নাগোয়ার আকাশে ছিল মিষ্টি রোদ। করোগি অ্যাথলেটিক পার্কের গ্যালারির বড় অংশজুড়ে ছিলেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। লিটন কুমার দাস ও মোস্তাফিজুর রহমানদের পাশে দাঁড়াতে ‘বাংলাদেশ, বাংলাদেশ’ স্লোগানে মুখর ছিল পুরো মাঠ। কিন্তু বাইশ গজের লড়াইয়ে সেই উচ্ছ্বাসকে জয়ের রঙে রাঙাতে পারেনি টাইগাররা।
বৃহস্পতিবার এশিয়ান গেমস ক্রিকেটের প্রথম সেমিফাইনালে পাকিস্তানের কাছে ৬ উইকেটে হেরে ফাইনালের টিকিট হাতছাড়া হয়েছে বাংলাদেশের। আগামীকাল ব্রোঞ্জ পদকের ম্যাচে দলটির প্রতিপক্ষ হবে ভারত অথবা শ্রীলঙ্কা।
ভেজা আউটফিল্ডের কারণে নির্ধারিত সময়ের সোয়া এক ঘণ্টা পর শুরু হয় খেলা। ওভার কমে দাঁড়ায় ১৩-তে। টস জিতে ফিল্ডিং বেছে নেয় পাকিস্তান। শুরুতেই তানজিদ হাসান তামিম ফেরেন সাহিবজাদা ফারহানের হাতে ধরা পড়ে। এরপর সাইম আইয়ুবের বলে রিভার্স সুইপ খেলতে গিয়ে বোল্ড হন অধিনায়ক লিটন। পারভেজ হোসেন ইমনও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। ২০ রানে ২ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। স্পিনে সহায়তা পাওয়া উইকেটে হিসাব কষে খেলার প্রয়োজন ছিল। কিন্তু শুরু থেকেই আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের পথে হাঁটেন ব্যাটাররা। পাওয়ার প্লে শেষে স্কোর দাঁড়ায় ৩ উইকেটে ২৭ রান।
ইনিংসের হাল ধরেন তাওহিদ হৃদয়। মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতকে নিয়ে পঞ্চম উইকেটে ৫২ রান যোগ করেন তিনি। ২৫ বলে ৪২ রানের ইনিংসে ছিল ২টি চার ও ৪টি ছক্কা। সৈকত ১৬ বলে করেন ১১। শেষ পর্যন্ত ১৩ ওভারে ৭ উইকেটে ১১১ রান তোলে বাংলাদেশ।
বল হাতে শুরুটা ভালোই ছিল। সাহিবজাদা ফারহানকে ফেরান শেখ মেহেদী, আর ৭ বলে ১৫ রান করা মাজ সাদাকাতকে সাজঘরের পথ দেখান নাসুম আহমেদ। পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে মোস্তাফিজের বলে দুটি ছক্কা ও একটি বাউন্ডারি হাঁকান সাইম আইয়ুব। ওই ওভারের শেষ বলে তানজিদের হাতে ধরা পড়ার আগে তিনি ১২ বলে করেন ২১ রান। ওভারটিতে মোস্তাফিজ দেন ১৮ রান।
৫৩ রানে ৪ উইকেট হারানো পাকিস্তান তখনো চাপে। কিন্তু পঞ্চম উইকেটে হাসান নওয়াজ ও আবদুস সামাদের মারমুখী ব্যাটিংয়ে ম্যাচের গতিপথ বদলে যায়। দশম ওভারে মোস্তাফিজের বলে আসে ২৩ রান। দুই ওভারে ৪১ রান দিয়ে নেন ১ উইকেট। ৯ বল হাতে রেখে জয় নিশ্চিত করে পাকিস্তান। সামাদ ৩০ ও নওয়াজ ২৭ রানে অপরাজিত থাকেন। বাংলাদেশের হয়ে শেখ মেহেদী, নাসুম, রিশাদ ও মোস্তাফিজ একটি করে উইকেট নেন।
ক্রীড়া ডেস্ক : 
















