বোয়ালখালীর লবণ কারখানায় বিস্ফোরণে দগ্ধ ১০ শ্রমিক

চট্টগ্রামের বোয়ালখালীর একটি লবণ কারখানায় সিলিন্ডার বিস্ফোরণের পর আগুন লেগে অন্তত ১০ শ্রমিক দগ্ধ হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় চারজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকালে বোয়ালখালী পৌরসভা এলাকার ‘কনফিডেন্স লবণ ফ্যাক্টরি’তে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ, হাসপাতাল সূত্র এবং স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, সকালে কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম চলাকালে হঠাৎ একটি সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়। বিস্ফোরণের পরপরই আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বিস্ফোরণের পর বিদ্যুতের শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের বিস্তার আরও বেড়ে যায়। মুহূর্তেই কারখানার ভেতরে কর্মরত শ্রমিকেরা আগুনের মধ্যে আটকা পড়ে দগ্ধ হন।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দা ও সহকর্মীরা দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকেরা তাদের জরুরি চিকিৎসা শুরু করেন। দগ্ধদের মধ্যে কয়েকজনের শরীরে মারাত্মক পোড়া ক্ষত থাকায় তাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
চমেক হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) আলাউদ্দিন জানান, কারখানা থেকে দগ্ধ অবস্থায় ১০ জনকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, আহতদের মধ্যে পাঁচ থেকে ছয়জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাঁদের মধ্য থেকে চারজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
এ পর্যন্ত আহত ৯ জনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। তারা হলেন দিদারুল আলম, উজ্জ্বল দাশ, মোহাম্মদ লিটন, সিরাজুল ইসলাম, জাহিদুল আলম, নূর নবী, মোহাম্মদ আলম, মাহমুদুল হক এবং সেলিম উদ্দিন। অপর একজনের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ জানতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অনুসন্ধান শুরু করেছে। সিলিন্ডার বিস্ফোরণ এবং পরবর্তী অগ্নিকাণ্ড কীভাবে ঘটল, কারখানায় নিরাপত্তা ব্যবস্থার কোনো ঘাটতি ছিল কি না এবং নিরাপত্তাবিধি যথাযথভাবে মানা হয়েছিল কি না—এসব বিষয়ও খতিয়ে দেখা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
বাংলাদেশে শিল্পকারখানায় অগ্নিকাণ্ড ও সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনা নতুন নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত নিরাপত্তা পরিদর্শন, ঝুঁকিপূর্ণ যন্ত্রপাতির রক্ষণাবেক্ষণ এবং শ্রমিকদের অগ্নিনিরাপত্তা বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা গেলে এ ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।
এ ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। আহত শ্রমিকদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছেন তাঁদের স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা এড়াতে শিল্পকারখানাগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদারের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

জনপ্রিয় সংবাদ

অবশেষে খুলে গেছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে থাকা আসামির হাতে হাতকড়া

২৯ জুলাই ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

বোয়ালখালীর লবণ কারখানায় বিস্ফোরণে দগ্ধ ১০ শ্রমিক

আপডেট সময় ০২:২১:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

চট্টগ্রামের বোয়ালখালীর একটি লবণ কারখানায় সিলিন্ডার বিস্ফোরণের পর আগুন লেগে অন্তত ১০ শ্রমিক দগ্ধ হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় চারজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকালে বোয়ালখালী পৌরসভা এলাকার ‘কনফিডেন্স লবণ ফ্যাক্টরি’তে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ, হাসপাতাল সূত্র এবং স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, সকালে কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম চলাকালে হঠাৎ একটি সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়। বিস্ফোরণের পরপরই আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বিস্ফোরণের পর বিদ্যুতের শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের বিস্তার আরও বেড়ে যায়। মুহূর্তেই কারখানার ভেতরে কর্মরত শ্রমিকেরা আগুনের মধ্যে আটকা পড়ে দগ্ধ হন।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দা ও সহকর্মীরা দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকেরা তাদের জরুরি চিকিৎসা শুরু করেন। দগ্ধদের মধ্যে কয়েকজনের শরীরে মারাত্মক পোড়া ক্ষত থাকায় তাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
চমেক হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) আলাউদ্দিন জানান, কারখানা থেকে দগ্ধ অবস্থায় ১০ জনকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, আহতদের মধ্যে পাঁচ থেকে ছয়জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাঁদের মধ্য থেকে চারজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
এ পর্যন্ত আহত ৯ জনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। তারা হলেন দিদারুল আলম, উজ্জ্বল দাশ, মোহাম্মদ লিটন, সিরাজুল ইসলাম, জাহিদুল আলম, নূর নবী, মোহাম্মদ আলম, মাহমুদুল হক এবং সেলিম উদ্দিন। অপর একজনের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ জানতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অনুসন্ধান শুরু করেছে। সিলিন্ডার বিস্ফোরণ এবং পরবর্তী অগ্নিকাণ্ড কীভাবে ঘটল, কারখানায় নিরাপত্তা ব্যবস্থার কোনো ঘাটতি ছিল কি না এবং নিরাপত্তাবিধি যথাযথভাবে মানা হয়েছিল কি না—এসব বিষয়ও খতিয়ে দেখা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
বাংলাদেশে শিল্পকারখানায় অগ্নিকাণ্ড ও সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনা নতুন নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত নিরাপত্তা পরিদর্শন, ঝুঁকিপূর্ণ যন্ত্রপাতির রক্ষণাবেক্ষণ এবং শ্রমিকদের অগ্নিনিরাপত্তা বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা গেলে এ ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।
এ ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। আহত শ্রমিকদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছেন তাঁদের স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা এড়াতে শিল্পকারখানাগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদারের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

Share this news as a Photo Card