পেটের দীর্ঘস্থায়ী রোগ ধরা পড়বে যে চারটি পরীক্ষায়

রাস্তার ধারের ফুচকা-চটপটি বা ভাজাপোড়া দেখলেই না খেয়ে থাকতে পারেন না অনেকে। ফল হিসেবে আসে অম্বল, পেটব্যথা আর বুক জ্বালাপোড়ার সমস্যা। বাংলাদেশে ভোজনরসিক মানুষের সংখ্যা কম নয়, আর তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে গ্যাস্ট্রিক-অম্বলের অভিযোগও। যারা খাদ্যাভ্যাসে নিয়ন্ত্রণ রাখেন না, তারা যেমন যা খুশি খান, তেমনি ওষুধের ওপরও ক্রমশ নির্ভরশীল হয়ে পড়েন। এতে সমস্যা কমার বদলে বাড়ে, আর অনেকেই পড়েন দীর্ঘস্থায়ী পেটের রোগে। বারবার অ্যান্টিবায়োটিক সেবনের কারণে একসময় ওষুধও কার্যকারিতা হারিয়ে ফেলে।
অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে অনেকেই প্রোবায়োটিক, বিশেষ খাদ্যতালিকা বা সাপ্লিমেন্টের ওপর ভরসা করেন। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, উপসর্গ দীর্ঘদিন ধরে থাকলে শুধু অনুমানের ভিত্তিতে চিকিৎসা না করে রোগের প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করা জরুরি। ডায়াবেটিস পরীক্ষার তালিকা অনেকেরই মুখস্থ থাকলেও, পেটের অসুখ নির্ণয়ে ঠিক কোন পরীক্ষাগুলো করা দরকার, তা অনেকেরই অজানা।
গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজিস্টরা অন্ত্রের স্বাস্থ্য পরীক্ষার ক্ষেত্রে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার কথা বলে থাকেন। কী কী সেই পরীক্ষা, দেখে নেওয়া যাক।
ফিক্যাল ক্যালপ্রোটেক্টিন: মলের নমুনা পরীক্ষা করে বোঝা যায় অন্ত্রে কোনো প্রদাহ আছে কিনা। ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম (আইবিএস)-এর মতো সমস্যা শনাক্তেও এই পরীক্ষা কার্যকর।
টিটিজি আইজিএ: এই রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে সিলিয়াক রোগ ধরা পড়ে। গমজাতীয় খাবারের গ্লুটেন প্রোটিনে অ্যালার্জির কারণে যাদের ক্ষুদ্রান্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং পুষ্টি শোষণে সমস্যা তৈরি হয়, তাদের ক্ষেত্রে এই পরীক্ষা বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক।
এইচ পাইলোরি ব্রিদ টেস্ট: কোনো অস্ত্রোপচার ছাড়াই এই পরীক্ষার মাধ্যমে গ্যাস্ট্রাইটিস, আলসার ও দীর্ঘমেয়াদি পাকস্থলীর সমস্যার জন্য দায়ী ব্যাকটেরিয়া শনাক্ত করা যায়। উন্নয়নশীল দেশগুলোতে অপরিচ্ছন্ন পানি ও খাদ্যের কারণে এই সংক্রমণের প্রকোপ তুলনামূলক বেশি, আর বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়—দেশের হাসপাতালগুলোতে গ্যাস্ট্রিক আলসার ও পাকস্থলীর সমস্যার একটি বড় অংশের পেছনে এই ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ দায়ী বলে চিকিৎসকরা জানান।
প্যানক্রিয়াটিক স্টুল ইলাস্টেস: এই মল পরীক্ষার মাধ্যমে বোঝা যায়, শরীর খাবার ঠিকমতো হজম করতে পারছে কিনা। চর্বি, আমিষ ও শর্করা ভাঙতে অগ্ন্যাশয় পর্যাপ্ত উৎসেচক তৈরি করছে কিনা, তা এই পরীক্ষায় যাচাই করা হয়।
চিকিৎসকদের পরামর্শ, দীর্ঘদিনের গ্যাস্ট্রিক বা পেটের সমস্যা নিয়ে ঘরোয়া টোটকা বা নিজে থেকে ওষুধ খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে উপযুক্ত পরীক্ষা করানো উচিত। এতে রোগের প্রকৃত কারণ জানা যায় এবং অহেতুক ওষুধ সেবনের প্রবণতাও কমে।

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

মানুষের দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণে প্রকল্প নেওয়ার নির্দেশ মির্জা ফখরুলের

২৯ জুলাই ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

পেটের দীর্ঘস্থায়ী রোগ ধরা পড়বে যে চারটি পরীক্ষায়

আপডেট সময় ১২:১৫:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬

রাস্তার ধারের ফুচকা-চটপটি বা ভাজাপোড়া দেখলেই না খেয়ে থাকতে পারেন না অনেকে। ফল হিসেবে আসে অম্বল, পেটব্যথা আর বুক জ্বালাপোড়ার সমস্যা। বাংলাদেশে ভোজনরসিক মানুষের সংখ্যা কম নয়, আর তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে গ্যাস্ট্রিক-অম্বলের অভিযোগও। যারা খাদ্যাভ্যাসে নিয়ন্ত্রণ রাখেন না, তারা যেমন যা খুশি খান, তেমনি ওষুধের ওপরও ক্রমশ নির্ভরশীল হয়ে পড়েন। এতে সমস্যা কমার বদলে বাড়ে, আর অনেকেই পড়েন দীর্ঘস্থায়ী পেটের রোগে। বারবার অ্যান্টিবায়োটিক সেবনের কারণে একসময় ওষুধও কার্যকারিতা হারিয়ে ফেলে।
অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে অনেকেই প্রোবায়োটিক, বিশেষ খাদ্যতালিকা বা সাপ্লিমেন্টের ওপর ভরসা করেন। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, উপসর্গ দীর্ঘদিন ধরে থাকলে শুধু অনুমানের ভিত্তিতে চিকিৎসা না করে রোগের প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করা জরুরি। ডায়াবেটিস পরীক্ষার তালিকা অনেকেরই মুখস্থ থাকলেও, পেটের অসুখ নির্ণয়ে ঠিক কোন পরীক্ষাগুলো করা দরকার, তা অনেকেরই অজানা।
গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজিস্টরা অন্ত্রের স্বাস্থ্য পরীক্ষার ক্ষেত্রে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার কথা বলে থাকেন। কী কী সেই পরীক্ষা, দেখে নেওয়া যাক।
ফিক্যাল ক্যালপ্রোটেক্টিন: মলের নমুনা পরীক্ষা করে বোঝা যায় অন্ত্রে কোনো প্রদাহ আছে কিনা। ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম (আইবিএস)-এর মতো সমস্যা শনাক্তেও এই পরীক্ষা কার্যকর।
টিটিজি আইজিএ: এই রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে সিলিয়াক রোগ ধরা পড়ে। গমজাতীয় খাবারের গ্লুটেন প্রোটিনে অ্যালার্জির কারণে যাদের ক্ষুদ্রান্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং পুষ্টি শোষণে সমস্যা তৈরি হয়, তাদের ক্ষেত্রে এই পরীক্ষা বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক।
এইচ পাইলোরি ব্রিদ টেস্ট: কোনো অস্ত্রোপচার ছাড়াই এই পরীক্ষার মাধ্যমে গ্যাস্ট্রাইটিস, আলসার ও দীর্ঘমেয়াদি পাকস্থলীর সমস্যার জন্য দায়ী ব্যাকটেরিয়া শনাক্ত করা যায়। উন্নয়নশীল দেশগুলোতে অপরিচ্ছন্ন পানি ও খাদ্যের কারণে এই সংক্রমণের প্রকোপ তুলনামূলক বেশি, আর বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়—দেশের হাসপাতালগুলোতে গ্যাস্ট্রিক আলসার ও পাকস্থলীর সমস্যার একটি বড় অংশের পেছনে এই ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ দায়ী বলে চিকিৎসকরা জানান।
প্যানক্রিয়াটিক স্টুল ইলাস্টেস: এই মল পরীক্ষার মাধ্যমে বোঝা যায়, শরীর খাবার ঠিকমতো হজম করতে পারছে কিনা। চর্বি, আমিষ ও শর্করা ভাঙতে অগ্ন্যাশয় পর্যাপ্ত উৎসেচক তৈরি করছে কিনা, তা এই পরীক্ষায় যাচাই করা হয়।
চিকিৎসকদের পরামর্শ, দীর্ঘদিনের গ্যাস্ট্রিক বা পেটের সমস্যা নিয়ে ঘরোয়া টোটকা বা নিজে থেকে ওষুধ খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে উপযুক্ত পরীক্ষা করানো উচিত। এতে রোগের প্রকৃত কারণ জানা যায় এবং অহেতুক ওষুধ সেবনের প্রবণতাও কমে।

Share this news as a Photo Card