শিরোনাম :
কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও শিল্প বিপ্লব ঘটানোর প্রতি গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী সালমান শাহ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার অভিনেতা ডন হক রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির দুইজন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করল হাসিনার দিল্লি বক্তব্যে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে নতুন উত্তেজনা মহেশখালী পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির দুই নেতার মনোনয়নপত্র সংগ্রহ মাতারবাড়িতে প্রধানমন্ত্রীর অপেক্ষায় প্রশাসন ও জনতা মহেশখালী-হাটহাজারী সফরে বন্যার্তদের পাশে প্রধানমন্ত্রী কালিয়াকৈর হাই-টেক পার্কে গুগল-মেটা-টিকটক সালাহউদ্দিন নির্যাতনে হাসিনা-কামালের সম্পৃক্ততা পেল তদন্ত সংস্থা

কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও শিল্প বিপ্লব ঘটানোর প্রতি গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী

চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার প্রত্যন্ত জনপদ বাহারছড়ায় রোববার এক বিশাল জনসমাবেশে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানিয়েছেন, আগামী দশ বছরের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ পরিকল্পনা শিগগিরই জাতীয় সংসদে তুলে ধরা হবে। পশ্চিম বাঁশখালী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ মাঠে কয়েক হাজার গ্রামবাসীর উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশ ধীরে ধীরে রূপ নেয় এক বৃহৎ রাজনৈতিক জনসভায়, যেখানে প্রধানমন্ত্রীর কণ্ঠে উঠে আসে দেশ গঠনের অঙ্গীকার, সতর্কবার্তা এবং ভবিষ্যতের স্বপ্নের কথা।

সকালের দিকে কক্সবাজারের মহেশখালীতে অবস্থিত মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দর পরিদর্শন সেরে হেলিকপ্টারযোগে বাঁশখালীর উদ্দেশে রওনা হন সরকারপ্রধান। সেখানে পৌঁছে তিনি প্রথমেই মনোযোগ দেন সাম্প্রতিক বন্যায় বিধ্বস্ত পরিবারগুলোর দিকে। ক্ষতিগ্রস্তদের হাতে ত্রাণসামগ্রী ও নতুন টিনের ঘরের চাবি তুলে দেওয়ার এই মানবিক পর্ব শেষেই শুরু হয় প্রকৃত জনসভা, যেখানে স্থানীয় বাসিন্দাদের ঢল নামে মাঠজুড়ে।

জ্বালানি সংকট নিয়ে সতর্কবার্তা

বক্তব্যের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী ইঙ্গিত করেন, দেশের চলমান জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা চালাচ্ছে। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আমরা খেয়াল করেছি, কিছুদিন ধরে কিছু মানুষ এই ব্যাপারে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। আপনাদের পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, বিএনপি সরকার সংসদে পরিকল্পনা উপস্থাপন করবে। আপনাদের যদি পরিকল্পনা থাকে, আসুন জনগণের সামনে উপস্থাপন করুন। কিন্তু বিভ্রান্তিকর কথা বলে দেশে বিশৃঙ্খলা তৈরি করবেন না, জনগণের শান্তি নষ্ট করবেন না।”

তিনি আরও যোগ করেন, দেশের স্বাধীনতা পঞ্চাশ বছরেরও বেশি সময় আগে অর্জিত হয়েছে, এখন সময় এসেছে পেছনে না তাকিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার। “পৃথিবীর বহু দেশ আমাদের পরে স্বাধীন হয়েছে, কিন্তু পরিশ্রমের মাধ্যমে তারা নিজেদের অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে গেছে। আর পিছিয়ে থাকা যাবে না,” বলেন তিনি। তাঁর ভাষায়, এখন একটিই লক্ষ্য—জনগণের জীবনমান উন্নত করা এবং দেশের ভাগ্য বদলে দেওয়া।

দশ বছরের রূপরেখা সংসদে উপস্থাপনের অঙ্গীকার

জ্বালানি খাতের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রসঙ্গে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অতীতে যেভাবে অপরিকল্পিতভাবে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছিল, তা কোটি কোটি মানুষকে সুবিধা দিলেও দীর্ঘমেয়াদে টেকসই ছিল না। এখন জনস্বার্থে সেই কাঠামো নতুন করে সাজাতে কিছুটা সময় প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর ভাষায়, “আমরা ইতিমধ্যে এই কাজে হাত দিয়েছি। ইনশাআল্লাহ সমগ্র বাংলাদেশের মানুষের সামনে আগামী দশ বছরে আমাদের জ্বালানি পরিকল্পনা কী হবে, বিদ্যুৎ ব্যবস্থা কী হবে—সেই প্রস্তাবনা আমরা জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করব।”

তিনি জানান, এই পরিকল্পনার লক্ষ্য হবে ব্যাপক ও সর্বজনীন—স্কুল-কলেজ, হাসপাতাল, মিল-কারখানা কিংবা সাধারণ বাসাবাড়ি, সব জায়গায় যেন নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পৌঁছায়। একইসঙ্গে গাড়ি ও মোটরসাইকেলের জন্য গ্যাস সরবরাহ যেন সুষ্ঠুভাবে নিশ্চিত হয়, সে বিষয়েও পরিকল্পনা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

সরকারের ক্ষমতার উৎস জনগণ

বক্তব্যের এক পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী দলীয় অবস্থান স্পষ্ট করে বলেন, বিএনপির সকল ক্ষমতার উৎস জনগণ। “জনগণের সমর্থন থাকলে আমরা প্রত্যেকটি জনগণের স্বার্থে যত কর্মসূচি নিয়েছি, সবগুলো আল্লাহর রহমতে বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হব,” বলেন তিনি। এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি জনগণকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেন যে সরকারের প্রতিটি সিদ্ধান্তের কেন্দ্রে রয়েছে সাধারণ মানুষের কল্যাণ।

দেশের জনশক্তিকে কর্মশক্তিতে রূপান্তরের অভিপ্রায় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রায় বিশ কোটি মানুষের চল্লিশ কোটি হাতকে উৎপাদনশীল কাজে লাগাতে চায় সরকার। তাঁর কথায়, “যাতে করে প্রত্যেকটি মানুষ দেশ গঠনে ভূমিকা রাখতে পারে, নিজের পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজের ও পরিবারের ভাগ্য বদলাতে পারে। আমরা সেই বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই, আমরা সেই বাংলাদেশের জন্য অপেক্ষা করেছি। কিন্তু অপেক্ষা করে বসে থাকলে চলবে না, কাজ করতে হবে।”

কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং নতুন কল-কারখানা স্থাপনের মধ্য দিয়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও শিল্প বিপ্লব ঘটানোর প্রতিও গুরুত্বারোপ করেন তিনি। জনতার উদ্দেশে তাঁর আহ্বান ছিল, “আসুন আজকের এই জনসভায় আমরা শপথ নিই যে, বাংলাদেশের মানুষ আর বিভ্রান্ত হবে না। বাংলাদেশের মানুষ এখন সামনের দিকে এগিয়ে যাবে, নিজেদের ভাগ্য নিজেরাই বদলাবে।”

শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় সতর্কতার ডাক

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি মনে করিয়ে দেন, এলাকায় বা বাজারে কোনো গণ্ডগোল দেখা দিলে সবার আগে ক্ষতিগ্রস্ত হন ছোট দোকানদার ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা—তখন দোকানপাট বন্ধ রাখতে বাধ্য হন তাঁরা। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের উৎপাদিত পণ্য নির্বিঘ্নে বন্দরে পৌঁছানো এবং কাঁচামাল সঠিকভাবে আমদানির স্বার্থেও রাস্তাঘাটে শান্তি বজায় রাখা জরুরি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি প্রশ্ন তোলেন, মিল-কারখানা যদি সঠিকভাবে না চলে, তাহলে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা কীভাবে সম্ভব? এই প্রসঙ্গে যারা শান্তি-শৃঙ্খলা বিনষ্ট করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি। শিক্ষা খাতের উন্নয়নের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, স্কুল-কলেজ সুন্দরভাবে গড়ে তোলা, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া কিংবা শিক্ষার্থীদের নতুন বই দেওয়ার মতো কাজগুলো এগিয়ে নিতে হলে দেশের আইনশৃঙ্খলা অক্ষুণ্ণ রাখা অপরিহার্য।

“একইভাবে সতর্ক থাকতে হবে আমাদের, যারা বিভ্রান্ত করতে চায় তারা যেন কোনো সুযোগ না পায়। কারণ বিভ্রান্তকারীরা সুযোগ পেলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে সাধারণ জনগণই,” বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জনগণকে সিদ্ধান্ত নিতে বলেন—দেশকে এগিয়ে নেওয়া হবে, নাকি ঝগড়া-বিবাদে জড়িয়ে থাকা হবে, নাকি বিভ্রান্তকারীদের সঙ্গী হওয়া হবে।

অতীতের প্রসঙ্গ টেনে অভিযোগ

আলোচনার এক পর্যায়ে অতীতের এক শাসনামলের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত স্বৈরাচারী আমলে দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাত হাতেগোনা কয়েকজন ব্যক্তির নিয়ন্ত্রণে চলে গিয়েছিল। তাঁদের ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করতেই বিভিন্ন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল, যা দেশের সাধারণ মানুষের পক্ষে ছিল না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

স্থানীয় দাবির প্রতি ইতিবাচক সাড়া

সমাবেশে বাঁশখালীবাসীর দীর্ঘদিনের কিছু দাবির কথাও তুলে ধরা হয়। এলাকার ভেড়িবাঁধ নির্মাণ এবং লবণের ন্যায্য মূল্য নির্ধারণসহ স্থানীয়দের বিভিন্ন চাহিদার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী ইতিবাচক মনোভাব ব্যক্ত করেন, যা উপস্থিত জনতার মধ্যে স্বস্তির সঞ্চার করে।

অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদসহ স্থানীয় নেতারাও বক্তব্য রাখেন। সব মিলিয়ে বাহারছড়ার এই জনসভা কেবল ত্রাণ বিতরণ বা আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং তা রূপ নেয় আগামী দশকের জ্বালানি ভবিষ্যৎ এবং জাতীয় ঐক্যের এক বার্তাবাহী মঞ্চে।

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও শিল্প বিপ্লব ঘটানোর প্রতি গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

সালাহউদ্দিন নির্যাতনে হাসিনা-কামালের সম্পৃক্ততা পেল তদন্ত সংস্থা

০৮ আগস্ট ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও শিল্প বিপ্লব ঘটানোর প্রতি গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় ০৬:৫০:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬

চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার প্রত্যন্ত জনপদ বাহারছড়ায় রোববার এক বিশাল জনসমাবেশে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানিয়েছেন, আগামী দশ বছরের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ পরিকল্পনা শিগগিরই জাতীয় সংসদে তুলে ধরা হবে। পশ্চিম বাঁশখালী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ মাঠে কয়েক হাজার গ্রামবাসীর উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশ ধীরে ধীরে রূপ নেয় এক বৃহৎ রাজনৈতিক জনসভায়, যেখানে প্রধানমন্ত্রীর কণ্ঠে উঠে আসে দেশ গঠনের অঙ্গীকার, সতর্কবার্তা এবং ভবিষ্যতের স্বপ্নের কথা।

সকালের দিকে কক্সবাজারের মহেশখালীতে অবস্থিত মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দর পরিদর্শন সেরে হেলিকপ্টারযোগে বাঁশখালীর উদ্দেশে রওনা হন সরকারপ্রধান। সেখানে পৌঁছে তিনি প্রথমেই মনোযোগ দেন সাম্প্রতিক বন্যায় বিধ্বস্ত পরিবারগুলোর দিকে। ক্ষতিগ্রস্তদের হাতে ত্রাণসামগ্রী ও নতুন টিনের ঘরের চাবি তুলে দেওয়ার এই মানবিক পর্ব শেষেই শুরু হয় প্রকৃত জনসভা, যেখানে স্থানীয় বাসিন্দাদের ঢল নামে মাঠজুড়ে।

জ্বালানি সংকট নিয়ে সতর্কবার্তা

বক্তব্যের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী ইঙ্গিত করেন, দেশের চলমান জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা চালাচ্ছে। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আমরা খেয়াল করেছি, কিছুদিন ধরে কিছু মানুষ এই ব্যাপারে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। আপনাদের পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, বিএনপি সরকার সংসদে পরিকল্পনা উপস্থাপন করবে। আপনাদের যদি পরিকল্পনা থাকে, আসুন জনগণের সামনে উপস্থাপন করুন। কিন্তু বিভ্রান্তিকর কথা বলে দেশে বিশৃঙ্খলা তৈরি করবেন না, জনগণের শান্তি নষ্ট করবেন না।”

তিনি আরও যোগ করেন, দেশের স্বাধীনতা পঞ্চাশ বছরেরও বেশি সময় আগে অর্জিত হয়েছে, এখন সময় এসেছে পেছনে না তাকিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার। “পৃথিবীর বহু দেশ আমাদের পরে স্বাধীন হয়েছে, কিন্তু পরিশ্রমের মাধ্যমে তারা নিজেদের অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে গেছে। আর পিছিয়ে থাকা যাবে না,” বলেন তিনি। তাঁর ভাষায়, এখন একটিই লক্ষ্য—জনগণের জীবনমান উন্নত করা এবং দেশের ভাগ্য বদলে দেওয়া।

দশ বছরের রূপরেখা সংসদে উপস্থাপনের অঙ্গীকার

জ্বালানি খাতের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রসঙ্গে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অতীতে যেভাবে অপরিকল্পিতভাবে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছিল, তা কোটি কোটি মানুষকে সুবিধা দিলেও দীর্ঘমেয়াদে টেকসই ছিল না। এখন জনস্বার্থে সেই কাঠামো নতুন করে সাজাতে কিছুটা সময় প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর ভাষায়, “আমরা ইতিমধ্যে এই কাজে হাত দিয়েছি। ইনশাআল্লাহ সমগ্র বাংলাদেশের মানুষের সামনে আগামী দশ বছরে আমাদের জ্বালানি পরিকল্পনা কী হবে, বিদ্যুৎ ব্যবস্থা কী হবে—সেই প্রস্তাবনা আমরা জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করব।”

তিনি জানান, এই পরিকল্পনার লক্ষ্য হবে ব্যাপক ও সর্বজনীন—স্কুল-কলেজ, হাসপাতাল, মিল-কারখানা কিংবা সাধারণ বাসাবাড়ি, সব জায়গায় যেন নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পৌঁছায়। একইসঙ্গে গাড়ি ও মোটরসাইকেলের জন্য গ্যাস সরবরাহ যেন সুষ্ঠুভাবে নিশ্চিত হয়, সে বিষয়েও পরিকল্পনা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

সরকারের ক্ষমতার উৎস জনগণ

বক্তব্যের এক পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী দলীয় অবস্থান স্পষ্ট করে বলেন, বিএনপির সকল ক্ষমতার উৎস জনগণ। “জনগণের সমর্থন থাকলে আমরা প্রত্যেকটি জনগণের স্বার্থে যত কর্মসূচি নিয়েছি, সবগুলো আল্লাহর রহমতে বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হব,” বলেন তিনি। এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি জনগণকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেন যে সরকারের প্রতিটি সিদ্ধান্তের কেন্দ্রে রয়েছে সাধারণ মানুষের কল্যাণ।

দেশের জনশক্তিকে কর্মশক্তিতে রূপান্তরের অভিপ্রায় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রায় বিশ কোটি মানুষের চল্লিশ কোটি হাতকে উৎপাদনশীল কাজে লাগাতে চায় সরকার। তাঁর কথায়, “যাতে করে প্রত্যেকটি মানুষ দেশ গঠনে ভূমিকা রাখতে পারে, নিজের পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজের ও পরিবারের ভাগ্য বদলাতে পারে। আমরা সেই বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই, আমরা সেই বাংলাদেশের জন্য অপেক্ষা করেছি। কিন্তু অপেক্ষা করে বসে থাকলে চলবে না, কাজ করতে হবে।”

কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং নতুন কল-কারখানা স্থাপনের মধ্য দিয়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও শিল্প বিপ্লব ঘটানোর প্রতিও গুরুত্বারোপ করেন তিনি। জনতার উদ্দেশে তাঁর আহ্বান ছিল, “আসুন আজকের এই জনসভায় আমরা শপথ নিই যে, বাংলাদেশের মানুষ আর বিভ্রান্ত হবে না। বাংলাদেশের মানুষ এখন সামনের দিকে এগিয়ে যাবে, নিজেদের ভাগ্য নিজেরাই বদলাবে।”

শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় সতর্কতার ডাক

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি মনে করিয়ে দেন, এলাকায় বা বাজারে কোনো গণ্ডগোল দেখা দিলে সবার আগে ক্ষতিগ্রস্ত হন ছোট দোকানদার ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা—তখন দোকানপাট বন্ধ রাখতে বাধ্য হন তাঁরা। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের উৎপাদিত পণ্য নির্বিঘ্নে বন্দরে পৌঁছানো এবং কাঁচামাল সঠিকভাবে আমদানির স্বার্থেও রাস্তাঘাটে শান্তি বজায় রাখা জরুরি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি প্রশ্ন তোলেন, মিল-কারখানা যদি সঠিকভাবে না চলে, তাহলে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা কীভাবে সম্ভব? এই প্রসঙ্গে যারা শান্তি-শৃঙ্খলা বিনষ্ট করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি। শিক্ষা খাতের উন্নয়নের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, স্কুল-কলেজ সুন্দরভাবে গড়ে তোলা, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া কিংবা শিক্ষার্থীদের নতুন বই দেওয়ার মতো কাজগুলো এগিয়ে নিতে হলে দেশের আইনশৃঙ্খলা অক্ষুণ্ণ রাখা অপরিহার্য।

“একইভাবে সতর্ক থাকতে হবে আমাদের, যারা বিভ্রান্ত করতে চায় তারা যেন কোনো সুযোগ না পায়। কারণ বিভ্রান্তকারীরা সুযোগ পেলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে সাধারণ জনগণই,” বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জনগণকে সিদ্ধান্ত নিতে বলেন—দেশকে এগিয়ে নেওয়া হবে, নাকি ঝগড়া-বিবাদে জড়িয়ে থাকা হবে, নাকি বিভ্রান্তকারীদের সঙ্গী হওয়া হবে।

অতীতের প্রসঙ্গ টেনে অভিযোগ

আলোচনার এক পর্যায়ে অতীতের এক শাসনামলের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত স্বৈরাচারী আমলে দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাত হাতেগোনা কয়েকজন ব্যক্তির নিয়ন্ত্রণে চলে গিয়েছিল। তাঁদের ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করতেই বিভিন্ন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল, যা দেশের সাধারণ মানুষের পক্ষে ছিল না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

স্থানীয় দাবির প্রতি ইতিবাচক সাড়া

সমাবেশে বাঁশখালীবাসীর দীর্ঘদিনের কিছু দাবির কথাও তুলে ধরা হয়। এলাকার ভেড়িবাঁধ নির্মাণ এবং লবণের ন্যায্য মূল্য নির্ধারণসহ স্থানীয়দের বিভিন্ন চাহিদার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী ইতিবাচক মনোভাব ব্যক্ত করেন, যা উপস্থিত জনতার মধ্যে স্বস্তির সঞ্চার করে।

অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদসহ স্থানীয় নেতারাও বক্তব্য রাখেন। সব মিলিয়ে বাহারছড়ার এই জনসভা কেবল ত্রাণ বিতরণ বা আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং তা রূপ নেয় আগামী দশকের জ্বালানি ভবিষ্যৎ এবং জাতীয় ঐক্যের এক বার্তাবাহী মঞ্চে।

Share this news as a Photo Card