শরীরের বয়স যতটা, হৃদ্যন্ত্রের বয়স সব সময় তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলে না। অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন, অতিরিক্ত ওজন, রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে যাওয়া কিংবা শর্করা নিয়ন্ত্রণে না থাকলে হৃদ্যন্ত্রের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে। দীর্ঘদিনের এসব অভ্যাস হৃদ্রোগের ঝুঁকি বাড়ানোর পাশাপাশি শরীরের প্রকৃত বয়সের তুলনায় হার্টকে দ্রুত বয়স্ক করে তুলতে পারে।
তবে আশার কথা হলো, জীবনযাপনে কিছু পরিবর্তন এনে হৃদ্যন্ত্রকে সুস্থ রাখার সুযোগ রয়েছে। প্রতিদিনের অভ্যাসে কয়েকটি সহজ নিয়ম যুক্ত করলেই কমানো যেতে পারে হৃদ্রোগের ঝুঁকি।
তামাকজাত পণ্য থেকে দূরে থাকুন
হৃদ্যন্ত্র ভালো রাখতে প্রথমেই তামাকজাত পণ্য বাদ দেওয়া জরুরি। শুধু ধূমপান নয়, জর্দা, খৈনি, গুটখা, পানমশলা বা অন্য যেকোনো তামাকজাত পণ্য নিয়মিত গ্রহণ করলেও হৃদ্যন্ত্র ও রক্তনালির ওপর ক্ষতিকর প্রভাব পড়তে পারে।
তামাকের বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদান রক্তনালির ক্ষতি করতে পারে এবং হৃদ্রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তাই অভ্যাসটি একবারে বন্ধ করার চেষ্টা করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপগুলোর একটি।
খাবারে অতিরিক্ত নুন কমান
উচ্চ রক্তচাপ হৃদ্রোগের অন্যতম বড় ঝুঁকি। খাবারে অতিরিক্ত লবণ গ্রহণ রক্তচাপ বাড়াতে পারে। অনেকেরই খাবার পরিবেশনের পর আলাদা করে নুন নেওয়ার অভ্যাস রয়েছে। এই অভ্যাসটি ধীরে ধীরে বাদ দেওয়া ভালো।
শুধু রান্নায় দেওয়া নুন নয়, প্যাকেটজাত ও অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবারেও লবণের পরিমাণ বেশি থাকতে পারে। তাই নিয়মিত এসব খাবার খাওয়ার অভ্যাস থাকলে তা কমিয়ে আনা দরকার। তার বদলে তাজা শাকসবজি, ফল, ডাল ও পরিমিত পরিমাণে স্বাস্থ্যকর খাবার খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে।
নিয়মিত হাঁটার অভ্যাস করুন
হৃদ্যন্ত্র সুস্থ রাখতে শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত হাঁটা সহজ এবং অধিকাংশ মানুষের জন্য সুবিধাজনক একটি ব্যায়াম। বিশেষ করে দ্রুতগতিতে হাঁটা বা ব্রিস্ক ওয়াক হৃদ্স্পন্দন বাড়াতে এবং শরীরকে সক্রিয় রাখতে সাহায্য করতে পারে।
প্রতিদিন প্রায় ৩০ মিনিট হাঁটার লক্ষ্য রাখা যেতে পারে। একটানা সময় বের করা সম্ভব না হলে সকাল ও বিকেলে ভাগ করে হাঁটলেও উপকার পাওয়া যায়। সপ্তাহে মোট অন্তত ১৫০ মিনিট মাঝারি মাত্রার শারীরিক কর্মকাণ্ড করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
ঘুমের সময় ঠিক রাখুন
হৃদ্যন্ত্রের সুস্থতার সঙ্গে পর্যাপ্ত ঘুমেরও সম্পর্ক রয়েছে। প্রতিদিন খুব কম ঘুমানো কিংবা ঘুমের সময় বারবার পরিবর্তন করা শরীরের স্বাভাবিক ছন্দকে ব্যাহত করতে পারে।
প্রাপ্তবয়স্কদের সাধারণত রাতে ৭ থেকে ৯ ঘণ্টা ঘুমের প্রয়োজন হয়। প্রতিদিন কাছাকাছি সময়ে ঘুমাতে যাওয়া এবং সকালে একই সময়ের মধ্যে ওঠার অভ্যাস গড়ে তোলা ভালো। ঘুমের আগে অতিরিক্ত মোবাইল বা অন্যান্য ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার কমানোও ঘুমের মান ভালো রাখতে সহায়ক হতে পারে।
হৃদ্যন্ত্র সুস্থ রাখা শুধু একটি দিনের কাজ নয়; বরং প্রতিদিনের ছোট ছোট অভ্যাসের সমষ্টি। তামাক বর্জন, লবণ কমানো, নিয়মিত হাঁটা এবং পর্যাপ্ত ঘুম—এই চারটি অভ্যাস জীবনযাপনে যুক্ত করতে পারলে হৃদ্স্বাস্থ্যের জন্য ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব। পাশাপাশি রক্তচাপ, রক্তে শর্করা ও কোলেস্টেরল নিয়মিত পরীক্ষা করে প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াও জরুরি।
শিরোনাম :
হৃদ্যন্ত্র সুস্থ রাখতে দৈনন্দিন জীবনে বদল আনুন আজই
-
চলমান বার্তা ডেস্ক : - আপডেট সময় ০১:৫১:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬
- 9
জনপ্রিয় সংবাদ


























