেই কোনো দলের জন্যই।
এই বড় জয়ে আত্মবিশ্বাস অনেকটাই বেড়ে গেছে দলের। আগামীকাল পাকিস্তানের বিপক্ষে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে মাঠে নামবে দল, যা কোয়ার্টার ফাইনালের পথে গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রথম ম্যাচের এমন দাপুটে পারফরম্যান্সের পর সমর্থকদের প্রত্যাশাও এখন আকাশছোঁয়া। পুরো টুর্নামেন্টেই এমন ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারলে এলিট পুলে ওঠার স্বপ্নও অধরা থাকবে না বলে মনে করছেন হকি বিশ্লেষকরা।
শিরোনাম :
চাইনিজ তাইপেকে উড়িয়ে দিল বাংলাদেশ
-
চলমান বার্তা ডেস্ক : - আপডেট সময় ০৪:২৪:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- 8
জনপ্রিয় সংবাদ


























