শিরোনাম :
সড়কে একই নম্বরে একাধিক বাস, স্লিপার বাসে অসামাজিক কার্যকলাপ ও দুর্ঘটনায় মৃত্যুর মিছিল চিকিৎসক সমাবেশ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ন্যাটো সদস্য দেশে রুশ হামলার আশঙ্কা,মার্কিন গোয়েন্দাদের নতুন সতর্কবার্তা “চেহারা কোথায়, শুধু আওয়াজ শোনা যায়”: হাসিনা প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গণমাধ্যম শক্তিশালী হলে টেকসই হবে গণতন্ত্র: ফখরুল নিত্যপণ্যের দাম আকাশছোয়া : বিপর্যস্ত নিম্ন আয়ের জীবনযাত্রা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থী নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে সিলেটে দুই বাসের সংঘর্ষে শিশুসহ নিহত ৮ হামে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৮১৮ ৪ বছরে ফ্যামিলি কার্ড পাবে ১ কোটি ৬০ লাখ পরিবার, আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ১৬ আগস্ট

জনশক্তি রপ্তানিতে নতুন রেকর্ড গড়ল বোয়েসেল

চলতি অর্থবছরে বিদেশে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে ইতিহাসের সর্বোচ্চ সংখ্যা স্পর্শ করেছে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড। বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সংস্থাটির মাধ্যমে মোট ১৯ হাজার ১৯৭ জন কর্মী কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়ে বিদেশে পাড়ি জমিয়েছেন, যা প্রতিষ্ঠানের চার দশকের ইতিহাসে একক অর্থবছরে সর্বোচ্চ। আগের অর্থবছরের তুলনায় এবার ৩ হাজার ১৩১ জন বেশি কর্মী বিদেশে গেছেন, শতকরা হিসাবে যা প্রায় সাড়ে ১৯ ভাগ বৃদ্ধি।
সংশ্লিষ্টদের তথ্যমতে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এই সংখ্যা ছিল ১৬ হাজার ৬৬ জন। এক বছরের ব্যবধানে তা বেড়ে বর্তমান পর্যায়ে পৌঁছেছে। গন্তব্যের হিসাবে সবচেয়ে বেশি কর্মী গেছেন জর্ডানে—সংখ্যাটি ১৪ হাজার ৫৪৩। এরপরের অবস্থানে রয়েছে ব্রুনাই, যেখানে গেছেন ১ হাজার ৮১২ জন। দক্ষিণ কোরিয়ায় গেছেন ১ হাজার ৪০৪ জন এবং মালয়েশিয়ায় ১ হাজার ৭ জন। এ ছাড়া রাশিয়ায় ৩৪২ জন, ইরাকে ৬৪ জন, জাপানে ১১ জন এবং হংকং, কুয়েত ও ফিজিতে অল্প সংখ্যক কর্মী পাঠানো হয়েছে।
১৯৮৪ সালে যাত্রা শুরুর পর থেকে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত বিশ্বের প্রায় ৩৬টি দেশে মোট ১ লাখ ৯৫ হাজার ৪৩৮ জন কর্মীর কর্মসংস্থান নিশ্চিত করেছে সংস্থাটি। বর্তমানে জর্ডান, দক্ষিণ কোরিয়া, ইরাক, হংকং, কুয়েত, ব্রুনাই, রাশিয়া, ফিজি, জাপান ও মালয়েশিয়াসহ একাধিক দেশে কর্মী পাঠানোর পাশাপাশি নতুন শ্রমবাজার খুঁজে বের করার চেষ্টাও অব্যাহত রেখেছে প্রতিষ্ঠানটি।
এই সাফল্যের পেছনের কারণ ব্যাখ্যা করে সংস্থার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রাশেদুল হক বলেন, বিদেশি রাষ্ট্রগুলোর কাছে সরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে আস্থা বেড়ে যাওয়াই এই প্রবৃদ্ধির মূল কারণ। তিনি জানান, দীর্ঘ সতেরো বছর ধরে জনশক্তি রপ্তানির বাজার একটি নির্দিষ্ট চক্রের নিয়ন্ত্রণে থাকায় স্বল্প খরচে বিদেশযাত্রায় ইচ্ছুক সাধারণ মানুষের সুযোগ সংকুচিত হয়ে পড়েছিল। সেই পরিস্থিতি পাল্টে যাওয়ার পর যেসব বাজারে ওই চক্র ব্যর্থ হয়েছিল, সেখানেও সফলতা দেখাতে পেরেছে সংস্থাটি এবং বন্ধ হয়ে যাওয়া কিছু শ্রমবাজার আবার সচল করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সরকার-টু-সরকার পদ্ধতিতে বিদেশি রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের ভিত্তিতে কাজ করে সংস্থাটি। এই আস্থার সম্পর্ক অটুট থাকলে আগামী দিনের পরিকল্পনা অনুযায়ী জনশক্তি রপ্তানিতে একটি নির্ভরযোগ্য প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারবে প্রতিষ্ঠানটি। সরকারের ১০ লাখ কর্মী বিদেশে পাঠানোর লক্ষ্যমাত্রা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্দিষ্ট করে সংখ্যা বলা কঠিন হলেও অতীত পরিসংখ্যান বলছে, দেশ থেকে যত কর্মী বিদেশে যান তার মাত্র দেড় শতাংশের মতো এই সংস্থার মাধ্যমে যান।
তার ভাষ্যে, সরকার যদি স্বচ্ছ নীতির মাধ্যমে বৈদেশিক শ্রমবাজারকে দালাল-নির্ভরতা থেকে মুক্ত করে স্বল্প ব্যয়ে বিদেশযাত্রার সুযোগ বাড়াতে চায়, তাহলে এই প্রতিষ্ঠানকে আরও কার্যকর করার বিকল্প নেই। দক্ষ জনশক্তি পাঠিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে এই খাতের গুরুত্ব অনেক বলেও মন্তব্য করেন তিনি। পাশাপাশি বিদ্যমান শ্রমবাজার শক্তিশালী করা, বন্ধ বাজার পুনরায় চালু করা এবং সম্ভাবনাময় নতুন বাজার চিহ্নিত করার কাজ একযোগে চলছে বলে জানান তিনি।
সংস্থার নির্বাহী পরিচালক মো. শওকত আলী জানান, চলতি অর্থবছরে ৪০ হাজার কর্মী বিদেশে পাঠানোর লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি। এই লক্ষ্য অর্জিত হলে গত অর্থবছরের রেকর্ড ছাড়িয়ে দ্বিগুণেরও বেশি কর্মী পাঠানোর নতুন কীর্তি গড়বে সংস্থাটি।
মহাব্যবস্থাপক (বৈদেশিক নিয়োগ) নূর আহমেদ জানান, গত জুলাই মাসেই বিভিন্ন দেশে ১ হাজার ৪৩১ জন কর্মী পাঠানো হয়েছে। বিদ্যমান বাজারের বাইরে গিয়ে নতুন সম্ভাবনা তৈরির চেষ্টাও চলছে। এ প্রসঙ্গে জানা গেছে, মঙ্গোলিয়ায় বাজার সম্প্রসারণ নিয়ে আলোচনা চলছে এবং শিগগিরই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হতে পারে।

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

তনু হত্যা মামলায় সাবেক সেনাসদস্য হাফিজুর ফের গ্রেফতার

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

৪ বছরে ফ্যামিলি কার্ড পাবে ১ কোটি ৬০ লাখ পরিবার, আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ১৬ আগস্ট

০৬ আগস্ট ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

জনশক্তি রপ্তানিতে নতুন রেকর্ড গড়ল বোয়েসেল

আপডেট সময় ০১:৫৯:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬

চলতি অর্থবছরে বিদেশে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে ইতিহাসের সর্বোচ্চ সংখ্যা স্পর্শ করেছে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড। বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সংস্থাটির মাধ্যমে মোট ১৯ হাজার ১৯৭ জন কর্মী কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়ে বিদেশে পাড়ি জমিয়েছেন, যা প্রতিষ্ঠানের চার দশকের ইতিহাসে একক অর্থবছরে সর্বোচ্চ। আগের অর্থবছরের তুলনায় এবার ৩ হাজার ১৩১ জন বেশি কর্মী বিদেশে গেছেন, শতকরা হিসাবে যা প্রায় সাড়ে ১৯ ভাগ বৃদ্ধি।
সংশ্লিষ্টদের তথ্যমতে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এই সংখ্যা ছিল ১৬ হাজার ৬৬ জন। এক বছরের ব্যবধানে তা বেড়ে বর্তমান পর্যায়ে পৌঁছেছে। গন্তব্যের হিসাবে সবচেয়ে বেশি কর্মী গেছেন জর্ডানে—সংখ্যাটি ১৪ হাজার ৫৪৩। এরপরের অবস্থানে রয়েছে ব্রুনাই, যেখানে গেছেন ১ হাজার ৮১২ জন। দক্ষিণ কোরিয়ায় গেছেন ১ হাজার ৪০৪ জন এবং মালয়েশিয়ায় ১ হাজার ৭ জন। এ ছাড়া রাশিয়ায় ৩৪২ জন, ইরাকে ৬৪ জন, জাপানে ১১ জন এবং হংকং, কুয়েত ও ফিজিতে অল্প সংখ্যক কর্মী পাঠানো হয়েছে।
১৯৮৪ সালে যাত্রা শুরুর পর থেকে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত বিশ্বের প্রায় ৩৬টি দেশে মোট ১ লাখ ৯৫ হাজার ৪৩৮ জন কর্মীর কর্মসংস্থান নিশ্চিত করেছে সংস্থাটি। বর্তমানে জর্ডান, দক্ষিণ কোরিয়া, ইরাক, হংকং, কুয়েত, ব্রুনাই, রাশিয়া, ফিজি, জাপান ও মালয়েশিয়াসহ একাধিক দেশে কর্মী পাঠানোর পাশাপাশি নতুন শ্রমবাজার খুঁজে বের করার চেষ্টাও অব্যাহত রেখেছে প্রতিষ্ঠানটি।
এই সাফল্যের পেছনের কারণ ব্যাখ্যা করে সংস্থার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রাশেদুল হক বলেন, বিদেশি রাষ্ট্রগুলোর কাছে সরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে আস্থা বেড়ে যাওয়াই এই প্রবৃদ্ধির মূল কারণ। তিনি জানান, দীর্ঘ সতেরো বছর ধরে জনশক্তি রপ্তানির বাজার একটি নির্দিষ্ট চক্রের নিয়ন্ত্রণে থাকায় স্বল্প খরচে বিদেশযাত্রায় ইচ্ছুক সাধারণ মানুষের সুযোগ সংকুচিত হয়ে পড়েছিল। সেই পরিস্থিতি পাল্টে যাওয়ার পর যেসব বাজারে ওই চক্র ব্যর্থ হয়েছিল, সেখানেও সফলতা দেখাতে পেরেছে সংস্থাটি এবং বন্ধ হয়ে যাওয়া কিছু শ্রমবাজার আবার সচল করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সরকার-টু-সরকার পদ্ধতিতে বিদেশি রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের ভিত্তিতে কাজ করে সংস্থাটি। এই আস্থার সম্পর্ক অটুট থাকলে আগামী দিনের পরিকল্পনা অনুযায়ী জনশক্তি রপ্তানিতে একটি নির্ভরযোগ্য প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারবে প্রতিষ্ঠানটি। সরকারের ১০ লাখ কর্মী বিদেশে পাঠানোর লক্ষ্যমাত্রা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্দিষ্ট করে সংখ্যা বলা কঠিন হলেও অতীত পরিসংখ্যান বলছে, দেশ থেকে যত কর্মী বিদেশে যান তার মাত্র দেড় শতাংশের মতো এই সংস্থার মাধ্যমে যান।
তার ভাষ্যে, সরকার যদি স্বচ্ছ নীতির মাধ্যমে বৈদেশিক শ্রমবাজারকে দালাল-নির্ভরতা থেকে মুক্ত করে স্বল্প ব্যয়ে বিদেশযাত্রার সুযোগ বাড়াতে চায়, তাহলে এই প্রতিষ্ঠানকে আরও কার্যকর করার বিকল্প নেই। দক্ষ জনশক্তি পাঠিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে এই খাতের গুরুত্ব অনেক বলেও মন্তব্য করেন তিনি। পাশাপাশি বিদ্যমান শ্রমবাজার শক্তিশালী করা, বন্ধ বাজার পুনরায় চালু করা এবং সম্ভাবনাময় নতুন বাজার চিহ্নিত করার কাজ একযোগে চলছে বলে জানান তিনি।
সংস্থার নির্বাহী পরিচালক মো. শওকত আলী জানান, চলতি অর্থবছরে ৪০ হাজার কর্মী বিদেশে পাঠানোর লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি। এই লক্ষ্য অর্জিত হলে গত অর্থবছরের রেকর্ড ছাড়িয়ে দ্বিগুণেরও বেশি কর্মী পাঠানোর নতুন কীর্তি গড়বে সংস্থাটি।
মহাব্যবস্থাপক (বৈদেশিক নিয়োগ) নূর আহমেদ জানান, গত জুলাই মাসেই বিভিন্ন দেশে ১ হাজার ৪৩১ জন কর্মী পাঠানো হয়েছে। বিদ্যমান বাজারের বাইরে গিয়ে নতুন সম্ভাবনা তৈরির চেষ্টাও চলছে। এ প্রসঙ্গে জানা গেছে, মঙ্গোলিয়ায় বাজার সম্প্রসারণ নিয়ে আলোচনা চলছে এবং শিগগিরই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হতে পারে।

Share this news as a Photo Card