শিরোনাম :

বেনজীরকে ফেরাতে সরকারের প্রক্রিয়া শুরু, জানালেন উপদেষ্টা

সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। রোববার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ সংক্রান্ত কার্যক্রম ইতিমধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শুরু করেছে এবং বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলমান রয়েছে। অগ্রগতি হলে স্বরাষ্ট্র বা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তা জানানো হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
দুবাইয়ে বেনজীর আহমেদের জামিন পাওয়া প্রসঙ্গে জানতে চাইলে উপদেষ্টা বলেন, এ বিষয়ে হালনাগাদ তথ্য তার কাছে নেই, তাই না জেনে মন্তব্য করা সমীচীন হবে না। এ ব্যাপারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকেই সবশেষ অবস্থা জানা যাবে বলে জানান তিনি।
একই সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের প্রসঙ্গ উঠে এলে হুমায়ুন কবির জানান, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্সিয়াল বিশেষ দূত সার্জিও গরের সাম্প্রতিক ঢাকা সফরটি ছিল মূলত পরিচিতিমূলক ও সম্পর্ক-অনুসন্ধানী। এটি ছিল তার প্রথম বাংলাদেশ সফর, যার উদ্দেশ্য ছিল দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও মজবুত করা। তিনি জানান, পররাষ্ট্র উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টা তারেক রহমানের সঙ্গে সার্জিও গরের বৈঠক সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, ভূরাজনীতি ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। সফর শেষে সার্জিও গর প্রকাশ্যে প্রধান উপদেষ্টা তারেক রহমানের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ শ্রদ্ধার কথা জানান, যা দুই দেশের সম্পর্কের গভীরতা ও পারস্পরিক আস্থার পরিচায়ক বলে মন্তব্য করেন উপদেষ্টা।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান মার্কিন প্রশাসন এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে টেকসই বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে গুরুত্ব দিচ্ছে এবং বাংলাদেশকে একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করছে। তার ভাষায়, প্রধান উপদেষ্টা তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে এবং জাতীয় স্বার্থ অগ্রাধিকার দিয়ে ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করা হচ্ছে।
সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন প্রতিরক্ষা জোটে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে হুমায়ুন কবির বলেন, এটি মূলত সৌদি আরবের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক জোরদার করার অংশ, যা হুতিদের হুমকি মোকাবিলার উদ্দেশ্যে গঠিত হয়েছে। তিনি স্পষ্ট করেন, একই সঙ্গে ইরানের সঙ্গেও আলোচনা চলমান রয়েছে বলে এই জোটকে ইরান-বিরোধী কিছু হিসেবে দেখার কোনো কারণ নেই। উপদেষ্টা জানান, সৌদি আরবের সঙ্গে সম্পর্ক শুধু হজ বা ওমরাহর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা একটি শক্তিশালী কৌশলগত সম্পর্কে রূপ নেবে। মক্কা ও মদিনার রক্ষক হিসেবে সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের বিশেষ আত্মিক ও নৈতিক সম্পর্ক রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, নিরাপত্তার প্রশ্নে সৌদি আরব সহযোগিতা চাইলে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ মুসলিম দেশ হিসেবে বাংলাদেশ সবসময় পাশে থাকবে।
চীনা বিনিয়োগ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো আপত্তি বৈঠকে উত্থাপিত হয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, এমন কোনো আলোচনা হয়নি। তার ভাষ্যমতে, বাংলাদেশে চীনের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলোরও বিনিয়োগ রয়েছে এবং সরকার সব অংশীদারের সঙ্গে ভারসাম্য বজায় রেখেই বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে চায়।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রসঙ্গ বৈঠকে উঠেছিল কি না—এমন প্রশ্নে হুমায়ুন কবির সংক্ষেপে বলেন, এই বিষয়টি এখন প্রাসঙ্গিকতা হারিয়েছে এবং এ নিয়ে কোনো কথা হয়নি।
আসিয়ানের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ‘ডায়ালগ পার্টনার’ এবং ‘সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার’ দুটি ভিন্ন বিষয়, এই দুই ধারণা নিয়ে যেন কোনো বিভ্রান্তি তৈরি না হয়, সে বিষয়েও তিনি সতর্ক করেন।

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

মিরপুর মেট্রো স্টেশনে বোমা সন্দেহে তল্লাশি, মিলল পান-সুপারির কৌটা

০১ আগস্ট ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

বেনজীরকে ফেরাতে সরকারের প্রক্রিয়া শুরু, জানালেন উপদেষ্টা

আপডেট সময় ০৬:১৯:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬

সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। রোববার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ সংক্রান্ত কার্যক্রম ইতিমধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শুরু করেছে এবং বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলমান রয়েছে। অগ্রগতি হলে স্বরাষ্ট্র বা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তা জানানো হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
দুবাইয়ে বেনজীর আহমেদের জামিন পাওয়া প্রসঙ্গে জানতে চাইলে উপদেষ্টা বলেন, এ বিষয়ে হালনাগাদ তথ্য তার কাছে নেই, তাই না জেনে মন্তব্য করা সমীচীন হবে না। এ ব্যাপারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকেই সবশেষ অবস্থা জানা যাবে বলে জানান তিনি।
একই সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের প্রসঙ্গ উঠে এলে হুমায়ুন কবির জানান, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্সিয়াল বিশেষ দূত সার্জিও গরের সাম্প্রতিক ঢাকা সফরটি ছিল মূলত পরিচিতিমূলক ও সম্পর্ক-অনুসন্ধানী। এটি ছিল তার প্রথম বাংলাদেশ সফর, যার উদ্দেশ্য ছিল দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও মজবুত করা। তিনি জানান, পররাষ্ট্র উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টা তারেক রহমানের সঙ্গে সার্জিও গরের বৈঠক সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, ভূরাজনীতি ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। সফর শেষে সার্জিও গর প্রকাশ্যে প্রধান উপদেষ্টা তারেক রহমানের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ শ্রদ্ধার কথা জানান, যা দুই দেশের সম্পর্কের গভীরতা ও পারস্পরিক আস্থার পরিচায়ক বলে মন্তব্য করেন উপদেষ্টা।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান মার্কিন প্রশাসন এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে টেকসই বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে গুরুত্ব দিচ্ছে এবং বাংলাদেশকে একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করছে। তার ভাষায়, প্রধান উপদেষ্টা তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে এবং জাতীয় স্বার্থ অগ্রাধিকার দিয়ে ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করা হচ্ছে।
সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন প্রতিরক্ষা জোটে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে হুমায়ুন কবির বলেন, এটি মূলত সৌদি আরবের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক জোরদার করার অংশ, যা হুতিদের হুমকি মোকাবিলার উদ্দেশ্যে গঠিত হয়েছে। তিনি স্পষ্ট করেন, একই সঙ্গে ইরানের সঙ্গেও আলোচনা চলমান রয়েছে বলে এই জোটকে ইরান-বিরোধী কিছু হিসেবে দেখার কোনো কারণ নেই। উপদেষ্টা জানান, সৌদি আরবের সঙ্গে সম্পর্ক শুধু হজ বা ওমরাহর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা একটি শক্তিশালী কৌশলগত সম্পর্কে রূপ নেবে। মক্কা ও মদিনার রক্ষক হিসেবে সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের বিশেষ আত্মিক ও নৈতিক সম্পর্ক রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, নিরাপত্তার প্রশ্নে সৌদি আরব সহযোগিতা চাইলে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ মুসলিম দেশ হিসেবে বাংলাদেশ সবসময় পাশে থাকবে।
চীনা বিনিয়োগ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো আপত্তি বৈঠকে উত্থাপিত হয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, এমন কোনো আলোচনা হয়নি। তার ভাষ্যমতে, বাংলাদেশে চীনের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলোরও বিনিয়োগ রয়েছে এবং সরকার সব অংশীদারের সঙ্গে ভারসাম্য বজায় রেখেই বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে চায়।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রসঙ্গ বৈঠকে উঠেছিল কি না—এমন প্রশ্নে হুমায়ুন কবির সংক্ষেপে বলেন, এই বিষয়টি এখন প্রাসঙ্গিকতা হারিয়েছে এবং এ নিয়ে কোনো কথা হয়নি।
আসিয়ানের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ‘ডায়ালগ পার্টনার’ এবং ‘সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার’ দুটি ভিন্ন বিষয়, এই দুই ধারণা নিয়ে যেন কোনো বিভ্রান্তি তৈরি না হয়, সে বিষয়েও তিনি সতর্ক করেন।

Share this news as a Photo Card