বিশ্ব ফুটবলে সাম্প্রতিক এক সিদ্ধান্তকে ঘিরে তৈরি হয়েছে ব্যাপক অসন্তোষ, আর সেই অসন্তোষের জেরেই জন্ম নিতে পারে সম্পূর্ণ নতুন এক আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট, যেখানে অংশ নেওয়ার স্বপ্ন দেখতে পারে বাংলাদেশও। ঘটনার সূত্রপাত ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর একটি উদ্যোগকে কেন্দ্র করে। বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক অধিকারের একটি অংশ ব্যক্তিমালিকানাধীন বিনিয়োগকারী গোষ্ঠীর কাছে হস্তান্তরের পরিকল্পনা করেছিলেন তিনি। তবে ফুটবল অঙ্গনজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া আর সমালোচনার মুখে শেষ পর্যন্ত সেই পরিকল্পনা থেকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য হন তিনি।
কিন্তু পিছু হটলেও ইনফান্তিনোর প্রতি আস্থা ফিরিয়ে আনতে পারেননি মহাদেশীয় ফুটবল সংস্থাগুলোর কর্তারা। সবচেয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া এসেছে ইউরোপের ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থার পক্ষ থেকে। তাদের অবস্থানের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেছে এশিয়ার ফুটবল পরিচালনাকারী সংস্থা এবং উত্তর ও মধ্য আমেরিকার আঞ্চলিক ফুটবল সংস্থাও। তিনটি সংস্থাই একযোগে হুঁশিয়ারি দিয়েছে, প্রয়োজনে তারা বিশ্বকাপ বর্জনের পথেও হাঁটতে পারে।
শুধু বর্জনের হুমকি দিয়েই থেমে নেই এই তিন মহাদেশীয় সংগঠন। বিশ্বকাপ ছাড়াই কীভাবে সামনে এগোনো যায়, তার একটি বিকল্প পরিকল্পনা নিয়েও তারা আলোচনা শুরু করেছে। সেই পরিকল্পনার কেন্দ্রেই রয়েছে সম্পূর্ণ নতুন একটি টুর্নামেন্ট আয়োজনের ভাবনা, যেখানে অংশ নেবে কেবল ইউরোপ, এশিয়া এবং উত্তর-মধ্য আমেরিকা অঞ্চলের দলগুলো। বিষয়টি সামনে এনেছে একটি প্রভাবশালী ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম।
আর এখানেই লুকিয়ে থাকতে পারে বাংলাদেশের জন্য এক দারুণ সম্ভাবনা। যেহেতু কেবল তিনটি মহাদেশের দল অংশ নেবে, তাই স্বাভাবিকভাবেই প্রতিযোগিতার তীব্রতা তুলনামূলকভাবে কম থাকবে। অন্যদিকে বাংলাদেশ জাতীয় দলও নিজেদের শক্তি বাড়াতে সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কিছু বংশোদ্ভূত ফুটবলারকে দলে যুক্ত করেছে। চলতি বছরের মধ্যেই আরও অন্তত তিনজন প্রবাসী বংশোদ্ভূত খেলোয়াড় জাতীয় দলের জার্সি গায়ে চাপাবেন বলে জানা গেছে। ফলে দলের সামগ্রিক মান আরও উন্নত হলে, এমন একটি সীমিত পরিসরের বড় টুর্নামেন্টে জায়গা করে নেওয়ার সুযোগ বাংলাদেশের সামনে তৈরি হতে পারে।
তবে বিষয়টি এখনই চূড়ান্ত ধরে নেওয়ার কোনো কারণ নেই। প্রতিবেদনে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, নতুন টুর্নামেন্ট আয়োজনের এই ভাবনা এখনো একেবারে প্রাথমিক ধাপেই রয়েছে। টুর্নামেন্টের কাঠামো কেমন হবে, কতটি দল অংশ নেবে, কীভাবে বাছাইপর্ব অনুষ্ঠিত হবে—এসব প্রশ্নের কোনোটিরই এখনো স্পষ্ট উত্তর মেলেনি। মূলত ভবিষ্যতে বিকল্প একটি পথ খোলা রাখার কৌশল হিসেবেই তিন মহাদেশীয় সংস্থা এই পরিকল্পনা এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে সম্প্রতি পাঠানো একটি চিঠির মাধ্যমে। সেই চিঠিতে ফিফা সভাপতির বিরুদ্ধে সরাসরি প্রতারণার অভিযোগ তুলেছে তিন মহাদেশীয় সংস্থা। তারা দাবি জানিয়েছে, অভিযোগগুলো নিয়ে একটি নিরপেক্ষ ও স্বাধীন তদন্ত পরিচালনার। পাশাপাশি সম্মানজনকভাবে পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর আহ্বানও জানানো হয়েছে ইনফান্তিনোর প্রতি।
সব মিলিয়ে বিশ্ব ফুটবলের শীর্ষ প্রশাসনে যে টানাপোড়েন শুরু হয়েছে, তার পরিণতি কী দাঁড়ায় তা সময়ই বলে দেবে। তবে এই অনিশ্চয়তার মধ্যেও একটি বিষয় স্পষ্ট—আন্তর্জাতিক ফুটবলের ক্ষমতার এই লড়াই শেষ পর্যন্ত এশিয়ার ছোট দলগুলোর জন্য নতুন দরজা খুলে দিতে পারে, আর সেই তালিকায় নাম লেখানোর স্বপ্ন দেখতেই পারে বাংলাদেশ।
শিরোনাম :
নতুন টুর্নামেন্ট পরিকল্পনায় সুযোগ দেখছে বাংলাদেশ ফুটবল
-
চলমান বার্তা ডেস্ক : - আপডেট সময় ০৫:৪৪:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬
- 5
জনপ্রিয় সংবাদ


























