শিরোনাম :

সালমান শাহ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার অভিনেতা ডন হক

ঢালিউডের জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলায় নতুন মোড় দেখা দিয়েছে। এই মামলায় খলচরিত্রের অভিনেতা আশরাফুল হক, যিনি চলচ্চিত্রাঙ্গনে ডন হক নামে পরিচিত, তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। আজ রোববার দুপুরে রাজধানীর হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাঁকে আটক করা হয়, যা এই বহুল আলোচিত মামলায় তদন্তকারী সংস্থার সাম্প্রতিক তৎপরতার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ বলে মনে করা হচ্ছে।

বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামরুল হাসান তালুকদার জানিয়েছেন, ইমিগ্রেশন পুলিশের সদস্যরাই প্রথমে ডনকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করেন। এরপর তাঁকে হেফাজতে নেয় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের একটি বিশেষ দল, সংক্ষেপে যাকে সিআইডি নামে ডাকা হয়। এই সংস্থাটিই বর্তমানে সালমান শাহ হত্যা মামলার তদন্তের দায়িত্বে রয়েছে এবং সেই মামলার সূত্র ধরেই ডনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

এ প্রসঙ্গে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসিম উদ্দিন সংবাদমাধ্যমকে জানান, ইমিগ্রেশন পুলিশের সহায়তায় বিমানবন্দর এলাকা থেকে ডনকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। গ্রেপ্তারের পর তাঁকে দ্রুত আদালতে হাজির করা হয়েছে বলেও নিশ্চিত করেন তিনি। এই মামলার আসামিরা যাতে দেশত্যাগ করতে না পারেন, সে জন্য আগেই ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করেছিল পুলিশ, যার ফলাফল হিসেবেই এই গ্রেপ্তারকে দেখা হচ্ছে।

নব্বইয়ের দশকের অন্যতম জনপ্রিয় ও আলোচিত চিত্রনায়ক ছিলেন সালমান শাহ। তরুণ প্রজন্মের হৃদয়ে ঝড় তোলা এই তারকা ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর নিজ বাসভবনে রহস্যজনক পরিস্থিতিতে মারা যান। তাঁর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে শুরু থেকেই নানা প্রশ্ন, বিতর্ক ও জল্পনা-কল্পনা চলে আসছে। কেউ কেউ একে আত্মহত্যা বলে দাবি করলেও ভক্ত ও পরিবারের অনেকেই বরাবরই এটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে সন্দেহ করে এসেছেন। দীর্ঘ প্রায় তিন দশক ধরে এই রহস্য অমীমাংসিত থেকে যাওয়ার পর, গত বছর আদালতের নির্দেশে অবশেষে এই মৃত্যুকে ঘিরে হত্যা মামলা দায়েরের পথ খুলে যায়।

সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীর পক্ষ থেকে তাঁর ভাই আলমগীর কুমকুম বাদী হয়ে গত বছরের অক্টোবরে রাজধানীর রমনা থানায় এই হত্যা মামলাটি দায়ের করেন। দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ও অপেক্ষার পর পরিবারের এই উদ্যোগ ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয় এবং পুরোনো এই রহস্যকে নতুন করে জনসম্মুখে নিয়ে আসে।

মামলায় মোট ১১ জনকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছেন সালমান শাহর সাবেক স্ত্রী সামিরা হক এবং খলচরিত্রের অভিনেতা ডন হক নিজেও। এ ছাড়া আসামির তালিকায় আছেন সামিরার মা লতিফা হক লুসি, ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই, ডেভিড, জাভেদ, ফারুক, রুবী, আ. ছাত্তার, সাজু এবং রেজভি আহমেদ, যিনি ফরহাদ নামেও পরিচিত। বিভিন্ন সময়ে এই ব্যক্তিদের নাম সালমান শাহর মৃত্যু-রহস্যের সঙ্গে জড়িয়ে সংবাদমাধ্যমে আলোচিত হয়েছে, তবে মামলার আনুষ্ঠানিক অগ্রগতি শুরু হয় মূলত গত বছর থেকেই।

বর্তমানে এই স্পর্শকাতর মামলার তদন্তের সম্পূর্ণ দায়িত্বে রয়েছে সিআইডি। তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিলের জন্য একাধিকবার সময় বাড়ানো হয়েছে, যা মামলার জটিলতা ও গুরুত্ব উভয়ই ইঙ্গিত করে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য আগামী ৩০ আগস্ট তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। এই সময়সীমার মধ্যে তদন্তকারী কর্মকর্তারা প্রয়োজনীয় সব তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ ও যাচাই করে চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

ডন হকের গ্রেপ্তার এই দীর্ঘ তদন্ত প্রক্রিয়ায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। দেশজুড়ে চলচ্চিত্রপ্রেমী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে এই ঘটনা নিয়ে নতুন করে আগ্রহ ও কৌতূহল তৈরি হয়েছে। তিন দশক ধরে ঝুলে থাকা এক তারকার মৃত্যু-রহস্যের জট খোলার আশায় এখন সবার নজর সিআইডির আসন্ন তদন্ত প্রতিবেদনের দিকে।

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

সম্মিলিত প্রচেষ্টায় উন্নত বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় প্রধানমন্ত্রীর

০৮ আগস্ট ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

সালমান শাহ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার অভিনেতা ডন হক

আপডেট সময় ০৪:৪৭:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬

ঢালিউডের জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলায় নতুন মোড় দেখা দিয়েছে। এই মামলায় খলচরিত্রের অভিনেতা আশরাফুল হক, যিনি চলচ্চিত্রাঙ্গনে ডন হক নামে পরিচিত, তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। আজ রোববার দুপুরে রাজধানীর হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাঁকে আটক করা হয়, যা এই বহুল আলোচিত মামলায় তদন্তকারী সংস্থার সাম্প্রতিক তৎপরতার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ বলে মনে করা হচ্ছে।

বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামরুল হাসান তালুকদার জানিয়েছেন, ইমিগ্রেশন পুলিশের সদস্যরাই প্রথমে ডনকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করেন। এরপর তাঁকে হেফাজতে নেয় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের একটি বিশেষ দল, সংক্ষেপে যাকে সিআইডি নামে ডাকা হয়। এই সংস্থাটিই বর্তমানে সালমান শাহ হত্যা মামলার তদন্তের দায়িত্বে রয়েছে এবং সেই মামলার সূত্র ধরেই ডনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

এ প্রসঙ্গে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসিম উদ্দিন সংবাদমাধ্যমকে জানান, ইমিগ্রেশন পুলিশের সহায়তায় বিমানবন্দর এলাকা থেকে ডনকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। গ্রেপ্তারের পর তাঁকে দ্রুত আদালতে হাজির করা হয়েছে বলেও নিশ্চিত করেন তিনি। এই মামলার আসামিরা যাতে দেশত্যাগ করতে না পারেন, সে জন্য আগেই ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করেছিল পুলিশ, যার ফলাফল হিসেবেই এই গ্রেপ্তারকে দেখা হচ্ছে।

নব্বইয়ের দশকের অন্যতম জনপ্রিয় ও আলোচিত চিত্রনায়ক ছিলেন সালমান শাহ। তরুণ প্রজন্মের হৃদয়ে ঝড় তোলা এই তারকা ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর নিজ বাসভবনে রহস্যজনক পরিস্থিতিতে মারা যান। তাঁর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে শুরু থেকেই নানা প্রশ্ন, বিতর্ক ও জল্পনা-কল্পনা চলে আসছে। কেউ কেউ একে আত্মহত্যা বলে দাবি করলেও ভক্ত ও পরিবারের অনেকেই বরাবরই এটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে সন্দেহ করে এসেছেন। দীর্ঘ প্রায় তিন দশক ধরে এই রহস্য অমীমাংসিত থেকে যাওয়ার পর, গত বছর আদালতের নির্দেশে অবশেষে এই মৃত্যুকে ঘিরে হত্যা মামলা দায়েরের পথ খুলে যায়।

সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীর পক্ষ থেকে তাঁর ভাই আলমগীর কুমকুম বাদী হয়ে গত বছরের অক্টোবরে রাজধানীর রমনা থানায় এই হত্যা মামলাটি দায়ের করেন। দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ও অপেক্ষার পর পরিবারের এই উদ্যোগ ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয় এবং পুরোনো এই রহস্যকে নতুন করে জনসম্মুখে নিয়ে আসে।

মামলায় মোট ১১ জনকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছেন সালমান শাহর সাবেক স্ত্রী সামিরা হক এবং খলচরিত্রের অভিনেতা ডন হক নিজেও। এ ছাড়া আসামির তালিকায় আছেন সামিরার মা লতিফা হক লুসি, ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই, ডেভিড, জাভেদ, ফারুক, রুবী, আ. ছাত্তার, সাজু এবং রেজভি আহমেদ, যিনি ফরহাদ নামেও পরিচিত। বিভিন্ন সময়ে এই ব্যক্তিদের নাম সালমান শাহর মৃত্যু-রহস্যের সঙ্গে জড়িয়ে সংবাদমাধ্যমে আলোচিত হয়েছে, তবে মামলার আনুষ্ঠানিক অগ্রগতি শুরু হয় মূলত গত বছর থেকেই।

বর্তমানে এই স্পর্শকাতর মামলার তদন্তের সম্পূর্ণ দায়িত্বে রয়েছে সিআইডি। তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিলের জন্য একাধিকবার সময় বাড়ানো হয়েছে, যা মামলার জটিলতা ও গুরুত্ব উভয়ই ইঙ্গিত করে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য আগামী ৩০ আগস্ট তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। এই সময়সীমার মধ্যে তদন্তকারী কর্মকর্তারা প্রয়োজনীয় সব তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ ও যাচাই করে চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

ডন হকের গ্রেপ্তার এই দীর্ঘ তদন্ত প্রক্রিয়ায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। দেশজুড়ে চলচ্চিত্রপ্রেমী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে এই ঘটনা নিয়ে নতুন করে আগ্রহ ও কৌতূহল তৈরি হয়েছে। তিন দশক ধরে ঝুলে থাকা এক তারকার মৃত্যু-রহস্যের জট খোলার আশায় এখন সবার নজর সিআইডির আসন্ন তদন্ত প্রতিবেদনের দিকে।

Share this news as a Photo Card