রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়ির মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার এক বছর পূর্ণ হলো আজ। কিন্তু সময়ের আবর্তে দিনটি ফিরে এলেও শোক, যন্ত্রণা আর ক্ষোভের আগ্নেয়গিরি এতটুকু নেভেনি ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর মন থেকে। সুবিচারের আকুতি আর আইনি প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ বা পুনর্বাসন না পাওয়ার আক্ষেপে কাটে ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতিটি মুহূর্ত।
গত বছরের ২১ জুলাইয়ের সেই মর্মান্তিক স্মৃতি আজও তাড়িয়ে বেড়ায় স্বজনদের। প্রতিদিনের মতোই স্কুলে যাওয়া সুস্থ-সবল শিশু কিংবা টিফিন হাতে প্রিয় আঙিনায় রেখে আসা সেই মুখগুলো আজ কেবলই ছবি কিংবা কবরের নীরব শিয়রে আটকা। দুর্ঘটনার পরের দিনের বার্ন ইনস্টিটিউটের শয্যা কিংবা দীর্ঘদিনের আইসিইউ যাপনের মানসিক ও শারীরিক যন্ত্রণা বয়ে নিয়ে বেড়াচ্ছেন তারা। সেদিন বিমানটি বিধ্বস্ত হলে বহু শিশু শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও কর্মচারী দগ্ধ ও হতাহত হন। মৃত্যুর পাশাপাশি বেঁচে যাওয়া অনেক শিশু আজও স্বাভাবিক জীবনের দেখা পায়নি; মাসের পর মাস চিকিৎসা, স্কিন গ্রাফটিং আর অস্ত্রোপচারের ক্ষত বহন করতে হচ্ছে তাদের কোমল শরীরে।
পরবর্তী সময়ে ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে গঠিত সরকারের উচ্চপর্যায়ের কমিশন তদন্ত শেষে চালকের উড্ডয়নত্রুটি ও অবকাঠামোগত কিছু ঘাটতি চিহ্নিত করে প্রতিবেদন জমা দেয়। এরপর আইনগত জবাবদিহি নিশ্চিত করা, তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা এবং ভুক্তভোগীদের পূর্ণাঙ্গ পুনর্বাসনের জন্য একাধিক উচ্চ আদালতে রিট পিটিশনও দায়ের করা হয়। বর্তমানে মামলা দুটি বিচারাধীন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পক্ষ থেকে দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার দাবি জোরালো হচ্ছে।
তবে অন্তর্বর্তীকালীন সহায়তার অংশ হিসেবে সরকারি তহবিল থেকে যে আর্থিক বরাদ্দ নির্ধারণ করা হয়েছিল, তা ভুক্তভোগীদের আক্ষেপ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, কোনো সন্তানের প্রাণের কিংবা শারীরিক পঙ্গুত্বের ক্ষতিপূরণ অর্থমূল্যে মাপা যায় না। এটি যেন নিছক কোনো অনুদান নয়, বরং আইনি ও কাঠামোগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় পর্যায় থেকে দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা, কার্যকর পুনর্বাসন এবং এই দুর্ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিতের দাবিই এখন প্রধান হয়ে উঠেছে।
ভয়াবহ সেই স্মৃতির আড়ালে হারিয়ে যাওয়া প্রিয়জনদের স্মরণ করতে করতে পরিবারগুলোর একটাই প্রশ্ন—যে জীবনের ক্ষতি অপরিসীম, তার বিচার ও সুরক্ষায় রাষ্ট্র শেষ পর্যন্ত কী নজির স্থাপন করবে?
চলমান বার্তা ডেস্ক : 

























