শিরোনাম :
গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে ১১ দলের লংমার্চ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ২০ আগস্ট, ভোটগ্রহণের তারিখ আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হলো রাজধানীর নদী দূষণ রোধে কর্মপরিকল্পনার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর বিতর্কিত আয়ের পরিকল্পনা প্রত্যাহার করে ক্ষমা চাইলেন ফিফা প্রধান ক্ষেপণাস্ত্র মজুত নিয়ে উদ্বেগ উড়িয়ে দিলেন ট্রাম্প, ফাঁসকারীদের হুঁশিয়ারি জুলাই স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাকিব আল হাসানের মাগুরার বাড়িতে আগুন, পেট্রলবোমার বিস্ফোরণ এ মাসেই স্বাধীনতার দিন ঘোষণা দেড় দশকের শাসনের অবসান, পালিয়ে গেলেন শেখ হাসিনা ঢাকার তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রদল-ছাত্রশিবির সংঘর্ষ, থমথমে পরিস্থিতি

তেল কমালেই ট্রাইগ্লিসারাইড কমে না, জানুন আসল উপায়

রক্ত পরীক্ষার রিপোর্টে ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি দেখলে দুশ্চিন্তায় পড়েন অনেকেই। স্বাভাবিক ভাবেই এই উদ্বেগের একটা যুক্তিসঙ্গত কারণও রয়েছে। রক্তনালির ভেতরের দেওয়ালে ধীরে ধীরে জমতে থাকা এই চর্বি একসময় রক্ত চলাচলের পথ সংকীর্ণ করে দিতে পারে, এমনকি পুরোপুরি বন্ধও করে দিতে পারে। হৃদ্‌রোগ কিংবা মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত সমস্যার পেছনে এই বাড়তি ট্রাইগ্লিসারাইডের ভূমিকা থাকে বলে জানাচ্ছেন চিকিৎসকেরা। শুধু হৃদযন্ত্র নয়, কিডনির কার্যক্ষমতাতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। পাকস্থলীর আশপাশে জমে থাকা অতিরিক্ত চর্বি এবং যকৃতের ক্ষতির পেছনেও দায়ী থাকতে পারে এই উপাদান।
তবে অনেকের মধ্যেই একটা ভুল ধারণা কাজ করে—তেল-চর্বিযুক্ত খাবার বেশি খেলেই বুঝি ট্রাইগ্লিসারাইড বেড়ে যায়। বাস্তবতা কিন্তু সম্পূর্ণ ভিন্ন। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ব্যাখ্যা বলছে, মিষ্টিজাতীয় খাবার অতিরিক্ত পরিমাণে গ্রহণ করলে তা যকৃতে গিয়ে রূপান্তরিত হয়ে ট্রাইগ্লিসারাইড তৈরি করে। চিনি, মদ্যপান, কোমল পানীয়, প্যাকেটজাত ও প্রক্রিয়াজাত খাবার নিয়মিত ও অতিরিক্ত খাওয়ার অভ্যাস থাকলে এই মাত্রা বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। এ ছাড়া ডায়াবিটিস কিংবা থাইরয়েড গ্রন্থির কর্মক্ষমতা কমে যাওয়ার মতো অসুখের কারণেও ট্রাইগ্লিসারাইড বৃদ্ধি পেতে পারে। কিছু নির্দিষ্ট স্টেরয়েড-জাতীয় ওষুধ সেবনের ফলেও একই সমস্যা দেখা দিতে পারে।
তাহলে উপায় কী? চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, খাদ্যাভ্যাস আর জীবনযাত্রায় কিছু পরিবর্তন আনলেই এই মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
চিনি বাদ দিন তালিকা থেকে
সবার আগে মিষ্টি খাবার, কোমল পানীয়, বোতলজাত ফলের রস এবং বেকারিজাত খাবার এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। এসব খাবারে থাকা বাড়তি চিনি সরাসরি প্রভাব ফেলে ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রায়।
পরিশোধিত শর্করা ছেঁটে ফেলুন
সাদা পাউরুটি, সাদা চালের ভাত বা পাস্তার বদলে ওটস, লাল চালের ভাত কিংবা কিনোয়ার মতো খাবার প্রতিদিনের তালিকায় রাখা ভালো। এসব শস্যদানায় থাকা জটিল শর্করা রক্তে চর্বি জমার প্রবণতা কমায়।
সঠিক চর্বি বেছে নিন
সব ধরনের চর্বিই ক্ষতিকর নয়। ট্রান্স ফ্যাট এবং চর্বিযুক্ত মাংসের পরিবর্তে জলপাই তেল, অ্যাভোকাডো এবং বিভিন্ন বাদাম ও বীজজাতীয় খাবার অন্তর্ভুক্ত করা উপকারী। এসব উপাদানে থাকা উপকারী চর্বি হৃদযন্ত্রের সুরক্ষায় সহায়ক ভূমিকা রাখে।
ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ মাছ রাখুন খাদ্যতালিকায়
তৈলাক্ত মাছ যেমন কাতলা, বোয়াল কিংবা ইলিশ নিয়মিত খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুললে তা ট্রাইগ্লিসারাইড কমাতে সহায়তা করে। ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড রক্তনালির স্বাস্থ্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
আঁশযুক্ত খাবারের পরিমাণ বাড়ান
সালাদ, ডাল আর মৌসুমি শাকসব্জি বেশি পরিমাণে খাওয়ার পরামর্শ দেন পুষ্টিবিদেরা। আঁশজাতীয় খাবার হজমপ্রক্রিয়া স্বাভাবিক রাখার পাশাপাশি রক্তে চর্বি জমার হারও কমিয়ে আনে।
নিয়মিত হাঁটাচলার অভ্যাস গড়ুন
প্রতিদিন অন্তত আধঘণ্টা দ্রুত গতিতে হাঁটার পাশাপাশি সাইকেল চালানো, দৌড়ানো কিংবা সাঁতার কাটার মতো শারীরিক কসরত করলে শরীরে জমে থাকা বাড়তি চর্বি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসে।
ওজন কমানোর দিকে নজর দিন
শরীরের মোট ওজনের মাত্র পাঁচ থেকে দশ শতাংশ কমাতে পারলেই রিপোর্টে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন লক্ষ করা যায় বলে জানাচ্ছেন চিকিৎসকেরা।
মদ্যপান ও ধূমপান থেকে দূরে থাকুন
অ্যালকোহলে থাকা বাড়তি চিনি ও ক্যালোরি দ্রুত ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। একইভাবে ধূমপানের অভ্যাসও এই সমস্যাকে আরও জটিল করে তোলে।
চিকিৎসকদের মতে, শুধু তেল-চর্বি বাদ দেওয়াই যথেষ্ট নয়, বরং সামগ্রিক জীবনযাত্রা ও খাদ্যাভ্যাসে সুষম পরিবর্তন আনতে পারলেই রক্তপরীক্ষার রিপোর্টে সন্তোষজনক ফলাফল পাওয়া সম্ভব।

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

লোকসংগীত শিল্পী স্বাগত দে না ফেরার দেশে

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

ঢাকার তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রদল-ছাত্রশিবির সংঘর্ষ, থমথমে পরিস্থিতি

০৪ আগস্ট ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

তেল কমালেই ট্রাইগ্লিসারাইড কমে না, জানুন আসল উপায়

আপডেট সময় ০১:০৫:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬

রক্ত পরীক্ষার রিপোর্টে ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি দেখলে দুশ্চিন্তায় পড়েন অনেকেই। স্বাভাবিক ভাবেই এই উদ্বেগের একটা যুক্তিসঙ্গত কারণও রয়েছে। রক্তনালির ভেতরের দেওয়ালে ধীরে ধীরে জমতে থাকা এই চর্বি একসময় রক্ত চলাচলের পথ সংকীর্ণ করে দিতে পারে, এমনকি পুরোপুরি বন্ধও করে দিতে পারে। হৃদ্‌রোগ কিংবা মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত সমস্যার পেছনে এই বাড়তি ট্রাইগ্লিসারাইডের ভূমিকা থাকে বলে জানাচ্ছেন চিকিৎসকেরা। শুধু হৃদযন্ত্র নয়, কিডনির কার্যক্ষমতাতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। পাকস্থলীর আশপাশে জমে থাকা অতিরিক্ত চর্বি এবং যকৃতের ক্ষতির পেছনেও দায়ী থাকতে পারে এই উপাদান।
তবে অনেকের মধ্যেই একটা ভুল ধারণা কাজ করে—তেল-চর্বিযুক্ত খাবার বেশি খেলেই বুঝি ট্রাইগ্লিসারাইড বেড়ে যায়। বাস্তবতা কিন্তু সম্পূর্ণ ভিন্ন। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ব্যাখ্যা বলছে, মিষ্টিজাতীয় খাবার অতিরিক্ত পরিমাণে গ্রহণ করলে তা যকৃতে গিয়ে রূপান্তরিত হয়ে ট্রাইগ্লিসারাইড তৈরি করে। চিনি, মদ্যপান, কোমল পানীয়, প্যাকেটজাত ও প্রক্রিয়াজাত খাবার নিয়মিত ও অতিরিক্ত খাওয়ার অভ্যাস থাকলে এই মাত্রা বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। এ ছাড়া ডায়াবিটিস কিংবা থাইরয়েড গ্রন্থির কর্মক্ষমতা কমে যাওয়ার মতো অসুখের কারণেও ট্রাইগ্লিসারাইড বৃদ্ধি পেতে পারে। কিছু নির্দিষ্ট স্টেরয়েড-জাতীয় ওষুধ সেবনের ফলেও একই সমস্যা দেখা দিতে পারে।
তাহলে উপায় কী? চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, খাদ্যাভ্যাস আর জীবনযাত্রায় কিছু পরিবর্তন আনলেই এই মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
চিনি বাদ দিন তালিকা থেকে
সবার আগে মিষ্টি খাবার, কোমল পানীয়, বোতলজাত ফলের রস এবং বেকারিজাত খাবার এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। এসব খাবারে থাকা বাড়তি চিনি সরাসরি প্রভাব ফেলে ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রায়।
পরিশোধিত শর্করা ছেঁটে ফেলুন
সাদা পাউরুটি, সাদা চালের ভাত বা পাস্তার বদলে ওটস, লাল চালের ভাত কিংবা কিনোয়ার মতো খাবার প্রতিদিনের তালিকায় রাখা ভালো। এসব শস্যদানায় থাকা জটিল শর্করা রক্তে চর্বি জমার প্রবণতা কমায়।
সঠিক চর্বি বেছে নিন
সব ধরনের চর্বিই ক্ষতিকর নয়। ট্রান্স ফ্যাট এবং চর্বিযুক্ত মাংসের পরিবর্তে জলপাই তেল, অ্যাভোকাডো এবং বিভিন্ন বাদাম ও বীজজাতীয় খাবার অন্তর্ভুক্ত করা উপকারী। এসব উপাদানে থাকা উপকারী চর্বি হৃদযন্ত্রের সুরক্ষায় সহায়ক ভূমিকা রাখে।
ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ মাছ রাখুন খাদ্যতালিকায়
তৈলাক্ত মাছ যেমন কাতলা, বোয়াল কিংবা ইলিশ নিয়মিত খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুললে তা ট্রাইগ্লিসারাইড কমাতে সহায়তা করে। ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড রক্তনালির স্বাস্থ্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
আঁশযুক্ত খাবারের পরিমাণ বাড়ান
সালাদ, ডাল আর মৌসুমি শাকসব্জি বেশি পরিমাণে খাওয়ার পরামর্শ দেন পুষ্টিবিদেরা। আঁশজাতীয় খাবার হজমপ্রক্রিয়া স্বাভাবিক রাখার পাশাপাশি রক্তে চর্বি জমার হারও কমিয়ে আনে।
নিয়মিত হাঁটাচলার অভ্যাস গড়ুন
প্রতিদিন অন্তত আধঘণ্টা দ্রুত গতিতে হাঁটার পাশাপাশি সাইকেল চালানো, দৌড়ানো কিংবা সাঁতার কাটার মতো শারীরিক কসরত করলে শরীরে জমে থাকা বাড়তি চর্বি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসে।
ওজন কমানোর দিকে নজর দিন
শরীরের মোট ওজনের মাত্র পাঁচ থেকে দশ শতাংশ কমাতে পারলেই রিপোর্টে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন লক্ষ করা যায় বলে জানাচ্ছেন চিকিৎসকেরা।
মদ্যপান ও ধূমপান থেকে দূরে থাকুন
অ্যালকোহলে থাকা বাড়তি চিনি ও ক্যালোরি দ্রুত ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। একইভাবে ধূমপানের অভ্যাসও এই সমস্যাকে আরও জটিল করে তোলে।
চিকিৎসকদের মতে, শুধু তেল-চর্বি বাদ দেওয়াই যথেষ্ট নয়, বরং সামগ্রিক জীবনযাত্রা ও খাদ্যাভ্যাসে সুষম পরিবর্তন আনতে পারলেই রক্তপরীক্ষার রিপোর্টে সন্তোষজনক ফলাফল পাওয়া সম্ভব।

Share this news as a Photo Card