যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম

যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে নতুন এক অধ্যায় শুরু হতে যাচ্ছে। লেবার পার্টির নতুন নেতা নির্বাচিত হয়েছেন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। দলীয় নেতৃত্বের পাশাপাশি দেশটির প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বও তুলে নিচ্ছেন তিনি। আগামী সোমবার, অর্থাৎ ২০ জুলাই আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন বার্নহ্যাম। দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই নিজের পরিকল্পনার রূপরেখা তুলে ধরবেন বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

বার্নহ্যামের ঘোষিত পরিকল্পনার মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো, উত্তর সাগরে নতুন করে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানের উদ্যোগ। তবে এই সিদ্ধান্ত লেবার পার্টির ২০২৪ সালের নির্বাচনি ইশতেহারের সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ, ওই ইশতেহারে নতুন তেল-গ্যাস অনুসন্ধান লাইসেন্স না দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, যদিও আগে দেওয়া লাইসেন্সগুলো বহাল রাখার কথা বলা হয়েছিল।

এই বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে স্কটল্যান্ডের দুটি বড় তেল ও গ্যাসক্ষেত্র—রোজব্যাংক ও জ্যাকড। কনজারভেটিভ সরকারের আমলে ২০২২ ও ২০২৩ সালে প্রকল্প দুটি অনুমোদন পেলেও, ২০২৫ সালে আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে সেই অনুমোদন বাতিল হয়ে যায়। ফলে নতুন করে এই দুই ক্ষেত্র নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়াটাই এখন বার্নহ্যাম প্রশাসনের জন্য বড় এক পরীক্ষা।

শুধু জ্বালানি খাতেই নয়, বার্নহ্যামের নীতির মধ্যে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনার ইঙ্গিত মিলেছে। পানি ও জ্বালানি কোম্পানিগুলোকে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে আনার পাশাপাশি নতুন কাউন্সিল হাউস নির্মাণ কর্মসূচি ঘোষণার সম্ভাবনাও রয়েছে। তবে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের বিস্তারিত পরিকল্পনা এখনো প্রকাশ করা হয়নি, যা নিয়ে দলের ভেতরেই তৈরি হয়েছে মতপার্থক্য।

লেবার পার্টির একদল এমপির মত, জ্বালানি খাতে নবায়নযোগ্য শক্তিতে রূপান্তরের এই সময়ে কর্মসংস্থান ও জ্বালানির মূল্য বিবেচনায় রেখে আরও নমনীয় নীতি নেওয়া দরকার। তাদের যুক্তি, হঠাৎ কঠোর সিদ্ধান্তে খাতসংশ্লিষ্ট শ্রমিক ও শিল্পের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। অন্যদিকে দলেরই আরেকটি অংশ মনে করে, নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়ানোই দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতের একমাত্র পথ, যা একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবও কমাবে।

এই বিতর্কে ইতিমধ্যে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন বর্তমান জ্বালানিমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড। তিনি রোজব্যাংক প্রকল্পের লাইসেন্সকে জলবায়ুর বিরুদ্ধে একটি ধ্বংসাত্মক পদক্ষেপ বলে আগেই মন্তব্য করেছিলেন। ফলে দলের অভ্যন্তরে জ্বালানিনীতি নিয়ে টানাপোড়েন যে সহসাই কমছে না, তা স্পষ্ট।

তবে ভিন্নমতও কম নেই। নেতৃত্ব নির্বাচনের আগে তেল-গ্যাস শিল্প এবং শ্রমিক ইউনিয়নগুলো যৌথভাবে চিঠি দিয়ে বার্নহ্যামকে অনুরোধ জানিয়েছিল, যেন তিনি উত্তর সাগরের তেল ও গ্যাস শিল্পের প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখেন। তাদের ভাষ্য, এই খাতকে সমর্থন করার অর্থ দেশীয় উৎপাদন ও শিল্প রক্ষার পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নেওয়া শ্রমিকদের পাশে দাঁড়ানো।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, সাম্প্রতিক উপনির্বাচনে সংসদে ফিরে আসা অ্যান্ডি বার্নহ্যাম এবার নেতৃত্বের লড়াইয়ে ব্যাপক সমর্থন পেয়েছেন। ৩৭৯ জন লেবার এমপি এবং দলের সঙ্গে যুক্ত সবগুলো অর্থাৎ ১১টি ট্রেড ইউনিয়নের সমর্থন নিয়ে তিনি নিশ্চিত করেছেন নিজের নেতৃত্ব। এই বিপুল সমর্থনই তাকে দলের অভ্যন্তরীণ মতবিরোধ সামলানোর ক্ষেত্রে বাড়তি শক্তি জোগাবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

বার্নহ্যাম নিজেও জানিয়েছেন, সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব নেওয়ার আগেই নতুন মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো চূড়ান্ত করে ফেলবেন তিনি। ফলে আগামী কয়েক দিনেই স্পষ্ট হয়ে যাবে, যুক্তরাজ্যের জ্বালানি ও অর্থনৈতিক নীতিতে ঠিক কোন দিকে যাত্রা করছেন নতুন এই প্রধানমন্ত্রী।


হেডলাইন: প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম, নতুন পরিকল্পনা

মেটা কি-ওয়ার্ডস:

মেটা ডেসক্রিপশন: লেবার পার্টির নতুন নেতা ও যুক্তরাজ্যের আসন্ন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম উত্তর সাগরে নতুন তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের পরিকল্পনা করছেন, যা নিয়ে দলের ভেতরেই তৈরি হয়েছে মতবিরোধ।

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

জনপ্রিয় সংবাদ

অবশেষে খুলে গেছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে থাকা আসামির হাতে হাতকড়া

২৯ জুলাই ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম

আপডেট সময় ০৩:০১:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬

যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে নতুন এক অধ্যায় শুরু হতে যাচ্ছে। লেবার পার্টির নতুন নেতা নির্বাচিত হয়েছেন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। দলীয় নেতৃত্বের পাশাপাশি দেশটির প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বও তুলে নিচ্ছেন তিনি। আগামী সোমবার, অর্থাৎ ২০ জুলাই আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন বার্নহ্যাম। দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই নিজের পরিকল্পনার রূপরেখা তুলে ধরবেন বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

বার্নহ্যামের ঘোষিত পরিকল্পনার মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো, উত্তর সাগরে নতুন করে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানের উদ্যোগ। তবে এই সিদ্ধান্ত লেবার পার্টির ২০২৪ সালের নির্বাচনি ইশতেহারের সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ, ওই ইশতেহারে নতুন তেল-গ্যাস অনুসন্ধান লাইসেন্স না দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, যদিও আগে দেওয়া লাইসেন্সগুলো বহাল রাখার কথা বলা হয়েছিল।

এই বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে স্কটল্যান্ডের দুটি বড় তেল ও গ্যাসক্ষেত্র—রোজব্যাংক ও জ্যাকড। কনজারভেটিভ সরকারের আমলে ২০২২ ও ২০২৩ সালে প্রকল্প দুটি অনুমোদন পেলেও, ২০২৫ সালে আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে সেই অনুমোদন বাতিল হয়ে যায়। ফলে নতুন করে এই দুই ক্ষেত্র নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়াটাই এখন বার্নহ্যাম প্রশাসনের জন্য বড় এক পরীক্ষা।

শুধু জ্বালানি খাতেই নয়, বার্নহ্যামের নীতির মধ্যে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনার ইঙ্গিত মিলেছে। পানি ও জ্বালানি কোম্পানিগুলোকে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে আনার পাশাপাশি নতুন কাউন্সিল হাউস নির্মাণ কর্মসূচি ঘোষণার সম্ভাবনাও রয়েছে। তবে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের বিস্তারিত পরিকল্পনা এখনো প্রকাশ করা হয়নি, যা নিয়ে দলের ভেতরেই তৈরি হয়েছে মতপার্থক্য।

লেবার পার্টির একদল এমপির মত, জ্বালানি খাতে নবায়নযোগ্য শক্তিতে রূপান্তরের এই সময়ে কর্মসংস্থান ও জ্বালানির মূল্য বিবেচনায় রেখে আরও নমনীয় নীতি নেওয়া দরকার। তাদের যুক্তি, হঠাৎ কঠোর সিদ্ধান্তে খাতসংশ্লিষ্ট শ্রমিক ও শিল্পের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। অন্যদিকে দলেরই আরেকটি অংশ মনে করে, নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়ানোই দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতের একমাত্র পথ, যা একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবও কমাবে।

এই বিতর্কে ইতিমধ্যে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন বর্তমান জ্বালানিমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড। তিনি রোজব্যাংক প্রকল্পের লাইসেন্সকে জলবায়ুর বিরুদ্ধে একটি ধ্বংসাত্মক পদক্ষেপ বলে আগেই মন্তব্য করেছিলেন। ফলে দলের অভ্যন্তরে জ্বালানিনীতি নিয়ে টানাপোড়েন যে সহসাই কমছে না, তা স্পষ্ট।

তবে ভিন্নমতও কম নেই। নেতৃত্ব নির্বাচনের আগে তেল-গ্যাস শিল্প এবং শ্রমিক ইউনিয়নগুলো যৌথভাবে চিঠি দিয়ে বার্নহ্যামকে অনুরোধ জানিয়েছিল, যেন তিনি উত্তর সাগরের তেল ও গ্যাস শিল্পের প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখেন। তাদের ভাষ্য, এই খাতকে সমর্থন করার অর্থ দেশীয় উৎপাদন ও শিল্প রক্ষার পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নেওয়া শ্রমিকদের পাশে দাঁড়ানো।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, সাম্প্রতিক উপনির্বাচনে সংসদে ফিরে আসা অ্যান্ডি বার্নহ্যাম এবার নেতৃত্বের লড়াইয়ে ব্যাপক সমর্থন পেয়েছেন। ৩৭৯ জন লেবার এমপি এবং দলের সঙ্গে যুক্ত সবগুলো অর্থাৎ ১১টি ট্রেড ইউনিয়নের সমর্থন নিয়ে তিনি নিশ্চিত করেছেন নিজের নেতৃত্ব। এই বিপুল সমর্থনই তাকে দলের অভ্যন্তরীণ মতবিরোধ সামলানোর ক্ষেত্রে বাড়তি শক্তি জোগাবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

বার্নহ্যাম নিজেও জানিয়েছেন, সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব নেওয়ার আগেই নতুন মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো চূড়ান্ত করে ফেলবেন তিনি। ফলে আগামী কয়েক দিনেই স্পষ্ট হয়ে যাবে, যুক্তরাজ্যের জ্বালানি ও অর্থনৈতিক নীতিতে ঠিক কোন দিকে যাত্রা করছেন নতুন এই প্রধানমন্ত্রী।


হেডলাইন: প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম, নতুন পরিকল্পনা

মেটা কি-ওয়ার্ডস:

মেটা ডেসক্রিপশন: লেবার পার্টির নতুন নেতা ও যুক্তরাজ্যের আসন্ন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম উত্তর সাগরে নতুন তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের পরিকল্পনা করছেন, যা নিয়ে দলের ভেতরেই তৈরি হয়েছে মতবিরোধ।

Share this news as a Photo Card