শিরোনাম :
“চেহারা কোথায়, শুধু আওয়াজ শোনা যায়”: হাসিনা প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গণমাধ্যম শক্তিশালী হলে টেকসই হবে গণতন্ত্র: ফখরুল নিত্যপণ্যের দাম আকাশছোয়া : বিপর্যস্ত নিম্ন আয়ের জীবনযাত্রা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থী নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে সিলেটে দুই বাসের সংঘর্ষে শিশুসহ নিহত ৮ হামে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৮১৮ ৪ বছরে ফ্যামিলি কার্ড পাবে ১ কোটি ৬০ লাখ পরিবার, আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ১৬ আগস্ট টেকনাফে দিনে দুপুরে বাস থামিয়ে ৫৭ লাখ টাকা লুট গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে ১১ দলের লংমার্চ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ২০ আগস্ট, ভোটগ্রহণের তারিখ আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হলো

পোশাকখাতে মূল্য সংযোজনে বাংলাদেশে কোরিয়ার বড় আগ্রহ

পোশাক রপ্তানিতে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ দেশ বাংলাদেশ। তবে এই শিল্প এখনো মূলত প্রাকৃতিক তন্তুনির্ভর, আর মূল্য সংযোজনের হারও তুলনামূলক কম—গড়ে প্রায় ৩০ শতাংশ। এই বাস্তবতা বদলে দিতে এগিয়ে আসতে চাইছে দক্ষিণ কোরিয়ার ব্যবসায়ী মহল। কৃত্রিম তন্তু, ফাংশনাল ও টেকনিক্যাল টেক্সটাইল, স্বয়ংক্রিয় সেলাই যন্ত্রপাতি এবং পোশাক-সংশ্লিষ্ট আনুষঙ্গিক উপকরণ খাতে বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি হস্তান্তরে আগ্রহী দেশটির প্রতিষ্ঠানগুলো।
কোরিয়া ট্রেড-ইনভেস্টমেন্ট প্রমোশন এজেন্সি বা কোটরার ঢাকা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক লি সুং-হুন—যিনি ড্যানিয়েল লি নামেও পরিচিত—সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা জানিয়েছেন। তাঁর ভাষ্যে, বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮৪ শতাংশ এবং জিডিপির প্রায় ১০ শতাংশ যোগান দেয়। কিন্তু কেবল বিপুল পরিমাণে উৎপাদনের ওপর নির্ভরশীল না থেকে এই খাতকে উচ্চমূল্যের পণ্য উৎপাদনের দিকে নিয়ে যাওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে। আর এখানেই কোরিয়ান প্রতিষ্ঠানগুলো গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করেন তিনি।
লি সুং-হুনের মতে, কৃত্রিম তন্তু ও প্রযুক্তিনির্ভর কাপড় উৎপাদনে দক্ষিণ কোরিয়া বিশ্বজুড়ে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে আছে। একই সময়ে বাংলাদেশও পোশাক উৎপাদনে কৃত্রিম তন্তুর ব্যবহার বাড়ানোর নীতি নিয়েছে, যা দুই দেশের সহযোগিতার একটি স্বাভাবিক ক্ষেত্র তৈরি করেছে। তিনি বলেন, বৈশ্বিক ক্রেতাদের চাহিদা এখন আর সাধারণ পোশাকে সীমাবদ্ধ নেই—ফাংশনাল ফ্যাব্রিক, পারফরম্যান্স ওয়্যার আর টেকসই উৎপাদন প্রক্রিয়ায় তৈরি পণ্যের চাহিদাই বাড়ছে দ্রুত গতিতে।
এই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মেলাতে পণ্যের মান উন্নয়ন, উৎপাদন প্রক্রিয়া স্বয়ংক্রিয়করণ এবং পরিবেশগত মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখাকে তিন অগ্রাধিকার হিসেবে চিহ্নিত করেছে কোটরা। বাংলাদেশের টেক্সটাইল যন্ত্রপাতির বাজার বর্তমানে প্রায় ২ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলারের, আর রিজার্ভ পরিস্থিতির উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে আধুনিক যন্ত্রপাতিতে বিনিয়োগও বাড়ছে ধীরে ধীরে। মান ও দামের সামঞ্জস্যের কারণে কোরিয়ান যন্ত্রপাতির প্রতি বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের আগ্রহ দীর্ঘদিনের।
ইউরোপীয় বাজারের নতুন নিয়মকানুনও আলোচনায় এনেছেন লি সুং-হুন। সরবরাহ শৃঙ্খলে স্বচ্ছতা, পরিবেশবান্ধব নকশা এবং কার্বন নিঃসরণসংক্রান্ত কড়াকড়ি আগামী দিনে রপ্তানিকারকদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। বিশেষত ইউরোপীয় ইউনিয়নের ডিজিটাল প্রোডাক্ট পাসপোর্ট ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হয়ে উঠবে, যার জন্য প্রস্তুতিতে সহায়তা করছে কোটরা। তিনি জানান, বিশ্বে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক লিড সনদপ্রাপ্ত পরিবেশবান্ধব পোশাক কারখানা রয়েছে বাংলাদেশে, তবে এই অর্জনকে আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রক কাঠামোর সঙ্গে খাপ খাওয়ানোই এখন মূল চ্যালেঞ্জ।
দুই দেশের সম্পর্কের ইতিহাস টেনে লি সুং-হুন বলেন, ১৯৭৮ সালে ডেইউর সঙ্গে যৌথ উদ্যোগের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের যাত্রায় কোরিয়ার ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। সে সময় প্রশিক্ষণ নেওয়া বাংলাদেশি কর্মীরাই পরবর্তীতে দেশের রপ্তানিমুখী পোশাক শিল্পের ভিত গড়ে তোলেন। বর্তমানে বাংলাদেশে কোরিয়ার উৎপাদনমুখী বিনিয়োগের প্রায় ৭০ শতাংশই কেন্দ্রীভূত টেক্সটাইল ও পোশাক খাতে।
তবে পোশাক শিল্পের বাইরেও বিনিয়োগের সুযোগ দেখছেন তিনি—ওষুধ ও বায়োটেকনোলজি, ভোগ্যপণ্য, অবকাঠামো, তথ্যপ্রযুক্তি এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে। মধ্যবিত্ত জনগোষ্ঠীর সম্প্রসারণের সঙ্গে সঙ্গে প্রক্রিয়াজাত খাদ্য ও কোরিয়ান প্রসাধনীর চাহিদা বাড়ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
সম্প্রতি স্বাক্ষরিত কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ অ্যাগ্রিমেন্ট দুই দেশের বাণিজ্য ও প্রযুক্তি সহযোগিতার জন্য শক্ত ভিত্তি তৈরি করবে বলে আশা প্রকাশ করেন লি সুং-হুন। তরুণ কর্মশক্তি, ক্রমবর্ধমান অভ্যন্তরীণ বাজার আর পাঁচ দশকের ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা বাংলাদেশকে বিনিয়োগবান্ধব গন্তব্য করে তুলেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তবে নিয়ন্ত্রক নীতির স্থিতিশীলতা, সনদ প্রদান প্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং মুনাফা প্রত্যাবাসনের সুবিধার মতো কিছু সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

পোশাকখাতে মূল্য সংযোজনে বাংলাদেশে কোরিয়ার বড় আগ্রহ

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ২০ আগস্ট, ভোটগ্রহণের তারিখ আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হলো

০৬ আগস্ট ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

পোশাকখাতে মূল্য সংযোজনে বাংলাদেশে কোরিয়ার বড় আগ্রহ

আপডেট সময় ০৪:৫৫:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬

পোশাক রপ্তানিতে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ দেশ বাংলাদেশ। তবে এই শিল্প এখনো মূলত প্রাকৃতিক তন্তুনির্ভর, আর মূল্য সংযোজনের হারও তুলনামূলক কম—গড়ে প্রায় ৩০ শতাংশ। এই বাস্তবতা বদলে দিতে এগিয়ে আসতে চাইছে দক্ষিণ কোরিয়ার ব্যবসায়ী মহল। কৃত্রিম তন্তু, ফাংশনাল ও টেকনিক্যাল টেক্সটাইল, স্বয়ংক্রিয় সেলাই যন্ত্রপাতি এবং পোশাক-সংশ্লিষ্ট আনুষঙ্গিক উপকরণ খাতে বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি হস্তান্তরে আগ্রহী দেশটির প্রতিষ্ঠানগুলো।
কোরিয়া ট্রেড-ইনভেস্টমেন্ট প্রমোশন এজেন্সি বা কোটরার ঢাকা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক লি সুং-হুন—যিনি ড্যানিয়েল লি নামেও পরিচিত—সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা জানিয়েছেন। তাঁর ভাষ্যে, বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮৪ শতাংশ এবং জিডিপির প্রায় ১০ শতাংশ যোগান দেয়। কিন্তু কেবল বিপুল পরিমাণে উৎপাদনের ওপর নির্ভরশীল না থেকে এই খাতকে উচ্চমূল্যের পণ্য উৎপাদনের দিকে নিয়ে যাওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে। আর এখানেই কোরিয়ান প্রতিষ্ঠানগুলো গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করেন তিনি।
লি সুং-হুনের মতে, কৃত্রিম তন্তু ও প্রযুক্তিনির্ভর কাপড় উৎপাদনে দক্ষিণ কোরিয়া বিশ্বজুড়ে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে আছে। একই সময়ে বাংলাদেশও পোশাক উৎপাদনে কৃত্রিম তন্তুর ব্যবহার বাড়ানোর নীতি নিয়েছে, যা দুই দেশের সহযোগিতার একটি স্বাভাবিক ক্ষেত্র তৈরি করেছে। তিনি বলেন, বৈশ্বিক ক্রেতাদের চাহিদা এখন আর সাধারণ পোশাকে সীমাবদ্ধ নেই—ফাংশনাল ফ্যাব্রিক, পারফরম্যান্স ওয়্যার আর টেকসই উৎপাদন প্রক্রিয়ায় তৈরি পণ্যের চাহিদাই বাড়ছে দ্রুত গতিতে।
এই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মেলাতে পণ্যের মান উন্নয়ন, উৎপাদন প্রক্রিয়া স্বয়ংক্রিয়করণ এবং পরিবেশগত মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখাকে তিন অগ্রাধিকার হিসেবে চিহ্নিত করেছে কোটরা। বাংলাদেশের টেক্সটাইল যন্ত্রপাতির বাজার বর্তমানে প্রায় ২ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলারের, আর রিজার্ভ পরিস্থিতির উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে আধুনিক যন্ত্রপাতিতে বিনিয়োগও বাড়ছে ধীরে ধীরে। মান ও দামের সামঞ্জস্যের কারণে কোরিয়ান যন্ত্রপাতির প্রতি বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের আগ্রহ দীর্ঘদিনের।
ইউরোপীয় বাজারের নতুন নিয়মকানুনও আলোচনায় এনেছেন লি সুং-হুন। সরবরাহ শৃঙ্খলে স্বচ্ছতা, পরিবেশবান্ধব নকশা এবং কার্বন নিঃসরণসংক্রান্ত কড়াকড়ি আগামী দিনে রপ্তানিকারকদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। বিশেষত ইউরোপীয় ইউনিয়নের ডিজিটাল প্রোডাক্ট পাসপোর্ট ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হয়ে উঠবে, যার জন্য প্রস্তুতিতে সহায়তা করছে কোটরা। তিনি জানান, বিশ্বে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক লিড সনদপ্রাপ্ত পরিবেশবান্ধব পোশাক কারখানা রয়েছে বাংলাদেশে, তবে এই অর্জনকে আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রক কাঠামোর সঙ্গে খাপ খাওয়ানোই এখন মূল চ্যালেঞ্জ।
দুই দেশের সম্পর্কের ইতিহাস টেনে লি সুং-হুন বলেন, ১৯৭৮ সালে ডেইউর সঙ্গে যৌথ উদ্যোগের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের যাত্রায় কোরিয়ার ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। সে সময় প্রশিক্ষণ নেওয়া বাংলাদেশি কর্মীরাই পরবর্তীতে দেশের রপ্তানিমুখী পোশাক শিল্পের ভিত গড়ে তোলেন। বর্তমানে বাংলাদেশে কোরিয়ার উৎপাদনমুখী বিনিয়োগের প্রায় ৭০ শতাংশই কেন্দ্রীভূত টেক্সটাইল ও পোশাক খাতে।
তবে পোশাক শিল্পের বাইরেও বিনিয়োগের সুযোগ দেখছেন তিনি—ওষুধ ও বায়োটেকনোলজি, ভোগ্যপণ্য, অবকাঠামো, তথ্যপ্রযুক্তি এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে। মধ্যবিত্ত জনগোষ্ঠীর সম্প্রসারণের সঙ্গে সঙ্গে প্রক্রিয়াজাত খাদ্য ও কোরিয়ান প্রসাধনীর চাহিদা বাড়ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
সম্প্রতি স্বাক্ষরিত কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ অ্যাগ্রিমেন্ট দুই দেশের বাণিজ্য ও প্রযুক্তি সহযোগিতার জন্য শক্ত ভিত্তি তৈরি করবে বলে আশা প্রকাশ করেন লি সুং-হুন। তরুণ কর্মশক্তি, ক্রমবর্ধমান অভ্যন্তরীণ বাজার আর পাঁচ দশকের ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা বাংলাদেশকে বিনিয়োগবান্ধব গন্তব্য করে তুলেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তবে নিয়ন্ত্রক নীতির স্থিতিশীলতা, সনদ প্রদান প্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং মুনাফা প্রত্যাবাসনের সুবিধার মতো কিছু সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

Share this news as a Photo Card