শিরোনাম :
“চেহারা কোথায়, শুধু আওয়াজ শোনা যায়”: হাসিনা প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গণমাধ্যম শক্তিশালী হলে টেকসই হবে গণতন্ত্র: ফখরুল নিত্যপণ্যের দাম আকাশছোয়া : বিপর্যস্ত নিম্ন আয়ের জীবনযাত্রা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থী নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে সিলেটে দুই বাসের সংঘর্ষে শিশুসহ নিহত ৮ হামে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৮১৮ ৪ বছরে ফ্যামিলি কার্ড পাবে ১ কোটি ৬০ লাখ পরিবার, আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ১৬ আগস্ট টেকনাফে দিনে দুপুরে বাস থামিয়ে ৫৭ লাখ টাকা লুট গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে ১১ দলের লংমার্চ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ২০ আগস্ট, ভোটগ্রহণের তারিখ আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হলো

আসামের বন্যার্তদের জন্য ঘর গড়ছেন সালমান খান

ভারতের আসাম রাজ্যে সাম্প্রতিক বন্যায় বিপর্যস্ত মানুষের পুনর্বাসনে এগিয়ে এসেছেন বলিউড অভিনেতা সালমান খান। শুরুতে ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার মধ্য দিয়ে সহায়তা শুরু করলেও এখন তিনি গৃহহীন পরিবারগুলোর জন্য পাঁচশত আধা-পাকা বাড়ি তৈরির উদ্যোগ নিয়েছেন।
জানা গেছে, সালমানের নিজস্ব দাতব্য প্রতিষ্ঠান ‘বিয়িং হিউম্যান’ এবং স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘গ্লোবাল শিখস’ একসঙ্গে কাজ করছে এই পুনর্বাসন কর্মসূচি বাস্তবায়নে। আসামের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা হিসেবে চিহ্নিত শিবসাগর জেলার নেপালি খুটি গ্রামে ইতোমধ্যে প্রায় দুই শতাধিক বাড়ির নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছে। ধাপে ধাপে এসব বাড়ি তুলে দেওয়া হচ্ছে বন্যায় সর্বস্ব হারানো পরিবারগুলোর হাতে।
গোড়ার দিকে কেবল খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র বিতরণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল এই সহায়তা কার্যক্রম। তবে অভিনেতা রণদীপ হুদার নেতৃত্বাধীন একটি স্বেচ্ছাসেবী দলের ত্রাণকাজের দৃশ্য চোখে পড়ার পর সালমানের মনে হয়, শুধু সাময়িক ত্রাণে কাজ হবে না, প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসনের। এরপর পরিচিত এক ব্যক্তির মাধ্যমে রণদীপের সঙ্গে যোগাযোগ করে ঘরবাড়ি তৈরিতে সহযোগিতার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
গ্লোবাল শিখস সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা অমরপ্রীত সিং বলছেন, বন্যা মোকাবিলায় সক্ষম এসব বাড়ি তৈরি হচ্ছে বাঁশ ও টিনের কাঠামোয়। প্রতিটি বাড়ি বানাতে খরচ পড়ছে মোটামুটি পঁয়ত্রিশ থেকে চল্লিশ হাজার রুপির মতো। তার ভাষ্যমতে, পুরো পরিকল্পনার কথা শোনার পরপরই সালমান পাঁচশত ঘর তৈরির খরচ বহনের প্রতিশ্রুতি দেন।
অমরপ্রীত আরও জানান, কিছুদিন আগে সালমান নিজে ফোন করে জানিয়ে দেন, প্রয়োজনীয় সব সহযোগিতা তিনি করে যাবেন। এখন পর্যন্ত নেপালি খুটিতে প্রথম পর্বের বাড়িগুলোর নির্মাণ শেষ হয়েছে, আর দৈনিক গড়ে আট থেকে দশটি করে নতুন বাড়ি তৈরি হচ্ছে বলে জানান তিনি।
অন্যদিকে রণদীপ হুদা বলছেন, বিগত এক সপ্তাহ ধরে গ্লোবাল শিখসের স্বেচ্ছাসেবকদের সঙ্গে মিলে প্রতিদিন বন্যাদুর্গত মানুষের জন্য রান্না করা খাবার প্রস্তুত ও বিতরণের কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। তার কথায়, মানবতার চেয়ে বড় আর কিছু হতে পারে না, আর মানুষ বিপদে পড়লে যার যতটুকু সামর্থ্য আছে ততটুকু দিয়েই এগিয়ে আসা উচিত।
উল্লেখ্য, আসামের এবারের বন্যাকে গত ছয় দশকের মধ্যে অন্যতম ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে ধরা হচ্ছে। রাজ্যের বিস্তীর্ণ এলাকা এখনো পানির নিচে, ঘরবাড়ি হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাচ্ছে হাজারো পরিবার। এমন সংকটময় মুহূর্তে সালমানের এই পুনর্বাসন-উদ্যোগ দেশটির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও প্রশংসার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই বলছেন, তারকাখ্যাতি ব্যবহার করে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এই দৃষ্টান্ত অনুকরণীয়।
এর আগেও বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ কিংবা মানবিক সংকটে সালমানকে নীরবে-নিভৃতে সাহায্যের হাত বাড়াতে দেখা গেছে। তবে এবারের উদ্যোগটি ব্যাপ্তি ও পরিকল্পনার দিক থেকে অনেকটাই আলাদা, কারণ এখানে কেবল সাময়িক ত্রাণ নয়, বরং দীর্ঘস্থায়ী আশ্রয়ের ব্যবস্থা করার চেষ্টা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বন্যা-সহনশীল কাঠামোয় তৈরি এই বাড়িগুলো ভবিষ্যতে একই ধরনের দুর্যোগ মোকাবিলায় সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে।

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

পোশাকখাতে মূল্য সংযোজনে বাংলাদেশে কোরিয়ার বড় আগ্রহ

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ২০ আগস্ট, ভোটগ্রহণের তারিখ আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হলো

০৬ আগস্ট ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

আসামের বন্যার্তদের জন্য ঘর গড়ছেন সালমান খান

আপডেট সময় ০৪:২৫:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬

ভারতের আসাম রাজ্যে সাম্প্রতিক বন্যায় বিপর্যস্ত মানুষের পুনর্বাসনে এগিয়ে এসেছেন বলিউড অভিনেতা সালমান খান। শুরুতে ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার মধ্য দিয়ে সহায়তা শুরু করলেও এখন তিনি গৃহহীন পরিবারগুলোর জন্য পাঁচশত আধা-পাকা বাড়ি তৈরির উদ্যোগ নিয়েছেন।
জানা গেছে, সালমানের নিজস্ব দাতব্য প্রতিষ্ঠান ‘বিয়িং হিউম্যান’ এবং স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘গ্লোবাল শিখস’ একসঙ্গে কাজ করছে এই পুনর্বাসন কর্মসূচি বাস্তবায়নে। আসামের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা হিসেবে চিহ্নিত শিবসাগর জেলার নেপালি খুটি গ্রামে ইতোমধ্যে প্রায় দুই শতাধিক বাড়ির নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছে। ধাপে ধাপে এসব বাড়ি তুলে দেওয়া হচ্ছে বন্যায় সর্বস্ব হারানো পরিবারগুলোর হাতে।
গোড়ার দিকে কেবল খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র বিতরণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল এই সহায়তা কার্যক্রম। তবে অভিনেতা রণদীপ হুদার নেতৃত্বাধীন একটি স্বেচ্ছাসেবী দলের ত্রাণকাজের দৃশ্য চোখে পড়ার পর সালমানের মনে হয়, শুধু সাময়িক ত্রাণে কাজ হবে না, প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসনের। এরপর পরিচিত এক ব্যক্তির মাধ্যমে রণদীপের সঙ্গে যোগাযোগ করে ঘরবাড়ি তৈরিতে সহযোগিতার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
গ্লোবাল শিখস সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা অমরপ্রীত সিং বলছেন, বন্যা মোকাবিলায় সক্ষম এসব বাড়ি তৈরি হচ্ছে বাঁশ ও টিনের কাঠামোয়। প্রতিটি বাড়ি বানাতে খরচ পড়ছে মোটামুটি পঁয়ত্রিশ থেকে চল্লিশ হাজার রুপির মতো। তার ভাষ্যমতে, পুরো পরিকল্পনার কথা শোনার পরপরই সালমান পাঁচশত ঘর তৈরির খরচ বহনের প্রতিশ্রুতি দেন।
অমরপ্রীত আরও জানান, কিছুদিন আগে সালমান নিজে ফোন করে জানিয়ে দেন, প্রয়োজনীয় সব সহযোগিতা তিনি করে যাবেন। এখন পর্যন্ত নেপালি খুটিতে প্রথম পর্বের বাড়িগুলোর নির্মাণ শেষ হয়েছে, আর দৈনিক গড়ে আট থেকে দশটি করে নতুন বাড়ি তৈরি হচ্ছে বলে জানান তিনি।
অন্যদিকে রণদীপ হুদা বলছেন, বিগত এক সপ্তাহ ধরে গ্লোবাল শিখসের স্বেচ্ছাসেবকদের সঙ্গে মিলে প্রতিদিন বন্যাদুর্গত মানুষের জন্য রান্না করা খাবার প্রস্তুত ও বিতরণের কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। তার কথায়, মানবতার চেয়ে বড় আর কিছু হতে পারে না, আর মানুষ বিপদে পড়লে যার যতটুকু সামর্থ্য আছে ততটুকু দিয়েই এগিয়ে আসা উচিত।
উল্লেখ্য, আসামের এবারের বন্যাকে গত ছয় দশকের মধ্যে অন্যতম ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে ধরা হচ্ছে। রাজ্যের বিস্তীর্ণ এলাকা এখনো পানির নিচে, ঘরবাড়ি হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাচ্ছে হাজারো পরিবার। এমন সংকটময় মুহূর্তে সালমানের এই পুনর্বাসন-উদ্যোগ দেশটির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও প্রশংসার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই বলছেন, তারকাখ্যাতি ব্যবহার করে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এই দৃষ্টান্ত অনুকরণীয়।
এর আগেও বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ কিংবা মানবিক সংকটে সালমানকে নীরবে-নিভৃতে সাহায্যের হাত বাড়াতে দেখা গেছে। তবে এবারের উদ্যোগটি ব্যাপ্তি ও পরিকল্পনার দিক থেকে অনেকটাই আলাদা, কারণ এখানে কেবল সাময়িক ত্রাণ নয়, বরং দীর্ঘস্থায়ী আশ্রয়ের ব্যবস্থা করার চেষ্টা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বন্যা-সহনশীল কাঠামোয় তৈরি এই বাড়িগুলো ভবিষ্যতে একই ধরনের দুর্যোগ মোকাবিলায় সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে।

Share this news as a Photo Card