শিরোনাম :
পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠতায় ভারত-মার্কিন সম্পর্কে টান পড়তে পারে: জয়শঙ্কর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলার ঘটনায় গ্রেপ্তার সাবেক মেজর জেনারেল বাংলাদেশের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার শক্তিশালী স্কোয়াড অক্টোবর-নভেম্বরে এলএনজির ঘাটতি নেই, আসছে ১৯ কার্গো : পেট্রোবাংলা ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুতে ৫০৬ কোটি টাকার বিল ”আমার সব সময় গরিব ছেলে পছন্দ ছিলো”: প্রভা মিরপুরে উচ্ছেদ অভিযানে পুলিশের সঙ্গে হকারদের সংঘর্ষ, গাড়িতে আগুন ইরাক থেকে মার্কিন সেনা পুরোপুরি সরিয়ে নিলো যুক্তরাষ্ট্র বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে ৫০ টাকার গাছ ৪০০ টাকায় ক্রয় চীন সীমান্তের কাছে রাশিয়ার পারমাণবিক বোমারু বিমান বিধ্বস্ত

বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে ৫০ টাকার গাছ ৪০০ টাকায় ক্রয়

সরকারের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আওতায় চলতি বছর সিরাজগঞ্জে ৪০ হাজারের বেশি গাছ লাগানোর লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে। কিন্তু রোপণের দেড় মাসের মধ্যেই পরিচর্যার অভাবে বহু চারা মরে গেছে, আরও অনেক চারা মরার পথে। এর মধ্যে জেলার কয়েকটি ইউনিয়নের নথিতে বাজারদরের অনেক গুণ বেশি ব্যয় দেখানোর তথ্যও মিলেছে।

জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও ইউনিয়ন পরিষদ এই কর্মসূচির আওতায় গাছ লাগাচ্ছে। ইউনিয়ন পরিষদের নথি অনুযায়ী, ব্যয়ের তালিকায় শুধু চারা কেনা ও রোপণ নয়, বাঁশের খুঁটি, বেড়া, পানি দেওয়া এবং রক্ষণাবেক্ষণের খরচও ধরা আছে। অথচ মাঠে গিয়ে এসব কাজের তেমন কোনো দৃশ্যমান চিহ্ন পাওয়া যায়নি।

ব্যয়ের অঙ্কে বড় ফারাক

উল্লাপাড়া উপজেলার উধুনিয়া ইউনিয়ন পরিষদের তথ্য বলছে, বৃক্ষরোপণের জন্য সেখানে বরাদ্দ ছিল ১ লাখ ৮৭ হাজার টাকা। এই টাকায় লাগানো হয়েছে ৪৬৯টি গাছ। হিসাব করলে প্রতিটি গাছের পেছনে খরচ পড়ে প্রায় ৩৯৯ টাকা।

স্থানীয় একাধিক নার্সারি মালিক জানান, ওই ধরনের প্রজাতির চারা তাঁরা ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি করেন। সেই দামের সঙ্গে মেলালে উধুনিয়ার ব্যয় স্থানীয় বাজারদরের প্রায় সাত থেকে আট গুণ।

তবে ব্যয়ের এই হিসাবে চারার দামের পাশাপাশি বাঁশের খুঁটি ও পরিচর্যার খরচও ধরা আছে বলে জানান ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা শামসুল আলম। তাঁর ভাষ্য, ব্যয়ের প্রাক্কলন তৈরি করেছেন উপজেলা এলজিইডি কার্যালয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী আলমগীর হোসেন। প্রতিটি গাছের জন্য প্রায় ৪০০ টাকা ধরা হয়েছে।

পাশের রায়গঞ্জ উপজেলার ঘুড়কা ইউনিয়নের চিত্র ভিন্ন। সেখানকার প্রশাসনিক কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, তাঁদের ইউনিয়নে ১ হাজার ৮০০টি গাছ লাগানো হয়েছে। প্রতিটির পেছনে খরচ হয়েছে ৬৫ থেকে ৭০ টাকা।

রোপণের পরই শুকিয়ে যাচ্ছে চারা

উধুনিয়ার বাংলাপাড়া সড়কের একটি অংশ ঘুরে দেখা যায়, সেখানে প্রায় ২০০টি গাছ লাগানো হয়েছিল। এর অন্তত ৫০টি পুরোপুরি মরে গেছে। আরও কয়েকটির অবস্থা মুমূর্ষু। যেগুলো এখনো বেঁচে আছে, তার অনেকেরই পাতা শুকিয়ে এসেছে। কিছু চারা মাটিতে পড়ে আছে, কিছু হেলে পড়েছে।

চারার আশপাশে নিয়মিত পানি দেওয়ার কোনো চিহ্ন চোখে পড়েনি। বেশির ভাগ গাছের চারপাশে গবাদিপশু ও মানুষের চলাচল ঠেকানোর জন্য বাঁশের খুঁটি বা বেড়াও ছিল না। ফলে রোপণের অল্প সময়ের মধ্যেই অনেক চারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ী বলেন, গাছের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের তাঁরা নিয়মিত পরিচর্যা করতে দেখেননি। তাঁদের মতে, পানি দেওয়া ও সুরক্ষার ব্যবস্থা থাকলে অনেক চারাই বেঁচে যেত।

হিসাব নিয়ে প্রশ্ন, মিলছে না বক্তব্য

উধুনিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য বিউটি খাতুনকে এই কর্মসূচির সভাপতি করা হয়েছে। অসুস্থতার কারণে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তাঁর স্বামী মঈনুল হোসেন প্রতিবেদককে বলেন, স্ত্রীকে প্রকল্পের সভাপতি করার কথা তিনি শুনেছেন। কিন্তু কোথা থেকে গাছ কেনা হয়েছে কিংবা কত টাকা খরচ হয়েছে, সে বিষয়ে তাঁদের কিছুই জানানো হয়নি।

স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ব্যয়ের প্রাক্কলন ও হিসাব তৈরিতে উপজেলা এলজিইডি কার্যালয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী এবং ইউনিয়ন পরিষদের কর্মকর্তারা যুক্ত ছিলেন। স্থানীয় লোকজন বাজারদরের তুলনায় বাড়তি ব্যয় দেখানোর অভিযোগ তুলেছেন। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপসহকারী প্রকৌশলী আলমগীর হোসেনকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ধরেননি।

জেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় ইউনিয়ন পরিষদের নিজস্ব তহবিল থেকে বিভিন্ন ইউনিয়নে এই গাছ লাগানো হচ্ছে। কিন্তু গাছ টিকিয়ে রাখা, নিয়মিত পরিচর্যা এবং বরাদ্দের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ে কতটা নজরদারি আছে, সে প্রশ্নই এখন সামনে এসেছে।

কর্মকর্তাদের ভাষ্যে অসংগতি

এলজিইডির উল্লাপাড়া উপজেলা প্রকৌশলী মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের বৃক্ষরোপণের বরাদ্দে উপসহকারী প্রকৌশলীরা যে প্রাক্কলন করেছেন, তাতে গাছের দাম, রোপণ, বেড়া ও পরিচর্যার ব্যয় ধরা আছে।

কিন্তু ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে থাকা প্রশাসক এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল কাদের বিশ্বাস ভিন্ন কথা বলেছেন। তাঁর ভাষ্য, ‘গাছ লাগানোর টাকা আছে, কিন্তু পরিচর্যা ও গাছের আনুষঙ্গিক কোনও খরচের বরাদ্দ নেই। তাই গাছের পরিচর্যা করা হয়নি।’ অর্থাৎ ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও এলজিইডির প্রাক্কলনের সঙ্গে প্রশাসকের বক্তব্য মেলে না।

পরিচর্যার অভাবে গাছ মরে যাওয়ার প্রসঙ্গে উল্লাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রায়হানুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি দেখভালের দায়িত্ব ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও প্রশাসক বা চেয়ারম্যানের। দায়িত্বে অবহেলা করলে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সাধারণ) গণপতি রায় বলেন, প্রকল্পটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রশাসন গুরুত্ব দিয়েই তা বাস্তবায়ন করছে। তাঁর ভাষ্য, প্রকল্পের কাজ এখনো শেষ হয়নি এবং জেলার নানা জায়গায় বিভিন্ন সরকারি দপ্তর গাছ লাগাচ্ছে। সব জায়গায় গাছ মরে যাচ্ছে, বিষয়টি এমন নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন। তাঁর দাবি, জেলার কয়েকটি সড়কে ইতিমধ্যে গাছ দৃশ্যমান হয়েছে। ইউনিয়ন পর্যায়ে নজরদারি আরও বাড়ানো হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

জনপ্রিয় সংবাদ

পীরগঞ্জে বাঁশ দিয়ে রেল ক্রসিং পাহাড়ায় ভ্যান চালক

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

চীন সীমান্তের কাছে রাশিয়ার পারমাণবিক বোমারু বিমান বিধ্বস্ত

৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে ৫০ টাকার গাছ ৪০০ টাকায় ক্রয়

আপডেট সময় ১২:০২:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সরকারের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আওতায় চলতি বছর সিরাজগঞ্জে ৪০ হাজারের বেশি গাছ লাগানোর লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে। কিন্তু রোপণের দেড় মাসের মধ্যেই পরিচর্যার অভাবে বহু চারা মরে গেছে, আরও অনেক চারা মরার পথে। এর মধ্যে জেলার কয়েকটি ইউনিয়নের নথিতে বাজারদরের অনেক গুণ বেশি ব্যয় দেখানোর তথ্যও মিলেছে।

জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও ইউনিয়ন পরিষদ এই কর্মসূচির আওতায় গাছ লাগাচ্ছে। ইউনিয়ন পরিষদের নথি অনুযায়ী, ব্যয়ের তালিকায় শুধু চারা কেনা ও রোপণ নয়, বাঁশের খুঁটি, বেড়া, পানি দেওয়া এবং রক্ষণাবেক্ষণের খরচও ধরা আছে। অথচ মাঠে গিয়ে এসব কাজের তেমন কোনো দৃশ্যমান চিহ্ন পাওয়া যায়নি।

ব্যয়ের অঙ্কে বড় ফারাক

উল্লাপাড়া উপজেলার উধুনিয়া ইউনিয়ন পরিষদের তথ্য বলছে, বৃক্ষরোপণের জন্য সেখানে বরাদ্দ ছিল ১ লাখ ৮৭ হাজার টাকা। এই টাকায় লাগানো হয়েছে ৪৬৯টি গাছ। হিসাব করলে প্রতিটি গাছের পেছনে খরচ পড়ে প্রায় ৩৯৯ টাকা।

স্থানীয় একাধিক নার্সারি মালিক জানান, ওই ধরনের প্রজাতির চারা তাঁরা ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি করেন। সেই দামের সঙ্গে মেলালে উধুনিয়ার ব্যয় স্থানীয় বাজারদরের প্রায় সাত থেকে আট গুণ।

তবে ব্যয়ের এই হিসাবে চারার দামের পাশাপাশি বাঁশের খুঁটি ও পরিচর্যার খরচও ধরা আছে বলে জানান ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা শামসুল আলম। তাঁর ভাষ্য, ব্যয়ের প্রাক্কলন তৈরি করেছেন উপজেলা এলজিইডি কার্যালয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী আলমগীর হোসেন। প্রতিটি গাছের জন্য প্রায় ৪০০ টাকা ধরা হয়েছে।

পাশের রায়গঞ্জ উপজেলার ঘুড়কা ইউনিয়নের চিত্র ভিন্ন। সেখানকার প্রশাসনিক কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, তাঁদের ইউনিয়নে ১ হাজার ৮০০টি গাছ লাগানো হয়েছে। প্রতিটির পেছনে খরচ হয়েছে ৬৫ থেকে ৭০ টাকা।

রোপণের পরই শুকিয়ে যাচ্ছে চারা

উধুনিয়ার বাংলাপাড়া সড়কের একটি অংশ ঘুরে দেখা যায়, সেখানে প্রায় ২০০টি গাছ লাগানো হয়েছিল। এর অন্তত ৫০টি পুরোপুরি মরে গেছে। আরও কয়েকটির অবস্থা মুমূর্ষু। যেগুলো এখনো বেঁচে আছে, তার অনেকেরই পাতা শুকিয়ে এসেছে। কিছু চারা মাটিতে পড়ে আছে, কিছু হেলে পড়েছে।

চারার আশপাশে নিয়মিত পানি দেওয়ার কোনো চিহ্ন চোখে পড়েনি। বেশির ভাগ গাছের চারপাশে গবাদিপশু ও মানুষের চলাচল ঠেকানোর জন্য বাঁশের খুঁটি বা বেড়াও ছিল না। ফলে রোপণের অল্প সময়ের মধ্যেই অনেক চারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ী বলেন, গাছের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের তাঁরা নিয়মিত পরিচর্যা করতে দেখেননি। তাঁদের মতে, পানি দেওয়া ও সুরক্ষার ব্যবস্থা থাকলে অনেক চারাই বেঁচে যেত।

হিসাব নিয়ে প্রশ্ন, মিলছে না বক্তব্য

উধুনিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য বিউটি খাতুনকে এই কর্মসূচির সভাপতি করা হয়েছে। অসুস্থতার কারণে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তাঁর স্বামী মঈনুল হোসেন প্রতিবেদককে বলেন, স্ত্রীকে প্রকল্পের সভাপতি করার কথা তিনি শুনেছেন। কিন্তু কোথা থেকে গাছ কেনা হয়েছে কিংবা কত টাকা খরচ হয়েছে, সে বিষয়ে তাঁদের কিছুই জানানো হয়নি।

স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ব্যয়ের প্রাক্কলন ও হিসাব তৈরিতে উপজেলা এলজিইডি কার্যালয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী এবং ইউনিয়ন পরিষদের কর্মকর্তারা যুক্ত ছিলেন। স্থানীয় লোকজন বাজারদরের তুলনায় বাড়তি ব্যয় দেখানোর অভিযোগ তুলেছেন। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপসহকারী প্রকৌশলী আলমগীর হোসেনকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ধরেননি।

জেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় ইউনিয়ন পরিষদের নিজস্ব তহবিল থেকে বিভিন্ন ইউনিয়নে এই গাছ লাগানো হচ্ছে। কিন্তু গাছ টিকিয়ে রাখা, নিয়মিত পরিচর্যা এবং বরাদ্দের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ে কতটা নজরদারি আছে, সে প্রশ্নই এখন সামনে এসেছে।

কর্মকর্তাদের ভাষ্যে অসংগতি

এলজিইডির উল্লাপাড়া উপজেলা প্রকৌশলী মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের বৃক্ষরোপণের বরাদ্দে উপসহকারী প্রকৌশলীরা যে প্রাক্কলন করেছেন, তাতে গাছের দাম, রোপণ, বেড়া ও পরিচর্যার ব্যয় ধরা আছে।

কিন্তু ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে থাকা প্রশাসক এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল কাদের বিশ্বাস ভিন্ন কথা বলেছেন। তাঁর ভাষ্য, ‘গাছ লাগানোর টাকা আছে, কিন্তু পরিচর্যা ও গাছের আনুষঙ্গিক কোনও খরচের বরাদ্দ নেই। তাই গাছের পরিচর্যা করা হয়নি।’ অর্থাৎ ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও এলজিইডির প্রাক্কলনের সঙ্গে প্রশাসকের বক্তব্য মেলে না।

পরিচর্যার অভাবে গাছ মরে যাওয়ার প্রসঙ্গে উল্লাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রায়হানুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি দেখভালের দায়িত্ব ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও প্রশাসক বা চেয়ারম্যানের। দায়িত্বে অবহেলা করলে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সাধারণ) গণপতি রায় বলেন, প্রকল্পটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রশাসন গুরুত্ব দিয়েই তা বাস্তবায়ন করছে। তাঁর ভাষ্য, প্রকল্পের কাজ এখনো শেষ হয়নি এবং জেলার নানা জায়গায় বিভিন্ন সরকারি দপ্তর গাছ লাগাচ্ছে। সব জায়গায় গাছ মরে যাচ্ছে, বিষয়টি এমন নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন। তাঁর দাবি, জেলার কয়েকটি সড়কে ইতিমধ্যে গাছ দৃশ্যমান হয়েছে। ইউনিয়ন পর্যায়ে নজরদারি আরও বাড়ানো হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।

Share this news as a Photo Card