ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিরুদ্ধে চলতে থাকা সংঘাতে তার দেশ সামরিক এবং রাজনৈতিক—উভয় ক্ষেত্রেই প্রকৃত অর্থেই বিজয় অর্জন করেছে। ইরানের সংবাদমাধ্যম ফার্স নিউজ এজেন্সির বরাত দিয়ে এই তথ্য জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা।
শীর্ষ এই ইরানি নেতা এই সংঘাতকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের চাপিয়ে দেওয়া একটি অন্যায্য ও ভীরুতাপূর্ণ যুদ্ধ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তার ভাষ্যমতে, চরম প্রতিকূল পরিস্থিতি সত্ত্বেও ইরানি জনগণ অসাধারণ সাহস, দৃঢ়চেতা মনোভাব এবং আন্তরিকতার সঙ্গে এই আগ্রাসন মোকাবিলা করেছে। তিনি জাতির এই ঐক্য ও প্রতিরোধ ক্ষমতাকে বিশেষভাবে প্রশংসা করেন এবং একে দেশের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত করেন।
গালিবাফের বক্তব্য অনুযায়ী, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকটি নিছক একটি কূটনৈতিক দলিল নয়, বরং এটি তেহরানের জন্য সম্মান ও বিজয়ের প্রতীক। তার মতে, এই সমঝোতার মধ্য দিয়ে ইরান কূটনীতির টেবিলে নিজেদের অবস্থানকে আরও সুসংহত ও শক্তিশালী করতে সক্ষম হয়েছে। দীর্ঘদিনের উত্তেজনার পর এই চুক্তি তেহরানের জন্য একটি কৌশলগত অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ সামরিক অভিযান দীর্ঘদিন ধরে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। এই সংঘাতের সূত্রপাত হয় মূলত ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ও আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তার নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলোর উদ্বেগ থেকে। যুক্তরাষ্ট্র বারবার দাবি করেছে, তাদের মূল লক্ষ্য ইরানের তেল রপ্তানি সীমিত করা এবং দেশটিকে পরমাণু অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখা। অন্যদিকে ইরান শুরু থেকেই এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছে এবং নিজেদের কর্মসূচিকে শান্তিপূর্ণ বলে দাবি করে আসছে।
এই সংঘাতের ছয় মাস পেরিয়ে যাওয়ার পরও উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা পুরোপুরি প্রশমিত হয়নি। এমন প্রেক্ষাপটে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের পক্ষ থেকে বিজয়ের এই ঘোষণা কূটনৈতিক মহলে ব্যাপক গুরুত্ব বহন করছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের বক্তব্যের মাধ্যমে ইরান তার অভ্যন্তরীণ জনমতকে চাঙা রাখার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের অবস্থান আরও দৃঢ় করার চেষ্টা করছে।
এর আগে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ঘনিষ্ঠ মহল থেকেও এমন বার্তা এসেছিল যে, পারমাণবিক হামলার মতো পরিস্থিতি তৈরি হলে অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো দখলে নেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে ইরানের। এছাড়া মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকেও একাধিকবার স্পষ্ট করা হয়েছে যে, তাদের কৌশলের প্রথম অগ্রাধিকার তেল সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ এবং দ্বিতীয় অগ্রাধিকার ইরানকে পরমাণু অস্ত্র অর্জন থেকে ঠেকানো।
তেহরানের পক্ষ থেকে বারবার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে যে, হরমুজ প্রণালির ওপর তাদের ঐতিহাসিক অধিকার অক্ষুণ্ন থাকবে এবং কোনো বহিরাগত চাপের কাছে তারা নতিস্বীকার করবে না। এই প্রেক্ষাপটে গালিবাফের সাম্প্রতিক মন্তব্য মূলত ইরানের দীর্ঘদিনের অবস্থানকেই পুনর্ব্যক্ত করে, যেখানে তিনি সামরিক প্রতিরোধ ও কূটনৈতিক সাফল্য—উভয়কেই একই বৃত্তে নিয়ে আসার চেষ্টা করেছেন।
বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, দীর্ঘমেয়াদি এই সংঘাতের পরিণতি নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা কাটেনি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের পক্ষ থেকে আরও কঠোর পদক্ষেপের ইঙ্গিত মেলার পাশাপাশি ইরানও তার অবস্থানে অনড় থাকার বার্তা দিয়ে যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে অঞ্চলজুড়ে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক উদ্যোগ কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে পর্যবেক্ষকদের নজর রয়েছে আগামী দিনগুলোর দিকে।
শিরোনাম :
সামরিক ও রাজনৈতিক উভয় ফ্রন্টে জয়ী ইরান: গালিবাফ
-
চলমান বার্তা ডেস্ক : - আপডেট সময় ০৫:৩৬:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬
- 7
জনপ্রিয় সংবাদ


























