শিরোনাম :
নিয়োগবিধি পরিবর্তনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বঞ্চিত করা যাবে না: হাইকোর্ট দেশজুড়ে ভয়াবহ লোডশেডিং, বিপর্যস্ত জনজীবন এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশ আজ, জানা যাবে যেভাবে ভারতীয় হাইকমিশনের নতুন সিদ্ধান্তে সহজ হলো ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লট বুকিং প্রক্রিয়া কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও শিল্প বিপ্লব ঘটানোর প্রতি গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী সালমান শাহ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার অভিনেতা ডন হক রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির দুইজন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করল হাসিনার দিল্লি বক্তব্যে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে নতুন উত্তেজনা মহেশখালী পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির দুই নেতার মনোনয়নপত্র সংগ্রহ

পিঠে দীর্ঘদিনের ব্যথা, লুকিয়ে নেই তো ক্যানসার?

দীর্ঘক্ষণ এক ভঙ্গিতে বসে কাজ করা, ভারী জিনিস তোলা কিংবা ভুল ভঙ্গিতে ঘুমানোর কারণে পিঠে ব্যথা হওয়া খুবই সাধারণ একটি ঘটনা। এই ধরনের যন্ত্রণাকে আমরা প্রায়ই তেমন গুরুত্ব দিই না, বিশ্রাম নিলেই সেরে যাবে ভেবে অবহেলা করি। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, কিছু ক্ষেত্রে এই সাধারণ মনে হওয়া ব্যথার পেছনে লুকিয়ে থাকতে পারে গুরুতর কোনো রোগের ইঙ্গিত—এমনকি ফুসফুসের ক্যানসারের মতো জটিল অসুখও।
ফুসফুস নিজে এমন কোনো অঙ্গ নয় যেখানে ব্যথা অনুভূত হয়। তবে ফুসফুসের আশপাশের এলাকা, বুকের প্রাচীর বা রোগ ছড়িয়ে পড়লে হাড় ও অন্যান্য অঙ্গে সমস্যা তৈরি হতে পারে। তখন সেই ব্যথা বুকের বদলে পিঠ, কাঁধ কিংবা শরীরের অন্য কোনো অংশে অনুভূত হয়। বিশেষ করে ফুসফুসের একদম উপরের অংশে যে টিউমার তৈরি হয়, চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় যাকে বলা হয় প্যানকোস্ট টিউমার, সেটি কাঁধ ও হাতের দিকে যাওয়া স্নায়ুর ওপর প্রবল চাপ সৃষ্টি করে। ফলে রোগী তীব্র কাঁধের ব্যথায় ভোগেন, হাতের আঙুল বা তালু ঝিমঝিম করে কিংবা অবশ হয়ে যায়। অনেকেই এই উপসর্গকে সাধারণ ফ্রোজেন শোল্ডার বা সারভাইকাল স্পন্ডিলোসিস ভেবে মাসের পর মাস ভুল চিকিৎসা চালিয়ে যান, অথচ প্রকৃত কারণ থেকে যায় অধরা। তাই এমন উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে বুকের এক্স-রে করিয়ে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
শুধু কাঁধ বা হাতের অসাড়তাই নয়, ফুসফুসজনিত সমস্যার কারণে সৃষ্ট ব্যথা রাতের ঘুমও কেড়ে নিতে পারে। কারও কারও ক্ষেত্রে ব্যথার তীব্রতায় ঘুম ভেঙে যায়, আবার কারও ঘুমই আসতে চায় না। এই যন্ত্রণা কখনো কখনো পিঠ থেকে ধীরে ধীরে কাঁধের দিকেও ছড়িয়ে পড়তে দেখা যায়।
কোন লক্ষণে সতর্ক হবেন
স্বাভাবিক পেশির টান কিংবা দৈনন্দিন পরিশ্রমজনিত পিঠের ব্যথা সাধারণত বিশ্রাম নিলে, ভঙ্গি পাল্টালে বা সঠিক চিকিৎসায় নিজে থেকেই কমে আসে। কিন্তু নিচের বৈশিষ্ট্যগুলোর কোনোটি দেখা দিলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি হয়ে পড়ে—
ব্যথা কয়েক দিন বা কয়েক সপ্তাহ ধরে স্থায়ী হচ্ছে
সময়ের সঙ্গে ব্যথার তীব্রতা ক্রমাগত বাড়ছে
বিশ্রাম নেওয়ার পরও কোনো উপশম মিলছে না
রাতের ঘুম ভেঙে যাচ্ছে ব্যথার কারণে
নির্দিষ্ট কোনো কারণ ছাড়াই একই জায়গায় বারবার ব্যথা ফিরে আসছে
পিঠের ব্যথার পাশাপাশি অস্বাভাবিকভাবে ওজন কমে যাচ্ছে
শরীরে অস্বাভাবিক দুর্বলতা বা ক্লান্তি অনুভূত হচ্ছে
দীর্ঘমেয়াদি কাশি বা শ্বাসকষ্টের সঙ্গে পিঠে ব্যথাও থাকছে
কাশির সঙ্গে রক্ত বের হচ্ছে
পরিবারে বা নিজের অতীতে ক্যানসারের ইতিহাস রয়েছে
চিকিৎসকরা বলছেন, প্রতিটি পিঠের ব্যথাকেই ক্যানসারের আশঙ্কা বলে ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই, কারণ এটি একটি অত্যন্ত সাধারণ শারীরিক সমস্যা। তবে ব্যথা যদি স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি দিন স্থায়ী হয়, ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে, অথবা এর সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী কাশি, শ্বাসকষ্ট, অকারণ ওজন হ্রাস বা অতিরিক্ত দুর্বলতার মতো নতুন কোনো উপসর্গ যুক্ত হয়, তখন বিষয়টিকে হালকাভাবে না নিয়ে চিকিৎসকের কাছে গিয়ে পরীক্ষা করানোই শ্রেয়। সময়মতো সঠিক পরীক্ষা ও রোগ নির্ণয় গুরুতর জটিলতা এড়াতে সহায়ক হতে পারে।

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

পিঠে দীর্ঘদিনের ব্যথা, লুকিয়ে নেই তো ক্যানসার?

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির দুই নেতার মনোনয়নপত্র সংগ্রহ

০৯ আগস্ট ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

পিঠে দীর্ঘদিনের ব্যথা, লুকিয়ে নেই তো ক্যানসার?

আপডেট সময় ০২:১৯:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

দীর্ঘক্ষণ এক ভঙ্গিতে বসে কাজ করা, ভারী জিনিস তোলা কিংবা ভুল ভঙ্গিতে ঘুমানোর কারণে পিঠে ব্যথা হওয়া খুবই সাধারণ একটি ঘটনা। এই ধরনের যন্ত্রণাকে আমরা প্রায়ই তেমন গুরুত্ব দিই না, বিশ্রাম নিলেই সেরে যাবে ভেবে অবহেলা করি। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, কিছু ক্ষেত্রে এই সাধারণ মনে হওয়া ব্যথার পেছনে লুকিয়ে থাকতে পারে গুরুতর কোনো রোগের ইঙ্গিত—এমনকি ফুসফুসের ক্যানসারের মতো জটিল অসুখও।
ফুসফুস নিজে এমন কোনো অঙ্গ নয় যেখানে ব্যথা অনুভূত হয়। তবে ফুসফুসের আশপাশের এলাকা, বুকের প্রাচীর বা রোগ ছড়িয়ে পড়লে হাড় ও অন্যান্য অঙ্গে সমস্যা তৈরি হতে পারে। তখন সেই ব্যথা বুকের বদলে পিঠ, কাঁধ কিংবা শরীরের অন্য কোনো অংশে অনুভূত হয়। বিশেষ করে ফুসফুসের একদম উপরের অংশে যে টিউমার তৈরি হয়, চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় যাকে বলা হয় প্যানকোস্ট টিউমার, সেটি কাঁধ ও হাতের দিকে যাওয়া স্নায়ুর ওপর প্রবল চাপ সৃষ্টি করে। ফলে রোগী তীব্র কাঁধের ব্যথায় ভোগেন, হাতের আঙুল বা তালু ঝিমঝিম করে কিংবা অবশ হয়ে যায়। অনেকেই এই উপসর্গকে সাধারণ ফ্রোজেন শোল্ডার বা সারভাইকাল স্পন্ডিলোসিস ভেবে মাসের পর মাস ভুল চিকিৎসা চালিয়ে যান, অথচ প্রকৃত কারণ থেকে যায় অধরা। তাই এমন উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে বুকের এক্স-রে করিয়ে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
শুধু কাঁধ বা হাতের অসাড়তাই নয়, ফুসফুসজনিত সমস্যার কারণে সৃষ্ট ব্যথা রাতের ঘুমও কেড়ে নিতে পারে। কারও কারও ক্ষেত্রে ব্যথার তীব্রতায় ঘুম ভেঙে যায়, আবার কারও ঘুমই আসতে চায় না। এই যন্ত্রণা কখনো কখনো পিঠ থেকে ধীরে ধীরে কাঁধের দিকেও ছড়িয়ে পড়তে দেখা যায়।
কোন লক্ষণে সতর্ক হবেন
স্বাভাবিক পেশির টান কিংবা দৈনন্দিন পরিশ্রমজনিত পিঠের ব্যথা সাধারণত বিশ্রাম নিলে, ভঙ্গি পাল্টালে বা সঠিক চিকিৎসায় নিজে থেকেই কমে আসে। কিন্তু নিচের বৈশিষ্ট্যগুলোর কোনোটি দেখা দিলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি হয়ে পড়ে—
ব্যথা কয়েক দিন বা কয়েক সপ্তাহ ধরে স্থায়ী হচ্ছে
সময়ের সঙ্গে ব্যথার তীব্রতা ক্রমাগত বাড়ছে
বিশ্রাম নেওয়ার পরও কোনো উপশম মিলছে না
রাতের ঘুম ভেঙে যাচ্ছে ব্যথার কারণে
নির্দিষ্ট কোনো কারণ ছাড়াই একই জায়গায় বারবার ব্যথা ফিরে আসছে
পিঠের ব্যথার পাশাপাশি অস্বাভাবিকভাবে ওজন কমে যাচ্ছে
শরীরে অস্বাভাবিক দুর্বলতা বা ক্লান্তি অনুভূত হচ্ছে
দীর্ঘমেয়াদি কাশি বা শ্বাসকষ্টের সঙ্গে পিঠে ব্যথাও থাকছে
কাশির সঙ্গে রক্ত বের হচ্ছে
পরিবারে বা নিজের অতীতে ক্যানসারের ইতিহাস রয়েছে
চিকিৎসকরা বলছেন, প্রতিটি পিঠের ব্যথাকেই ক্যানসারের আশঙ্কা বলে ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই, কারণ এটি একটি অত্যন্ত সাধারণ শারীরিক সমস্যা। তবে ব্যথা যদি স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি দিন স্থায়ী হয়, ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে, অথবা এর সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী কাশি, শ্বাসকষ্ট, অকারণ ওজন হ্রাস বা অতিরিক্ত দুর্বলতার মতো নতুন কোনো উপসর্গ যুক্ত হয়, তখন বিষয়টিকে হালকাভাবে না নিয়ে চিকিৎসকের কাছে গিয়ে পরীক্ষা করানোই শ্রেয়। সময়মতো সঠিক পরীক্ষা ও রোগ নির্ণয় গুরুতর জটিলতা এড়াতে সহায়ক হতে পারে।

Share this news as a Photo Card