মাদক দমনে আরও ক্ষমতাবান হলো অধিদপ্তর

বাংলাদেশে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমকে আরও আধুনিক ও কার্যকর করতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে। সম্প্রতি জাতীয় সংসদে পাস হওয়া মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) আইন–২০২৬ গেজেট আকারে প্রকাশের মাধ্যমে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ক্ষমতা ও দায়িত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে। নতুন আইনের ফলে সংস্থাটি এখন শুধু মাদক উদ্ধার অভিযানে অংশ নেবে না, বরং বিশেষায়িত আইন প্রয়োগকারী সংস্থা হিসেবে আরও বিস্তৃত পরিসরে কাজ করার সুযোগ পাবে।
এতদিন মাদকবিরোধী অভিযানে অধিদপ্তরকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তার ওপর নির্ভর করতে হতো। কারণ তাদের নিজস্ব আগ্নেয়াস্ত্র বা পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল না। অনেক ক্ষেত্রে অভিযানে গিয়ে কর্মকর্তাদের হামলা ও প্রতিরোধের মুখেও পড়তে হয়েছে। সংশোধিত আইনের মাধ্যমে সেই সীমাবদ্ধতা দূর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নতুন বিধান অনুযায়ী, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সদস্যরা সরকার নির্ধারিত ইউনিফর্ম পরে আগ্নেয়াস্ত্র বহন করতে পারবেন। পাশাপাশি গড়ে তোলা হবে নিজস্ব অস্ত্রাগার, প্রশিক্ষিত জনবল এবং ডগ স্কোয়াড। মাদক শনাক্ত ও উদ্ধার অভিযানে প্রশিক্ষিত কুকুর ব্যবহারের সুযোগ থাকায় অভিযান আরও কার্যকর হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
আইনে আরও বলা হয়েছে, অধিদপ্তরের বিভিন্ন কার্যালয়ে আলামত সংরক্ষণের জন্য মালখানা এবং গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের রাখার জন্য হাজতখানা স্থাপন করা হবে। নারী ও পুরুষের জন্য পৃথক ব্যবস্থার পাশাপাশি শিশুদের ক্ষেত্রে শিশু আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও উল্লেখ রয়েছে।
মাদক মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যেও নতুন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি জেলা আদালতে প্রসিকিউশন শাখা গঠন করে মামলা পরিচালনা, রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের সহায়তা এবং আদালতে প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ সরবরাহ করবে অধিদপ্তর। একই সঙ্গে প্রতিটি থানায় থাকবে একটি বিশেষ সেল, যা মাদকসংক্রান্ত মামলার কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নিতে সহায়তা করবে।
সংশোধিত আইনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল গঠন। পাঁচ বছর বা তার বেশি সাজাযোগ্য অপরাধ, যাবজ্জীবন কারাদণ্ড কিংবা মৃত্যুদণ্ডযোগ্য মামলার বিচার এসব বিশেষ ট্রাইব্যুনালে হবে। অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ এসব ট্রাইব্যুনালের বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
ডিজিটাল মাধ্যমে মাদক ব্যবসা দমনে আইনটি আরও কঠোর হয়েছে। ওয়েবসাইট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, মোবাইল অ্যাপ, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম বা অন্য কোনো ডিজিটাল মাধ্যমে মাদক কেনাবেচা, সরবরাহ, বিজ্ঞাপন বা এ-সংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনা করলে সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ড এবং অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক বা সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের মাধ্যমে মাদক ব্যবসায় জড়িতদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা জরিমানা ও বিভিন্ন মেয়াদের কারাদণ্ডের সুযোগ রাখা হয়েছে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের মতে, ডগ স্কোয়াড, আধুনিক প্রযুক্তি, নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং বিশেষ ট্রাইব্যুনাল চালু হলে মাদকবিরোধী অভিযান আরও শক্তিশালী হবে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদেরও ধারণা, নতুন আইন কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে মাদক চোরাচালান, সাইবারভিত্তিক মাদক ব্যবসা এবং সংঘবদ্ধ অপরাধ মোকাবিলায় দেশের সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পাবে। তবে তারা একই সঙ্গে জোর দিয়েছেন আইনের কঠোর প্রয়োগের পাশাপাশি মাদকাসক্তদের চিকিৎসা, পুনর্বাসন এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর, যাতে দীর্ঘমেয়াদে মাদক নিয়ন্ত্রণে টেকসই সাফল্য অর্জন করা সম্ভব হয়।

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

জনপ্রিয় সংবাদ

অবশেষে খুলে গেছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে থাকা আসামির হাতে হাতকড়া

২৯ জুলাই ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

মাদক দমনে আরও ক্ষমতাবান হলো অধিদপ্তর

আপডেট সময় ০১:৫৩:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬

বাংলাদেশে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমকে আরও আধুনিক ও কার্যকর করতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে। সম্প্রতি জাতীয় সংসদে পাস হওয়া মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) আইন–২০২৬ গেজেট আকারে প্রকাশের মাধ্যমে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ক্ষমতা ও দায়িত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে। নতুন আইনের ফলে সংস্থাটি এখন শুধু মাদক উদ্ধার অভিযানে অংশ নেবে না, বরং বিশেষায়িত আইন প্রয়োগকারী সংস্থা হিসেবে আরও বিস্তৃত পরিসরে কাজ করার সুযোগ পাবে।
এতদিন মাদকবিরোধী অভিযানে অধিদপ্তরকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তার ওপর নির্ভর করতে হতো। কারণ তাদের নিজস্ব আগ্নেয়াস্ত্র বা পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল না। অনেক ক্ষেত্রে অভিযানে গিয়ে কর্মকর্তাদের হামলা ও প্রতিরোধের মুখেও পড়তে হয়েছে। সংশোধিত আইনের মাধ্যমে সেই সীমাবদ্ধতা দূর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নতুন বিধান অনুযায়ী, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সদস্যরা সরকার নির্ধারিত ইউনিফর্ম পরে আগ্নেয়াস্ত্র বহন করতে পারবেন। পাশাপাশি গড়ে তোলা হবে নিজস্ব অস্ত্রাগার, প্রশিক্ষিত জনবল এবং ডগ স্কোয়াড। মাদক শনাক্ত ও উদ্ধার অভিযানে প্রশিক্ষিত কুকুর ব্যবহারের সুযোগ থাকায় অভিযান আরও কার্যকর হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
আইনে আরও বলা হয়েছে, অধিদপ্তরের বিভিন্ন কার্যালয়ে আলামত সংরক্ষণের জন্য মালখানা এবং গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের রাখার জন্য হাজতখানা স্থাপন করা হবে। নারী ও পুরুষের জন্য পৃথক ব্যবস্থার পাশাপাশি শিশুদের ক্ষেত্রে শিশু আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও উল্লেখ রয়েছে।
মাদক মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যেও নতুন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি জেলা আদালতে প্রসিকিউশন শাখা গঠন করে মামলা পরিচালনা, রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের সহায়তা এবং আদালতে প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ সরবরাহ করবে অধিদপ্তর। একই সঙ্গে প্রতিটি থানায় থাকবে একটি বিশেষ সেল, যা মাদকসংক্রান্ত মামলার কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নিতে সহায়তা করবে।
সংশোধিত আইনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল গঠন। পাঁচ বছর বা তার বেশি সাজাযোগ্য অপরাধ, যাবজ্জীবন কারাদণ্ড কিংবা মৃত্যুদণ্ডযোগ্য মামলার বিচার এসব বিশেষ ট্রাইব্যুনালে হবে। অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ এসব ট্রাইব্যুনালের বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
ডিজিটাল মাধ্যমে মাদক ব্যবসা দমনে আইনটি আরও কঠোর হয়েছে। ওয়েবসাইট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, মোবাইল অ্যাপ, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম বা অন্য কোনো ডিজিটাল মাধ্যমে মাদক কেনাবেচা, সরবরাহ, বিজ্ঞাপন বা এ-সংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনা করলে সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ড এবং অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক বা সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের মাধ্যমে মাদক ব্যবসায় জড়িতদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা জরিমানা ও বিভিন্ন মেয়াদের কারাদণ্ডের সুযোগ রাখা হয়েছে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের মতে, ডগ স্কোয়াড, আধুনিক প্রযুক্তি, নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং বিশেষ ট্রাইব্যুনাল চালু হলে মাদকবিরোধী অভিযান আরও শক্তিশালী হবে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদেরও ধারণা, নতুন আইন কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে মাদক চোরাচালান, সাইবারভিত্তিক মাদক ব্যবসা এবং সংঘবদ্ধ অপরাধ মোকাবিলায় দেশের সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পাবে। তবে তারা একই সঙ্গে জোর দিয়েছেন আইনের কঠোর প্রয়োগের পাশাপাশি মাদকাসক্তদের চিকিৎসা, পুনর্বাসন এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর, যাতে দীর্ঘমেয়াদে মাদক নিয়ন্ত্রণে টেকসই সাফল্য অর্জন করা সম্ভব হয়।

Share this news as a Photo Card