শিরোনাম :
বিদ্যুৎ-জ্বালানি নিয়ে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টায় একটি চক্র: প্রধানমন্ত্রী তনু হত্যা মামলায় সাবেক সেনাসদস্য হাফিজুর ফের গ্রেফতার হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল কমল, সমঝোতার পথে ইরান সড়কে একই নম্বরে একাধিক বাস, স্লিপার বাসে অসামাজিক কার্যকলাপ ও দুর্ঘটনায় মৃত্যুর মিছিল চিকিৎসক সমাবেশ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ন্যাটো সদস্য দেশে রুশ হামলার আশঙ্কা,মার্কিন গোয়েন্দাদের নতুন সতর্কবার্তা “চেহারা কোথায়, শুধু আওয়াজ শোনা যায়”: হাসিনা প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গণমাধ্যম শক্তিশালী হলে টেকসই হবে গণতন্ত্র: ফখরুল নিত্যপণ্যের দাম আকাশছোয়া : বিপর্যস্ত নিম্ন আয়ের জীবনযাত্রা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থী নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে

বিদ্যুৎ-জ্বালানি নিয়ে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টায় একটি চক্র: প্রধানমন্ত্রী

অতীতে একটি নির্দিষ্ট মহলকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়া এবং নানা অপরিকল্পিত কর্মকাণ্ডের কারণেই আজ দেশ বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের মুখোমুখি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, বিগত সময়ে জ্বালানি খাতে যেসব পরিকল্পনা ও কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছিল, তার অনেকটাই ছিল অপরিকল্পিত এবং নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষার জন্য প্রণীত। সেই সিদ্ধান্তগুলোর খেসারত এখন সমগ্র জাতিকে বহন করতে হচ্ছে।

শনিবার (৮ আগস্ট) সকালে জাতীয় সংসদ ভবনের এলডি হলে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)-এর ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত চিকিৎসক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে দেশের স্বাস্থ্যসেবা খাতের বিদ্যমান সংকট, চিকিৎসকদের দাবিদাওয়া এবং জ্বালানি খাতের অস্থিরতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর বক্তব্যের শুরুতে জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে সরকার গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, জনস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করতে যাচ্ছে। পাশাপাশি অতি দ্রুত ই-হেলথ কার্ড চালুর কাজও শুরু হবে বলে জানান তিনি। উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর ভাষায়, একটি ভঙ্গুর অবস্থা থেকে দেশকে সচল করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বর্তমান সরকার।

বক্তব্যে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের অস্থিরতা প্রসঙ্গে বিস্তারিত বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, একটি চক্র অত্যন্ত সুকৌশলে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টায় সক্রিয় রয়েছে। এই চক্রটি বিভিন্নভাবে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য প্রচার করে জনমনে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তবে সরকার এই বিষয়টি সম্পর্কে সম্পূর্ণ সচেতন এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত বলেও আশ্বস্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।

শিক্ষক সমাজের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নিয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় যেহেতু রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত প্রায় সব ক্ষেত্রকেই প্রভাবিত করে, তাই শিক্ষার্থী, শিক্ষক কিংবা যেকোনো পেশাজীবী নিজ নিজ মতাদর্শ অনুযায়ী সচেতনভাবে সংগঠিত থাকতে পারেন। এতে কোনো অযৌক্তিকতা নেই বলে মনে করেন তিনি। তবে তাঁর ভাষায়, এই ‘তবে’ শব্দটিই এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা যেন কোনোভাবেই নিজ নিজ পেশাগত দায়িত্ব পালনে বিঘ্ন সৃষ্টি না করে, সেটিই সবচেয়ে জরুরি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এর পাশাপাশি প্রথাগত রাজনীতির গণ্ডি পেরিয়ে রাজনীতির গুণগত পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রথাগত রাজনৈতিক চর্চার বাইরে এসে রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন আনার একটি জোরালো দাবি এখন দেশজুড়ে বিদ্যমান। প্রতিটি খাতে, সামগ্রিকভাবে সমগ্র বাংলাদেশজুড়ে এই দাবি ক্রমেই তীব্র হয়ে উঠছে বলে মনে করেন তিনি। বিশেষত ৫ আগস্টের পর থেকে এই পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা আরও স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

চিকিৎসকদের নানা দাবির প্রসঙ্গ টেনে তারেক রহমান বলেন, বর্তমান সরকার যখন দায়িত্বভার গ্রহণ করে, তখন দেশ কার্যত এক ধ্বংসস্তূপের মধ্যে ছিল বললে ভুল হবে না। তাঁর ভাষায়, সরকার উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছে দুর্বল অর্থনীতি, বিভাজিত প্রশাসন, ভঙ্গুর শিক্ষাব্যবস্থা এবং সংকটাপন্ন স্বাস্থ্যব্যবস্থা। এমন এক প্রতিকূল পরিস্থিতি থেকেই সরকার সমগ্র দেশকে সফলভাবে ঘুরে দাঁড় করানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, এই কঠিন পরিস্থিতিতেও রাষ্ট্র, রাজনীতি ও প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে ফ্যাসিবাদের সুবিধাভোগীরা নিষ্ক্রিয় বসে নেই। সাম্প্রতিক সময়ে একটি চক্র অত্যন্ত সুকৌশলে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতকে অস্থিতিশীল করার প্রয়াসে সক্রিয় রয়েছে বলে পুনরায় উল্লেখ করেন তিনি। এই চক্রটি নানাভাবে বিভ্রান্তিকর তথ্য ও বক্তব্য উপস্থাপন করে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।

দেশের সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের বিষয়টি স্বীকার করে তারেক রহমান বলেন, সরকার কখনোই অস্বীকার করেনি যে বর্তমানে বহু মানুষ বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংক্রান্ত বিষয়ে যথেষ্ট কষ্ট ভোগ করছেন। তিনি বলেন, এই বাস্তবতা সরকারের সম্পূর্ণ জানা রয়েছে। তবে তিনি পুনরায় স্মরণ করিয়ে দেন যে, সামগ্রিকভাবে একটি ভঙ্গুর অবস্থা বা ব্যবস্থাই উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া গেছে, যা রাতারাতি সংশোধন করা সম্ভব নয়।

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে জ্বালানি খাতের সংকটের মূল কারণ বিশ্লেষণ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, গ্যাস, জ্বালানি তেল কিংবা পেট্রোল—সামগ্রিকভাবে জ্বালানি খাতে অতীতে যেসব পরিকল্পনা ও কর্মসূচি অপরিকল্পিতভাবে গ্রহণ করা হয়েছিল, অথবা বিগত সময়ে নির্দিষ্ট কোনো মহলকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে যেসব নীতি প্রণয়ন করা হয়েছিল, তার খেসারত এখন সমগ্র দেশ, দেশের সাধারণ মানুষ এবং বর্তমান সরকারকে একযোগে বহন করতে হচ্ছে।

সবমিলিয়ে চিকিৎসক সমাবেশে দেওয়া প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যে স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের পরিকল্পনার পাশাপাশি জ্বালানি খাতের কাঠামোগত সংকট, রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা এবং অতীতের নীতিগত ভুলের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে একটি সামগ্রিক চিত্র উঠে এসেছে। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, বর্তমান সরকার একটি ভঙ্গুর কাঠামো থেকে দেশকে পুনর্গঠনের কঠিন দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে এগিয়ে চলেছে, যেখানে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগস

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

বিদ্যুৎ-জ্বালানি নিয়ে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টায় একটি চক্র: প্রধানমন্ত্রী

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থী নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে

০৭ আগস্ট ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

বিদ্যুৎ-জ্বালানি নিয়ে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টায় একটি চক্র: প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় ০৪:২১:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬

অতীতে একটি নির্দিষ্ট মহলকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়া এবং নানা অপরিকল্পিত কর্মকাণ্ডের কারণেই আজ দেশ বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের মুখোমুখি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, বিগত সময়ে জ্বালানি খাতে যেসব পরিকল্পনা ও কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছিল, তার অনেকটাই ছিল অপরিকল্পিত এবং নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষার জন্য প্রণীত। সেই সিদ্ধান্তগুলোর খেসারত এখন সমগ্র জাতিকে বহন করতে হচ্ছে।

শনিবার (৮ আগস্ট) সকালে জাতীয় সংসদ ভবনের এলডি হলে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)-এর ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত চিকিৎসক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে দেশের স্বাস্থ্যসেবা খাতের বিদ্যমান সংকট, চিকিৎসকদের দাবিদাওয়া এবং জ্বালানি খাতের অস্থিরতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর বক্তব্যের শুরুতে জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে সরকার গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, জনস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করতে যাচ্ছে। পাশাপাশি অতি দ্রুত ই-হেলথ কার্ড চালুর কাজও শুরু হবে বলে জানান তিনি। উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর ভাষায়, একটি ভঙ্গুর অবস্থা থেকে দেশকে সচল করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বর্তমান সরকার।

বক্তব্যে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের অস্থিরতা প্রসঙ্গে বিস্তারিত বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, একটি চক্র অত্যন্ত সুকৌশলে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টায় সক্রিয় রয়েছে। এই চক্রটি বিভিন্নভাবে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য প্রচার করে জনমনে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তবে সরকার এই বিষয়টি সম্পর্কে সম্পূর্ণ সচেতন এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত বলেও আশ্বস্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।

শিক্ষক সমাজের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নিয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় যেহেতু রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত প্রায় সব ক্ষেত্রকেই প্রভাবিত করে, তাই শিক্ষার্থী, শিক্ষক কিংবা যেকোনো পেশাজীবী নিজ নিজ মতাদর্শ অনুযায়ী সচেতনভাবে সংগঠিত থাকতে পারেন। এতে কোনো অযৌক্তিকতা নেই বলে মনে করেন তিনি। তবে তাঁর ভাষায়, এই ‘তবে’ শব্দটিই এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা যেন কোনোভাবেই নিজ নিজ পেশাগত দায়িত্ব পালনে বিঘ্ন সৃষ্টি না করে, সেটিই সবচেয়ে জরুরি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এর পাশাপাশি প্রথাগত রাজনীতির গণ্ডি পেরিয়ে রাজনীতির গুণগত পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রথাগত রাজনৈতিক চর্চার বাইরে এসে রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন আনার একটি জোরালো দাবি এখন দেশজুড়ে বিদ্যমান। প্রতিটি খাতে, সামগ্রিকভাবে সমগ্র বাংলাদেশজুড়ে এই দাবি ক্রমেই তীব্র হয়ে উঠছে বলে মনে করেন তিনি। বিশেষত ৫ আগস্টের পর থেকে এই পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা আরও স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

চিকিৎসকদের নানা দাবির প্রসঙ্গ টেনে তারেক রহমান বলেন, বর্তমান সরকার যখন দায়িত্বভার গ্রহণ করে, তখন দেশ কার্যত এক ধ্বংসস্তূপের মধ্যে ছিল বললে ভুল হবে না। তাঁর ভাষায়, সরকার উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছে দুর্বল অর্থনীতি, বিভাজিত প্রশাসন, ভঙ্গুর শিক্ষাব্যবস্থা এবং সংকটাপন্ন স্বাস্থ্যব্যবস্থা। এমন এক প্রতিকূল পরিস্থিতি থেকেই সরকার সমগ্র দেশকে সফলভাবে ঘুরে দাঁড় করানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, এই কঠিন পরিস্থিতিতেও রাষ্ট্র, রাজনীতি ও প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে ফ্যাসিবাদের সুবিধাভোগীরা নিষ্ক্রিয় বসে নেই। সাম্প্রতিক সময়ে একটি চক্র অত্যন্ত সুকৌশলে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতকে অস্থিতিশীল করার প্রয়াসে সক্রিয় রয়েছে বলে পুনরায় উল্লেখ করেন তিনি। এই চক্রটি নানাভাবে বিভ্রান্তিকর তথ্য ও বক্তব্য উপস্থাপন করে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।

দেশের সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের বিষয়টি স্বীকার করে তারেক রহমান বলেন, সরকার কখনোই অস্বীকার করেনি যে বর্তমানে বহু মানুষ বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংক্রান্ত বিষয়ে যথেষ্ট কষ্ট ভোগ করছেন। তিনি বলেন, এই বাস্তবতা সরকারের সম্পূর্ণ জানা রয়েছে। তবে তিনি পুনরায় স্মরণ করিয়ে দেন যে, সামগ্রিকভাবে একটি ভঙ্গুর অবস্থা বা ব্যবস্থাই উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া গেছে, যা রাতারাতি সংশোধন করা সম্ভব নয়।

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে জ্বালানি খাতের সংকটের মূল কারণ বিশ্লেষণ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, গ্যাস, জ্বালানি তেল কিংবা পেট্রোল—সামগ্রিকভাবে জ্বালানি খাতে অতীতে যেসব পরিকল্পনা ও কর্মসূচি অপরিকল্পিতভাবে গ্রহণ করা হয়েছিল, অথবা বিগত সময়ে নির্দিষ্ট কোনো মহলকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে যেসব নীতি প্রণয়ন করা হয়েছিল, তার খেসারত এখন সমগ্র দেশ, দেশের সাধারণ মানুষ এবং বর্তমান সরকারকে একযোগে বহন করতে হচ্ছে।

সবমিলিয়ে চিকিৎসক সমাবেশে দেওয়া প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যে স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের পরিকল্পনার পাশাপাশি জ্বালানি খাতের কাঠামোগত সংকট, রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা এবং অতীতের নীতিগত ভুলের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে একটি সামগ্রিক চিত্র উঠে এসেছে। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, বর্তমান সরকার একটি ভঙ্গুর কাঠামো থেকে দেশকে পুনর্গঠনের কঠিন দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে এগিয়ে চলেছে, যেখানে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

Share this news as a Photo Card