নবীন পুলিশ কর্মকর্তাদের জনগণের সেবক হিসেবে গড়ে ওঠার আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দীন আহমদ। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, পুলিশ কোনো রাজনৈতিক দল, ব্যক্তি কিংবা গোষ্ঠীর লাঠিয়াল বাহিনী হতে পারে না। বরং একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পুলিশকে হতে হবে জনগণের বন্ধু, সেবক এবং আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগকারী শক্তি।
রোববার সকালে বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমি সারদায় ২৭তম বিসিএস পুলিশ ব্যাচের প্রথম পর্যায়ের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানে উপস্থিত নবীন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মানবাধিকার সমুন্নত রাখার দায়িত্বও তাঁদের কাঁধেই বর্তায়। এই দায়িত্ব পালনে পেশাদারিত্ব, সততা ও জবাবদিহিতাকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ড হিসেবে বিবেচনা করার পরামর্শ দেন তিনি।
বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বদলে যাওয়া অপরাধের চরিত্র নিয়েও কথা বলেন। তাঁর ভাষায়, বর্তমান বিশ্বে অপরাধের ধরন দ্রুত বদলে যাচ্ছে। সাইবার অপরাধ, ডিজিটাল প্রতারণা এবং অনলাইনভিত্তিক জালিয়াতির মতো প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ মোকাবিলা করতে হলে পুলিশ সদস্যদের আধুনিক প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জন করতেই হবে। শুধু আইন প্রয়োগের সক্ষমতা থাকলেই চলবে না, প্রয়োজন জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জনের সততা। তবেই পুলিশ বাহিনী একটি মানবিক ও জনমুখী প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে উঠতে পারবে বলে মনে করেন তিনি।
গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় পুলিশ বাহিনীর মূল শক্তি কোথায় নিহিত, সে প্রসঙ্গেও কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, জনগণের আস্থাই একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পুলিশের প্রধান শক্তি। তাই কোনো ধরনের রাজনৈতিক প্রভাব, পক্ষপাতিত্ব কিংবা গোষ্ঠীগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে থেকে সংবিধান ও আইনের প্রতি আনুগত্য বজায় রেখেই দায়িত্ব পালন করতে হবে পুলিশ সদস্যদের। এই আনুগত্যই একটি বাহিনীকে নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য করে তোলে বলে মনে করেন তিনি।
প্রশিক্ষণ শেষ করা নবীন পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দেশপ্রেম, সততা, পেশাদারিত্ব ও মানবিক মূল্যবোধ ধারণ করে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, প্রশিক্ষণে অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতাকে বাস্তব জীবনে কাজে লাগিয়ে নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে জনকল্যাণে আত্মনিয়োগ করতে হবে তাঁদের। সফলভাবে প্রশিক্ষণ সম্পন্নকারী সব কর্মকর্তাকে অভিনন্দন জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বিষয়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনজন শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপারের হাতে পুরস্কার তুলে দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দীন আহমদ। এই স্বীকৃতি নবীন কর্মকর্তাদের আগামী দিনের দায়িত্ব পালনে অনুপ্রেরণা জোগাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সমাপনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির, রাজশাহী-৬ (চারঘাট-বাঘা) আসনের সংসদ সদস্য আবু সাইদ চাঁদ এবং বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমি সারদার প্রিন্সিপাল ও এডিশনাল আইজিপি জিএম আজিজুর রহমান। এ ছাড়া পুলিশ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, প্রশিক্ষক এবং নবীন পুলিশ কর্মকর্তারাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে এই আয়োজনকে অর্থবহ করে তোলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এল, যখন পুলিশ বাহিনীর নিরপেক্ষতা ও জনআস্থা নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। নবীন কর্মকর্তাদের প্রতি তাঁর এই আহ্বান আগামী দিনে বাহিনীর কর্মপদ্ধতি ও জনসম্পৃক্ততায় কতটা প্রতিফলিত হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
নিজস্ব প্রতিবেদক 















