চাকরির পুলিশ ভেরিফিকেশনে বাবার নামে কোনো স্থাবর সম্পত্তি না থাকায় বাদ পড়ার শঙ্কায় ছিলেন মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার এক মুসলিম তরুণ। সেই কঠিন সময়ে তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছেন প্রতিবেশী এক হিন্দু ভদ্রলোক। কোনো বিনিময় ছাড়াই তিনি ওই তরুণকে এক শতক জমি লিখে দিয়েছেন।
রোববার (৪ অক্টোবর) একটি গণমাধ্যমের কাছে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন জুড়ী উপজেলার সাব-রেজিস্ট্রার। তবে সরকারি বিধিমালা ও গোপনীয়তার কথা বলে এখনই দাতা ও গ্রহীতার নাম প্রকাশ করেননি তিনি।
কোথা থেকে শুরু
সম্প্রতি সোনালী ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষায় চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হন জুড়ীর ওই তরুণ। কিন্তু নিয়োগের আগে পুলিশ বা গোয়েন্দা ভেরিফিকেশনে পারিবারিক স্থাবর সম্পত্তির বিবরণ দিতে হয়। তরুণের বাবার নামে কোনো জমি বা স্থাবর সম্পত্তি নেই। পরিবারটি দীর্ঘদিন ধরে ভাড়া বাসায় থাকে। ফলে স্বপ্নের চাকরিটি হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কায় দিশাহারা হয়ে পড়েছিল তারা।
প্রতিবেশীর সিদ্ধান্ত
বিষয়টি জানতে পেরে প্রতিবেশী ওই ভদ্রলোক স্বপ্রণোদিত হয়ে নিজের জমি থেকে এক শতক ওই পরিবারকে দান করার সিদ্ধান্ত নেন। শুধু জমি দিয়েই থামেননি, দলিল রেজিস্ট্রেশনের পুরো খরচও নিজেই বহন করেছেন।
এ বিষয়ে সাব-রেজিস্ট্রার মো. মহিউদ্দিন বলেন, “চাকরি পাওয়া এক ছেলের বাবার নামে কোনো স্থাবর সম্পত্তি না থাকাতে ভেরিফিকেশনে বাদ যাবেন—এমন আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। বিষয়টি জেনে প্রতিবেশী ভদ্রলোক কোনো বিনিময় ছাড়াই তাকে এক শতক জমি দান করেছেন। ছেলেটির পরিবার দীর্ঘদিন ধরে সেখানে ভাড়া বাসায় থাকে।”
এলাকায় প্রশংসা
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর থেকেই জুড়ী উপজেলায় প্রশংসার জোয়ার বইছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, একজন তরুণের স্বপ্নের পথ থেকে বাধা সরাতে ধর্মের ভেদাভেদ ভুলে প্রতিবেশীর এমন এগিয়ে আসা সম্প্রীতি ও মানবিকতার এক উজ্জ্বল উদাহরণ। তাঁদের কথায়, বর্তমান সময়ে ধর্মের নামে দূরত্ব তৈরির চেষ্টার মাঝে এই উদারতা সবার জন্যই অনুপ্রেরণা।
চলমান বার্তা ডেস্ক : 





















