জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি— একনেক ১ লাখ ৬৮ হাজার ৭৮০ কোটি ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে মোট ১২টি প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে তিনটি মেট্রোরেল প্রকল্প এবং একটি ইলেকট্রিক ট্রেন প্রকল্প। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেক বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বৈঠক শেষে আগারগাঁওয়ে সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি জানান, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে ঢাকা ও তার আশপাশের এলাকা এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আরও মেট্রোরেল চালুর পরিকল্পনা করছে সরকার।
তিনি বলেন, একই বৈঠকে ৩ হাজার ৮২২ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি ইলেকট্রিক ট্রেন প্রকল্পও অনুমোদন পেয়েছে। ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-জয়দেবপুর রুটে এই ট্রেন চালুর লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২০৩১ সাল।
প্রতিমন্ত্রী সাকি আরও উল্লেখ করেন, ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়নের কারণে বিভিন্ন প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে গেছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হলে সেপ্টেম্বরের পর জাইকা তাদের ঋণের সুদহার পরিবর্তন করতে পারে, যা প্রকল্প বাস্তবায়নে বাড়তি চাপ তৈরি করবে।
তিন মেট্রোরেল প্রকল্পে সংশোধন ও নতুন অনুমোদন
ইলেকট্রিক ট্রেনের পাশাপাশি একনেক সভায় তিনটি বড় মেট্রোরেল প্রকল্পের ক্ষেত্রেও সিদ্ধান্ত এসেছে— দুটি প্রকল্পের ব্যয় সংশোধন করা হয়েছে এবং একটি সম্পূর্ণ নতুন প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্যমতে, তিনটি প্রকল্প মিলিয়ে মোট ব্যয় দাঁড়াতে পারে প্রায় আড়াই লাখ কোটি টাকায়। প্রকল্পগুলো হলো মেট্রোরেল লাইন-৫ সাউদার্ন রুট, মেট্রোরেল লাইন-১ এবং মেট্রোরেল লাইন-৫ নর্দান রুট।
জানা গেছে, জাপানের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা— জাইকার অর্থায়নে পরিচালিত এমআরটি লাইন-১ (বিমানবন্দর-কমলাপুর) এবং এমআরটি লাইন-৫ নর্দান (হেমায়েতপুর-ভাটারা) প্রকল্প দুটির সংশোধিত ব্যয় প্রস্তাব তোলা হয়েছিল বৈঠকে, যা অনুমোদন পেয়েছে।
অন্যদিকে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) এবং দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ অর্থায়নে বাস্তবায়িতব্য নতুন এমআরটি লাইন-৫ সাউদার্ন (গাবতলী-দাশেরকান্দি) প্রকল্পটিও এবার প্রথমবারের মতো অনুমোদন লাভ করেছে।
সব মিলিয়ে এই বৈঠক থেকে যে সিদ্ধান্তগুলো এসেছে, তা দেশের গণপরিবহন অবকাঠামোতে বড় পরিসরে সম্প্রসারণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে ডলার সংকট ও ব্যয় বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন করা কতটা সম্ভব হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
শামসুল হক মামুন, ঢাকা 



















