২০১০ সালের গুয়াংজু এশিয়ান গেমসে ক্রিকেটে সোনা জিতেছিল বাংলাদেশ। তবে সেবার ভারত ও পাকিস্তানের মতো টেস্ট খেলুড়ে দেশগুলো মূল দল পাঠায়নি বলে সেই সাফল্যের পুরো মূল্যায়ন নিয়ে প্রশ্ন থেকে গেছে। এবারের চিত্র একেবারে আলাদা। শ্রীলঙ্কা বাদ দিলে ভারত, পাকিস্তানসহ প্রায় সব দলই এসেছে শক্তিশালী স্কোয়াড নিয়ে। এমন প্রতিযোগিতাপূর্ণ পরিবেশেও প্রতিপক্ষ নিয়ে বাড়তি না ভেবে নিজেদের প্রস্তুতি ও ফাইনালে ওঠাকেই একমাত্র লক্ষ্য হিসেবে দেখছেন বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়ক লিটন দাস।
এশিয়ান গেমসের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার আগে বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে দলের প্রস্তুতি ও লক্ষ্য নিয়ে কথা বলেন তিনি। তার ভাষায়, দুটি প্রস্তুতি ম্যাচসহ পুরো ক্যাম্প থেকেই ভালো প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ পেয়েছে দল। লিটন বলেন, ‘প্রস্তুতি খুবই ভালো হয়েছে। দুটো প্র্যাকটিস গেম খেলার সুযোগ পেয়েছি। অনেকদিন পর একসঙ্গে হওয়ার সুযোগ হয়েছে। প্রস্তুতির দিক থেকে আমরা খুবই ভালো অবস্থানে আছি।’
লক্ষ্যের প্রশ্নে দ্ব্যর্থহীন ছিলেন অধিনায়ক। তিনি বলেন, ‘অবশ্যই একটা লক্ষ্য থাকবে। যেহেতু টুর্নামেন্ট খেলতে যাচ্ছি, ফাইনাল খেলা এবং সেখানে ভালো কিছু করাই মূল উদ্দেশ্য।’ শক্তিশালী প্রতিপক্ষদের নিয়ে বাড়তি মাথাব্যথা নেই তার। সাইফউদ্দিনের বিকল্প কে হবেন, সে সিদ্ধান্তও নির্বাচকদের ওপর ছেড়ে দিয়েছেন তিনি। লিটনের কথায়, ‘যেকোনো টুর্নামেন্টে প্রতিপক্ষের চেয়ে বড় বিষয় নিজেদের প্রস্তুতি। আমরা সব দলের জন্যই প্রস্তুত এবং যা যা করা দরকার ছিল, তা করেছি।’
সোনা জয়ের পাশাপাশি আরও দূরের একটি স্বপ্নও দেখছেন অধিনায়ক—২০২৮ লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিক। তবে তার আগে এশিয়ান গেমসের মঞ্চে ভালো করাকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছেন তিনি। লিটন বলেন, ‘অলিম্পিক কে না খেলতে চাইবে! প্রথমে আমরা যে ইভেন্টের জন্য যাচ্ছি, সেটা ভালো খেললে চূড়ান্ত জায়গায় পৌঁছানো সম্ভব। এখন ফোকাস হলো, কীভাবে ফাইনাল পর্যন্ত যেতে পারি। ফাইনাল খেললে সোনা জেতার সুযোগ তৈরি হবে।’ এমন বড় মাল্টি-স্পোর্টস আসরে প্রথমবার অংশ নেওয়ার সুযোগ নিয়েও রোমাঞ্চিত তিনি, জাতীয় দলের বাইরে গিয়ে দেশের প্রতিনিধিত্ব করাকেও বিশেষ কিছু বলে মনে করছেন।
সাক্ষাৎকারে পেস-বোলিং অলরাউন্ডার সংকট নিয়েও খোলাখুলি কথা বলেন লিটন। বর্তমানে এই ভূমিকায় নিয়মিত খেলা তিন ক্রিকেটারই চোটে থাকায় ঘাটতিটা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে বলে জানান তিনি। তবে কয়েকজন তরুণ ক্রিকেটারকে নিয়ে কাজ চলছে এবং আগামী দেড় বছরের মধ্যে এই জায়গা থেকে ইতিবাচক ফল পাওয়ার আশা তার। ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে বাংলাদেশি খেলোয়াড়দের চাহিদা বাড়াকেও ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখছেন অধিনায়ক। তার মতে, একজনের মাধ্যমে সুযোগের দরজা খুললে অন্যদের জন্যও পথ তৈরি হবে, যা দেশের ক্রিকেটারদের অভিজ্ঞতা ও পারফরম্যান্স—দুটোই বাড়াবে।
নিজের ব্যাটিং ফর্ম প্রসঙ্গে লিটন জানান, রান করার চেষ্টা তিনি অব্যাহত রেখেছেন। নিচের দিকে ব্যাটিংয়ের জন্যও দলে বিকল্প প্রস্তুত আছে বলে জানান তিনি। সাম্প্রতিক সময়ে দলে ফিরে ভালো করা রাব্বির প্রসঙ্গ টেনে অধিনায়ক বলেন, যিনিই ভালো ক্রিকেট খেলবেন, তার সামনেই সুযোগের দুয়ার খুলবে।
ক্রীড়া প্রতিবেদক 



















