ইরানকে সাহায্য করায় ৩ ব্যক্তি ও ১১ কোম্পানির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা

যুদ্ধে ইরানকে সাহায্য করার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্য ও চীনের বিভিন্ন কোম্পানি ও ব্যক্তির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম সিএনবিসি।

শুক্রবার (৮ মে) দিনগত রাতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ইরান, চীন, বেলারুশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের ১১টি প্রতিষ্ঠান ও তিন ব্যক্তির ওপর এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এক বিবৃতিতে বলেন, নতুন এই পদক্ষেপের আওতায় রয়েছে চীন-ভিত্তিক বেশ কয়েকটি কোম্পানি, যারা মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনীর বিরুদ্ধে সামরিক হামলা চালাতে ইরানকে স্যাটেলাইট চিত্র সরবরাহ করছে।

রুবিও আরও বলেন, যারা ইরানের সামরিক বাহিনীকে অস্ত্রশস্ত্র দিয়েছে এবং দেশটিকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও মনুষ্যবিহীন আকাশযান (ইউএভি) তৈরিতে ব্যবহৃত উপাদান সরবরাহ করে, আমরা সেসব কোম্পানি ও ব্যক্তিদের চিহ্নিত করছি।

রুবিও শুক্রবার বলেন, যুদ্ধ শেষ করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া প্রস্তাবের বিষয়ে ইরানের কাছ থেকে একটি জবাব আশা করছে ট্রাম্প প্রশাসন।

ইরানের একজন কর্মকর্তা বৃহস্পতিবার জানান, তারা মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে পাওয়া বার্তাগুলো পর্যালোচনা করছে, কিন্তু এখনও কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি বা কোনো জবাবও দেয়নি।

অ্যাক্সিওস ও অন্যান্য সংবাদমাধ্যম চলতি সপ্তাহের শুরুতে জানিয়েছিল, যুদ্ধ শেষ করতে এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা পুনরায় শুরু করতে উভয় দেশ ১৪-দফার সমঝোতা স্মারকের কাছাকাছি পৌঁছেছে।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতি এখনও কার্যকর আছে কি না, তা নিয়ে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে, কারণ উভয় দেশের সশস্ত্র বাহিনী হরমুজ প্রণালিতে একে অপরের ওপর পাল্টাপাল্টি হামলা চালিয়েছে।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার জোর দিয়ে বলেছেন, যুদ্ধবিরতি এখনও কার্যকর রয়েছে। পরস্পরের ওপর চলা হামলাগুলো ‘শুধু একটি হালকা স্পর্শ’ বলে অভিহিত করেছেন তিনি।

ট্রাম্প আরও বলেন, ইরানিরা একটি চুক্তিতে আসতে খুবই আগ্রহী।

শুক্রবার রুবিও বলেন, আমরা গত রাতে একটি প্রতিবেদন দেখেছি, ইরান হরমুজ প্রণালিতে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেছে বা করার চেষ্টা করছে। এটি সমস্যা হয়ে দাঁড়াবে। এটি আসলে অগ্রহণযোগ্য।

সংকীর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে সাধারণত বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহণ করা হয়। এটি অবরুদ্ধ থাকায় বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট সৃষ্টি হয়েছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা এই পরিস্থিতিকে “ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জ্বালানি নিরাপত্তা হুমকি” বলে অভিহিত করেছে।

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

জনপ্রিয় সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিশ্চিত হলে, সবকিছু ইতিবাচক হবে: ভারতীয় হাইকমিশনার

২৯ জুলাই ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

ইরানকে সাহায্য করায় ৩ ব্যক্তি ও ১১ কোম্পানির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা

আপডেট সময় ০৮:০১:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬

যুদ্ধে ইরানকে সাহায্য করার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্য ও চীনের বিভিন্ন কোম্পানি ও ব্যক্তির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম সিএনবিসি।

শুক্রবার (৮ মে) দিনগত রাতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ইরান, চীন, বেলারুশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের ১১টি প্রতিষ্ঠান ও তিন ব্যক্তির ওপর এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এক বিবৃতিতে বলেন, নতুন এই পদক্ষেপের আওতায় রয়েছে চীন-ভিত্তিক বেশ কয়েকটি কোম্পানি, যারা মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনীর বিরুদ্ধে সামরিক হামলা চালাতে ইরানকে স্যাটেলাইট চিত্র সরবরাহ করছে।

রুবিও আরও বলেন, যারা ইরানের সামরিক বাহিনীকে অস্ত্রশস্ত্র দিয়েছে এবং দেশটিকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও মনুষ্যবিহীন আকাশযান (ইউএভি) তৈরিতে ব্যবহৃত উপাদান সরবরাহ করে, আমরা সেসব কোম্পানি ও ব্যক্তিদের চিহ্নিত করছি।

রুবিও শুক্রবার বলেন, যুদ্ধ শেষ করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া প্রস্তাবের বিষয়ে ইরানের কাছ থেকে একটি জবাব আশা করছে ট্রাম্প প্রশাসন।

ইরানের একজন কর্মকর্তা বৃহস্পতিবার জানান, তারা মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে পাওয়া বার্তাগুলো পর্যালোচনা করছে, কিন্তু এখনও কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি বা কোনো জবাবও দেয়নি।

অ্যাক্সিওস ও অন্যান্য সংবাদমাধ্যম চলতি সপ্তাহের শুরুতে জানিয়েছিল, যুদ্ধ শেষ করতে এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা পুনরায় শুরু করতে উভয় দেশ ১৪-দফার সমঝোতা স্মারকের কাছাকাছি পৌঁছেছে।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতি এখনও কার্যকর আছে কি না, তা নিয়ে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে, কারণ উভয় দেশের সশস্ত্র বাহিনী হরমুজ প্রণালিতে একে অপরের ওপর পাল্টাপাল্টি হামলা চালিয়েছে।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার জোর দিয়ে বলেছেন, যুদ্ধবিরতি এখনও কার্যকর রয়েছে। পরস্পরের ওপর চলা হামলাগুলো ‘শুধু একটি হালকা স্পর্শ’ বলে অভিহিত করেছেন তিনি।

ট্রাম্প আরও বলেন, ইরানিরা একটি চুক্তিতে আসতে খুবই আগ্রহী।

শুক্রবার রুবিও বলেন, আমরা গত রাতে একটি প্রতিবেদন দেখেছি, ইরান হরমুজ প্রণালিতে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেছে বা করার চেষ্টা করছে। এটি সমস্যা হয়ে দাঁড়াবে। এটি আসলে অগ্রহণযোগ্য।

সংকীর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে সাধারণত বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহণ করা হয়। এটি অবরুদ্ধ থাকায় বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট সৃষ্টি হয়েছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা এই পরিস্থিতিকে “ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জ্বালানি নিরাপত্তা হুমকি” বলে অভিহিত করেছে।

Share this news as a Photo Card