সাবেক সেনা কর্মকর্তা ও এনটিএমসির সাবেক মহাপরিচালক জিয়াউল আহসানের জলসিঁড়ি আবাসন প্রকল্পের বিলাসবহুল বাড়িতে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সোমবার সকালে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে অবস্থিত এই বাড়িটিতে তল্লাশি চালায় দুদকের একটি বিশেষ দল।
দুদকের মুখপাত্র তানজীর আহমেদ এই অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সংস্থার উপপরিচালক মো. হাফিজুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি দল সকালে জলসিঁড়ির ওই বাড়িটিতে প্রবেশ করে। বর্তমানে সেখানে থাকা বিভিন্ন মালামাল ও স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির জব্দ তালিকা তৈরির কাজ চলছে।
আওয়ামী লীগ সরকারের টানা ১৫ বছরের শাসনামলে অন্যতম প্রভাবশালী ও আলোচিত মুখ ছিলেন মেজর জেনারেল (বরখাস্ত) জিয়াউল আহসান। তিনি সর্বশেষ টেলিযোগাযোগ নজরদারির জাতীয় সংস্থা ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তবে গত ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পরদিনই, অর্থাৎ ৬ আগস্ট তাঁকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
পরবর্তীকালে ২০২৪ সালের ১৬ আগস্ট গভীর রাতে রাজধানীর খিলক্ষেত এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। প্রাথমিকভাবে নিউমার্কেট থানার একটি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হলেও, এরপর থেকে তিনি কারাগারেই রয়েছেন। পরবর্তীতে গত ৭ জানুয়ারি দুদকের আবেদনের ভিত্তিতে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের পৃথক একটি মামলায় তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে পেশাগত ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। সংস্থার দায়ের করা মামলার এজাহারে বলা হয়, তিনি নিজের নামে অন্তত ২২ কোটি ২৭ লাখ ৭৮ হাজার টাকা মূল্যের জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ গড়ে তুলেছেন। এর পাশাপাশি অনুমোদিত সীমার তোয়াক্কা না করে ব্যাংকে ৫৫ হাজার মার্কিন ডলার জমা করার তথ্যও উঠে এসেছে তদন্তে।
শুধু তাই নয়, তদন্তকারীরা জানিয়েছেন তাঁর নামে থাকা ৮টি ভিন্ন ব্যাংক হিসাবে প্রায় ১২০ কোটি টাকার অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া গেছে। অভিযোগ রয়েছে, স্ত্রী নুসরাত জাহানের প্রত্যক্ষ সহযোগিতা ও যোগসাজশে জিয়াউল আহসান এই অর্থ বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে স্থানান্তর, হস্তান্তর এবং রূপান্তর করেছেন।
মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, একজন উচ্চপদস্থ সেনা কর্মকর্তা হওয়ার সুবাদে তিনি নিজের পদ ও অর্পিত ক্ষমতার চরম অপব্যবহার করেছেন। এর মাধ্যমে তিনি দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন এবং দণ্ডবিধির আওতায় মারাত্মক ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।
উল্লেখ্য, জিয়াউল আহসানের অঢেল সম্পত্তির খোঁজে দুদক দীর্ঘদিন ধরেই অনুসন্ধান চালিয়ে আসছে। এর আগে তাঁর বাগানবাড়িসহ চারটি বাড়ি এবং তিনটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট জব্দের নির্দেশ দিয়েছিল আদালত। সোমবার জলসিঁড়ির বাড়িতে পরিচালিত এই নতুন অভিযান তাঁর অবৈধ সম্পদের নেটওয়ার্ক উদঘাটনে একটি বড় পদক্ষেপ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
চলমান বার্তা ডেস্ক : 




















