সংবিধান সংস্কারের উদ্যোগকে সামনে রেখে বাংলাদেশের সংবিধান থেকে ‘সমাজতন্ত্র’ ও ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’ স্থায়ীভাবে বাদ দেওয়ার দাবিতে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) জনস্বার্থে এই নোটিশ পাঠান সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট মো. মাহমুদুল হাসান মামুন।
নোটিশটি গেছে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিব (জন বিভাগ), জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব, মন্ত্রিপরিষদ সচিব এবং আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে।
নোটিশে বলা হয়েছে, বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী ২০২৭ সালের জানুয়ারি মাসে সরকার জাতীয় সংসদের মাধ্যমে সংবিধান সংস্কারের উদ্যোগ নেবে। পরে জনগণের অনুমোদনের জন্য সেটি জাতীয় গণভোটে তোলা হবে। এই প্রেক্ষাপটে সংবিধানের প্রস্তাবনা ও মূলনীতিতে থাকা ‘সমাজতন্ত্র’ ও ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’ বাদ দেওয়া জরুরি বলে নোটিশে দাবি করা হয়েছে। এ দুটিকে নোটিশে ‘সেকেলে ও আরোপিত মতবাদ’ বলা হয়েছে, যা স্বাধীন বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার পরিপন্থি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
সমাজতন্ত্রের বিষয়ে নোটিশের যুক্তি, ব্যক্তিমালিকানা নিশ্চিত করা এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য এটি বাদ দেওয়া দরকার। অ্যানসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকার সংজ্ঞার কথা উল্লেখ করে নোটিশে বলা হয়েছে, সমাজতন্ত্রের মূল লক্ষ্য ব্যক্তিমালিকানার বদলে সব সম্পদ রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে আনা। মুক্তবাজার অর্থনীতির এই সময়ে রাষ্ট্রীয় সমাজতন্ত্র বিশ্বজুড়েই ব্যর্থ ধারণা হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
নোটিশের ভাষ্য, সংবিধানে সমাজতন্ত্র থাকায় বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আশঙ্কা কাজ করে যে, এই নীতির দোহাই দিয়ে যেকোনো সময় তাঁদের শিল্পপ্রতিষ্ঠান বা বাণিজ্যিক বিনিয়োগ জাতীয়করণ করা হতে পারে। এ কারণেই কাঙ্ক্ষিত বিদেশি বিনিয়োগ আসছে না এবং বেসরকারি খাতও পুরোপুরি বিকশিত হতে পারছে না বলে দাবি করা হয়েছে। তাই সংবিধানের প্রস্তাবনা এবং অনুচ্ছেদ ৮ ও ১০ থেকে ‘সমাজতন্ত্র’ অবিলম্বে বিলুপ্ত করার কথা বলা হয়েছে।
ধর্মনিরপেক্ষতা প্রসঙ্গে নোটিশে বলা হয়েছে, এটি এ দেশের হাজার বছরের ইতিহাস এবং সংবিধানের ৪১ অনুচ্ছেদে বর্ণিত ধর্মীয় স্বাধীনতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। সে কারণে এটি বাতিল করা এখন সময়ের অপরিহার্য দাবি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
নোটিশে আগামী ৯০ দিনের মধ্যে সংবিধান সংশোধন ও জাতীয় গণভোটের মাধ্যমে এই দুটি শব্দ সম্পূর্ণ অপসারণের জন্য প্রয়োজনীয় আইনি ও সাংবিধানিক পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে। তা না হলে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে জনস্বার্থে রিট পিটিশন দায়ের করা হবে বলে নোটিশে জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত নোটিশ নিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
নিজস্ব প্রতিবেদক 











