সন্তান হঠাৎ জেদি হয়ে উঠছে, কথায় কথায় রাগ দেখাচ্ছে বা মা-বাবার সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করছে—এমন অভিযোগ আজকাল প্রায় প্রতিটি পরিবারেই শোনা যায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর একটি বড় কারণ হতে পারে সন্তানের সঙ্গে যথেষ্ট মানসম্পন্ন সময় না কাটানো।
চাকরি, সংসার আর নানা দায়িত্বের চাপে অনেক মা-বাবাই সারাদিন সন্তানের ধারেকাছে থাকলেও তার সঙ্গে প্রকৃত অর্থবহ সময় কাটাতে পারেন না। পড়াশোনা, খাওয়াদাওয়া, কোচিং বা গৃহশিক্ষকের তদারকি করেই কেটে যায় বেশিরভাগ সময়, কিন্তু তাতে সন্তানের মনের খবর রাখা হয় না। গবেষণায় দেখা গেছে, সন্তানের মানসিক স্বাস্থ্য ও মা-বাবার সঙ্গে সম্পর্কের গভীরতা অনেকটাই নির্ভর করে তাদের একসঙ্গে কাটানো সময়ের গুণগত মানের ওপর।
এই সমস্যার সমাধানে প্যারেন্টিং বিশেষজ্ঞরা একটি সহজ পদ্ধতি বাতলে দিয়েছেন, যার নাম “৭-৭-৭ নিয়ম”। দিনের তিনটি ভিন্ন সময়ে মাত্র সাত মিনিট করে—মোট একুশ মিনিট—সন্তানকে পূর্ণ মনোযোগ দিলেই কিশোর-কিশোরীদের সঙ্গে সম্পর্কে ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে বলে তাঁদের দাবি।
নিয়মটি তিনটি ধাপে বিভক্ত:
প্রথমত, কিশোর সন্তানের সঙ্গে সাত মিনিট মন খুলে কথা বলা। দ্বিতীয়ত, সাত মিনিট একসঙ্গে খেলাধুলা বা কোনো কাজ করা কিংবা একটি অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়া। তৃতীয়ত, কোনো বাধা না দিয়ে, বিচার না করে বা তাৎক্ষণিক সমাধান দেওয়ার চেষ্টা না করে সাত মিনিট শুধু সন্তানের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বয়ঃসন্ধিকালে সন্তানরা মানসিকভাবে স্বাধীন হতে চাইলেও ভেতরে ভেতরে তাদের মা-বাবার সান্নিধ্যের প্রয়োজন থেকেই যায়। দিনের নির্দিষ্ট তিনটি চাপের মুহূর্তে—সকালে ঘুম থেকে ওঠা, স্কুল থেকে ফেরার পর ও রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে—এই মনোযোগ তাদের আবেগ সামলাতে সাহায্য করে।
সকালে (৭ মিনিট): দূর থেকে চিৎকার করে নির্দেশ না দিয়ে নাশতার টেবিলে সন্তানের পাশে বসুন। তার দিনের পরিকল্পনা জিজ্ঞেস করুন, হালকা গল্প করুন, একটা উষ্ণ আলিঙ্গন দিয়ে দিনটা শুরু করুন।
স্কুল থেকে ফেরার পর (৭ মিনিট): এই সময়টা সবচেয়ে স্পর্শকাতর—সন্তান তখন ক্লান্ত বা খিটখিটে থাকতে পারে। পরীক্ষার ফল বা বাড়ির কাজ নিয়ে প্রশ্ন না করে পছন্দের নাশতা দিন, দিনটা কেমন কাটল জানতে চান।
ঘুমানোর আগে (৭ মিনিট): এই সময়ে কিশোর-কিশোরীরা মনের কথা সবচেয়ে বেশি বলে। বিছানার পাশে বসে কোনো মন্তব্য ছাড়াই তাদের কথা শুনুন—বন্ধুত্ব, দুশ্চিন্তা বা স্বপ্নের কথা প্রায়ই এই সময়েই বেরিয়ে আসে।
বাংলাদেশেও শিশু মনোবিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছেন, নগরজীবনের ব্যস্ততায় মা-বাবা ও সন্তানের মধ্যে সরাসরি সংলাপের সময় কমে যাওয়াই কিশোরদের আচরণগত সমস্যার অন্যতম কারণ। তাই প্রতিদিনের নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করে সন্তানের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন তাঁরাও।
শিরোনাম :
সন্তানের সঙ্গে সম্পর্ক গাঢ় করবে ৭-৭-৭ নিয়ম, দিনে মাত্র ২১ মিনিটেই বদলাবে আচরণ
-
চলমান বার্তা ডেস্ক : - আপডেট সময় ০৪:৩৫:০২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬
- 7
জনপ্রিয় সংবাদ

























