শিরোনাম :
ব্যাট-গ্লাভসে লিটনের ইতিহাস, টেস্টে এমন কীর্তি আগে কেউ গড়েননি আ.লীগের সঙ্গে সমঝোতার সুযোগ নেই: উপদেষ্টা জাহেদ ‘জয় বাংলা’ দাবিয়ে রাখা যাবে না,আদালত থেকে বেরিয়ে বললেন আইভী বিশ্বব্যাংকের ১০ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা নিয়ে আলোচনা চলছে : অর্থমন্ত্রী ভারতের এসআইআরবিরোধী আন্দোলনের পেছনে বাংলাদেশ জড়িত:বিজেপি নেতা প্রথমবার নাইজেরিয়ায় হ্যাচিং ডিম রপ্তানি আ. লীগ সন্ত্রাসী বাহিনীর চরিত্রে বিন্দুমাত্র পরিবর্তন আসেনি : বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ কুড়িগ্রামে তিন সরকারি ভবনে ৮৮ কিলোওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন, উদ্বৃত্ত যাচ্ছে জাতীয় গ্রিডে ফ্রান্সের শত শত সুপারমার্কেটে সাইবার হামলা রুশ ডিজেল চুক্তিতে ট্রাম্পের নতুন ঝড়, ভোটের আগে বাড়ছে অস্বস্তি

হাসিমুখের আড়ালে বিষণ্ণতা: যে সাত লক্ষণ সহজে চোখে পড়ে না

বিষণ্ণ মানুষের কথা ভাবলে আমাদের চোখে সাধারণত একটি ছবিই ভেসে ওঠে। একজন মানুষ বিছানা ছেড়ে উঠতে পারছেন না, কথা বলছেন না, বন্ধুদের থেকে দূরে সরে গেছেন। কিন্তু সব বিষণ্ণতা এই চেনা ছাঁচে মেলে না। রাতের খাবারের আড্ডায় যিনি সবচেয়ে বেশি হাসাচ্ছেন, কর্মক্ষেত্রে যিনি সফল, সামাজিক জীবনে যিনি সদা ব্যস্ত, তিনিও ভেতরে ভেতরে গভীর বিষণ্ণতায় ডুবে থাকতে পারেন। সেই মানুষটি আপনার বন্ধু, সঙ্গী বা সহকর্মী হতে পারেন। আবার হতে পারেন আপনি নিজেই।

এই অবস্থাকে অনেকে বলছেন ‘স্মাইলিং ডিপ্রেশন’ বা ‘হাসির বিষণ্ণতা’।

শব্দটির অর্থ কী

‘স্মাইলিং ডিপ্রেশন’ আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃত কোনো রোগের নাম নয়। তবে গত পাঁচ বছরে এই শব্দ নিয়ে অনুসন্ধান ৫০ শতাংশ বেড়েছে বলে জানা গেছে। যুক্তরাজ্যের কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের মানসিক স্বাস্থ্য গবেষক ডক্টর অলিভিয়া রেমিসের ভাষায়, এর অর্থ হলো বাইরে খুশি দেখালেও ভেতরে ভেতরে বিষণ্ণতা ও হতাশা অনুভব করা।

মন খারাপ আমাদের সবারই মাঝে মাঝে হয়। কিন্তু বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে ৩২ কোটিরও বেশি মানুষের ক্ষেত্রে এই অনুভূতি বিষণ্ণতায় রূপ নেয়। তখন দীর্ঘস্থায়ী মনখারাপ কিংবা কোনো কিছুতে আগ্রহ ও আনন্দ হারিয়ে ফেলার মতো লক্ষণ সপ্তাহের পর সপ্তাহ, এমনকি মাসের পর মাস থেকে যায়। এর প্রভাব পড়ে কাজ, সম্পর্ক, ঘুম ও দৈনন্দিন জীবনে।

তবে লক্ষণগুলো সবসময় আমাদের প্রত্যাশামতো হয় না। গবেষণায় দেখা গেছে, বিষণ্ণতায় আক্রান্তদের প্রায় ৪০ শতাংশ এর একটি ‘অস্বাভাবিক’ বা অ্যাটিপিক্যাল রূপ অনুভব করেন। সেখানে কম ঘুম ও কম খাওয়ার বদলে কেউ বেশি ঘুমান, বেশি খান। ভালো কিছু ঘটলে মেজাজ সাময়িকভাবে ভালোও হয়ে যেতে পারে।

কেন গোপন করেন মানুষ

প্রমাণ আছে, বিষণ্ণ অনেকেই ভেতরের অবস্থা আড়াল করতে নানা কৌশল নেন। একে বলা হয় ‘মাস্কিং’। অর্থাৎ অন্যদের সঙ্গে মিশে যেতে নিজের কিছু আবেগ বা বৈশিষ্ট্য লুকিয়ে রাখা।

এদের কেউ কেউ নিজেই বুঝতে পারেন না যে তাঁরা বিষণ্ণ। ফলে তাঁরা কিছু গোপন করছেন, সেটিও টের পান না। রেমিস বলেন, এই মানুষেরা ভাবতে পারেন, উপসর্গগুলো ব্যস্ত ও চাপের জীবনেরই স্বাভাবিক অংশ।

অন্যরা বুঝতে পারেন যে তাঁরা সমস্যায় আছেন, কিন্তু কেউ যেন তা টের না পায়, সে জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করেন। পারফেকশনিস্ট ও অতি কর্তব্যপরায়ণদের মধ্যে এই প্রবণতা বেশি। রেমিসের কথায়, নিজের কাছে তাঁদের প্রত্যাশা থাকে অনেক বেশি। কঠিন সময় পার করছেন, এ কথা নিজের কাছে বা অন্যের কাছে মেনে নিতে তাঁরা চান না।

আরও কিছু কারণ আছে। কেউ সামাজিক কলঙ্কের ভয় পান, কেউ ভাবেন অন্যের ওপর বোঝা হয়ে যাবেন। গবেষণা বলছে, কর্মক্ষেত্রে বা সম্পর্কে সমালোচিত হওয়ার, এমনকি পরিণতি ভোগ করার আশঙ্কাও অনেককে চুপ করিয়ে রাখে। সাংস্কৃতিক ও পারিবারিক প্রত্যাশাও মন খুলে কথা বলা কঠিন করে তোলে।

লুকিয়ে রাখার ঝুঁকি

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাইরের এই মুখোশ ধরে রাখা বিপজ্জনক হতে পারে। যুক্তরাজ্যের এক্সেটার বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট অধ্যাপক বার্নি ডানের মতে, বিষণ্ণতা মানুষকে বিচ্ছিন্ন ও নিঃসঙ্গ করে তোলে। অথচ মন খারাপের সবচেয়ে কার্যকর প্রতিষেধকগুলোর একটি হলো অন্যদের সঙ্গে সংযোগ।

এর আরেক পরিণতি হলো প্রয়োজনীয় সাহায্য না পাওয়া। রেমিস সতর্ক করেছেন, প্রাথমিক লক্ষণ উপেক্ষা করলে সমস্যা ধীরে ধীরে দীর্ঘস্থায়ী ও গুরুতর হয়ে উঠতে পারে। বাড়তে পারে আত্মহত্যার ঝুঁকিও।

সহজে চোখ এড়িয়ে যাওয়া সাতটি লক্ষণ

যখন মনে হয় আপনি বেশ মানিয়ে নিচ্ছেন, তখন কিছু পরিবর্তন সহজেই নজর এড়িয়ে যায়।

১. আনন্দ হারিয়ে ফেলা: বন্ধুদের সঙ্গে দেখা, জিমে যাওয়া কিংবা প্রিয় টিভি অনুষ্ঠান দেখা, যেসব কাজের জন্য আপনি অপেক্ষায় থাকতেন, সেগুলো যদি এখন একঘেয়ে বা ঝামেলা মনে হয়, তাহলে বিষয়টি নিয়ে একটু গভীরভাবে ভাবা দরকার। রেমিস বলেন, ব্যস্ততার দোহাই দিয়ে শখে আগ্রহ কমে যাওয়াকে ব্যাখ্যা করা সহজ।

২. হাত-পা অস্বাভাবিক ভারী লাগা: এটি ‘লেডেন প্যারালাইসিস’ নামে পরিচিত। হাত-পায়ে এমন ভার অনুভূত হয়, যা চলাফেরাকে আরও কষ্টকর করে তোলে। এটি অ্যাটিপিক্যাল ডিপ্রেশনের একটি লক্ষণ হতে পারে।

৩. বারবার পরিকল্পনা বাতিল করা: অন্যদের সামনে আপনাকে হয়তো প্রাণবন্তই লাগে। কিন্তু মন খারাপ হলে এবং অনুভূতি আর লুকাতে না পারলে আপনি পরিকল্পনা বাতিল করে দেন।

৪. বেশি ঘুমিয়েও ক্লান্তি: স্বাভাবিক সব কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন, তবু ক্রমশ ক্লান্ত লাগছে। রেমিসের মতে, সন্ধ্যাগুলো বিশেষভাবে কঠিন হতে পারে। দিনের শেষে এই অবস্থার মানুষেরা আরও অসুস্থ বোধ করেন এবং স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ঘুমের প্রয়োজন হয়।

৫. সমালোচনা ও প্রত্যাখ্যানে অতিসংবেদনশীলতা: বসের একটি মামুলি মন্তব্য কিংবা বন্ধুর পরিকল্পনা বাতিল করে দেওয়া আপনাকে স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি আঘাত করতে পারে। রেমিস জানান, এডিএইচডি আক্রান্তরাও এই সংবেদনশীলতা অনুভব করতে পারেন। অস্বাভাবিক বিষণ্ণতার এটি একটি বৈশিষ্ট্য।

৬. সবসময় মজার মানুষ বা সহায়ক হয়ে থাকা: বিষণ্ণ মানুষ সবসময় নিজেকে গুটিয়ে নেন না। অনেক সময় তিনি করেন উল্টোটা। আড্ডার প্রাণ হয়ে ওঠেন, কাজে নিজেকে ডুবিয়ে দেন, অন্যকে সাহায্য করতে সাধ্যের বেশি চেষ্টা করেন।

৭. মনের ভেতর ক্রমাগত নেতিবাচক কথা: বাইরে থেকে আত্মবিশ্বাসী মনে হলেও ভেতরে ভেতরে নিজের প্রতি অতিরিক্ত কঠোর হতে পারেন আপনি। আত্মসন্দেহ, নিজেকে মূল্যহীন ভাবা কিংবা শূন্যতার চিন্তা সম্ভাব্য সতর্ক সংকেত।

কী করা যায়

‘স্মাইলিং ডিপ্রেশন’ শব্দটির সমালোচকও আছেন। রেমিস মনে করেন, শব্দটি মানুষকে নিজের অভিজ্ঞতা চিনতে ও নাম দিতে সাহায্য করলেও একটি জটিল অভিজ্ঞতাকে “অতিরিক্ত সরলীকরণ” করে ফেলে। তাঁর ব্যাখ্যা, ‘হাসি’ শব্দটি আনন্দের কথা মনে করায়। অথচ এই অবস্থার মূল বৈশিষ্ট্য হলো হতাশা, শূন্যতা ও নিজেকে মূল্যহীন ভাবা।

বার্নি ডান পরামর্শ দিয়েছেন, ছোট করে শুরু করতে। বিশ্বস্ত কারও সঙ্গে নিজের অনুভূতির কিছুটা ভাগ করে নিন। তাঁর ভাষায়, অনেকে অবাক হয়ে দেখেন যে এতে অন্যদের সঙ্গে সম্পর্ক আরও মজবুত হয়, সংযুক্ত থাকার অনুভূতি আসে এবং বোঝা যায়, এমন অনুভূতির ক্ষেত্রে তাঁরা একা নন।

সমস্যা বাড়লে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শও দিয়েছেন তিনি। তাঁর মতে, কথা বলা, বিষণ্ণতারোধী ওষুধ ও সামাজিক চিকিৎসা, এর সবই কার্যকর হতে পারে বলে জোরালো প্রমাণ রয়েছে।

সূত্র: বিবিসি বাংলা

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

জনপ্রিয় সংবাদ

ব্যাট-গ্লাভসে লিটনের ইতিহাস, টেস্টে এমন কীর্তি আগে কেউ গড়েননি

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

রুশ ডিজেল চুক্তিতে ট্রাম্পের নতুন ঝড়, ভোটের আগে বাড়ছে অস্বস্তি

১৩ অক্টোবর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

হাসিমুখের আড়ালে বিষণ্ণতা: যে সাত লক্ষণ সহজে চোখে পড়ে না

আপডেট সময় ০১:৫১:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬

বিষণ্ণ মানুষের কথা ভাবলে আমাদের চোখে সাধারণত একটি ছবিই ভেসে ওঠে। একজন মানুষ বিছানা ছেড়ে উঠতে পারছেন না, কথা বলছেন না, বন্ধুদের থেকে দূরে সরে গেছেন। কিন্তু সব বিষণ্ণতা এই চেনা ছাঁচে মেলে না। রাতের খাবারের আড্ডায় যিনি সবচেয়ে বেশি হাসাচ্ছেন, কর্মক্ষেত্রে যিনি সফল, সামাজিক জীবনে যিনি সদা ব্যস্ত, তিনিও ভেতরে ভেতরে গভীর বিষণ্ণতায় ডুবে থাকতে পারেন। সেই মানুষটি আপনার বন্ধু, সঙ্গী বা সহকর্মী হতে পারেন। আবার হতে পারেন আপনি নিজেই।

এই অবস্থাকে অনেকে বলছেন ‘স্মাইলিং ডিপ্রেশন’ বা ‘হাসির বিষণ্ণতা’।

শব্দটির অর্থ কী

‘স্মাইলিং ডিপ্রেশন’ আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃত কোনো রোগের নাম নয়। তবে গত পাঁচ বছরে এই শব্দ নিয়ে অনুসন্ধান ৫০ শতাংশ বেড়েছে বলে জানা গেছে। যুক্তরাজ্যের কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের মানসিক স্বাস্থ্য গবেষক ডক্টর অলিভিয়া রেমিসের ভাষায়, এর অর্থ হলো বাইরে খুশি দেখালেও ভেতরে ভেতরে বিষণ্ণতা ও হতাশা অনুভব করা।

মন খারাপ আমাদের সবারই মাঝে মাঝে হয়। কিন্তু বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে ৩২ কোটিরও বেশি মানুষের ক্ষেত্রে এই অনুভূতি বিষণ্ণতায় রূপ নেয়। তখন দীর্ঘস্থায়ী মনখারাপ কিংবা কোনো কিছুতে আগ্রহ ও আনন্দ হারিয়ে ফেলার মতো লক্ষণ সপ্তাহের পর সপ্তাহ, এমনকি মাসের পর মাস থেকে যায়। এর প্রভাব পড়ে কাজ, সম্পর্ক, ঘুম ও দৈনন্দিন জীবনে।

তবে লক্ষণগুলো সবসময় আমাদের প্রত্যাশামতো হয় না। গবেষণায় দেখা গেছে, বিষণ্ণতায় আক্রান্তদের প্রায় ৪০ শতাংশ এর একটি ‘অস্বাভাবিক’ বা অ্যাটিপিক্যাল রূপ অনুভব করেন। সেখানে কম ঘুম ও কম খাওয়ার বদলে কেউ বেশি ঘুমান, বেশি খান। ভালো কিছু ঘটলে মেজাজ সাময়িকভাবে ভালোও হয়ে যেতে পারে।

কেন গোপন করেন মানুষ

প্রমাণ আছে, বিষণ্ণ অনেকেই ভেতরের অবস্থা আড়াল করতে নানা কৌশল নেন। একে বলা হয় ‘মাস্কিং’। অর্থাৎ অন্যদের সঙ্গে মিশে যেতে নিজের কিছু আবেগ বা বৈশিষ্ট্য লুকিয়ে রাখা।

এদের কেউ কেউ নিজেই বুঝতে পারেন না যে তাঁরা বিষণ্ণ। ফলে তাঁরা কিছু গোপন করছেন, সেটিও টের পান না। রেমিস বলেন, এই মানুষেরা ভাবতে পারেন, উপসর্গগুলো ব্যস্ত ও চাপের জীবনেরই স্বাভাবিক অংশ।

অন্যরা বুঝতে পারেন যে তাঁরা সমস্যায় আছেন, কিন্তু কেউ যেন তা টের না পায়, সে জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করেন। পারফেকশনিস্ট ও অতি কর্তব্যপরায়ণদের মধ্যে এই প্রবণতা বেশি। রেমিসের কথায়, নিজের কাছে তাঁদের প্রত্যাশা থাকে অনেক বেশি। কঠিন সময় পার করছেন, এ কথা নিজের কাছে বা অন্যের কাছে মেনে নিতে তাঁরা চান না।

আরও কিছু কারণ আছে। কেউ সামাজিক কলঙ্কের ভয় পান, কেউ ভাবেন অন্যের ওপর বোঝা হয়ে যাবেন। গবেষণা বলছে, কর্মক্ষেত্রে বা সম্পর্কে সমালোচিত হওয়ার, এমনকি পরিণতি ভোগ করার আশঙ্কাও অনেককে চুপ করিয়ে রাখে। সাংস্কৃতিক ও পারিবারিক প্রত্যাশাও মন খুলে কথা বলা কঠিন করে তোলে।

লুকিয়ে রাখার ঝুঁকি

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাইরের এই মুখোশ ধরে রাখা বিপজ্জনক হতে পারে। যুক্তরাজ্যের এক্সেটার বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট অধ্যাপক বার্নি ডানের মতে, বিষণ্ণতা মানুষকে বিচ্ছিন্ন ও নিঃসঙ্গ করে তোলে। অথচ মন খারাপের সবচেয়ে কার্যকর প্রতিষেধকগুলোর একটি হলো অন্যদের সঙ্গে সংযোগ।

এর আরেক পরিণতি হলো প্রয়োজনীয় সাহায্য না পাওয়া। রেমিস সতর্ক করেছেন, প্রাথমিক লক্ষণ উপেক্ষা করলে সমস্যা ধীরে ধীরে দীর্ঘস্থায়ী ও গুরুতর হয়ে উঠতে পারে। বাড়তে পারে আত্মহত্যার ঝুঁকিও।

সহজে চোখ এড়িয়ে যাওয়া সাতটি লক্ষণ

যখন মনে হয় আপনি বেশ মানিয়ে নিচ্ছেন, তখন কিছু পরিবর্তন সহজেই নজর এড়িয়ে যায়।

১. আনন্দ হারিয়ে ফেলা: বন্ধুদের সঙ্গে দেখা, জিমে যাওয়া কিংবা প্রিয় টিভি অনুষ্ঠান দেখা, যেসব কাজের জন্য আপনি অপেক্ষায় থাকতেন, সেগুলো যদি এখন একঘেয়ে বা ঝামেলা মনে হয়, তাহলে বিষয়টি নিয়ে একটু গভীরভাবে ভাবা দরকার। রেমিস বলেন, ব্যস্ততার দোহাই দিয়ে শখে আগ্রহ কমে যাওয়াকে ব্যাখ্যা করা সহজ।

২. হাত-পা অস্বাভাবিক ভারী লাগা: এটি ‘লেডেন প্যারালাইসিস’ নামে পরিচিত। হাত-পায়ে এমন ভার অনুভূত হয়, যা চলাফেরাকে আরও কষ্টকর করে তোলে। এটি অ্যাটিপিক্যাল ডিপ্রেশনের একটি লক্ষণ হতে পারে।

৩. বারবার পরিকল্পনা বাতিল করা: অন্যদের সামনে আপনাকে হয়তো প্রাণবন্তই লাগে। কিন্তু মন খারাপ হলে এবং অনুভূতি আর লুকাতে না পারলে আপনি পরিকল্পনা বাতিল করে দেন।

৪. বেশি ঘুমিয়েও ক্লান্তি: স্বাভাবিক সব কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন, তবু ক্রমশ ক্লান্ত লাগছে। রেমিসের মতে, সন্ধ্যাগুলো বিশেষভাবে কঠিন হতে পারে। দিনের শেষে এই অবস্থার মানুষেরা আরও অসুস্থ বোধ করেন এবং স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ঘুমের প্রয়োজন হয়।

৫. সমালোচনা ও প্রত্যাখ্যানে অতিসংবেদনশীলতা: বসের একটি মামুলি মন্তব্য কিংবা বন্ধুর পরিকল্পনা বাতিল করে দেওয়া আপনাকে স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি আঘাত করতে পারে। রেমিস জানান, এডিএইচডি আক্রান্তরাও এই সংবেদনশীলতা অনুভব করতে পারেন। অস্বাভাবিক বিষণ্ণতার এটি একটি বৈশিষ্ট্য।

৬. সবসময় মজার মানুষ বা সহায়ক হয়ে থাকা: বিষণ্ণ মানুষ সবসময় নিজেকে গুটিয়ে নেন না। অনেক সময় তিনি করেন উল্টোটা। আড্ডার প্রাণ হয়ে ওঠেন, কাজে নিজেকে ডুবিয়ে দেন, অন্যকে সাহায্য করতে সাধ্যের বেশি চেষ্টা করেন।

৭. মনের ভেতর ক্রমাগত নেতিবাচক কথা: বাইরে থেকে আত্মবিশ্বাসী মনে হলেও ভেতরে ভেতরে নিজের প্রতি অতিরিক্ত কঠোর হতে পারেন আপনি। আত্মসন্দেহ, নিজেকে মূল্যহীন ভাবা কিংবা শূন্যতার চিন্তা সম্ভাব্য সতর্ক সংকেত।

কী করা যায়

‘স্মাইলিং ডিপ্রেশন’ শব্দটির সমালোচকও আছেন। রেমিস মনে করেন, শব্দটি মানুষকে নিজের অভিজ্ঞতা চিনতে ও নাম দিতে সাহায্য করলেও একটি জটিল অভিজ্ঞতাকে “অতিরিক্ত সরলীকরণ” করে ফেলে। তাঁর ব্যাখ্যা, ‘হাসি’ শব্দটি আনন্দের কথা মনে করায়। অথচ এই অবস্থার মূল বৈশিষ্ট্য হলো হতাশা, শূন্যতা ও নিজেকে মূল্যহীন ভাবা।

বার্নি ডান পরামর্শ দিয়েছেন, ছোট করে শুরু করতে। বিশ্বস্ত কারও সঙ্গে নিজের অনুভূতির কিছুটা ভাগ করে নিন। তাঁর ভাষায়, অনেকে অবাক হয়ে দেখেন যে এতে অন্যদের সঙ্গে সম্পর্ক আরও মজবুত হয়, সংযুক্ত থাকার অনুভূতি আসে এবং বোঝা যায়, এমন অনুভূতির ক্ষেত্রে তাঁরা একা নন।

সমস্যা বাড়লে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শও দিয়েছেন তিনি। তাঁর মতে, কথা বলা, বিষণ্ণতারোধী ওষুধ ও সামাজিক চিকিৎসা, এর সবই কার্যকর হতে পারে বলে জোরালো প্রমাণ রয়েছে।

সূত্র: বিবিসি বাংলা

Share this news as a Photo Card