নেইমারকে ‘জোকার’ বললেন রেমো সভাপতি

কোপা দো ব্রাজিলের শেষ ষোলোর দ্বৈরথে সান্তোসের বিপক্ষে হেরে প্রতিযোগিতা থেকে ছিটকে গেছে ক্লুব দো রেমো। তবে মাঠের লড়াইয়ের চেয়ে বেশি আলোচনায় উঠে এসেছে ম্যাচ শেষে নেইমারের আচরণ ও উদযাপনের ধরন। তার মন্তব্য ও অঙ্গভঙ্গিতে চটেছেন রেমোর কর্মকর্তা থেকে শুরু করে সমর্থকরাও। ক্ষোভ প্রকাশ করতে ছাড়েননি খোদ ক্লাবের সভাপতি অ্যান্তোনিও কার্লোস টেক্সেইরা, যিনি জনসমক্ষেই ব্রাজিলিয়ান তারকাকে ‘জোকার’ বলে আক্রমণ করেছেন।
ম্যাচ শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে টনহাও নামে পরিচিত এই কর্মকর্তা বলেন, সান্তোসের এমন উসকানিমূলক আচরণের কোনো দরকারই ছিল না। তার ভাষায়, নেইমারকে অসংখ্য শিশু নিজেদের আদর্শ মনে করে, অথচ তিনি এসে দর্শকদের খেপিয়ে তুলেছেন। এমন কাণ্ড তার মতো বিখ্যাত একজনের কাছ থেকে কেউ আশা করে না। এমনকি তিনি এমনও মন্তব্য করেন যে, এ ধরনের ব্যক্তিদের আদর্শ হিসেবে বেছে নেওয়াটাই বোধহয় বড় ভুল।
পুরো ঘটনার শুরু অবশ্য মাঠের লড়াই শুরুর আগেই। দ্বিতীয় লেগের ম্যাচের আগে অনুশীলন চলাকালে নেইমারকে লক্ষ্য করে দুয়ো দিতে শুরু করেন রেমোর সমর্থকরা। গ্যালারি থেকে বারবার ভেসে আসে তাকে উদ্দেশ করে কটূক্তিমূলক স্লোগান। যদিও তখন কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাননি সাবেক পিএসজি ও বার্সেলোনা তারকা, বরং শুধু হাত নেড়ে গোটা বিষয়টি এড়িয়ে যান তিনি।
মাঠের খেলায় অবশ্য নিজের ভূমিকা ঠিকই রেখেছেন এই ফরোয়ার্ড। দ্বিতীয়ার্ধে বদলি হিসেবে নামার পর সান্তোসের একমাত্র গোলটি তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন তিনি। ম্যাচের ৭৪ মিনিটে রুনির গোলে অ্যাসিস্ট করলেও তখন কোনো বাড়তি উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেননি নেইমার। তবে খেলা শেষ হওয়ার পরই বদলে যায় দৃশ্যপট, দর্শকদের দিকে ফিরে সরাসরি জবাব দিতে শুরু করেন তিনি।
রেফারির শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই মাঠ ছাড়ার সময় গ্যালারির দিকে তাকিয়ে কিছু একটা বলেন নেইমার। এরপর দুই হাত উঁচিয়ে নাচের ভঙ্গিতে বারবার বলতে থাকেন যে প্রতিপক্ষ দল বিদায় নিয়েছে, তাদের যাত্রা এখানেই শেষ। এই আচরণে আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠেন রেমোর সমর্থক ও কর্মকর্তারা। মিক্সড জোনে দুই পক্ষের মধ্যে তৈরি হয় চরম উত্তেজনা, সেখানে কয়েকজন কর্মকর্তা আপত্তিকর অঙ্গভঙ্গিও করেন বলে জানা গেছে। পরিস্থিতি আরও ঘোরালো হয় যখন স্টেডিয়াম ছেড়ে গাড়িতে ওঠার সময় নেইমারের গাড়িকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখান ক্ষুব্ধ সমর্থকরা।
মাঠের বাইরের এই নাটকীয়তার মাঝেও দলের জয় নিশ্চিত করতে ভুল করেনি সান্তোস। এই জয়ের সুবাদে কোপা দো ব্রাজিলের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা পাকা করে ফেলেছে ক্লাবটি। যদিও ম্যাচের একদম শেষদিকে গোলরক্ষককে একা পেয়েও নিজে বল জালে জড়াতে ব্যর্থ হন নেইমার। তারপরও তার অসাধারণ অ্যাসিস্টের কল্যাণেই ১-০ ব্যবধানের জয় নিয়ে শেষ আটে জায়গা করে নেয় সান্তোস।
ব্রাজিলিয়ান ফুটবলে বরাবরই বিতর্কের সঙ্গী হয়ে থাকা নেইমার এবারও প্রমাণ করলেন, মাঠের বাইরের ঘটনাও তার নামের সঙ্গে সমানভাবে জড়িয়ে থাকে। প্রতিপক্ষ সমর্থক কিংবা ক্লাব কর্মকর্তা, কারও প্রতিক্রিয়াই থামাতে পারেনি এই তারকার নিজস্ব ভঙ্গিতে উদযাপনের অভ্যাস। তবে এই ঘটনার রেশ কতদূর গড়ায় এবং দুই পক্ষের সম্পর্কে এর কী প্রভাব পড়ে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

স্থানীয় নির্বাচনে সরকারের সুস্পষ্ট নির্দেশনা পায়নি ইসি

০৩ আগস্ট ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

নেইমারকে ‘জোকার’ বললেন রেমো সভাপতি

আপডেট সময় ০৩:০৩:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬

কোপা দো ব্রাজিলের শেষ ষোলোর দ্বৈরথে সান্তোসের বিপক্ষে হেরে প্রতিযোগিতা থেকে ছিটকে গেছে ক্লুব দো রেমো। তবে মাঠের লড়াইয়ের চেয়ে বেশি আলোচনায় উঠে এসেছে ম্যাচ শেষে নেইমারের আচরণ ও উদযাপনের ধরন। তার মন্তব্য ও অঙ্গভঙ্গিতে চটেছেন রেমোর কর্মকর্তা থেকে শুরু করে সমর্থকরাও। ক্ষোভ প্রকাশ করতে ছাড়েননি খোদ ক্লাবের সভাপতি অ্যান্তোনিও কার্লোস টেক্সেইরা, যিনি জনসমক্ষেই ব্রাজিলিয়ান তারকাকে ‘জোকার’ বলে আক্রমণ করেছেন।
ম্যাচ শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে টনহাও নামে পরিচিত এই কর্মকর্তা বলেন, সান্তোসের এমন উসকানিমূলক আচরণের কোনো দরকারই ছিল না। তার ভাষায়, নেইমারকে অসংখ্য শিশু নিজেদের আদর্শ মনে করে, অথচ তিনি এসে দর্শকদের খেপিয়ে তুলেছেন। এমন কাণ্ড তার মতো বিখ্যাত একজনের কাছ থেকে কেউ আশা করে না। এমনকি তিনি এমনও মন্তব্য করেন যে, এ ধরনের ব্যক্তিদের আদর্শ হিসেবে বেছে নেওয়াটাই বোধহয় বড় ভুল।
পুরো ঘটনার শুরু অবশ্য মাঠের লড়াই শুরুর আগেই। দ্বিতীয় লেগের ম্যাচের আগে অনুশীলন চলাকালে নেইমারকে লক্ষ্য করে দুয়ো দিতে শুরু করেন রেমোর সমর্থকরা। গ্যালারি থেকে বারবার ভেসে আসে তাকে উদ্দেশ করে কটূক্তিমূলক স্লোগান। যদিও তখন কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাননি সাবেক পিএসজি ও বার্সেলোনা তারকা, বরং শুধু হাত নেড়ে গোটা বিষয়টি এড়িয়ে যান তিনি।
মাঠের খেলায় অবশ্য নিজের ভূমিকা ঠিকই রেখেছেন এই ফরোয়ার্ড। দ্বিতীয়ার্ধে বদলি হিসেবে নামার পর সান্তোসের একমাত্র গোলটি তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন তিনি। ম্যাচের ৭৪ মিনিটে রুনির গোলে অ্যাসিস্ট করলেও তখন কোনো বাড়তি উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেননি নেইমার। তবে খেলা শেষ হওয়ার পরই বদলে যায় দৃশ্যপট, দর্শকদের দিকে ফিরে সরাসরি জবাব দিতে শুরু করেন তিনি।
রেফারির শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই মাঠ ছাড়ার সময় গ্যালারির দিকে তাকিয়ে কিছু একটা বলেন নেইমার। এরপর দুই হাত উঁচিয়ে নাচের ভঙ্গিতে বারবার বলতে থাকেন যে প্রতিপক্ষ দল বিদায় নিয়েছে, তাদের যাত্রা এখানেই শেষ। এই আচরণে আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠেন রেমোর সমর্থক ও কর্মকর্তারা। মিক্সড জোনে দুই পক্ষের মধ্যে তৈরি হয় চরম উত্তেজনা, সেখানে কয়েকজন কর্মকর্তা আপত্তিকর অঙ্গভঙ্গিও করেন বলে জানা গেছে। পরিস্থিতি আরও ঘোরালো হয় যখন স্টেডিয়াম ছেড়ে গাড়িতে ওঠার সময় নেইমারের গাড়িকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখান ক্ষুব্ধ সমর্থকরা।
মাঠের বাইরের এই নাটকীয়তার মাঝেও দলের জয় নিশ্চিত করতে ভুল করেনি সান্তোস। এই জয়ের সুবাদে কোপা দো ব্রাজিলের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা পাকা করে ফেলেছে ক্লাবটি। যদিও ম্যাচের একদম শেষদিকে গোলরক্ষককে একা পেয়েও নিজে বল জালে জড়াতে ব্যর্থ হন নেইমার। তারপরও তার অসাধারণ অ্যাসিস্টের কল্যাণেই ১-০ ব্যবধানের জয় নিয়ে শেষ আটে জায়গা করে নেয় সান্তোস।
ব্রাজিলিয়ান ফুটবলে বরাবরই বিতর্কের সঙ্গী হয়ে থাকা নেইমার এবারও প্রমাণ করলেন, মাঠের বাইরের ঘটনাও তার নামের সঙ্গে সমানভাবে জড়িয়ে থাকে। প্রতিপক্ষ সমর্থক কিংবা ক্লাব কর্মকর্তা, কারও প্রতিক্রিয়াই থামাতে পারেনি এই তারকার নিজস্ব ভঙ্গিতে উদযাপনের অভ্যাস। তবে এই ঘটনার রেশ কতদূর গড়ায় এবং দুই পক্ষের সম্পর্কে এর কী প্রভাব পড়ে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

Share this news as a Photo Card