শিরোনাম :
ঢাকার তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রদল-ছাত্রশিবির সংঘর্ষ, থমথমে পরিস্থিতি ঢাকা কলেজে শিবির-ছাত্রদল সংঘর্ষে আহত অন্তত ২৭ জুলাই আন্দোলনের স্মরণে আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ডিসেম্বরের মধ্যেই দেশের সব কৃষকের তালিকা করার নির্দেশ গুলিবিদ্ধ শাকিলের ফিরে আসার গল্প, এখনো থামেনি কষ্ট হাম চিকিৎসায় ঋণে জর্জরিত দেশের অধিকাংশ পরিবার জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সৌরশক্তি বাড়াতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা স্থানীয় নির্বাচনে সরকারের সুস্পষ্ট নির্দেশনা পায়নি ইসি পঞ্চগড়ে মাইকে ঘোষণা দিয়ে চা বাগান দখলচেষ্টার অভিযোগ আওয়ামী লীগের নাশকতার সক্ষমতা নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ঢাকার তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রদল-ছাত্রশিবির সংঘর্ষ, থমথমে পরিস্থিতি

রাজধানীর তিনটি পৃথক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মঙ্গলবার জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসা, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা কলেজ—এই তিন জায়গায় একই দিনে দুই ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীরা মুখোমুখি অবস্থান নেন, যার জেরে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে দিনভর উত্তেজনা বিরাজ করে।

সবচেয়ে গুরুতর সংঘর্ষটি ঘটে ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসা এলাকায়, যেখানে হলের সিট দখলকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের বিরোধ ধীরে ধীরে সহিংসতায় রূপ নেয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, মঙ্গলবার দুপুরের পর থেকেই আলিয়া মাদ্রাসা শাখার ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা লক্ষ করা যাচ্ছিল। বেলা পৌনে ৪টার দিকে ন্যাশনাল মেডিকেলের সামনে প্রথম দফায় সংঘর্ষ শুরু হয়। কিছুক্ষণ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলেও সাড়ে ৪টার দিকে ফের দুই পক্ষ মুখোমুখি হয়ে ওঠে এবং একের পর এক ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। পুলিশের উপস্থিতির মধ্যেই এই সংঘর্ষ ঘটায় এলাকাজুড়ে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

সংঘর্ষের কারণ নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে ভিন্নতা দেখা গেছে। ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের দাবি, হলের সিট বেআইনিভাবে দখলের প্রতিবাদ জানানোর জেরেই তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। অন্যদিকে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে বলা হয়, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিকল্পিতভাবে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করার ধারাবাহিকতায়ই আলিয়া মাদ্রাসার এই ঘটনা ঘটেছে। দুই পক্ষের এই পারস্পরিক অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের মধ্যে প্রকৃত সত্য নিরূপণ এখনো অস্পষ্ট থেকে যাচ্ছে।

এ বিষয়ে চকবাজার থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, হলের সিট দখলকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার দুপুর ২টার পর থেকেই দুই ছাত্রসংগঠনের কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। কিছু সময়ের জন্য পরিস্থিতি শান্ত থাকলেও বিকাল ৪টার দিকে তা আবার উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং এরপর কয়েক দফা থেমে থেমে সংঘর্ষ চলতে থাকে। পুলিশ দুই পক্ষের মাঝখানে অবস্থান নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে বলে তিনি জানান।

একই দিন সকালে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনেও অনুরূপ উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠান চলাকালে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় পালটাপালটি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে, যা একপর্যায়ে সরাসরি সংঘর্ষে গড়ায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে হস্তক্ষেপ করতে হয়, যার পর ধীরে ধীরে পরিবেশ স্বাভাবিক হয়ে আসে।

প্রায় একই সময়ে ঢাকা কলেজ প্রাঙ্গণেও দুই সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এই ঘটনায় উভয়পক্ষের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে, যদিও হতাহতের বিস্তারিত তথ্য এখনো সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

তিনটি প্রতিষ্ঠানেই ছাত্র রাজনীতির দুই প্রতিদ্বন্দ্বী সংগঠনের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার একটি সাধারণ চিত্র ফুটে উঠেছে, যা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাভাবিক কার্যক্রমে প্রভাব ফেলার আশঙ্কা তৈরি করেছে। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত আলিয়া মাদ্রাসা এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছিল। সংঘর্ষ সাময়িকভাবে থেমে গেলেও গোটা এলাকায় থমথমে ও উত্তেজনাপূর্ণ পরিবেশ বিরাজ করছিল এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সতর্ক অবস্থানে দেখা গেছে। পরিস্থিতি পুনরায় অবনতির শঙ্কায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরবর্তী সময়েও নজরদারি অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা গেছে।

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

ঢাকার তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রদল-ছাত্রশিবির সংঘর্ষ, থমথমে পরিস্থিতি

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

আওয়ামী লীগের নাশকতার সক্ষমতা নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

০৩ আগস্ট ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

ঢাকার তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রদল-ছাত্রশিবির সংঘর্ষ, থমথমে পরিস্থিতি

আপডেট সময় ০৭:০৬:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬

রাজধানীর তিনটি পৃথক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মঙ্গলবার জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসা, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা কলেজ—এই তিন জায়গায় একই দিনে দুই ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীরা মুখোমুখি অবস্থান নেন, যার জেরে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে দিনভর উত্তেজনা বিরাজ করে।

সবচেয়ে গুরুতর সংঘর্ষটি ঘটে ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসা এলাকায়, যেখানে হলের সিট দখলকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের বিরোধ ধীরে ধীরে সহিংসতায় রূপ নেয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, মঙ্গলবার দুপুরের পর থেকেই আলিয়া মাদ্রাসা শাখার ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা লক্ষ করা যাচ্ছিল। বেলা পৌনে ৪টার দিকে ন্যাশনাল মেডিকেলের সামনে প্রথম দফায় সংঘর্ষ শুরু হয়। কিছুক্ষণ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলেও সাড়ে ৪টার দিকে ফের দুই পক্ষ মুখোমুখি হয়ে ওঠে এবং একের পর এক ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। পুলিশের উপস্থিতির মধ্যেই এই সংঘর্ষ ঘটায় এলাকাজুড়ে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

সংঘর্ষের কারণ নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে ভিন্নতা দেখা গেছে। ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের দাবি, হলের সিট বেআইনিভাবে দখলের প্রতিবাদ জানানোর জেরেই তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। অন্যদিকে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে বলা হয়, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিকল্পিতভাবে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করার ধারাবাহিকতায়ই আলিয়া মাদ্রাসার এই ঘটনা ঘটেছে। দুই পক্ষের এই পারস্পরিক অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের মধ্যে প্রকৃত সত্য নিরূপণ এখনো অস্পষ্ট থেকে যাচ্ছে।

এ বিষয়ে চকবাজার থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, হলের সিট দখলকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার দুপুর ২টার পর থেকেই দুই ছাত্রসংগঠনের কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। কিছু সময়ের জন্য পরিস্থিতি শান্ত থাকলেও বিকাল ৪টার দিকে তা আবার উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং এরপর কয়েক দফা থেমে থেমে সংঘর্ষ চলতে থাকে। পুলিশ দুই পক্ষের মাঝখানে অবস্থান নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে বলে তিনি জানান।

একই দিন সকালে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনেও অনুরূপ উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠান চলাকালে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় পালটাপালটি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে, যা একপর্যায়ে সরাসরি সংঘর্ষে গড়ায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে হস্তক্ষেপ করতে হয়, যার পর ধীরে ধীরে পরিবেশ স্বাভাবিক হয়ে আসে।

প্রায় একই সময়ে ঢাকা কলেজ প্রাঙ্গণেও দুই সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এই ঘটনায় উভয়পক্ষের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে, যদিও হতাহতের বিস্তারিত তথ্য এখনো সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

তিনটি প্রতিষ্ঠানেই ছাত্র রাজনীতির দুই প্রতিদ্বন্দ্বী সংগঠনের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার একটি সাধারণ চিত্র ফুটে উঠেছে, যা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাভাবিক কার্যক্রমে প্রভাব ফেলার আশঙ্কা তৈরি করেছে। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত আলিয়া মাদ্রাসা এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছিল। সংঘর্ষ সাময়িকভাবে থেমে গেলেও গোটা এলাকায় থমথমে ও উত্তেজনাপূর্ণ পরিবেশ বিরাজ করছিল এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সতর্ক অবস্থানে দেখা গেছে। পরিস্থিতি পুনরায় অবনতির শঙ্কায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরবর্তী সময়েও নজরদারি অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা গেছে।

Share this news as a Photo Card