বেসরকারি উদ্যোগে বাণিজ্যিক সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র গড়ার পথে বড় একটি বাধা সরল হলো। এসব কেন্দ্রের বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থার কাছে বিক্রির দর এবং জাতীয় গ্রিড ব্যবহারের মাশুল নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। নতুন দর কার্যকর হবে চলতি অক্টোবর মাস থেকেই।
গতকাল বুধবার জারি করা আদেশে কমিশন জানিয়েছে, ৩৩ কিলোভোল্ট স্তরে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ইউনিটপ্রতি ৬ টাকা ৯৮ পয়সা দরে বিদ্যুৎ কিনবে। ১৩২ কিলোভোল্ট স্তরে এ দর ৭ টাকা ১১ পয়সা।
মাশুলের হিসাব
জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ তুলতে পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশকে সঞ্চালন মাশুল দিতে হবে। ২৩০ কিলোভোল্ট স্তরে এর হার ইউনিটপ্রতি ৩৭ দশমিক ৮৯ পয়সা, ১৩২ কিলোভোল্টে ৩৮ দশমিক ২৫ পয়সা এবং ৩৩ কিলোভোল্টে ৩৮ দশমিক ৯৭ পয়সা।
বিতরণ পর্যায়ে গ্রিডে বিদ্যুৎ দেওয়ার প্রান্তে বিতরণ সংস্থা ভিন্ন হলে ১৩২, ৩৩, ১১ ও শূন্য দশমিক ৪০ কিলোভোল্ট স্তরে ইউনিটপ্রতি ৩০ পয়সা মাশুল লাগবে। বিদ্যুৎ নেওয়ার প্রান্তে ২৩০ থেকে শূন্য দশমিক ৪০ কিলোভোল্ট পর্যন্ত সব স্তরে মাশুল ইউনিটপ্রতি ১ টাকা ১৭ পয়সা।
নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিদ্যুৎ কেন্দ্রীয়ভাবে সমন্বয় ও বিলিংয়ের জন্য একক ক্রেতা হিসেবে পিডিবির সমন্বয় ও নিষ্পত্তি মাশুল ধরা হয়েছে ইউনিটপ্রতি ৫ পয়সা। পরিচালন পদ্ধতি, বিলিং, বিদ্যুতের হিসাব-নিকাশ ও নিষ্পত্তির শর্তও আদেশে ঠিক করে দেওয়া হয়েছে।
যেভাবে এল সিদ্ধান্ত
বিইআরসি জানিয়েছে, গত ১ এপ্রিল পিডিবি এ বিষয়ে একটি সমন্বিত প্রস্তাব জমা দেয়। এরপর ৭ থেকে ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ ও ছয়টি বিতরণ সংস্থা আলাদা প্রস্তাব দেয়। প্রস্তাব ও নথি পর্যালোচনার পর ২৩ আগস্ট গণশুনানি হয়। শুনানিতে উঠে আসা তথ্য ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য বিশ্লেষণ করে কমিশন আদেশ দিয়েছে।
বাণিজ্যিক কেন্দ্রের ব্যবস্থা কেমন
নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে সরকার বাণিজ্যিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের সুযোগ দিয়েছে। এ ব্যবস্থায় বড় শিল্প ও রপ্তানিমুখী প্রতিষ্ঠান সরাসরি বেসরকারি উৎপাদনকারীর কাছ থেকে বিদ্যুৎ কিনতে পারবে। ক্রেতা ও বিক্রেতা নিজেরাই দাম ঠিক করবেন। তবে বিতরণ সংস্থার কাছে বিক্রীত বিদ্যুতের মূল্য এবং জাতীয় গ্রিড ব্যবহারের মাশুল ঠিক করে দেবে বিইআরসি।
বাণিজ্যিক কেন্দ্রের উৎপাদিত বিদ্যুতের সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ বিতরণ সংস্থার কাছে বিক্রি করা যাবে। দেশের যেকোনো স্থানে সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র বসিয়ে জাতীয় গ্রিডের মাধ্যমে অন্য এলাকায় বিদ্যুৎ পাঠানোর সুযোগও আছে। তবে এ জন্য নির্ধারিত সঞ্চালন ও বিতরণ মাশুল দিতে হবে।
নীতির প্রেক্ষাপট
গত বছরের অক্টোবরে ‘নবায়নযোগ্য জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে বেসরকারি অংশগ্রহণ বাড়ানোর নীতি, ২০২৫’ গেজেট আকারে প্রকাশ করে সরকার। প্রথমবারের মতো এ নীতিতে বাণিজ্যিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, ক্রেতার সঙ্গে সরাসরি বিদ্যুৎ কেনাবেচার চুক্তি এবং জাতীয় গ্রিড ব্যবহারের আইনি স্বীকৃতি মিলেছে। সৌর, বায়ু, বায়োমাস (জীবভর) ও বর্জ্যসহ পরিচ্ছন্ন উৎসের কেন্দ্রগুলোকে নীতিতে সবুজ বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।
বাণিজ্যিক কেন্দ্র চালাতে বিইআরসির উৎপাদন লাইসেন্স নিতে হবে। আইন বা নীতি বদলের কারণে বিনিয়োগকারীর ক্ষতি হলে সরকারি সুরক্ষার ব্যবস্থাও নীতিতে রাখা হয়েছে।
চলমান বার্তা ডেস্ক : 











