শিরোনাম :
‘বাংলা কিউআর’-এর ছোঁয়ায় বদলে যাচ্ছে ক্যাশলেস অর্থনীতির চিত্র এলপিজির দাম কমল ৩৫৭ টাকা,১২ কেজির নতুন দাম হয়েছে ১ হাজার ৫২৮ টাকা। নির্বাচনে শিক্ষকদের অংশগ্রহণে ‘চাকরি ছেড়ে ভোটে আসতে হবে’, আইন করার দাবি শিক্ষামন্ত্রীর নতুন দায়িত্বে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী : ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ পুনর্গঠন বাজেট ২০২৬-২৭: সংসদে সরব বিরোধী দল, তবে অর্থবিলে নেই কোনো সংশোধনী প্রস্তাব—কী বার্তা দিচ্ছে এই নীরবতা? সামনে নরওয়ে জুজু! যাদের বিপক্ষে কখনই জয় পায়নি ব্রাজিল:ভাঙবে কি ইতিহাস? বাংলাদেশে আর সন্ত্রাসবাদ নয় মেট্রোরেল–টার্মিনালসহ নানা ইস্যুতে জাপানের সঙ্গে ‘টানাপোড়েন’  সম্পর্ক ঠিক রাখতে চায় সরকার কেরানীগঞ্জে বিস্ফোরণ : নব্য জেএমবির পুনরুত্থান ও নিরাপত্তা ঝুঁকি জুলাই গণ-অভ্যুত্থান: ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হাসানুল হক ইনু

গল্প; তামাশা স্বরূপ

  • ধ্রুব এষ
  • আপডেট সময় ০৫:১৪:৫৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬
  • 63

দিব্যেন্দুর ছেলে হবে|
আমাকে বলল ছেলের একটা নাম দে তুই|
আমি বললাম, বালেন্দু রাখ|
দিব্যেন্দুর সেই ছেলের বয়স ১৭-১৮ হয়ে গেছে| ১৭-১৮ বছর ধরে দিব্যেন্দু আমার সঙ্গে কথা বলে না| দিব্যেন্দুর বউ বীথি কথা বলে না| ফেসবুকে মোবাইল ফোনে তারা আমাকে ব্লক করে রেখেছে| পুরনো কিছু গ্রুপ ছবি আছে আমাদের, তারা আমার ছবি কেটে পোস্ট দেয়| হাসতে হাসতে আমি মরে যাই|
তারা তাদের পুত্র সন্তানের নাম রেখেছে পূণ্যব্রত| ভালো নাম রেখেছে| পূণ্যব্রত ইনস্টিটিউট অব ফাইন আর্টসে পড়ে| বন্ধুরা ডাকে ব্রত| প্রীতিলতা একমাত্র ডাকে পূণ্য| প্রীতিলতা বিশেষ বন্ধু| প্রীতিলতার বাবা মানব, মা জননী শিশিরকণা| একটা মানুষের নাম ‘মানব’ কীভাবে হয়? জীবনানন্দ দাশ লিখে রেখে গেছেন—মানুষের মৃত্যু হলে তবু মানব থেকে যায়| সেই মানব? সেই মানব কী?
শিশিরকণার মোবাইল ফোন থেকে আমি বীথিকে কল দিয়েছিলাম একদিন| শিশিরকণার মোবাইল ফোনে ভয়েস চেঞ্জার অপশন আছে| সেটা ছিল গলায় সর্দি বসা এক অশীতিপর বুড়োর কন্ঠস্বর|
‘কে রে? বীথি?’
‘বলছি| আপনি কে বলছেন?’
‘আমি তোর কাকারে বেটি|’
‘কাকা?’
‘তোর বাপের আপন খুড়তুতো ভাই| ছাত্রনেতা টিটনের মাথা ফাটিয়ে জার্মানী পালিয়ে গিয়েছিলাম|’
‘বুড়ু কাকা! বুড়ু কাকা তুমি এখন কোথায়?’
‘ঢাকায় রে বেটি| আছি কয়েকদিন| সর্বময় তোর ফোন নাম্বার দিল|’
‘সর্বময় দা? তুমি কি তার ওখানে উঠেছো? টাউনে আসবে না? আমাকে দেখে যাবে না? তোমাকে আমি কতো খুঁজি জানো? তুমি সোশ্যাল মিডিয়ায় নাই|’
‘হে হে হে| না রে, আমি সোশ্যাল মিডিয়ায় নাই| সর্বময় বলল তোর একটাই ছেলে| তুই কেমন আছিস রে বেটি? দিব্যেন্দু আরেক বিয়ে করেছে শুনলাম| হাসননগরের সুর্পনখা সুজাতা মাস্টারনির মেয়ে গার্গীকে| সেই ঘরে নাকি দুই মেয়ে হয়েছে? ˆমত্রেয়ী আর আত্রেয়ী না কী নাম বলল?’
‘কে বলল? তুমি এসব কী বলো বুড়ু কাকা? ছিঃ| কে এসব কথা তোমাকে বলল? সর্বময়দা নিশ্চয় বলে নাই| মৌমিতা বৌদিও নিশ্চয় বলে নাই| এসব বাজে কথা বুড়ু কাকা|’
‘বিজন দেখা করে গেছে সকালে|’
‘ও বিজন! বুঝেছি বিজন! এর কথা আর কী বলব বুড়ু কাকা? এর তো ছোট থেকেই মাথায় দোষ জানো না? কিছু পারে না, কবি হয়েছে| উদ্ধার করেছে! নিজে তো একটা বিয়েও করতে পারে নাই|’
‘বাদ দে তো| পাগল ছেলে| তোর ছোটটার কি বিয়ে হয়ে গেছে? মিতির? বিজনের সাথে তার একবার বিয়ের কথা উঠেছিল|’
‘তুমি! বুড়ু কাকা! মিতির বিয়ে তের বছর আগে হয়েছে| মিতি এখন থাকে কানাডায়| মিতির হাসব্যান্ড সঞ্জয় ঘটি জানো? তাদের দুই মেয়ে দুর্বা পুর্বা| কী মিষ্টি হয়েছে দেখতে! তুমি ফেসবুকে থাকলে দেখতে| দুর্বা পুর্বা বলে তারা ঘংগাল| ঘটি আর বাংগাল মিলিয়ে ঘংগাল| হে হে হে|’
‘হে হে হে| ঘংগাল| হে হে|’
‘তুমি কবে আসবে বলো এখন|’
‘আসবো না রে|’
‘কী? আমাকে না দেখে চলে যাবে তুমি? বুড়ু কাকা!’
‘তোর ছেলে ঘুর্ণাবর্তর সাথে দেখা হয়েছে|’
‘উফরে বুড়ু মামা! ঘুর্ণাবর্ত কে তোমাকে বলল? বিজন শয়তানটা? দেখো এ কত বড় শয়তান! তুমি এর সাথে আর কথা বলো না বুড়ু কাকা| আমি আর দিব্যেন্দু তো ওকে সবখানে ব্লক করে রেখেছি| সাধে মনে করো? ও একটা জাত অসভ্য! আচ্ছা, ঘুর্ণাবর্ত না আমার ছেলের নাম পূণ্যব্রত|’
‘পূণ্যব্রত| বাহ! বিজন কী নাম রাখতে বলেছিলরে?’
‘উফ! সেটাও সে তোমাকে বলেছে! কত বড় ইতর, কত বড় অসভ্য একবার ভাবো? তুমি বুড়ু কাকা আর এই ইতরের সাথে কথা বলো না|’
‘আমি তোমার বুড়ুকাকা নহি, বালিকা|’
‘কী-ই-ই-ই? কে আপনি?’
‘বীথিরে বীথিরে/তুই যদি দিতিরে|’ বলে আমি ফোনের লাইন কেটে দিলাম| বীথি বুঝে যাবে কল করেছিল কে| তবে কলব্যাক করবে ভাবি নাই| কলব্যাক করল| শিশিরকণা ধরল, ‘বলেন, বেয়াইন|’
‘বেয়াইন! বেয়াইন মানে?’
‘সেটা তো আমারও প্রশ্ন| ট্রু কলারে আপনার নাম উঠেছে বেয়াইন| বি এ ওয়াই এ আই অ্যান| আমি কী করতে পারি বলেন?’
‘চুপ করেন, আমি বীথি|’
‘ভীতি? কীসের? আপনি কীসের ভয় পাচ্ছেন বলেন তো? আপনি কি একা বাসায়? আপনার লোকেশন বলেন|’
‘যন্ত্রণা তো! এই নাম্বার থেকে একটু আগে একজন আমাকে কল দিয়েছিল|’
‘এই নাম্বার থেকে? এটা তো আমার নাম্বার| আমার নাম শিশিরকণা| এই নাম্বার থেকে কে কল দেবে আপনাকে? বুঝতে পারলাম না| একটু আগে কল দিয়েছিল বলছেন| কতক্ষণ আগে? আমি তো এতক্ষণ আমার শাশুড়ির সাথে কথা বলছিলাম| মাত্র রেখেছি, আপনি কল দিলেন|’
‘এই নাম্বার থেকে বিজন কল দেয় নাই?’
‘বিজন!’
‘আচ্ছা, আপনার লোকেশন বলবেন?’
‘নিকেতন, ঢাকা| আপনি বীথি কোত্থেকে বলছেন?’
আমাদের টাউনের নাম বলে নাই, বীথি অফ হয়ে গিয়েছিল| হাসতে হাসতে আমি মরে যাই|
ছয় বছর পর বীথি আবার কল দেবে শিশিরকণাকে, ‘বেয়াইন বলেন|’—আমি ভবিষ্যৎ বাণী দিয়ে রাখলাম| মানব আমার কথা অর্ধেক বিশ্বাস করল| শিশিরকণা অর্ধেক বিশ্বাস করল| বলি না আমি ক্লেয়ার ভয়েন্ট| কিন্তু ভাবিষ্যৎ রহস্যময়| তদ্রুপ ভবিষ্যৎবাণীও| এটা একটা বিরাট রহস্য নিশ্চয় কার কোন ভবিষ্যৎবাণী বা কথা কখন লেগে যায়|
মানব ও শিশিরকণার মেয়ের নাম প্রীতিলতা আমি রেখেছি| দিব্যেন্দু বা বীথি কোনোদিনই কোনো অভিধান খুলে দেখে নাই| অভিধানের বালাই তাদের নাই| তাও রাজশেখর বসু সংকলিত ‘চলন্তিকা : আধুনিক বঙ্গভাষার অভিধান’ যদি তারা দেখত? চলন্তিকা অভিধানের ৫০৪ পৃষ্ঠায় বালেন্দু শব্দের অর্থ দেওয়া আছে, অমাবস্যার পরে দৃষ্ট নব চন্দ্রকলা| সুন্দর অর্থ| তাও বিবেচনার দাবি রাখে আমি তখন সিরিয়াস ছিলাম কি না বা আমি কোনদিন সিরিয়াস ছিলাম? মজা করতে গিয়ে মাঝখান থেকে ১৭-১৮ বছর গায়েব হয়ে গেল| এখন ভরসা আমার ভবিষ্যৎ বাণী| যদি মিলে যায় যা হতে পারে নিশ্চয় সেটা হবে মধুরেণ সমাপয়েৎ|

Share this news as a Photo Card

ট্যাগস

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

জনপ্রিয় সংবাদ

‘বাংলা কিউআর’-এর ছোঁয়ায় বদলে যাচ্ছে ক্যাশলেস অর্থনীতির চিত্র

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান: ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হাসানুল হক ইনু

৩০ জুন ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

গল্প; তামাশা স্বরূপ

আপডেট সময় ০৫:১৪:৫৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬

দিব্যেন্দুর ছেলে হবে|
আমাকে বলল ছেলের একটা নাম দে তুই|
আমি বললাম, বালেন্দু রাখ|
দিব্যেন্দুর সেই ছেলের বয়স ১৭-১৮ হয়ে গেছে| ১৭-১৮ বছর ধরে দিব্যেন্দু আমার সঙ্গে কথা বলে না| দিব্যেন্দুর বউ বীথি কথা বলে না| ফেসবুকে মোবাইল ফোনে তারা আমাকে ব্লক করে রেখেছে| পুরনো কিছু গ্রুপ ছবি আছে আমাদের, তারা আমার ছবি কেটে পোস্ট দেয়| হাসতে হাসতে আমি মরে যাই|
তারা তাদের পুত্র সন্তানের নাম রেখেছে পূণ্যব্রত| ভালো নাম রেখেছে| পূণ্যব্রত ইনস্টিটিউট অব ফাইন আর্টসে পড়ে| বন্ধুরা ডাকে ব্রত| প্রীতিলতা একমাত্র ডাকে পূণ্য| প্রীতিলতা বিশেষ বন্ধু| প্রীতিলতার বাবা মানব, মা জননী শিশিরকণা| একটা মানুষের নাম ‘মানব’ কীভাবে হয়? জীবনানন্দ দাশ লিখে রেখে গেছেন—মানুষের মৃত্যু হলে তবু মানব থেকে যায়| সেই মানব? সেই মানব কী?
শিশিরকণার মোবাইল ফোন থেকে আমি বীথিকে কল দিয়েছিলাম একদিন| শিশিরকণার মোবাইল ফোনে ভয়েস চেঞ্জার অপশন আছে| সেটা ছিল গলায় সর্দি বসা এক অশীতিপর বুড়োর কন্ঠস্বর|
‘কে রে? বীথি?’
‘বলছি| আপনি কে বলছেন?’
‘আমি তোর কাকারে বেটি|’
‘কাকা?’
‘তোর বাপের আপন খুড়তুতো ভাই| ছাত্রনেতা টিটনের মাথা ফাটিয়ে জার্মানী পালিয়ে গিয়েছিলাম|’
‘বুড়ু কাকা! বুড়ু কাকা তুমি এখন কোথায়?’
‘ঢাকায় রে বেটি| আছি কয়েকদিন| সর্বময় তোর ফোন নাম্বার দিল|’
‘সর্বময় দা? তুমি কি তার ওখানে উঠেছো? টাউনে আসবে না? আমাকে দেখে যাবে না? তোমাকে আমি কতো খুঁজি জানো? তুমি সোশ্যাল মিডিয়ায় নাই|’
‘হে হে হে| না রে, আমি সোশ্যাল মিডিয়ায় নাই| সর্বময় বলল তোর একটাই ছেলে| তুই কেমন আছিস রে বেটি? দিব্যেন্দু আরেক বিয়ে করেছে শুনলাম| হাসননগরের সুর্পনখা সুজাতা মাস্টারনির মেয়ে গার্গীকে| সেই ঘরে নাকি দুই মেয়ে হয়েছে? ˆমত্রেয়ী আর আত্রেয়ী না কী নাম বলল?’
‘কে বলল? তুমি এসব কী বলো বুড়ু কাকা? ছিঃ| কে এসব কথা তোমাকে বলল? সর্বময়দা নিশ্চয় বলে নাই| মৌমিতা বৌদিও নিশ্চয় বলে নাই| এসব বাজে কথা বুড়ু কাকা|’
‘বিজন দেখা করে গেছে সকালে|’
‘ও বিজন! বুঝেছি বিজন! এর কথা আর কী বলব বুড়ু কাকা? এর তো ছোট থেকেই মাথায় দোষ জানো না? কিছু পারে না, কবি হয়েছে| উদ্ধার করেছে! নিজে তো একটা বিয়েও করতে পারে নাই|’
‘বাদ দে তো| পাগল ছেলে| তোর ছোটটার কি বিয়ে হয়ে গেছে? মিতির? বিজনের সাথে তার একবার বিয়ের কথা উঠেছিল|’
‘তুমি! বুড়ু কাকা! মিতির বিয়ে তের বছর আগে হয়েছে| মিতি এখন থাকে কানাডায়| মিতির হাসব্যান্ড সঞ্জয় ঘটি জানো? তাদের দুই মেয়ে দুর্বা পুর্বা| কী মিষ্টি হয়েছে দেখতে! তুমি ফেসবুকে থাকলে দেখতে| দুর্বা পুর্বা বলে তারা ঘংগাল| ঘটি আর বাংগাল মিলিয়ে ঘংগাল| হে হে হে|’
‘হে হে হে| ঘংগাল| হে হে|’
‘তুমি কবে আসবে বলো এখন|’
‘আসবো না রে|’
‘কী? আমাকে না দেখে চলে যাবে তুমি? বুড়ু কাকা!’
‘তোর ছেলে ঘুর্ণাবর্তর সাথে দেখা হয়েছে|’
‘উফরে বুড়ু মামা! ঘুর্ণাবর্ত কে তোমাকে বলল? বিজন শয়তানটা? দেখো এ কত বড় শয়তান! তুমি এর সাথে আর কথা বলো না বুড়ু কাকা| আমি আর দিব্যেন্দু তো ওকে সবখানে ব্লক করে রেখেছি| সাধে মনে করো? ও একটা জাত অসভ্য! আচ্ছা, ঘুর্ণাবর্ত না আমার ছেলের নাম পূণ্যব্রত|’
‘পূণ্যব্রত| বাহ! বিজন কী নাম রাখতে বলেছিলরে?’
‘উফ! সেটাও সে তোমাকে বলেছে! কত বড় ইতর, কত বড় অসভ্য একবার ভাবো? তুমি বুড়ু কাকা আর এই ইতরের সাথে কথা বলো না|’
‘আমি তোমার বুড়ুকাকা নহি, বালিকা|’
‘কী-ই-ই-ই? কে আপনি?’
‘বীথিরে বীথিরে/তুই যদি দিতিরে|’ বলে আমি ফোনের লাইন কেটে দিলাম| বীথি বুঝে যাবে কল করেছিল কে| তবে কলব্যাক করবে ভাবি নাই| কলব্যাক করল| শিশিরকণা ধরল, ‘বলেন, বেয়াইন|’
‘বেয়াইন! বেয়াইন মানে?’
‘সেটা তো আমারও প্রশ্ন| ট্রু কলারে আপনার নাম উঠেছে বেয়াইন| বি এ ওয়াই এ আই অ্যান| আমি কী করতে পারি বলেন?’
‘চুপ করেন, আমি বীথি|’
‘ভীতি? কীসের? আপনি কীসের ভয় পাচ্ছেন বলেন তো? আপনি কি একা বাসায়? আপনার লোকেশন বলেন|’
‘যন্ত্রণা তো! এই নাম্বার থেকে একটু আগে একজন আমাকে কল দিয়েছিল|’
‘এই নাম্বার থেকে? এটা তো আমার নাম্বার| আমার নাম শিশিরকণা| এই নাম্বার থেকে কে কল দেবে আপনাকে? বুঝতে পারলাম না| একটু আগে কল দিয়েছিল বলছেন| কতক্ষণ আগে? আমি তো এতক্ষণ আমার শাশুড়ির সাথে কথা বলছিলাম| মাত্র রেখেছি, আপনি কল দিলেন|’
‘এই নাম্বার থেকে বিজন কল দেয় নাই?’
‘বিজন!’
‘আচ্ছা, আপনার লোকেশন বলবেন?’
‘নিকেতন, ঢাকা| আপনি বীথি কোত্থেকে বলছেন?’
আমাদের টাউনের নাম বলে নাই, বীথি অফ হয়ে গিয়েছিল| হাসতে হাসতে আমি মরে যাই|
ছয় বছর পর বীথি আবার কল দেবে শিশিরকণাকে, ‘বেয়াইন বলেন|’—আমি ভবিষ্যৎ বাণী দিয়ে রাখলাম| মানব আমার কথা অর্ধেক বিশ্বাস করল| শিশিরকণা অর্ধেক বিশ্বাস করল| বলি না আমি ক্লেয়ার ভয়েন্ট| কিন্তু ভাবিষ্যৎ রহস্যময়| তদ্রুপ ভবিষ্যৎবাণীও| এটা একটা বিরাট রহস্য নিশ্চয় কার কোন ভবিষ্যৎবাণী বা কথা কখন লেগে যায়|
মানব ও শিশিরকণার মেয়ের নাম প্রীতিলতা আমি রেখেছি| দিব্যেন্দু বা বীথি কোনোদিনই কোনো অভিধান খুলে দেখে নাই| অভিধানের বালাই তাদের নাই| তাও রাজশেখর বসু সংকলিত ‘চলন্তিকা : আধুনিক বঙ্গভাষার অভিধান’ যদি তারা দেখত? চলন্তিকা অভিধানের ৫০৪ পৃষ্ঠায় বালেন্দু শব্দের অর্থ দেওয়া আছে, অমাবস্যার পরে দৃষ্ট নব চন্দ্রকলা| সুন্দর অর্থ| তাও বিবেচনার দাবি রাখে আমি তখন সিরিয়াস ছিলাম কি না বা আমি কোনদিন সিরিয়াস ছিলাম? মজা করতে গিয়ে মাঝখান থেকে ১৭-১৮ বছর গায়েব হয়ে গেল| এখন ভরসা আমার ভবিষ্যৎ বাণী| যদি মিলে যায় যা হতে পারে নিশ্চয় সেটা হবে মধুরেণ সমাপয়েৎ|

Share this news as a Photo Card