শিরোনাম :
হরমুজ প্রণালিতে ফের মার্কিন হামলা, ক্ষেপণাস্ত্রে অচল কার্গো জাহাজ দেশকে অর্থনৈতিক-সামাজিকভাবে শক্তিশালী অবস্থান করা সরকারের লক্ষ্য বাংলাদেশিকে তুলে নেওয়ার পর ২ ভারতীয়কে ধরে আনা হয়, বৈঠকে হস্তান্তর পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে না পারা সমগ্র জীবনের সাফল্য বা ব্যর্থতা পরিমাপ করা সমীচীন কী বিদেশি বিনিয়োগকারীদের পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিলেন প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পর বসছে সংসদের তৃতীয় অধিবেশন অন্য কেউ বাড়ায়নি ,মিল্কভিটার দুধের দাম বাড়লো কেন? বাংলা কিউআরে চার্জ শূন্য, ব্যবসায়ীদের জন্য ১০০ কোটির প্রণোদনা শাবনূরের সঙ্গে সালমানের প্রেম? ৩০ বছর পর কী বলছেন সালমানের মা ব্যবসা সহজীকরণে সরকারের নতুন জাতীয় টাস্কফোর্স গঠন

হরমুজ প্রণালিতে ফের মার্কিন হামলা, ক্ষেপণাস্ত্রে অচল কার্গো জাহাজ

মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিতে আবারও সামরিক অভিযান চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ওমান উপসাগর থেকে ইরানের একটি বন্দরের দিকে যাত্রা করা একটি কার্গো জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করে হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক কার্যক্রম তদারককারী সংস্থা ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড।
কাতারভিত্তিক একটি সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে গতকাল মঙ্গলবার এ তথ্য প্রকাশ পায়। সংস্থাটির দাবি, পানামার পতাকাবাহী ‘ভেলা নোভা’ নামের জাহাজটি ইরানের বিরুদ্ধে আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করে দেশটির একটি বন্দরের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। এ কারণে নৌবাহিনীর একটি হেলিকপ্টার থেকে জাহাজটিতে দুটি হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়।
সেন্ট্রাল কমান্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হামলাটি নির্দিষ্টভাবে জাহাজের ইঞ্জিন রুম লক্ষ্য করে চালানো হয়, যার ফলে জাহাজটি সম্পূর্ণ অচল হয়ে পড়ে। বাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, হামলার আগে জাহাজের নাবিকদের একাধিকবার সতর্ক করা হলেও তারা সেসব বার্তা উপেক্ষা করেন। তবে এই ঘটনায় কোনো নাবিক আহত হয়েছেন কি না, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
সামরিক সংস্থাটি আরও জানায়, ইরানের বন্দরগুলোর ওপর চলমান নৌ অবরোধের সময় এ পর্যন্ত মোট ৫৫টি বাণিজ্যিক জাহাজকে অচল করে দিয়েছে মার্কিন বাহিনী এবং দুটি জাহাজ পুরোপুরি জব্দ করা হয়েছে। এই পরিসংখ্যান থেকেই স্পষ্ট, উপসাগরীয় অঞ্চলে বাণিজ্যিক নৌ চলাচলের ওপর কঠোর নজরদারি অব্যাহত রেখেছে ওয়াশিংটন।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের মধ্যে সংঘাতের জেরে গত জুলাই মাসে টানা তেরো দিন ধরে চরম উত্তেজনা বিরাজ করেছিল এই অঞ্চলে। এরপর থেকে সরাসরি হামলার ঘটনা মোটামুটি বন্ধই ছিল। এর কিছুদিন আগে, জুন মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারকও স্বাক্ষরিত হয়েছিল, তবে শেষ পর্যন্ত সেই উদ্যোগ ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়।
সাম্প্রতিক সময়ে সংঘাত নতুন করে মাথাচাড়া দেওয়ায় ইরানের বন্দরগুলোর ওপর নৌ অবরোধ পুনরায় জোরদার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ইরানও, যা এই জলপথ ঘিরে উত্তেজনাকে আরও ঘনীভূত করে তুলেছে।
এই সংঘাতের জটিলতা শুধু হরমুজ প্রণালিতেই সীমাবদ্ধ নেই। মধ্যপ্রাচ্যের আরেকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথ বাব এল-মান্দেব প্রণালিতেও অস্থিরতা বেড়েছে। সেখানে ইয়েমেনভিত্তিক বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুথিদের হাতে একের পর এক জাহাজ হামলার শিকার হওয়ায় গোটা অঞ্চলের সামুদ্রিক বাণিজ্য চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, দুটি কৌশলগত জলপথেই একযোগে অস্থিরতা বিরাজ করায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও শিপিং খাতে এর প্রভাব আরও বিস্তৃত হতে পারে।
বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল সরবরাহের একটি বড় অংশ যে সরু জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়, সেই হরমুজ প্রণালিতে এমন পুনরাবৃত্ত সামরিক অভিযান বিশ্ব অর্থনীতির জন্যও উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার এই টানাপোড়েন যদি দীর্ঘায়িত হয়, তাহলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিতিশীলতা আরও বাড়তে পারে এবং এর প্রভাব পড়তে পারে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের দামের ওপরেও।
বর্তমানে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রেখেছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, আর দুই পক্ষের মধ্যে সংলাপ পুনরায় শুরুর কোনো উদ্যোগ আসে কি না, সেদিকেই এখন সবার নজর।

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

হরমুজ প্রণালিতে ফের মার্কিন হামলা, ক্ষেপণাস্ত্রে অচল কার্গো জাহাজ

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

ব্যবসা সহজীকরণে সরকারের নতুন জাতীয় টাস্কফোর্স গঠন

১১ আগস্ট ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

হরমুজ প্রণালিতে ফের মার্কিন হামলা, ক্ষেপণাস্ত্রে অচল কার্গো জাহাজ

আপডেট সময় ০৯:৩৩:৩১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিতে আবারও সামরিক অভিযান চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ওমান উপসাগর থেকে ইরানের একটি বন্দরের দিকে যাত্রা করা একটি কার্গো জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করে হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক কার্যক্রম তদারককারী সংস্থা ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড।
কাতারভিত্তিক একটি সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে গতকাল মঙ্গলবার এ তথ্য প্রকাশ পায়। সংস্থাটির দাবি, পানামার পতাকাবাহী ‘ভেলা নোভা’ নামের জাহাজটি ইরানের বিরুদ্ধে আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করে দেশটির একটি বন্দরের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। এ কারণে নৌবাহিনীর একটি হেলিকপ্টার থেকে জাহাজটিতে দুটি হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়।
সেন্ট্রাল কমান্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হামলাটি নির্দিষ্টভাবে জাহাজের ইঞ্জিন রুম লক্ষ্য করে চালানো হয়, যার ফলে জাহাজটি সম্পূর্ণ অচল হয়ে পড়ে। বাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, হামলার আগে জাহাজের নাবিকদের একাধিকবার সতর্ক করা হলেও তারা সেসব বার্তা উপেক্ষা করেন। তবে এই ঘটনায় কোনো নাবিক আহত হয়েছেন কি না, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
সামরিক সংস্থাটি আরও জানায়, ইরানের বন্দরগুলোর ওপর চলমান নৌ অবরোধের সময় এ পর্যন্ত মোট ৫৫টি বাণিজ্যিক জাহাজকে অচল করে দিয়েছে মার্কিন বাহিনী এবং দুটি জাহাজ পুরোপুরি জব্দ করা হয়েছে। এই পরিসংখ্যান থেকেই স্পষ্ট, উপসাগরীয় অঞ্চলে বাণিজ্যিক নৌ চলাচলের ওপর কঠোর নজরদারি অব্যাহত রেখেছে ওয়াশিংটন।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের মধ্যে সংঘাতের জেরে গত জুলাই মাসে টানা তেরো দিন ধরে চরম উত্তেজনা বিরাজ করেছিল এই অঞ্চলে। এরপর থেকে সরাসরি হামলার ঘটনা মোটামুটি বন্ধই ছিল। এর কিছুদিন আগে, জুন মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারকও স্বাক্ষরিত হয়েছিল, তবে শেষ পর্যন্ত সেই উদ্যোগ ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়।
সাম্প্রতিক সময়ে সংঘাত নতুন করে মাথাচাড়া দেওয়ায় ইরানের বন্দরগুলোর ওপর নৌ অবরোধ পুনরায় জোরদার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ইরানও, যা এই জলপথ ঘিরে উত্তেজনাকে আরও ঘনীভূত করে তুলেছে।
এই সংঘাতের জটিলতা শুধু হরমুজ প্রণালিতেই সীমাবদ্ধ নেই। মধ্যপ্রাচ্যের আরেকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথ বাব এল-মান্দেব প্রণালিতেও অস্থিরতা বেড়েছে। সেখানে ইয়েমেনভিত্তিক বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুথিদের হাতে একের পর এক জাহাজ হামলার শিকার হওয়ায় গোটা অঞ্চলের সামুদ্রিক বাণিজ্য চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, দুটি কৌশলগত জলপথেই একযোগে অস্থিরতা বিরাজ করায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও শিপিং খাতে এর প্রভাব আরও বিস্তৃত হতে পারে।
বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল সরবরাহের একটি বড় অংশ যে সরু জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়, সেই হরমুজ প্রণালিতে এমন পুনরাবৃত্ত সামরিক অভিযান বিশ্ব অর্থনীতির জন্যও উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার এই টানাপোড়েন যদি দীর্ঘায়িত হয়, তাহলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিতিশীলতা আরও বাড়তে পারে এবং এর প্রভাব পড়তে পারে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের দামের ওপরেও।
বর্তমানে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রেখেছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, আর দুই পক্ষের মধ্যে সংলাপ পুনরায় শুরুর কোনো উদ্যোগ আসে কি না, সেদিকেই এখন সবার নজর।

Share this news as a Photo Card