শিরোনাম :
“চেহারা কোথায়, শুধু আওয়াজ শোনা যায়”: হাসিনা প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গণমাধ্যম শক্তিশালী হলে টেকসই হবে গণতন্ত্র: ফখরুল নিত্যপণ্যের দাম আকাশছোয়া : বিপর্যস্ত নিম্ন আয়ের জীবনযাত্রা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থী নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে সিলেটে দুই বাসের সংঘর্ষে শিশুসহ নিহত ৮ হামে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৮১৮ ৪ বছরে ফ্যামিলি কার্ড পাবে ১ কোটি ৬০ লাখ পরিবার, আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ১৬ আগস্ট টেকনাফে দিনে দুপুরে বাস থামিয়ে ৫৭ লাখ টাকা লুট গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে ১১ দলের লংমার্চ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ২০ আগস্ট, ভোটগ্রহণের তারিখ আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হলো

কোচ নিয়োগ বিতর্কে কেএফএ কার্যালয়ে পুলিশি অভিযান

দক্ষিণ কোরিয়ার ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের কার্যালয়ে পুলিশি অভিযান, কোচ নিয়োগ নিয়ে তদন্ত
দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় ফুটবল দলের প্রধান কোচ নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে দেশটির পুলিশ এবার সরাসরি তদন্তে নেমেছে। সিউলের পুলিশ বাহিনী দেশটির ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থার কার্যালয়ে তল্লাশি চালিয়েছে। বর্তমান প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব পাওয়া ব্যক্তির নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ ঘিরেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে জানা যায়, ব্যবসায়িক কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টির অভিযোগের ভিত্তিতে একটি তদন্ত চলছে, আর সেই তদন্তেরই অংশ হিসেবে এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে। তদন্তকারী কর্মকর্তারা কোচ নিয়োগ সংক্রান্ত বিভিন্ন নথিপত্র ও তথ্য সংগ্রহ করেছেন। ঘটনার সূত্রপাত ২০২৪ সালে। ওই বছর ফুটবল সংস্থাটি বেশ কয়েক মাস ধরে বিদেশ থেকে একজন কোচ খোঁজার চেষ্টা চালায়। তবে শেষ মুহূর্তে হঠাৎ করেই সেই অনুসন্ধান থামিয়ে দেওয়া হয়। এরপর একটি সংক্ষিপ্ত বৈঠকের পরই স্থানীয় একজন কোচকে জাতীয় দলের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এই আকস্মিক সিদ্ধান্তের পর থেকেই গোটা প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে।
বিতর্ক আরও জোরালো হয় সাম্প্রতিক বিশ্বকাপে দলের হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর। গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয় দলকে, আর এরপরই বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় চলে আসে। এ নিয়ে দেশের পার্লামেন্টে একটি শুনানিও অনুষ্ঠিত হয়। ওই শুনানিতে সংশ্লিষ্ট কোচ নিজের প্রতি ওঠা বিশেষ সুবিধা পাওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন। তবে দলের ব্যর্থতার দায় তিনি নিজের কাঁধেই নেন বলে জানা যায়।
এর আগেও একবার এই নিয়োগ প্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছিল। ২০২৪ সালের অক্টোবরে দেশটির সংস্কৃতি, ক্রীড়া ও পর্যটন বিষয়ক মন্ত্রণালয় এক পর্যালোচনায় জানিয়েছিল, বর্তমান কোচ এবং তার পূর্বসূরি হিসেবে দায়িত্বে থাকা এক জার্মান কোচকে নিয়োগ দেওয়ার সময় ফুটবল সংস্থাটি নিজস্ব নিয়মকানুন ও প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ করেনি। তবে সে সময় কোনো সুনির্দিষ্ট অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলেও উল্লেখ করা হয়েছিল।
এবার বিষয়টি নতুন মাত্রা পেয়েছে পুলিশি তদন্তের মাধ্যমে। কোচ নিয়োগের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় কোনো অনৈতিক বা বেআইনি প্রভাব খাটানো হয়েছিল কি না, সেটিই এখন খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। তবে এই মুহূর্ত পর্যন্ত ফুটবল সংস্থা কিংবা এর সঙ্গে যুক্ত কোনো কর্মকর্তার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
দক্ষিণ কোরিয়ার ফুটবলে সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক বিতর্ক দেখা দিচ্ছে। বিশ্বকাপে ব্যর্থতার পর সমর্থকদের চাপ এবং সরকারি তদন্তের মুখে পড়েছিলেন সাবেক এক কোচও, যিনি পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান বলে খবর প্রকাশিত হয়েছিল। এমন পরিস্থিতিতে নতুন করে পুলিশি অভিযানের ঘটনা দেশটির ফুটবল প্রশাসনের স্বচ্ছতা নিয়ে জনমনে নতুন করে সংশয় তৈরি করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ কোরিয়ার ফুটবলে প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। কোচ নিয়োগ থেকে শুরু করে দলের সামগ্রিক পারফরম্যান্স— সবকিছু নিয়েই সমর্থক ও গণমাধ্যমের প্রশ্নের মুখে পড়ছে সংস্থাটি। তদন্ত শেষ পর্যন্ত কোন দিকে গড়ায় এবং এর ফলে ফুটবল সংস্থার নেতৃত্বে কোনো পরিবর্তন আসে কি না, সেদিকেই এখন নজর সবার।

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

পোশাকখাতে মূল্য সংযোজনে বাংলাদেশে কোরিয়ার বড় আগ্রহ

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ২০ আগস্ট, ভোটগ্রহণের তারিখ আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হলো

০৬ আগস্ট ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

কোচ নিয়োগ বিতর্কে কেএফএ কার্যালয়ে পুলিশি অভিযান

আপডেট সময় ০৪:১৭:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬

দক্ষিণ কোরিয়ার ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের কার্যালয়ে পুলিশি অভিযান, কোচ নিয়োগ নিয়ে তদন্ত
দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় ফুটবল দলের প্রধান কোচ নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে দেশটির পুলিশ এবার সরাসরি তদন্তে নেমেছে। সিউলের পুলিশ বাহিনী দেশটির ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থার কার্যালয়ে তল্লাশি চালিয়েছে। বর্তমান প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব পাওয়া ব্যক্তির নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ ঘিরেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে জানা যায়, ব্যবসায়িক কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টির অভিযোগের ভিত্তিতে একটি তদন্ত চলছে, আর সেই তদন্তেরই অংশ হিসেবে এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে। তদন্তকারী কর্মকর্তারা কোচ নিয়োগ সংক্রান্ত বিভিন্ন নথিপত্র ও তথ্য সংগ্রহ করেছেন। ঘটনার সূত্রপাত ২০২৪ সালে। ওই বছর ফুটবল সংস্থাটি বেশ কয়েক মাস ধরে বিদেশ থেকে একজন কোচ খোঁজার চেষ্টা চালায়। তবে শেষ মুহূর্তে হঠাৎ করেই সেই অনুসন্ধান থামিয়ে দেওয়া হয়। এরপর একটি সংক্ষিপ্ত বৈঠকের পরই স্থানীয় একজন কোচকে জাতীয় দলের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এই আকস্মিক সিদ্ধান্তের পর থেকেই গোটা প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে।
বিতর্ক আরও জোরালো হয় সাম্প্রতিক বিশ্বকাপে দলের হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর। গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয় দলকে, আর এরপরই বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় চলে আসে। এ নিয়ে দেশের পার্লামেন্টে একটি শুনানিও অনুষ্ঠিত হয়। ওই শুনানিতে সংশ্লিষ্ট কোচ নিজের প্রতি ওঠা বিশেষ সুবিধা পাওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন। তবে দলের ব্যর্থতার দায় তিনি নিজের কাঁধেই নেন বলে জানা যায়।
এর আগেও একবার এই নিয়োগ প্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছিল। ২০২৪ সালের অক্টোবরে দেশটির সংস্কৃতি, ক্রীড়া ও পর্যটন বিষয়ক মন্ত্রণালয় এক পর্যালোচনায় জানিয়েছিল, বর্তমান কোচ এবং তার পূর্বসূরি হিসেবে দায়িত্বে থাকা এক জার্মান কোচকে নিয়োগ দেওয়ার সময় ফুটবল সংস্থাটি নিজস্ব নিয়মকানুন ও প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ করেনি। তবে সে সময় কোনো সুনির্দিষ্ট অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলেও উল্লেখ করা হয়েছিল।
এবার বিষয়টি নতুন মাত্রা পেয়েছে পুলিশি তদন্তের মাধ্যমে। কোচ নিয়োগের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় কোনো অনৈতিক বা বেআইনি প্রভাব খাটানো হয়েছিল কি না, সেটিই এখন খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। তবে এই মুহূর্ত পর্যন্ত ফুটবল সংস্থা কিংবা এর সঙ্গে যুক্ত কোনো কর্মকর্তার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
দক্ষিণ কোরিয়ার ফুটবলে সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক বিতর্ক দেখা দিচ্ছে। বিশ্বকাপে ব্যর্থতার পর সমর্থকদের চাপ এবং সরকারি তদন্তের মুখে পড়েছিলেন সাবেক এক কোচও, যিনি পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান বলে খবর প্রকাশিত হয়েছিল। এমন পরিস্থিতিতে নতুন করে পুলিশি অভিযানের ঘটনা দেশটির ফুটবল প্রশাসনের স্বচ্ছতা নিয়ে জনমনে নতুন করে সংশয় তৈরি করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ কোরিয়ার ফুটবলে প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। কোচ নিয়োগ থেকে শুরু করে দলের সামগ্রিক পারফরম্যান্স— সবকিছু নিয়েই সমর্থক ও গণমাধ্যমের প্রশ্নের মুখে পড়ছে সংস্থাটি। তদন্ত শেষ পর্যন্ত কোন দিকে গড়ায় এবং এর ফলে ফুটবল সংস্থার নেতৃত্বে কোনো পরিবর্তন আসে কি না, সেদিকেই এখন নজর সবার।

Share this news as a Photo Card