ঢাকা ০৭:৪৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬, ২৭ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জ্বালানির ভর্তুকির বাইরেও লাগবে ৩৬ হাজার কোটি টাকা : অর্থমন্ত্রী

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যুদ্ধের প্রভাবে সরকারকে চলতি অর্থবছরের মার্চ-জুন সময়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি, এলএনজিতে নির্ধারিত ভর্তুকির অতিরিক্ত আরও প্রায় ৩৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করতে হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, ‘এটি একদিকে যেমন সরকারের বাজেট ঘাটতি বাড়াবে, অন্যদিকে সমপরিমাণ প্রায় ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের আমদানি মূল্য পরিশোধে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভেও প্রভাব ফেলবে।’

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১৩তম দিনে আজ শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সকালে অর্থমন্ত্রী এ তথ্য জানান।

আমীর খসরু বলেন, আমরা দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ১০ দিনের মাথায় মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু হয়েছে। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার, সরবরাহ শৃঙ্খল এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। জ্বালানি তেল ও এলএনজির মূল্য আন্তর্জাতিক বাজের দ্বিগুণের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।

এই অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত অফিস আদালত ৫টার পরিবর্তে ৪ বন্ধ করা; দিনের আলো ব্যবহার করে বৈদ্যুতিক লাইট ব্যবহার কমানো ও এসির তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ; মার্কেট-শপিং মল সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে বন্ধ করা; বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহ করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা; ভর্তুকির অর্থ যথাসময়ে ছাড়ের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে জ্বালানি কেনা ও সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং বাজেটে অতিরিক্ত আর্থিক চাপ ও ব্যালেন্স অব পেমেন্টে বৈদেশিক মুদ্রার চাপ সহনীয় রাখতে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছে অতিরিক্ত বাজেট সহায়তা প্রাপ্তির উদ্যোগ নেওয়া।

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, “একটি আমদানিনির্ভর অর্থনীতি হিসেবে বাংলাদেশ এই ভূরাজনৈতিক বাস্তবতার বাইরে নয়। বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানির উচ্চমূল্যের কারণে সরকারের অতিরিক্ত ভর্তুকি দেওয়ার প্রয়োজন হলেও জনগণের কষ্টের কথা মাথায় রেখে সরকার আপাতত মূল্য সমন্বয় না করে পূর্বের মূল্যই বহাল রেখেছে। এই প্রতিকূল বৈশ্বিক পরিবেশের মধ্যেই আমাদের অর্থনীতিকে সামনে এগিয়ে নিতে হবে এবং আমরা সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত।”

আর্থিক খাতের সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফেরানো এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আইনি কাঠামো শক্তিশালী করার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। খেলাপি ঋণ কমানো এবং বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মূলধন ঘাটতি পূরণে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পুঁজিবাজারের উন্নয়ন ও বিনিয়োগে বৈচিত্র্য আনতে করপোরেট বন্ড, সুকুক এবং গ্রিন বন্ড চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের।

সামাজিক সুরক্ষার বিষয়ে খসরু বলেন, ৫০ লাখ ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ শুরু হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে সব পরিবারকে এর আওতায় আনা হবে। প্রকৃত কৃষক ও খামারিদের জন্য কৃষক কার্ড চালু এবং ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছে। এছাড়া আইসিটি সম্প্রসারণের মাধ্যমে এক কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ ব্র্যান্ডকে শক্তিশালী করার কাজ চলছে।

অর্থমন্ত্রী জানান, সরকার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট প্রণয়নের কাজ শুরু করেছে, যেখানে বিভিন্ন খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। তিনি আত্মবিশ্বাস ব্যক্ত করেন যে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বে এবং সরকারের কৌশলগত পরিকল্পনার মাধ্যমে জনগণের উচ্চ প্রত্যাশা পূরণ করা সম্ভব হবে।

ট্যাগস

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

জনপ্রিয় সংবাদ

দক্ষিণ আফ্রিকায় রাণীশংকৈলের তরুণকে গুলি করে হত্যা

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

জ্বালানির ভর্তুকির বাইরেও লাগবে ৩৬ হাজার কোটি টাকা : অর্থমন্ত্রী

আপডেট সময় ০৬:০০:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যুদ্ধের প্রভাবে সরকারকে চলতি অর্থবছরের মার্চ-জুন সময়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি, এলএনজিতে নির্ধারিত ভর্তুকির অতিরিক্ত আরও প্রায় ৩৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করতে হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, ‘এটি একদিকে যেমন সরকারের বাজেট ঘাটতি বাড়াবে, অন্যদিকে সমপরিমাণ প্রায় ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের আমদানি মূল্য পরিশোধে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভেও প্রভাব ফেলবে।’

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১৩তম দিনে আজ শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সকালে অর্থমন্ত্রী এ তথ্য জানান।

আমীর খসরু বলেন, আমরা দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ১০ দিনের মাথায় মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু হয়েছে। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার, সরবরাহ শৃঙ্খল এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। জ্বালানি তেল ও এলএনজির মূল্য আন্তর্জাতিক বাজের দ্বিগুণের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।

এই অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত অফিস আদালত ৫টার পরিবর্তে ৪ বন্ধ করা; দিনের আলো ব্যবহার করে বৈদ্যুতিক লাইট ব্যবহার কমানো ও এসির তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ; মার্কেট-শপিং মল সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে বন্ধ করা; বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহ করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা; ভর্তুকির অর্থ যথাসময়ে ছাড়ের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে জ্বালানি কেনা ও সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং বাজেটে অতিরিক্ত আর্থিক চাপ ও ব্যালেন্স অব পেমেন্টে বৈদেশিক মুদ্রার চাপ সহনীয় রাখতে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছে অতিরিক্ত বাজেট সহায়তা প্রাপ্তির উদ্যোগ নেওয়া।

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, “একটি আমদানিনির্ভর অর্থনীতি হিসেবে বাংলাদেশ এই ভূরাজনৈতিক বাস্তবতার বাইরে নয়। বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানির উচ্চমূল্যের কারণে সরকারের অতিরিক্ত ভর্তুকি দেওয়ার প্রয়োজন হলেও জনগণের কষ্টের কথা মাথায় রেখে সরকার আপাতত মূল্য সমন্বয় না করে পূর্বের মূল্যই বহাল রেখেছে। এই প্রতিকূল বৈশ্বিক পরিবেশের মধ্যেই আমাদের অর্থনীতিকে সামনে এগিয়ে নিতে হবে এবং আমরা সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত।”

আর্থিক খাতের সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফেরানো এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আইনি কাঠামো শক্তিশালী করার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। খেলাপি ঋণ কমানো এবং বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মূলধন ঘাটতি পূরণে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পুঁজিবাজারের উন্নয়ন ও বিনিয়োগে বৈচিত্র্য আনতে করপোরেট বন্ড, সুকুক এবং গ্রিন বন্ড চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের।

সামাজিক সুরক্ষার বিষয়ে খসরু বলেন, ৫০ লাখ ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ শুরু হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে সব পরিবারকে এর আওতায় আনা হবে। প্রকৃত কৃষক ও খামারিদের জন্য কৃষক কার্ড চালু এবং ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছে। এছাড়া আইসিটি সম্প্রসারণের মাধ্যমে এক কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ ব্র্যান্ডকে শক্তিশালী করার কাজ চলছে।

অর্থমন্ত্রী জানান, সরকার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট প্রণয়নের কাজ শুরু করেছে, যেখানে বিভিন্ন খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। তিনি আত্মবিশ্বাস ব্যক্ত করেন যে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বে এবং সরকারের কৌশলগত পরিকল্পনার মাধ্যমে জনগণের উচ্চ প্রত্যাশা পূরণ করা সম্ভব হবে।