শিরোনাম :
সাইবার অপরাধ ঠেকাতে পুলিশে নতুন ইউনিট যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রাখবে ইরান : পেজেশকিয়ান কালিনিনগ্রাদ অবরোধের চেষ্টা হলে ন্যাটোকে পারমাণবিক হুঁশিয়ারি দিল রাশিয়া সংবিধান থেকে ‘সমাজতন্ত্র’ ও ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’ বাদ চেয়ে আইনি নোটিশ গুপ্তচরবৃত্তির মামলায় ভারতীয় নাগরিক রবিউলের সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর আবাসন প্রকল্পে হামলা:জামায়াত এমপির জামাতা মিজানুরসহ ৩ জন রিমান্ডে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলো ১৫০ বেডে উন্নীত করার ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর ফেনীর বন্যা ঠেকাতে ১৫৪২ কোটি টাকার প্রকল্পের উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি বিনিয়োগে বাধা কাটল সৌরবিদ্যুতের রূপপুরে আসছে পারমাণবিক জ্বালানির প্রথম চালান

গল্প; তামাশা স্বরূপ

  • ধ্রুব এষ
  • আপডেট সময় ০৫:১৪:৫৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬
  • 217

দিব্যেন্দুর ছেলে হবে|
আমাকে বলল ছেলের একটা নাম দে তুই|
আমি বললাম, বালেন্দু রাখ|
দিব্যেন্দুর সেই ছেলের বয়স ১৭-১৮ হয়ে গেছে| ১৭-১৮ বছর ধরে দিব্যেন্দু আমার সঙ্গে কথা বলে না| দিব্যেন্দুর বউ বীথি কথা বলে না| ফেসবুকে মোবাইল ফোনে তারা আমাকে ব্লক করে রেখেছে| পুরনো কিছু গ্রুপ ছবি আছে আমাদের, তারা আমার ছবি কেটে পোস্ট দেয়| হাসতে হাসতে আমি মরে যাই|
তারা তাদের পুত্র সন্তানের নাম রেখেছে পূণ্যব্রত| ভালো নাম রেখেছে| পূণ্যব্রত ইনস্টিটিউট অব ফাইন আর্টসে পড়ে| বন্ধুরা ডাকে ব্রত| প্রীতিলতা একমাত্র ডাকে পূণ্য| প্রীতিলতা বিশেষ বন্ধু| প্রীতিলতার বাবা মানব, মা জননী শিশিরকণা| একটা মানুষের নাম ‘মানব’ কীভাবে হয়? জীবনানন্দ দাশ লিখে রেখে গেছেন—মানুষের মৃত্যু হলে তবু মানব থেকে যায়| সেই মানব? সেই মানব কী?
শিশিরকণার মোবাইল ফোন থেকে আমি বীথিকে কল দিয়েছিলাম একদিন| শিশিরকণার মোবাইল ফোনে ভয়েস চেঞ্জার অপশন আছে| সেটা ছিল গলায় সর্দি বসা এক অশীতিপর বুড়োর কন্ঠস্বর|
‘কে রে? বীথি?’
‘বলছি| আপনি কে বলছেন?’
‘আমি তোর কাকারে বেটি|’
‘কাকা?’
‘তোর বাপের আপন খুড়তুতো ভাই| ছাত্রনেতা টিটনের মাথা ফাটিয়ে জার্মানী পালিয়ে গিয়েছিলাম|’
‘বুড়ু কাকা! বুড়ু কাকা তুমি এখন কোথায়?’
‘ঢাকায় রে বেটি| আছি কয়েকদিন| সর্বময় তোর ফোন নাম্বার দিল|’
‘সর্বময় দা? তুমি কি তার ওখানে উঠেছো? টাউনে আসবে না? আমাকে দেখে যাবে না? তোমাকে আমি কতো খুঁজি জানো? তুমি সোশ্যাল মিডিয়ায় নাই|’
‘হে হে হে| না রে, আমি সোশ্যাল মিডিয়ায় নাই| সর্বময় বলল তোর একটাই ছেলে| তুই কেমন আছিস রে বেটি? দিব্যেন্দু আরেক বিয়ে করেছে শুনলাম| হাসননগরের সুর্পনখা সুজাতা মাস্টারনির মেয়ে গার্গীকে| সেই ঘরে নাকি দুই মেয়ে হয়েছে? ˆমত্রেয়ী আর আত্রেয়ী না কী নাম বলল?’
‘কে বলল? তুমি এসব কী বলো বুড়ু কাকা? ছিঃ| কে এসব কথা তোমাকে বলল? সর্বময়দা নিশ্চয় বলে নাই| মৌমিতা বৌদিও নিশ্চয় বলে নাই| এসব বাজে কথা বুড়ু কাকা|’
‘বিজন দেখা করে গেছে সকালে|’
‘ও বিজন! বুঝেছি বিজন! এর কথা আর কী বলব বুড়ু কাকা? এর তো ছোট থেকেই মাথায় দোষ জানো না? কিছু পারে না, কবি হয়েছে| উদ্ধার করেছে! নিজে তো একটা বিয়েও করতে পারে নাই|’
‘বাদ দে তো| পাগল ছেলে| তোর ছোটটার কি বিয়ে হয়ে গেছে? মিতির? বিজনের সাথে তার একবার বিয়ের কথা উঠেছিল|’
‘তুমি! বুড়ু কাকা! মিতির বিয়ে তের বছর আগে হয়েছে| মিতি এখন থাকে কানাডায়| মিতির হাসব্যান্ড সঞ্জয় ঘটি জানো? তাদের দুই মেয়ে দুর্বা পুর্বা| কী মিষ্টি হয়েছে দেখতে! তুমি ফেসবুকে থাকলে দেখতে| দুর্বা পুর্বা বলে তারা ঘংগাল| ঘটি আর বাংগাল মিলিয়ে ঘংগাল| হে হে হে|’
‘হে হে হে| ঘংগাল| হে হে|’
‘তুমি কবে আসবে বলো এখন|’
‘আসবো না রে|’
‘কী? আমাকে না দেখে চলে যাবে তুমি? বুড়ু কাকা!’
‘তোর ছেলে ঘুর্ণাবর্তর সাথে দেখা হয়েছে|’
‘উফরে বুড়ু মামা! ঘুর্ণাবর্ত কে তোমাকে বলল? বিজন শয়তানটা? দেখো এ কত বড় শয়তান! তুমি এর সাথে আর কথা বলো না বুড়ু কাকা| আমি আর দিব্যেন্দু তো ওকে সবখানে ব্লক করে রেখেছি| সাধে মনে করো? ও একটা জাত অসভ্য! আচ্ছা, ঘুর্ণাবর্ত না আমার ছেলের নাম পূণ্যব্রত|’
‘পূণ্যব্রত| বাহ! বিজন কী নাম রাখতে বলেছিলরে?’
‘উফ! সেটাও সে তোমাকে বলেছে! কত বড় ইতর, কত বড় অসভ্য একবার ভাবো? তুমি বুড়ু কাকা আর এই ইতরের সাথে কথা বলো না|’
‘আমি তোমার বুড়ুকাকা নহি, বালিকা|’
‘কী-ই-ই-ই? কে আপনি?’
‘বীথিরে বীথিরে/তুই যদি দিতিরে|’ বলে আমি ফোনের লাইন কেটে দিলাম| বীথি বুঝে যাবে কল করেছিল কে| তবে কলব্যাক করবে ভাবি নাই| কলব্যাক করল| শিশিরকণা ধরল, ‘বলেন, বেয়াইন|’
‘বেয়াইন! বেয়াইন মানে?’
‘সেটা তো আমারও প্রশ্ন| ট্রু কলারে আপনার নাম উঠেছে বেয়াইন| বি এ ওয়াই এ আই অ্যান| আমি কী করতে পারি বলেন?’
‘চুপ করেন, আমি বীথি|’
‘ভীতি? কীসের? আপনি কীসের ভয় পাচ্ছেন বলেন তো? আপনি কি একা বাসায়? আপনার লোকেশন বলেন|’
‘যন্ত্রণা তো! এই নাম্বার থেকে একটু আগে একজন আমাকে কল দিয়েছিল|’
‘এই নাম্বার থেকে? এটা তো আমার নাম্বার| আমার নাম শিশিরকণা| এই নাম্বার থেকে কে কল দেবে আপনাকে? বুঝতে পারলাম না| একটু আগে কল দিয়েছিল বলছেন| কতক্ষণ আগে? আমি তো এতক্ষণ আমার শাশুড়ির সাথে কথা বলছিলাম| মাত্র রেখেছি, আপনি কল দিলেন|’
‘এই নাম্বার থেকে বিজন কল দেয় নাই?’
‘বিজন!’
‘আচ্ছা, আপনার লোকেশন বলবেন?’
‘নিকেতন, ঢাকা| আপনি বীথি কোত্থেকে বলছেন?’
আমাদের টাউনের নাম বলে নাই, বীথি অফ হয়ে গিয়েছিল| হাসতে হাসতে আমি মরে যাই|
ছয় বছর পর বীথি আবার কল দেবে শিশিরকণাকে, ‘বেয়াইন বলেন|’—আমি ভবিষ্যৎ বাণী দিয়ে রাখলাম| মানব আমার কথা অর্ধেক বিশ্বাস করল| শিশিরকণা অর্ধেক বিশ্বাস করল| বলি না আমি ক্লেয়ার ভয়েন্ট| কিন্তু ভাবিষ্যৎ রহস্যময়| তদ্রুপ ভবিষ্যৎবাণীও| এটা একটা বিরাট রহস্য নিশ্চয় কার কোন ভবিষ্যৎবাণী বা কথা কখন লেগে যায়|
মানব ও শিশিরকণার মেয়ের নাম প্রীতিলতা আমি রেখেছি| দিব্যেন্দু বা বীথি কোনোদিনই কোনো অভিধান খুলে দেখে নাই| অভিধানের বালাই তাদের নাই| তাও রাজশেখর বসু সংকলিত ‘চলন্তিকা : আধুনিক বঙ্গভাষার অভিধান’ যদি তারা দেখত? চলন্তিকা অভিধানের ৫০৪ পৃষ্ঠায় বালেন্দু শব্দের অর্থ দেওয়া আছে, অমাবস্যার পরে দৃষ্ট নব চন্দ্রকলা| সুন্দর অর্থ| তাও বিবেচনার দাবি রাখে আমি তখন সিরিয়াস ছিলাম কি না বা আমি কোনদিন সিরিয়াস ছিলাম? মজা করতে গিয়ে মাঝখান থেকে ১৭-১৮ বছর গায়েব হয়ে গেল| এখন ভরসা আমার ভবিষ্যৎ বাণী| যদি মিলে যায় যা হতে পারে নিশ্চয় সেটা হবে মধুরেণ সমাপয়েৎ|

Share this news as a Photo Card

ট্যাগস

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

জনপ্রিয় সংবাদ

সাইবার অপরাধ ঠেকাতে পুলিশে নতুন ইউনিট

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

রূপপুরে আসছে পারমাণবিক জ্বালানির প্রথম চালান

০১ অক্টোবর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

গল্প; তামাশা স্বরূপ

আপডেট সময় ০৫:১৪:৫৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬

দিব্যেন্দুর ছেলে হবে|
আমাকে বলল ছেলের একটা নাম দে তুই|
আমি বললাম, বালেন্দু রাখ|
দিব্যেন্দুর সেই ছেলের বয়স ১৭-১৮ হয়ে গেছে| ১৭-১৮ বছর ধরে দিব্যেন্দু আমার সঙ্গে কথা বলে না| দিব্যেন্দুর বউ বীথি কথা বলে না| ফেসবুকে মোবাইল ফোনে তারা আমাকে ব্লক করে রেখেছে| পুরনো কিছু গ্রুপ ছবি আছে আমাদের, তারা আমার ছবি কেটে পোস্ট দেয়| হাসতে হাসতে আমি মরে যাই|
তারা তাদের পুত্র সন্তানের নাম রেখেছে পূণ্যব্রত| ভালো নাম রেখেছে| পূণ্যব্রত ইনস্টিটিউট অব ফাইন আর্টসে পড়ে| বন্ধুরা ডাকে ব্রত| প্রীতিলতা একমাত্র ডাকে পূণ্য| প্রীতিলতা বিশেষ বন্ধু| প্রীতিলতার বাবা মানব, মা জননী শিশিরকণা| একটা মানুষের নাম ‘মানব’ কীভাবে হয়? জীবনানন্দ দাশ লিখে রেখে গেছেন—মানুষের মৃত্যু হলে তবু মানব থেকে যায়| সেই মানব? সেই মানব কী?
শিশিরকণার মোবাইল ফোন থেকে আমি বীথিকে কল দিয়েছিলাম একদিন| শিশিরকণার মোবাইল ফোনে ভয়েস চেঞ্জার অপশন আছে| সেটা ছিল গলায় সর্দি বসা এক অশীতিপর বুড়োর কন্ঠস্বর|
‘কে রে? বীথি?’
‘বলছি| আপনি কে বলছেন?’
‘আমি তোর কাকারে বেটি|’
‘কাকা?’
‘তোর বাপের আপন খুড়তুতো ভাই| ছাত্রনেতা টিটনের মাথা ফাটিয়ে জার্মানী পালিয়ে গিয়েছিলাম|’
‘বুড়ু কাকা! বুড়ু কাকা তুমি এখন কোথায়?’
‘ঢাকায় রে বেটি| আছি কয়েকদিন| সর্বময় তোর ফোন নাম্বার দিল|’
‘সর্বময় দা? তুমি কি তার ওখানে উঠেছো? টাউনে আসবে না? আমাকে দেখে যাবে না? তোমাকে আমি কতো খুঁজি জানো? তুমি সোশ্যাল মিডিয়ায় নাই|’
‘হে হে হে| না রে, আমি সোশ্যাল মিডিয়ায় নাই| সর্বময় বলল তোর একটাই ছেলে| তুই কেমন আছিস রে বেটি? দিব্যেন্দু আরেক বিয়ে করেছে শুনলাম| হাসননগরের সুর্পনখা সুজাতা মাস্টারনির মেয়ে গার্গীকে| সেই ঘরে নাকি দুই মেয়ে হয়েছে? ˆমত্রেয়ী আর আত্রেয়ী না কী নাম বলল?’
‘কে বলল? তুমি এসব কী বলো বুড়ু কাকা? ছিঃ| কে এসব কথা তোমাকে বলল? সর্বময়দা নিশ্চয় বলে নাই| মৌমিতা বৌদিও নিশ্চয় বলে নাই| এসব বাজে কথা বুড়ু কাকা|’
‘বিজন দেখা করে গেছে সকালে|’
‘ও বিজন! বুঝেছি বিজন! এর কথা আর কী বলব বুড়ু কাকা? এর তো ছোট থেকেই মাথায় দোষ জানো না? কিছু পারে না, কবি হয়েছে| উদ্ধার করেছে! নিজে তো একটা বিয়েও করতে পারে নাই|’
‘বাদ দে তো| পাগল ছেলে| তোর ছোটটার কি বিয়ে হয়ে গেছে? মিতির? বিজনের সাথে তার একবার বিয়ের কথা উঠেছিল|’
‘তুমি! বুড়ু কাকা! মিতির বিয়ে তের বছর আগে হয়েছে| মিতি এখন থাকে কানাডায়| মিতির হাসব্যান্ড সঞ্জয় ঘটি জানো? তাদের দুই মেয়ে দুর্বা পুর্বা| কী মিষ্টি হয়েছে দেখতে! তুমি ফেসবুকে থাকলে দেখতে| দুর্বা পুর্বা বলে তারা ঘংগাল| ঘটি আর বাংগাল মিলিয়ে ঘংগাল| হে হে হে|’
‘হে হে হে| ঘংগাল| হে হে|’
‘তুমি কবে আসবে বলো এখন|’
‘আসবো না রে|’
‘কী? আমাকে না দেখে চলে যাবে তুমি? বুড়ু কাকা!’
‘তোর ছেলে ঘুর্ণাবর্তর সাথে দেখা হয়েছে|’
‘উফরে বুড়ু মামা! ঘুর্ণাবর্ত কে তোমাকে বলল? বিজন শয়তানটা? দেখো এ কত বড় শয়তান! তুমি এর সাথে আর কথা বলো না বুড়ু কাকা| আমি আর দিব্যেন্দু তো ওকে সবখানে ব্লক করে রেখেছি| সাধে মনে করো? ও একটা জাত অসভ্য! আচ্ছা, ঘুর্ণাবর্ত না আমার ছেলের নাম পূণ্যব্রত|’
‘পূণ্যব্রত| বাহ! বিজন কী নাম রাখতে বলেছিলরে?’
‘উফ! সেটাও সে তোমাকে বলেছে! কত বড় ইতর, কত বড় অসভ্য একবার ভাবো? তুমি বুড়ু কাকা আর এই ইতরের সাথে কথা বলো না|’
‘আমি তোমার বুড়ুকাকা নহি, বালিকা|’
‘কী-ই-ই-ই? কে আপনি?’
‘বীথিরে বীথিরে/তুই যদি দিতিরে|’ বলে আমি ফোনের লাইন কেটে দিলাম| বীথি বুঝে যাবে কল করেছিল কে| তবে কলব্যাক করবে ভাবি নাই| কলব্যাক করল| শিশিরকণা ধরল, ‘বলেন, বেয়াইন|’
‘বেয়াইন! বেয়াইন মানে?’
‘সেটা তো আমারও প্রশ্ন| ট্রু কলারে আপনার নাম উঠেছে বেয়াইন| বি এ ওয়াই এ আই অ্যান| আমি কী করতে পারি বলেন?’
‘চুপ করেন, আমি বীথি|’
‘ভীতি? কীসের? আপনি কীসের ভয় পাচ্ছেন বলেন তো? আপনি কি একা বাসায়? আপনার লোকেশন বলেন|’
‘যন্ত্রণা তো! এই নাম্বার থেকে একটু আগে একজন আমাকে কল দিয়েছিল|’
‘এই নাম্বার থেকে? এটা তো আমার নাম্বার| আমার নাম শিশিরকণা| এই নাম্বার থেকে কে কল দেবে আপনাকে? বুঝতে পারলাম না| একটু আগে কল দিয়েছিল বলছেন| কতক্ষণ আগে? আমি তো এতক্ষণ আমার শাশুড়ির সাথে কথা বলছিলাম| মাত্র রেখেছি, আপনি কল দিলেন|’
‘এই নাম্বার থেকে বিজন কল দেয় নাই?’
‘বিজন!’
‘আচ্ছা, আপনার লোকেশন বলবেন?’
‘নিকেতন, ঢাকা| আপনি বীথি কোত্থেকে বলছেন?’
আমাদের টাউনের নাম বলে নাই, বীথি অফ হয়ে গিয়েছিল| হাসতে হাসতে আমি মরে যাই|
ছয় বছর পর বীথি আবার কল দেবে শিশিরকণাকে, ‘বেয়াইন বলেন|’—আমি ভবিষ্যৎ বাণী দিয়ে রাখলাম| মানব আমার কথা অর্ধেক বিশ্বাস করল| শিশিরকণা অর্ধেক বিশ্বাস করল| বলি না আমি ক্লেয়ার ভয়েন্ট| কিন্তু ভাবিষ্যৎ রহস্যময়| তদ্রুপ ভবিষ্যৎবাণীও| এটা একটা বিরাট রহস্য নিশ্চয় কার কোন ভবিষ্যৎবাণী বা কথা কখন লেগে যায়|
মানব ও শিশিরকণার মেয়ের নাম প্রীতিলতা আমি রেখেছি| দিব্যেন্দু বা বীথি কোনোদিনই কোনো অভিধান খুলে দেখে নাই| অভিধানের বালাই তাদের নাই| তাও রাজশেখর বসু সংকলিত ‘চলন্তিকা : আধুনিক বঙ্গভাষার অভিধান’ যদি তারা দেখত? চলন্তিকা অভিধানের ৫০৪ পৃষ্ঠায় বালেন্দু শব্দের অর্থ দেওয়া আছে, অমাবস্যার পরে দৃষ্ট নব চন্দ্রকলা| সুন্দর অর্থ| তাও বিবেচনার দাবি রাখে আমি তখন সিরিয়াস ছিলাম কি না বা আমি কোনদিন সিরিয়াস ছিলাম? মজা করতে গিয়ে মাঝখান থেকে ১৭-১৮ বছর গায়েব হয়ে গেল| এখন ভরসা আমার ভবিষ্যৎ বাণী| যদি মিলে যায় যা হতে পারে নিশ্চয় সেটা হবে মধুরেণ সমাপয়েৎ|

Share this news as a Photo Card