শিরোনাম :
“ভঙ্গুর রাষ্ট্র পুনর্গঠনের সময় এখন”: প্রধানমন্ত্রী ইউরোপে ভয়াবহ গতিতে বাড়ছে যৌনবাহিত সংক্রমণ মানবিক বিভাগে ছেলেদের ফলাফলে ধস, ফেল প্রায় ৬০ শতাংশ হাসিনার প্রত্যর্পণ ত্বরান্বিত করতে দিল্লিকে অনুরোধ ঢাকার নিয়োগবিধি পরিবর্তনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বঞ্চিত করা যাবে না: হাইকোর্ট দেশজুড়ে ভয়াবহ লোডশেডিং, বিপর্যস্ত জনজীবন এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশ আজ, জানা যাবে যেভাবে ভারতীয় হাইকমিশনের নতুন সিদ্ধান্তে সহজ হলো ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লট বুকিং প্রক্রিয়া কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও শিল্প বিপ্লব ঘটানোর প্রতি গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী সালমান শাহ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার অভিনেতা ডন হক

হাসিনার প্রত্যর্পণ ত্বরান্বিত করতে দিল্লিকে অনুরোধ ঢাকার

সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে সোমবার সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। এই বৈঠকে দুই দেশের মধ্যকার নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের পাশাপাশি বিশেষভাবে উঠে এসেছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রসঙ্গ এবং ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডে জড়িত অভিযুক্তদের প্রত্যর্পণের বিষয়টি।
সোমবার সকাল ১১টার দিকে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে অবস্থিত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পৌঁছান হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজে তাকে অভ্যর্থনা জানান এবং শুরুতেই দুজনের মধ্যে আন্তরিক পরিবেশে কথোপকথন হয়। এই সময় হাইকমিশনার তার গত দুই মাসের দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতার কথা প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন।
বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের প্রেস শাখা থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে জানানো হয়, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া দ্রুততর করার জন্য ভারতের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। এর পাশাপাশি ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বাংলাদেশে ফিরিয়ে দেওয়ার আহ্বানও পুনরায় জানানো হয়েছে বৈঠকে। প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব শাহাদাৎ হোসেন স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
বৈঠকে শুধু এই দুটি বিষয়েই সীমাবদ্ধ ছিল না আলোচনা। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের নানা গুরুত্বপূর্ণ দিক নিয়েও কথা হয় দুই পক্ষের মধ্যে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আলোচনায় জোর দিয়ে বলেন, দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে হলে একটি অনুকূল ও ইতিবাচক পরিবেশ গড়ে তোলা প্রয়োজন। তিনি এই লক্ষ্যে উভয় পক্ষের আন্তরিক প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্ব দেন।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, গত জুন মাসে বাংলাদেশে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই ছিল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দীনেশ ত্রিবেদীর প্রথম সরাসরি বৈঠক। এর আগে তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এই প্রথম মুখোমুখি বসলেন তিনি। বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।
দীনেশ ত্রিবেদীর প্রেক্ষাপট নিয়ে জানা যায়, তিনি পশ্চিমবঙ্গের একজন প্রবীণ ও অভিজ্ঞ রাজনীতিক, যিনি অতীতে ভারতের রেলমন্ত্রী এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেছেন। চলতি বছরের এপ্রিল মাসে তাকে বাংলাদেশে ভারতের ষোড়শ হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তার পূর্বসূরি ছিলেন প্রণয় কুমার ভার্মা।
গত ২৫ জুন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছে নিজের পরিচয়পত্র পেশ করার মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন দীনেশ ত্রিবেদী। এরপর থেকে ঢাকায় তার কূটনৈতিক কর্মকাণ্ড চলছে নিয়মিতভাবে। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ইতিমধ্যেই তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান এবং পররাষ্ট্র বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদের সঙ্গেও পৃথক পৃথক বৈঠক করেছেন, যা দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ ইস্যুটি দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের একটি স্পর্শকাতর ও আলোচিত বিষয় হয়ে রয়েছে। বর্তমান সরকার একাধিকবার এই বিষয়ে ভারতের প্রতি অনুরোধ জানালেও এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত কোনো সমাধান আসেনি। সোমবারের এই বৈঠক সেই প্রক্রিয়াকে আরেক দফা সামনে এগিয়ে নেওয়ার একটি প্রচেষ্টা বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একইসঙ্গে হাদি হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার লক্ষ্যে অভিযুক্তদের ফিরিয়ে আনার বিষয়টিও সরকারের অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে বলে জানা গেছে।

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

সালমান শাহ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার অভিনেতা ডন হক

০৯ আগস্ট ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

হাসিনার প্রত্যর্পণ ত্বরান্বিত করতে দিল্লিকে অনুরোধ ঢাকার

আপডেট সময় ০৫:৩১:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে সোমবার সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। এই বৈঠকে দুই দেশের মধ্যকার নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের পাশাপাশি বিশেষভাবে উঠে এসেছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রসঙ্গ এবং ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডে জড়িত অভিযুক্তদের প্রত্যর্পণের বিষয়টি।
সোমবার সকাল ১১টার দিকে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে অবস্থিত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পৌঁছান হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজে তাকে অভ্যর্থনা জানান এবং শুরুতেই দুজনের মধ্যে আন্তরিক পরিবেশে কথোপকথন হয়। এই সময় হাইকমিশনার তার গত দুই মাসের দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতার কথা প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন।
বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের প্রেস শাখা থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে জানানো হয়, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া দ্রুততর করার জন্য ভারতের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। এর পাশাপাশি ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বাংলাদেশে ফিরিয়ে দেওয়ার আহ্বানও পুনরায় জানানো হয়েছে বৈঠকে। প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব শাহাদাৎ হোসেন স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
বৈঠকে শুধু এই দুটি বিষয়েই সীমাবদ্ধ ছিল না আলোচনা। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের নানা গুরুত্বপূর্ণ দিক নিয়েও কথা হয় দুই পক্ষের মধ্যে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আলোচনায় জোর দিয়ে বলেন, দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে হলে একটি অনুকূল ও ইতিবাচক পরিবেশ গড়ে তোলা প্রয়োজন। তিনি এই লক্ষ্যে উভয় পক্ষের আন্তরিক প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্ব দেন।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, গত জুন মাসে বাংলাদেশে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই ছিল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দীনেশ ত্রিবেদীর প্রথম সরাসরি বৈঠক। এর আগে তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এই প্রথম মুখোমুখি বসলেন তিনি। বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।
দীনেশ ত্রিবেদীর প্রেক্ষাপট নিয়ে জানা যায়, তিনি পশ্চিমবঙ্গের একজন প্রবীণ ও অভিজ্ঞ রাজনীতিক, যিনি অতীতে ভারতের রেলমন্ত্রী এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেছেন। চলতি বছরের এপ্রিল মাসে তাকে বাংলাদেশে ভারতের ষোড়শ হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তার পূর্বসূরি ছিলেন প্রণয় কুমার ভার্মা।
গত ২৫ জুন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছে নিজের পরিচয়পত্র পেশ করার মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন দীনেশ ত্রিবেদী। এরপর থেকে ঢাকায় তার কূটনৈতিক কর্মকাণ্ড চলছে নিয়মিতভাবে। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ইতিমধ্যেই তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান এবং পররাষ্ট্র বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদের সঙ্গেও পৃথক পৃথক বৈঠক করেছেন, যা দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ ইস্যুটি দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের একটি স্পর্শকাতর ও আলোচিত বিষয় হয়ে রয়েছে। বর্তমান সরকার একাধিকবার এই বিষয়ে ভারতের প্রতি অনুরোধ জানালেও এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত কোনো সমাধান আসেনি। সোমবারের এই বৈঠক সেই প্রক্রিয়াকে আরেক দফা সামনে এগিয়ে নেওয়ার একটি প্রচেষ্টা বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একইসঙ্গে হাদি হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার লক্ষ্যে অভিযুক্তদের ফিরিয়ে আনার বিষয়টিও সরকারের অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে বলে জানা গেছে।

Share this news as a Photo Card