রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করার আগেই সতর্ক পদক্ষেপ নিয়েছে ক্ষমতাসীন দল বিএনপি। নির্বাচন কমিশনের রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে দুইটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছে দলটি, যা আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দলীয় প্রস্তুতির স্পষ্ট বার্তা বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
রোববার (৯ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত নির্বাচন ভবনে গিয়ে প্রধান নির্বাচনী কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে এই মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়। দলের পক্ষে এই দায়িত্ব পালন করেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মণি এবং দলটির সিনিয়র যুগ্মমহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী। দুইটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহের বিষয়টিকে দলের সাংগঠনিক সতর্কতার অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে, যাতে কোনো প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে প্রার্থিতা প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত না হয়।
রাষ্ট্রপতি পদে কে আসছেন, তা নিয়ে দলের অভ্যন্তরে চলছে জোর আলোচনা। গত শনিবার (১ আগস্ট) রাতে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে বিএনপির স্থায়ী কমিটি রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী নির্ধারণের দায়িত্ব তুলে দেয় দলীয় প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাতে। এই সিদ্ধান্তের পর থেকেই সম্ভাব্য প্রার্থী কে হতে পারেন, তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে।
দলীয় সূত্র বলছে, রাষ্ট্রপতি পদের জন্য এখন পর্যন্ত সবচেয়ে জোরালোভাবে যাঁর নাম আলোচিত হচ্ছে, তিনি দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তাঁর পাশাপাশি স্থায়ী কমিটির একাধিক জ্যেষ্ঠ সদস্যের নামও ঘুরেফিরে আসছে আলোচনায়—এর মধ্যে রয়েছেন ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।
তবে দলীয় নেতৃত্বের গণ্ডির বাইরেও কিছু নাম উঠে এসেছে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে। এই তালিকায় রয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এবং দলের ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলতাফ হোসেন চৌধুরী। আগ্রহের বিষয় হলো, দলটির নেতাদের একটি বড় অংশই মনে করছেন, রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ ও আনুষ্ঠানিক পদে সরাসরি দলীয় বা রাজনৈতিক নেতৃত্ব থেকে কাউকে বেছে না নেওয়াই সমীচীন। এই মতের পেছনে যুক্তি হিসেবে বলা হচ্ছে, রাষ্ট্রপতির আসনকে রাজনৈতিক বিতর্কের ঊর্ধ্বে রাখার প্রয়োজনীয়তার কথা।
এদিকে নির্বাচন প্রক্রিয়া নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ীই এগিয়ে চলেছে। গত বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পূর্ণাঙ্গ তফসিল ঘোষণা করে। ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, আগামী ১৩ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র দাখিল করা যাবে। এরপর ১৬ আগস্ট হবে মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের কাজ। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ১৮ আগস্ট পর্যন্ত। সবশেষে, আগামী ২০ আগস্ট অনুষ্ঠিত হবে ভোটগ্রহণ। ওইদিন জাতীয় সংসদ অধিবেশন কক্ষে দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলবে ভোটদান প্রক্রিয়া।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন গত ২৪ জুলাই স্বপদ থেকে পদত্যাগ করেন। তাঁর পদত্যাগের পরপরই ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করে নির্বাচন কমিশন। সাংবিধানিক নিয়ম মেনে এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ইতিমধ্যে জাতীয় সংসদের স্পিকারের সঙ্গে বৈঠকও করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন।
সব মিলিয়ে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে যেমন কৌতূহল বাড়ছে, তেমনি সাংগঠনিকভাবেও সক্রিয় হয়ে উঠেছে ক্ষমতাসীন দল। দুইটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহের মধ্য দিয়ে বিএনপি স্পষ্ট করেছে যে, তারা এই নির্বাচনকে কতটা গুরুত্বের সঙ্গে নিচ্ছে। এখন সবার দৃষ্টি তারেক রহমানের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে, যিনি নির্ধারণ করবেন—দলের কোন নেতা কিংবা দলের বাইরের কোন ব্যক্তিত্ব উঠে আসবেন দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে।
চলমান বার্তা ডেস্ক : 




















