চীনের অর্থায়নে নির্মাণাধীন ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের কাজ ৮০ শতাংশ সম্পন্ন হওয়ার পরও এর ব্যয় এক লাফে ৫৪ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। বুধবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পটির সংশোধিত প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে।
বৈঠক শেষে সংবাদ ব্রিফিংয়ে ব্যয় বৃদ্ধির কারণ জানতে চাইলে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি বলেন, এর পেছনে মূলত দুটি কারণ কাজ করেছে। প্রথমত, ডলারের বিনিময় হারে বড় ধরনের পরিবর্তন হওয়ায় সংশ্লিষ্ট ভ্যাট ও ট্যাক্সের হিসাবেও পরিবর্তন এসেছে। দ্বিতীয়ত, প্রকল্পে নতুন একটি অঙ্গ সংযোজনের ফলে ব্যয় বেড়েছে। এছাড়া মূল উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবে (ডিপিপি) না থাকা কিছু ইউটিলিটি লাইন স্থানান্তরের প্রয়োজন দেখা দেওয়ায় সেখান থেকেও বাড়তি খরচ যুক্ত হয়েছে বলে জানান তিনি।
বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের এই প্রকল্পটি শুরু হয়েছিল ২০১৭ সালে, তখন এর প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছিল ১৬ হাজার ৯০১ কোটি টাকা, যার মধ্যে চীনা অর্থায়নের পরিমাণ ছিল ১০ হাজার ৯৪৯ কোটি টাকা। প্রকল্পটি ২০২২ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও সেই বছরই প্রথম দফা সংশোধনী আনা হয়, যাতে ব্যয় ৬৫২ কোটি টাকা বেড়ে দাঁড়ায় ১৭ হাজার ৫৫৩ কোটি টাকায়। তবে সে সময় চীনের অর্থায়নের অংশ কমিয়ে ৯ হাজার ৬৯২ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল।
বুধবারের একনেক সভায় প্রকল্পের ব্যয় আরও ৯ হাজার ৪৯২ কোটি ৬৩ লাখ টাকা বাড়িয়ে মোট ২৭ হাজার ৪৫ কোটি ৬৭ লাখ টাকায় উন্নীত করা হয়েছে, যা শতকরা হিসাবে ৫৪ শতাংশ বৃদ্ধি। এই সংশোধনীর ফলে সরকারের নিজস্ব অর্থায়নের অংশ প্রায় ৭৬ শতাংশ বেড়ে ১৩ হাজার ৮০৩ কোটি টাকা এবং চীনের অর্থায়ন ৩৭ শতাংশ বেড়ে ১৩ হাজার ২৪২ কোটি টাকায় নির্ধারিত হয়েছে।
সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এই একনেক বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমান।
অন্যান্য অনুমোদিত প্রকল্প
এদিন ঢাকা-আশুলিয়া এক্সপ্রেসওয়ে ছাড়াও আরও আটটি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে একনেক, যার মধ্যে তিনটি নতুন এবং চারটি সংশোধিত প্রকল্প রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন সমবায় মন্ত্রণালয়ের সর্বজনীন সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন-২ প্রকল্পের প্রথম সংশোধনী, যাতে ৩৬৮ কোটি টাকা ব্যয় বাড়িয়ে মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৪৫০ কোটি টাকা। একই মন্ত্রণালয়ের অধীনে দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড় নিয়ে বৃহত্তর দিনাজপুর জেলা সমন্বিত উন্নয়ন প্রকল্প এবং পল্লী সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ ও কর্মসংস্থান প্রকল্পও অনুমোদন পেয়েছে, যার ব্যয় যথাক্রমে ১ হাজার ৪৯২ কোটি ও ২ হাজার ৮২ কোটি টাকা।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের দুর্যোগ আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, সংস্কার ও উন্নয়ন প্রকল্পের তৃতীয় সংশোধনীতে ব্যয় বেড়েছে ১ হাজার ২৩ কোটি টাকা। অন্যদিকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সিলেট বিভাগের বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা উন্নয়ন প্রকল্পের তৃতীয় সংশোধনীতে ব্যয় কমেছে ১১৭ কোটি টাকা, ফলে এর মোট ব্যয় এখন ১ হাজার ৭২৩ কোটি টাকা। একই মন্ত্রণালয়ের বেগমগঞ্জ-৫ মূল্যায়ন কাম উন্নয়ন কূপ এবং বেগমগঞ্জ-৬ ও সুনেত্র-২ অনুসন্ধান কূপ খনন প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ ধরা হয়েছে ৭২৯ কোটি টাকা।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতায় মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার ৫০ শয্যায় উন্নীতকরণ এবং জেলা সদর হাসপাতালে ১০ শয্যার ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপন প্রকল্পের দ্বিতীয় সংশোধনীতে ৮১ কোটি টাকা ব্যয় বাড়িয়ে মোট ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৭৫ কোটি টাকা।
এছাড়া সভায় ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয়ের ইতোমধ্যে অনুমোদিত ১১টি প্রকল্প সম্পর্কে একনেককে অবহিত করেন পরিকল্পনামন্ত্রী, যার মধ্যে রয়েছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আঞ্চলিক অফিস স্থাপন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সঞ্চালন অবকাঠামো উন্নয়ন এবং একাধিক আঞ্চলিক মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্প।
চলমান বার্তা ডেস্ক : 




















