আর্জেন্টাইন তারকা লিওনেল মেসির বাবা ও দীর্ঘদিনের এজেন্ট হোর্হে মেসির প্রয়াণের একদিন পরই মাঠে নেমে আবেগঘন এক মুহূর্তের জন্ম দিলেন রদ্রিগো দে পল। মন্টেরির বিপক্ষে লিগস কাপের গ্রুপ পর্বের ম্যাচে ইন্টার মিয়ামির জার্সিতে দুর্দান্ত এক গোল করে প্রয়াত হোর্হেকে শ্রদ্ধা জানান তিনি।
আর্জেন্টিনার রোজারিও শহরে ৬৮ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন হোর্হে মেসি। পরিবারের পাশে থাকতে তড়িঘড়ি স্বদেশে ফিরে যান লিওনেল মেসি, ফলে দলের গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে খেলা হয়নি তার। তবে মাঠের বাইরে থেকেও যেন উপস্থিত ছিলেন তিনি— বন্ধু দে পলের কীর্তিতে।
ম্যাচের একপর্যায়ে বক্সের বাইরে থেকে দুরন্ত এক শটে বল জালে জড়ান দে পল। গোলের আনন্দে মাতোয়ারা না হয়ে সরাসরি ছুটে যান কর্নার ফ্ল্যাগের দিকে। এরপর নিজের জার্সি তুলে দেখান ভেতরে পরে থাকা মেসির চিরচেনা ১০ নম্বর জার্সিটি। ধারণা করা হচ্ছে, গোল পেলে এভাবেই শ্রদ্ধা জানানোর পরিকল্পনা আগে থেকেই সাজিয়ে রেখেছিলেন তিনি।
মাঠের বাইরের এই মুহূর্তটি নিমেষেই ছুঁয়ে যায় ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয়। কারণ দে পল ও মেসির বন্ধুত্বের শিকড় অনেক গভীরে। ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপ জয়ী আর্জেন্টিনা দলে একসঙ্গে খেলেছিলেন দুজন। এরপর দে পল যখন যুক্তরাষ্ট্রের ক্লাব ইন্টার মিয়ামিতে যোগ দেন, তখন তাদের সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়ে ওঠে। সবশেষ ২০২৬ বিশ্বকাপেও পাশাপাশি লড়েছেন তারা, যদিও শিরোপার লড়াইয়ে রানার্সআপ হয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয় আলবিসেলেস্তেদের।
হোর্হে মেসি কেবল একজন বাবাই ছিলেন না, ছেলের ফুটবল জীবনের ভিত গড়ে দেওয়ার পেছনেও তার অবদান অনস্বীকার্য। কিশোর বয়সে মেসিকে বার্সেলোনার ট্রায়ালে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তটি নিয়েছিলেন তিনিই, যা পরবর্তীতে খুলে দেয় লা মাসিয়ার দরজা। সেখান থেকেই বিশ্বসেরা হয়ে ওঠার পথে যাত্রা শুরু হয় ছোট্ট মেসির। ক্যারিয়ারের বিভিন্ন পর্যায়ে ছেলের এজেন্ট হিসেবেও দায়িত্ব সামলেছেন হোর্হে, থেকেছেন প্রতিটি বড় সিদ্ধান্তের নেপথ্যে।
কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়ের অনুপস্থিতিতে কঠিন এক ম্যাচ খেলতে নামা ইন্টার মিয়ামির জন্য দে পলের এই গোল ছিল স্বস্তির। কিন্তু গোলের পর তার মনে প্রথমে যা এসেছিল, তা জয়ের হিসেব নয়— বরং দূরে থাকা প্রিয় বন্ধু ও তার শোকার্ত পরিবারের কথা। এক নীরব অথচ শক্তিশালী বার্তায় সতীর্থের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করেন তিনি, যা মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।
ফুটবল বিশ্বজুড়ে অসংখ্য ভক্ত-সমর্থক এই দৃশ্যকে ব্যাখ্যা করছেন বন্ধুত্ব ও মানবিকতার এক অনন্য উদাহরণ হিসেবে। মাঠের প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঊর্ধ্বে গিয়ে সতীর্থের ব্যক্তিগত শোকের প্রতি সম্মান জানানোর এই ভঙ্গি নতুন করে মনে করিয়ে দেয়, খেলাধুলার আসল সৌন্দর্য কেবল গোল বা জয়ের সংখ্যায় সীমাবদ্ধ নয়, বরং মানুষে মানুষে সম্পর্কের গভীরতাতেই তার প্রকৃত মূল্য নিহিত।
আগামী দিনগুলোতে মেসি কবে দলে ফিরবেন, তা নিয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো ঘোষণা আসেনি। তবে বাবাকে হারানোর শোক কাটিয়ে তিনি কবে মাঠে ফিরবেন, সেদিকে তাকিয়ে আছেন গোটা ফুটবল দুনিয়া।
শিরোনাম :
মেসির বাবাকে স্মরণ করে গোল উদযাপন দে পলের
-
চলমান বার্তা ডেস্ক : - আপডেট সময় ১১:১৭:১৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬
- 11
জনপ্রিয় সংবাদ


























