পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহার নিয়ে তৈরি হওয়া জটিলতা কাটিয়ে অবশেষে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানি দেশে আসছে। রাশিয়া থেকে বিশেষ কার্গো বিমানে প্রথম চালানটি বৃহস্পতিবার দুপুর নাগাদ ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা। সেখান থেকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে বিশেষ ব্যবস্থায় জ্বালানি নেওয়া হবে পাবনার ঈশ্বরদীর রূপপুরে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মোট নয়টি কার্গোতে এই জ্বালানি আসবে। এর মধ্যে সাতটি দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য, বাকি দুটি প্রথম ইউনিটের রিফুয়েলিংয়ের জন্য। বৃহস্পতিবারের চালান দিয়েই সরবরাহ শুরু হচ্ছে। ডিসেম্বরের মধ্যে পুরো জ্বালানি পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা আছে।
কেন পিছিয়েছিল আগের ফ্লাইট
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, পারমাণবিক জ্বালানি পরিবহনে বাড়তি নিরাপত্তাব্যবস্থা নিতে হয়। কার্গো বিমান যেসব দেশের আকাশসীমা ব্যবহার করে, সেসব দেশের অনুমতিও লাগে। রাশিয়া ও বাংলাদেশের সব প্রস্তুতি শেষ হলেও পাকিস্তানের অনুমতি মেলেনি। ফলে আগে নির্ধারিত একটি ফ্লাইট একেবারে শেষ মুহূর্তে বাতিল হয়ে যায়। পরে পাকিস্তানের ছাড়পত্র পাওয়ার পর নতুন করে ফ্লাইটের প্রস্তুতি নেওয়া হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, কার্গো বিমানটি রাশিয়া থেকে রওনা হয়ে কাজাখস্তান, তুর্কমেনিস্তান, পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও ভারতের আকাশপথ হয়ে বাংলাদেশে পৌঁছাবে।
আগেরবার অনুমতি না মেলার কারণ নিয়ে নানা আলোচনা হয়েছিল। তখন পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, সেটি রাজনৈতিক বা অন্য কোনো উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সিদ্ধান্ত ছিল না। বিমান চলাচলসংক্রান্ত কারিগরি ও পদ্ধতিগত কারণেই ওই জটিলতা দেখা দিয়েছিল।
রিফুয়েলিংয়ের জ্বালানিও আগাম
রূপপুরের প্রথম ইউনিটে ইতিমধ্যে পারমাণবিক জ্বালানি লোড করা হয়েছে। প্রায় দেড় বছর পর এই ইউনিটের জ্বালানির একটি অংশ বদলাতে হবে। সে কারণে রিফুয়েলিংয়ের জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানিও আগেভাগে আনা হচ্ছে।
চুক্তি অনুযায়ী, প্রথম তিন বছর রাশিয়া জ্বালানি সরবরাহ করবে। এরপর নির্দিষ্ট সময় পরপর জ্বালানি পরিবর্তন করতে হবে, আর তখন তা আমদানি করতে হবে বাংলাদেশকেই।
বিদ্যুৎ উৎপাদন কবে
রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি করপোরেশন রসাটম ও এর সহযোগী প্রতিষ্ঠান রাশিয়ার আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় রূপপুর প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্মাণাধীন কেন্দ্রটির দুটি ইউনিটের মোট উৎপাদন সক্ষমতা ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট।
প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিং শেষ হলেও বিদ্যুৎ উৎপাদনের সময় পিছিয়ে গেছে। চলতি মাসে উৎপাদনে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল, কিন্তু সেফটি ভালভে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় তা সম্ভব হয়নি। ত্রুটি সারাতে রাশিয়া থেকে বিশেষজ্ঞ দল এসেছে, সঙ্গে আনা হয়েছে প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশও। মেরামত শেষ হলে প্রথম ইউনিট জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে দ্বিতীয় ইউনিটের নির্মাণকাজও এগিয়ে চলছে। নয়টি কার্গোতে জ্বালানি সরবরাহ শেষ হলে দুই ইউনিটের জ্বালানি ব্যবস্থাপনার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ সম্পন্ন হবে।
এস কে চন্দন, ঢাকা 











