বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ও বস্ত্র খাতের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখতে পাঁচ দফা নীতিসহায়তার অনুরোধ জানিয়েছেন বস্ত্রকল মালিকরা। এ খাতকে টিকিয়ে রাখতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়েছেন তারা।
আজ বুধবার সকালে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) একটি প্রতিনিধিদল সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকে এই দাবি উপস্থাপন করে। বিটিএমএ সভাপতি শওকত আজিজের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলে সংগঠনের সাবেক ও বর্তমান জ্যেষ্ঠ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে উদ্যোক্তারা জানান, জ্বালানি সংকট ও অস্বাভাবিক ব্যয় বৃদ্ধি, উচ্চ সুদহার, চলতি মূলধনের অভাব এবং ব্যাংক অর্থায়নে কড়াকড়ির কারণে দেশের বস্ত্রশিল্প এখন মারাত্মক চাপে পড়েছে। গ্যাস ও বিদ্যুতের সীমাবদ্ধতার কারণে অধিকাংশ কারখানা তাদের মোট সক্ষমতার মাত্র ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ ব্যবহার করতে পারছে। পরিস্থিতি এতটাই জটিল যে, ২০১৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ২৪৪টি টেক্সটাইল মিল এবং সাড়ে চারশর বেশি পোশাক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে।
ব্যবসায়ীদের মতে, প্রতিবেশী দেশ ভারতের আগ্রাসী বাজারনীতির কারণেও দেশের দেশীয় বস্ত্র খাত ব্যাকফুটে চলে যাচ্ছে। ভারতীয় টেক্সটাইল খাতকে সে দেশের সরকার কেন্দ্রীয় ও রাজ্য পর্যায়ে ব্যাপক ভর্তুকি, করছাড় এবং স্বল্প সুদে অর্থায়ন নিশ্চিত করছে। ফলে তারা উৎপাদনে বড় ধরনের সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে।
বিটিএমএ নেতারা উল্লেখ করেন, ভারতীয় সুতার দামে ছাড় থাকার কারণে স্থানীয় বাজারে এর আমদানি ব্যাপক হারে বেড়েছে। কেবল ২০২৪-২৫ অর্থবছরেই ভারত থেকে প্রায় সাড়ে ২৮ হাজার কোটি টাকার কটন সুতা আমদানি করা হয়েছে। দেশে এই পরিমাণ সুতা উৎপাদন করা সম্ভব হলে বিশাল অঙ্কের বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করা যেত বলে মনে করেন তারা।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রতিযোগী দেশগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে একটি সমন্বিত শুল্ক, কর ও রপ্তানি নীতি প্রণয়নের আহ্বান জানিয়েছে বিটিএমএ। প্রধানমন্ত্রীকে দেওয়া তাদের পাঁচ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে:
১. রপ্তানিমুখী শিল্পের আগের সব ঋণের জন্য বিশেষ পুনঃঅর্থায়ন কর্মসূচির অধীনে সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ সুদহার নির্ধারণ করা।
২. সরকার ঘোষিত ২০ হাজার কোটি টাকার চলতি মূলধন সহায়তা দ্রুত ও সহজ প্রক্রিয়ায় বিতরণ করা।
৩. বন্ধ বা আংশিক বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সিআইবি রেকর্ড শিথিল করা।
৪. প্রযুক্তির আধুনিকায়ন, জ্বালানি দক্ষতা বৃদ্ধি ও নতুন বিনিয়োগের জন্য দীর্ঘমেয়াদি স্বল্প সুদে মূলধনি অর্থায়ন নিশ্চিত করা।
৫. প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে একটি ‘ফাস্ট ট্র্যাক সার্ভিস’ গঠন করে গ্যাস, বিদ্যুৎ, কাস্টমস ও ব্যাংকিং সেবা দ্রুত নিষ্পত্তির ব্যবস্থা করা।
বিটিএমএ আশা প্রকাশ করেছে, এসব প্রস্তাব বাস্তবায়ন করা গেলে দেশীয় বস্ত্র খাতের প্রতিযোগিতা করার সক্ষমতা বহুলাংশে বাড়বে। এর ফলে দেশের ভেতরে মূল্য সংযোজন বাড়ার পাশাপাশি বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে এবং নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হবে।
ব্যবসায়ীদের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বাংলাদেশের শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে বস্ত্র খাতের অসামান্য অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি। বস্ত্রকল মালিকদের আশ্বস্ত করে প্রধানমন্ত্রী জানান, বিদ্যমান সংকট পর্যালোচনা ও তা দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যে অবিলম্বে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হচ্ছে, যা এই খাতের সমস্যাগুলো দূর করতে কাজ করবে।
চলমান বার্তা ডেস্ক : 




















